ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছ

সাধারন অর্থে শারিরীক ও মানসিকভাবে ভাল ও সুস্থ থাকাকে স্বাস্থ্য বা সুস্থতা বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বেশিরভাগ মানুষই অপুষ্টিতে ভোগে। বিশেষত গ্রামীন ও শহরের দরিদ্র শিশু ও মহিলারা দারিদ্র্যতার দরুন যথেষ্ঠ পুষ্টিকর খাবার পায় না। বিবিএস (২০০৯) এর তথ্যমতে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে রয়েছে। তারা যেমন খাদ্যের অভাবে থাকে তেমনই অপুষ্টিতে ভোগে। কিন্তু মানবদেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য আমিষ বা প্রোটিন অপরিহার্য। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিন গড়ে প্রোটিন গ্রহনের পরিমান ৬২.৫২ গ্রাম (পরিসংখ্যান বুলেটিন, ২০০৮)। মৎস্য অধিদপ্তর (২০০৯) এর তথ্যানুসারে প্রাণিজ আমিষের মধ্যে কেবলমাত্র মাছ থেকেই আসে ৫৮ শতাংশ। বর্তমানে আমাদের দেশে বছরে মাথাপিছু মাছ গ্রহনের পরিমান মাত্র ১৭.২৩ কেজি অথচ গ্রহণ করা প্রয়োজন ১৮ কেজি (মৎস্য অধিদপ্তর, ২০০৯)। অর্থাৎ মাছ গ্রহনের পরিমাণ আমাদের সামগ্রিক পুষ্টির তুলনায় অপ্রতুল। যদিও প্রাণিজ আমিষের মধ্যে মাছের আমিষ সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য।

এছাড়াও ছোট মাছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ আছে। ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়ে থাকে। একজন মানুষের প্রতিদিনের ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে কয়েকটি ছোট মাছই যথেষ্ঠ।

আবার মাছের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। ক্যালসিয়াম মানুষের হাড় ও দাঁতের উপাদান গঠন করে এবং ভিটামিন বিশোষণ ও রক্তে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেট ও বড়দের অষ্টিও রোগ হয়ে থাকে। ফসফরাস হাড়, পেশী ও রক্ত গঠনে সক্রিয় অংশ নেয়। লৌহ মানবদেহের লোহিত কনিকায় হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞানীদের মতে যারা বেশী মাছ খায় তাদের স্মরণশক্তি ও বোঝার ক্ষমতা প্রখর হয়। তার কারণ হিসেবে বলা হযে থাকে যে, মাছে বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে মেধা বৃদ্ধিকারক ডি.এইচ.এ (Docosahexaenoic acid) নামক এক ধরণের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা মাছের তেলে যথেষ্ঠ পরিমাণে থাকলেও অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাদ্যে খুব একটা পাওয়া যায় না।

মাছের তেলে ওমেগা থ্রি এম নামে এক ধরনের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড আছে যা রক্তের অণুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের তেল রক্তে কোলেস্টেরল কমায়, ফলে হূদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া মাছের কোলেষ্টেরলও মানুষের দেহের জন্য ক্ষতিকারক নয়।

তাই বলা যায় যে প্রাণিজ আমিষের মূল যোগানদাতা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে শরীর সুস্থ থাকার সম্ভাবনাও বাড়বে। আর বলা হয়ে থাকে সুস্থ দেহে সুস্থ মন । তাই সুস্থ জাতি গঠনের মাধ্যমে উন্নতির শিখরে পৌঁছায় মাছের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

তথ্যসুত্রঃ

  • পরিসংখ্যান বুলেটিন, ২০০৮, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিকল্পনা বিভাগ, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
  • মৎস্য অধিদপ্তর, ২০০৯, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ সংকলন, মৎস্য ও পশু সম্পমন্ত্রণালয়, গনপ্রজাতত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা ১৩।
  • উইকিপিডিয়া
  • BBS, 2009. Report of the Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2005. Bangladesh Bureau of Statistics, Ministry of Planning, Dhaka, Bangladesh.

Visited 192 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

লেখক

গবেষক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিস্তারিত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.