ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ

চিতল

চিতল

অত্যন্ত আকর্ষনীয় চিতল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Notopterus chitala এবং ইংরেজী নাম Clown knifefish। চ্যাপ্টা ও লম্বাটে দেহবিশিষ্ট এ মাছটির দেহ পৃষ্ঠ তামাটে বাদামী ও পৃষ্ঠের দিকে প্রতি পার্শ্বে ১৫টি রূপালী ডোরা থাকে। এ মাছের মাথার পেছনে পৃষ্ঠদেশ ধনুকের মত বাঁকা হয়ে উপরে উঠে গেছে। লেজের নিচের দিকে অনিয়মিতভাবে ৫-৮টি কালো ফোঁটা থাকে। দৈর্ঘ্যে এ মাছ প্রায় ১২০ সে.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চিতল নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, পুকুরসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাদুপানির জলাশয়ে বাস করে। এরা পরিষ্কার পানিতে বসবাস করতে পছন্দ করে। এ মাছ মাংসাশী এবং শিকারের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। এদের খাদ্য তালিকায় পোকামাকড় ও তাদের শূককীট, ক্রাস্টেসিয়া জাতীয় প্রাণী, শামুক, ছোট মাছ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। কখনও কখনও বর্ষাকালে প্লাবিত ধানতে বা পাটক্ষেতে পোকামাকড় খাবার উদ্দেশ্যে এদের বিচরণ করতে দেখো যায়।

চিতল বর্ষাকালে প্রজনন করে থাকে। প্রজনন কালে এ মাছ জলাশয়ের তলদেশে মাটি খুঁড়ে বাসা তৈরী করে এবং কাঠ বা এজাতীয় বস্তুর গায়ে ডিম দিয়ে থাকে। এদের ডিম বেশ আঠালো এবং বড় আকারের। শুধু পুরুষ মাছেরা ডিম পাহাড়া দেয় এবং লেজের সাহায্যে পানি আন্দোলনের মাধ্যমে ডিমে অক্সিজেন সরবরাহ ও কাদামুক্ত রাখে। চিতল মাছ খেতে সুস্বাদু এবং এর উচ্চ বাজার মূল্য ও চাহিদা রয়েছে। একুয়ারিয়ামে বাহারি মাছ হিসেবেও চিতল মাছ পালন করা যেতে পারে।

বাসস্থান কমে যাওয়া, ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল ব্যবহার করে অতিরিক্ত আহরণ, ডিমওয়ালা মাছ ধরা ইত্যাদি কারণে অন্যান্য দেশী মাছের মত চিতল মাছেরও সংখ্যা পূর্বের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বর্তমানে চলন বিল এলাকায় কোথাও এদের প্রাচুর্যতা লক্ষ্য করা যায় না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার উচিত অন্যান্য দেশী মাছের সাথে সাথে এদেরও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ উদ্দেশ্যে জেলে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার, অভয়াশ্রম সৃষ্টি, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা হতে বিরত থাকা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ
শফি, মো. এবং কুদ্দুস, মি. মু. আ.; ১৯৮২। বাংলাদেশের মাৎস্য সম্পদ। ১ম সংস্করণ। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ। মো. পৃ. xii+৪৪৪।

Rahman, A K M; 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd Edition. Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka, Bangladesh, XVIII+394 pp.

Talwar, P.K. and A.G. Jhingran; 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries. Oxford and IBH Publishing Co. Pvt. Ltd., New Delhi, India. LIV + 1158 pp.

www.fishbase.org


Visited 1,157 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রভাষক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, বাংলাদেশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ইমেল: thegalib@gmail.com

Leave a Reply