ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

তারা বাইম

তারা বাইম

লম্বাটে শরীরের এ মাছটির লেজের কাছাকাছি দেহের উপরের অংশে পৃষ্ঠ পাখনার নীচ দিয়ে ৪-৫ টি লাল বা কমলা বা সাদাটে বলয়ে ঘেরা কালো বৃত্তাকার দাগযুক্ত এ মাছটি বর্ষার সময় চলন বিলে প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ে। অনেকে এ মাছটিকে গুচি মাছ বলে অভিহিত করলেও গুচি মাছে তারা বাইমের ন্যায় উপরোক্ত দাগসমূহ থাকে না। তারা বাইমের বৈজ্ঞানিক নাম Macrognathus aculeatus। লেজ ছোট ও গোলাকার। দেহের উপরের অংশের বর্ণ বাদামী এবং পেটের দিকে হলুদাভাব বা সাদাটে রংয়ের। এদের মুখ সূচালো এবং কোন স্পর্শী থাকে না। তারা বাইমের আঁইশ ক্ষুদ্র এবং গোলাকার। এদের মাথার আঁইশ দেহের অন্যন্য আঁইশের চেয়ে সাধারণত বড় হয়।

তারা বাইমে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি, ১২-১৮ শতাংশ আমিষ, ২-৫ শতাংশ চর্বি বিদ্যমান। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতি ১ মিলিগ্রাম তারা বাইম মাছ হতে প্রায় ৩.৫-৫ কিলোক্যালোরী শক্তি পাওয়া যায়। তারা বাইম খেতে বেশ এবং বাজারে ভাল চাহিদা রয়েছে।

তারা বাইম দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৮ সে.মি. হওয়ার রেকর্ড থাকলেও সচরাচর ১৫-২৫ সে.মি. আকারের মাছটি বেশী দেখতে পাওয়া যায়। এরা বর্ষাকালে প্রজনন করে থাকে। খাদ্য হিসেবে তারা বাইম সাধারণত শৈবাল, কাদা ও বালি ছাড়াও অল্প পরিমাণে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে থাকে। চলন বিলে একটি বিশেষ ধরনের মাছ ধরার যন্ত্র, যা স্থানীয়ভাবে দোহাইর নামে পরিচিত, ব্যবহার করে বড় বড় বাইমের পাশাপাশি প্রচুর তারা বাইমও ধরা হয়ে থাকে। এদের সাধারণত বদ্ধ পানি অল্প পানির চলমান অংশে বেশী পাওয়া যায়।

তারা বাইম মাছ জলাশয়ে চাষের পাশাপাশি একুয়ারিয়ামেও শৌখিনভাবে লালন-পালন করা যেতে পারে। তারা বাইম মাছ বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। এরা সাধারণত খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুরসহ প্রায় সব ধরনের স্বাদুপানির জলাশয়ে বসবাস করে। অন্যান্য দেশী মাছের মত এদের অস্তিত্ত্বও মাত্রাতিরিক্ত আহরণ, বাসস্থান বিনষ্ট, নির্বিচারে ছোট ও প্রজননক্ষম মাছ ধরা ইত্যাদি কারণে হুমকির সম্মুখীন।

তথ্যসূত্রঃ
শফি, মো. এবং কুদ্দুস, মি. মু. আ.; ১৯৮২। বাংলাদেশের মাৎস্য সম্পদ। ১ম সংস্করণ। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ। মো. পৃ. xii+৪৪৪।

Afroze, S., N. Sultana and M.A. Hossain; 1996. Small Fish as a Source of Nutrition for Our People. In: Small Indigenous Fish Culture in Bangladesh; Edited by Felts, R.A., K. Ahmed and M. Akhteruzzaman; Integrated Food Assisted Development Project Sub Project 2 (IFADEP SP 2), Dhaka, Bangladesh. pp 57-63.

Rahman, A K M; 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd Edition. Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka, Bangladesh, XVIII+394 pp.

Talwar, P.K. and A.G. Jhingran; 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries. Oxford and IBH Publishing Co. Pvt. Ltd., New Delhi, India. LIV + 1158 pp.

www.fishbase.org


Visited 821 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রভাষক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, বাংলাদেশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ইমেল: thegalib@gmail.com

Leave a Reply