ক্যাটাগরি: উপকূলীয় ও সামূদ্রিক | মাৎস্য চাষ | স্বাদুপানি

বিষ দিয়ে মাছ নিধন: মাছ চাষের অন্যতম ঝুকি

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের গবেষকদের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে- রাজশাহী জেলায় মাছ চাষের যেসব সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে সমস্যার মাত্রার ক্রম অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- অর্থনৈতিক সমস্যা, পোনার সমস্যা, মৎস্য খাদ্য সমস্যা, মাছের অধিক মৃত্যুহার সমস্যা বিষ দিয়ে মাছ নিধন। এই বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উক্ত জেলার চার শতাংশ মাছচাষী [তথ্যসূত্র-১]।

মাত্র ৪ শতাংশ মাছচাষী বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করায় আপাতদৃষ্টিতে সমস্যাটিকে বড় কোন সমস্যা নাও মনে হতে পারে। সামগ্রিক পর্যায়ে গড় ক্ষতির মাত্রা অনুধাবন করা না গেলেও ব্যক্তি পর্যায়ে এই ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। একদিকে এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ঝুকি অন্যদিকে মৎস্য উৎপাদনের ঝুকি। এই ঝুকি কমাতে বা প্রশমনে একজন মৎস্যচাষীকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সমাজের পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হয়।

তারপরও এজাতীয় ঘটনার খবর পত্রিকার প্রায় প্রতিনিয়তই প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এতে আরও দেখা যায় যে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের পাশাপাশি একে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হুমকি, সহিংস ঘটনা, মামলা ইত্যাদির সুচনা হয় যা সামাজিক সমস্যায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সমস্যাটির প্রেক্ষাপট, কারণ ও ভবিষ্যত ভয়াবহতা অনুধাবনে সহায়ক হয় এ রকম কিছু খবরের সংযুক্তি নিচে দেয়া হল।

মাছ নিধন, প্রথম আলো, ১১ মে ২০১০:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের চিকুনিয়া গ্রামে একটি পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় ৩০ মণ মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে মরা মাছ ভাসতে দেখে আরেক মাছচাষি শহীদ উল্লা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এ নিয়ে রাগে-ক্ষোভে গালমন্দ করলে প্রতিবেশী চেরাগ আলী, নুরুল ইসলাম ও আবুল হাশেম ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে আহত করে।

ব্রাক্ষণপাড়ায় পুকুরে বিষ দিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন, কুমিল্লা ওয়েব ডট কম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১০:
মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা গ্রামের মোঃ নুরু মিয়া সর্দারের ছেলে মোঃ বাচ্চু মিয়া দীর্ঘদিন যাবত ঐ এলাকার ১শ ২০ শতক একটি পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করছিল, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৫ লক্ষাধিক টাকা হবে। রাতের আধারে বিষের কৌটা পুকুরে ফেলে দিয়ে এই মাছ নিধন করা হয়। এ ব্যাপারে ব্রাক্ষণপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।

কলারোয়ায় শত্রুতার জের ধরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, দেশনিউজ২৪ ডট কম, ১৯ অক্টোবর ২০১০:
কলারোয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। ৮ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পুকুরে বিষ দিয়ে পোনা ও মা-মাছ নিধন, প্রথম আলো, ১১মার্চ ২০১০:
একটি মাছের হ্যাচারির কয়েকটি পুকুরে বিষ দিয়ে ২০ লাখ মাছের পোনা ও আট হাজার ডিমওয়ালা মাছ নিধন করেছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যমুনা সায়েন্টিফিক হ্যাচারি অ্যান্ড ফিশারিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় আজাহারুল ইসলাম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসআই আবদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাছ নিধন করার সত্যতা পেয়েছেন।

পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় নিরীহ গ্রামবাসীদের মিথ্যা মামলায় হয়রাণি করার অভিযোগ, সাতক্ষীরা ওয়েব পোর্টাল, ১৯ জুলাই ২০১০:
গত ১৯ অক্টোবর মাছ চাষী রবিউল ইসলাম সকাল ১০ টার দিকে জানতে পারে তার পুকুরের পানিতে বিষক্রিয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে ওই মাছ চাষীর প্রায় ২২ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে কলারোয়া থানায় ১৯৫০ সনের মৎস্যরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারায় ১৫ নং একটি মিথ্যা মামলা দায়ের হয়। এই মামলার বাদী একজন বাস ড্রাইভার। তিনি এজাহারে উলে¬খ করেছেন যে, তার পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করা হয়েছে। তার কোন পুকুর ঘের বা মাছ চাষের মতো কোন জলাশয় নেই অথচ তিনি নিজেকে মাছ চাষী হিসাবে জাহির করে থানা পুলিশকে বিভ্রান্ত করে গ্রাম বাসীদের হয়রানী করার জন্য একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

কেরানীগঞ্জে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, কালের কন্ঠ, ৭ অক্টোবর ২০১০:
হাজি মো. আবু সিদ্দিক মিয়ার বাড়ির পুকুরে মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা বিষ ঢেলে দেয়। এতে পুকুরের রুই-কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ মারা যায়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে।

পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, সমকাল, ৯ অক্টোবর ২০১০:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুস সবুর অসকের পুকুরে কীটনাশক দিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করলে বুধবার সকালে পুকুরের সব মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

তথ্যসুত্রঃ

  1. A.B.M. Mohsin and Emdadul Haque, Effect of Constraints on Carp Production at Rajshahi District, Bangladesh, Journal of Fisheries International, Year: 2009, Volume: 4, Issue: 2, Page No.: 30-33

Visited 221 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply