ক্যাটাগরি: একুয়ারিয়াম | প্রজনন জীববিদ্যা | বাহারি মাছ ও এ্যকুয়ারিয়াম | মাৎস্য চাষ | মাৎস্য জীববিজ্ঞান

এ্যাকুয়ারিয়ামে গাপ্পি মাছের প্রজনন

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও স্ত্রী গাপ্পি মাছ

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ (নিচে) ও স্ত্রী (উপরে) গাপ্পি মাছ

বিদেশী বাহারি মাছ হিসেবে বাংলাদেশে অতি পরিচিত এক মাছের নাম গাপ্পি। দক্ষিণ আমেরিকার এই মাছকে এ্যাকুয়ারিয়ামে খুব সহজেই যেমন লালন-পালন করা যায় তেমনই প্রজননও করা যায়। গাপ্পি মাছ ভিভিপেরাস ধরণের অর্থাৎ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে এবং এদের নিষেক দেহাভ্যন্তরে ঘটে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়েমের বাহারের জন্য এ মাছটি ভালো হলেও অনেকেই একে দেশী মাছের প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন। এদের খাদ্য তালিকার শুরুতে মশার লার্ভা থাকায় একে মশার বংশ বিস্তার রোধে ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তবে মশার লার্ভার পাশাপাশি এরা অন্যান্য মাছ ও উপকারী জলজ প্রাণীর লার্ভা খেয়ে থাকে। এমন কি নিজের সদ্য প্রসবকৃত বাচ্চাও এর খাদ্য তালিকা থেকে মুক্ত নয়। একারণেই সম্ভবত বিজ্ঞানীদের মাঝে একে নিয়ে এত আশংকা। তবে যাই হোক এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের লালন-পালন করে যেমন নির্মল আনন্দ পাওয়া যায় তেমনই বাণিজ্যিকভাবে প্রজননের মাধ্যমে অর্থও উপার্জন করা যায়।

ট্যাক্সোনমিতে গাপ্পি মাছের অবস্থান:
Kingdom: Animalia
Phylum: Chordata
Class: Actinopterygii
Order: Cyprinodontiformes
Family: Poeciliidae
Genus: Poecilia
Species: P. reticulata

Common name: Guppy
Local name: Guppy

প্রজননের বয়স, সময় ও তাপমাত্রা:
তাপমাত্রা ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বছরের যে কোন সময়েই গাপ্পি মাছ বাচ্চা প্রসব করে থাকে। সাধারণত এদের বৃদ্ধি ও বাচ্চা প্রসবের জন্য ৭০ থেকে ৮৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২০-২৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড) তাপমাত্রা উপযুক্ত। কিন্তু ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মত কম অথবা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মত বেশি তাপমাত্রাতেও এরা বেঁচে থাকে এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। স্ত্রী মাছ জীবনের ৩য় সপ্তাহ থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয় অন্য দিকে পুরুষেরা ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়। অবশ্য প্রজননের উপযুক্ত হওয়ার বয়সের বিষয়টি মাছটি বসবাসের পরিবেশের উপরেও নির্ভর করে। যথাযথ পরিচর্যা ও খাবার এদের প্রজননের হারকে তরান্বিত করে। সাধারণত একটি পরিণত স্ত্রী গাপ্পি ৪-৫ ইঞ্চি ও পুরুষ গাপ্পি ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। একটি গাপ্পি মাছ দেড় থেকে তিন বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

পুরুষ গাপ্পির (নিচের মাছটি) জেনিটাল অর্গান দেখতে পাওয়া যায় যা এনাল ফিনের রূপান্তর

পুরুষ গাপ্পির (নিচের মাছটি) জেনিটাল অর্গান দেখতে পাওয়া যায় যা এনাল ফিনের রূপান্তর


স্ত্রী গাপ্পির (উপরের মাছটি) জেনিটাল ওপেনিং এর কাছে অর্থাৎ এনাল ফিনের সামনে একটি কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়

স্ত্রী গাপ্পির (উপরের মাছটি) জেনিটাল ওপেনিং এর কাছে অর্থাৎ এনাল ফিনের সামনে একটি কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়


স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সনাক্তকরণ:
খুব ছোট অবস্থাতেই গাপ্পির স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে আলাদা করা যায়। জন্মের পরপর এদের জেনিটাল অর্গান দেখে সনাক্ত করা না গেলেও দেহের রঙ দেখে এদের সহজে আলাদা করা যায়। সাধারণত জন্মের পরপরই পুরুষ গাপ্পির গায়ের রঙ স্ত্রী গাপ্পির থেকে অনেক গাঢ় হয়। আর বড় মাছে পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের তুলনায় খুব রঙ্গিন হয়। বর্ণিল দেহের পাশাপাশি পুরুষদের স্ত্রীদের চেয়ে পাখনা গুলো অনেক বড় ও বিভিন্ন রঙে বর্ণময় হয়ে থাকে। অপর দিকে স্ত্রী মাছে পাখনা পুরুষদের পাখনার চেয়ে ছোট এবং এতে পুরুষদের মত বৈচিত্র্যময় রঙের আধিক্যও অনুপস্থিত।

গাপ্পির পুরুষ মাছের এনাল ফিন জেনিটাল অর্গানে রূপান্তরিত হয় যা নিষেক দেহের অভ্যন্তরে হওয়ায় বড় ভূমিকা রাখে। অপর দিকে স্ত্রী মাছের এনাল ফিনে এরকম কোন পরিবর্তন দেখা যায় না।

প্রজননের জন্য এ্যাকুয়ারিয়াম প্রস্তুতি:
একটি ১৫ ইঞ্চি প্রস্থ, ১৫ ইঞ্চি উচ্চতা ও ২৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এ্যাকুয়ারিয়ামে বা এর থেকে ছোট এ্যাকুয়ারিয়ামেও সহজে এই মাছ প্রজনন করে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়ামের পানি সামান্য ক্ষারীয় হলেই ভাল। পি.এইচ. ৮ হলে সবচেয়ে ভাল। এ্যাকুয়ারিয়াম প্রস্তুতির সময় ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সম্পূর্ণ এ্যাকুয়ারিয়ামে পাথর না দেয়াই ভাল কারণ গাপ্পি মাছ খুব স্বচ্ছ
হয়ে থাকে পাথরের রঙ্গের জন্য পোনা মাছ নাও দেখা যেতে পারে। গাপ্পি মাছের পুরুষ বা স্ত্রী কারোরই পেরেন্টাল কেয়ার দেখতে পাওয়া যায় না। বাচ্চা হবার পরপরই স্ত্রী ও পুরুষ মাছ নিজেদের বাচ্চা খেয়ে ফেলে। তাই মাছের পোনাকে ব্রুড মাছের থেকে আলাদা রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়।

অনেকেই মাছ থেকে পোনা বাঁচানোর বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলে থাকেন। অনেকের মতে নিচে মার্বেল দিলে মার্বেলের ফাঁকে মাছের পোনা আশ্রয় পেতে পারে কিন্তু এখানে অসুবিধা হল গাপ্পির পোনা খুবই চঞ্চল প্রকৃতির এবং জন্মের পর থেকেই এরা দৌড়াতে থাকে ফলে এক জায়গায় স্থির না থাকার কারণে সহজেই বড় মাছ এদের উপস্থিতি টের পায় এবং খেয়ে ফেলে। অনেকে বলেন ভাঙ্গা মাটির হাড়ি-পাতিলের টুকরা ,গাছ -পালা দিলেও পোনা বাঁচানো সম্ভব কিন্তু এখানেও আগের মতই সমস্যা বিদ্যমান। আবার অনেকের মতে প্লাস্টিকের রশি এক হাত লম্বা করে কেটে প্রত্যেকটা প্যাঁচ খুলে দলা পাকিয়ে রাখলেও সেখানে পোনা মাছ আশ্রয় নিতে পারে কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় মাছ পোনাকে তাড়া করে রশির জটলা তে ঢুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মাছের গিলে রশি আটকে মাছের মৃত্যু হয়। এভাবে মৃত্যুর হার অনেক বেশী বলে এ পদ্ধতিটিও খুব একটা কাজের নয়।

ব্রিডিং নেট ব্যবহার করে পোনা মাছকে একটি সহজ পদ্ধতিতে মা-বাবা মাছ থেকে আলাদা করা যায়। ব্রিডিং নেট তৈরির জন্য প্রয়োজন চিকন করে কাটা বাঁশ, আর ০.২ ইঞ্চি মেস সাইজের জাল। প্রথমে চিকন করে কাটা বাঁশের একটি ফ্রেম তৈরি করে তার চার পাশে জাল সেলাই করে দিতে হবে (ছবির মত করে)। উপরে বর্ণিত সাইজের এ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ১৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ১২ ইঞ্চি প্রস্থের ফ্রেম তৈরি করতে হবে আর জালের দৈর্ঘ্য হবে ১২ ইঞ্চি। প্রস্তুতকৃত এই প্রজনন জালটিকে এ্যাকুয়ারিয়ামের প্রস্থ বরাবর ফ্রেমের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী স্থাপন করতে হবে। ফ্রেমের ২ অংশ এ্যাকুয়ারিয়ামের কাঁচের সাথে লেগে থাকবে (চিত্রের মত)।

ব্রিডিং নেট অবশ্যই এ্যাকুয়ারিয়ামের মাঝামাঝি স্থাপন করতে হবে। জালটির পাঁচ ভাগের চার ভাগ পানিতে ডুবানো অবস্থায় রাখতে হবে। এর ফলে পোনা নেটের ২ পাশে যথেষ্ট যায়গা পাবে। এভাবে তৈরি জালে সহজেই মাছ বাচ্চা প্রসব করতে পারে এবং বাচ্চাকে রক্ষাও করা যায় সহজে।

প্রজনন:
প্রজননের আগে স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে ইচ্ছা করলে আলাদা এ্যাকুয়ারিয়ামে রেখে পরিচর্যা করা যায় কিন্তু এক সাথে রাখলেও খুব একটা সমস্যা দেখা যায় না। যদি ব্রুড মাছ বিক্রির উদ্দেশ্য থাকে তবে স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে একসাথে রাখাটা সুবিধাজনক নয় কারণ এদের প্রজনন হার খুব বেশী। এক সাথে থাকার জন্য মাছ বারবার প্রজননে অংশ নেয় এবং মাছের বৃদ্ধি রোহিত হয়।
পরিচর্যার সময় পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে এক সাথে রাখলে প্রেগন্যান্ট স্ত্রী মাছকে সনাক্ত করে সরাসরি প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামের ব্রিডিং নেটে দিতে হবে। কিন্তু আলাদাভাবে রাখা মাছের ক্ষেত্রে প্রথমে ১টি পুরুষ মাছ ও ২টি স্ত্রী মাছ এই অনুপাতে ২-৩ দিনের জন্য মাছ গুলিকে প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে হবে। অতঃপর স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থানান্তর করতে হবে। ব্রিডিং এর এক মাসের মধ্যে স্ত্রী মাছ বাচ্চা প্রসবের জন্য উপযুক্ত হবে। বাচ্চা প্রসবের সময় হলে স্ত্রী মাছকে ব্রিডিং নেটে স্থাপন করতে হবে। এ সময় পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়াম থেকে ব্রিডিং নেট স্থাপনকৃত এ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রা যেন একই রকম থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। উপরে উল্লেখিত আকৃতির নেটে ১০ থেকে ১৫ টি মাছ রাখা যাবে।

এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থাপনকৃত ব্রিডিং নেট বা প্রজনন জাল

এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থাপনকৃত ব্রিডিং নেট বা প্রজনন জাল


স্ত্রী গাপ্পিকে একাধিক পুরুষ গাপ্পি তাড়া করছে

স্ত্রী গাপ্পিকে একাধিক পুরুষ গাপ্পি তাড়া করছে


স্ত্রী গাপ্পি: প্রেগন্যান্ট এর আগে

স্ত্রী গাপ্পি: প্রেগন্যান্ট এর আগে


স্ত্রী গাপ্পি: প্রেগন্যান্ট এর পরে

স্ত্রী গাপ্পি: প্রেগন্যান্ট এর পরে


বাচ্চা প্রসবের পরপরই ব্রিডিং নেটসহ মা মাছগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

বাচ্চা প্রসবের পরপরই ব্রিডিং নেটসহ মা মাছগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে


এক দিন বয়সের গাপ্পি মাছ

এক দিন বয়সের গাপ্পি মাছ


নেট স্থাপন ও প্রেগন্যান্ট মাছ সনাক্ত করন:
প্রেগন্যান্ট মাছের পেট সাধারণ মাছের তুলনায় অনেক ফোলা হয় এবং এনাল ফিনের কাছে কালো স্পট দেখা যায়।

এক সাথে রাখা স্ত্রী ও পুরুষ মাছের ক্ষেত্রে পুরুষ মাছকে স্ত্রী মাছের পেটের দিকে (জেনিটাল ওপেনিং এর কাছে) মৃদু আঘাত করতে দেখা যাবে। সাধারণত স্ত্রীরা সাঁতার কাটা অবস্থায় বাচ্চা প্রসব করে এবং এ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা অন্যান্য মাছ সেই বাচ্চা খাবার জন্য তার পেছন পেছন তাড়া করে থাকে। এ থেকে সহজেই প্রেগন্যান্ট স্ত্রী মাছকে আলাদা করা যায়।

১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ০.৩-০.৪ ইঞ্চি প্রস্থের মাছকে উপরে উল্লেখিত মাপের ব্রিডিং নেটে দেয়া যাবে। এর থেকে ছোট মাছ হলে জাল দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে এবং ফুলকায় জাল আটকে মারা যেতে পারে। তাই মাছের আকার ও জালের মেসের আকারের দিকে নজর রাখতে হবে। তবে আকৃতিতে বেশি ছোট মাছকে জালে দেবার দরকার হয় না কারণ এদের মুখের ছিদ্র ছোট থাকে বলে তারা প্রসবকৃত মাছ খেতে পারে না। ফলে মা মাছ ও পোনা মাছ একই সাথে অবস্থান করে।

পোনা প্রসব:
একটি স্ত্রী মাছ ২-২০০টি পোনা প্রসব করে থাকে। পোনার সংখ্যা নির্ভর করে একটা মাছের বয়স ও পরিচর্যার উপর।
কম বয়স ও বেশী বয়সের মাছ তুলনা মূলক ভাবে কম পোনা প্রসব করে কিন্তু মাঝ বয়সী মাছের পোনা প্রদানের হার অনেক বেশী হয়। খাবার ও পরিচর্যা ঠিক মত না হলে এ সংখ্যার তারতম্য ঘটে।

পোনা সংগ্রহ:
পোনা সংগ্রহের জন্য এ্যাকুয়ারিয়ামে মাছ ধরার হাত জালে কাপড় লাগিয়ে নিয়ে সহজেই ব্যবহার করা যায় অথবা লোহার মোটা তারের একটি ফ্রেম তৈরি করে তাতে কাপড় লাগিয়ে নেয়া যেতে পারে। পোনা খুব ছোট সে কারণে এ ব্যবস্থাটা নিতে হয়।

যেহেতু পোনা ছুটাছুটি করে এবং এ্যাকুয়ারিয়ামে আগে থেকেই মাছ ও ব্রিডিং নেট বিদ্যমান সে কারণে পোনা তোলার সুবিধার্থে মাছ সহ ব্রিডিং নেটটাকে অন্য কোন এ্যাকুয়ারিয়াম বা পানি সহ বালতিতে সরিয়ে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে সরিয়ে রাখা মাছ গুলো নতুন পাত্রেও পানিতে ডুবে থাকে এবং উভয় পাত্রের পানির তাপমাত্রা যেন একই রকম হয়। সরানোর সময় জালের নিচে হাত দিন (চিত্রের মত) বা কোন প্রস্থস্ত থালা বা ট্রে দিন এতে করে মাছ ব্রিডিং নেট সহ পানি থেকে তুলবার সময় একে অন্যের উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

এবার পোনাসহ এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছগুলো তাড়া করে কাপড়ের হাত জালে ঢুকাতে হবে। কাপড়ের হাত জাল পানিতে থাকা অবস্থাতেই ছোট বাটি দিয়ে জাল থেকে পানিসহ মাছ গুলো তুলে পোনার এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রেও পানির তাপমাত্রা একই রকম হতে হবে। সব পোনা সরান হয়ে গেলে পুনরায় ব্রিডিং নেট সহ মাছ গুলোকে এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে হবে। এভাবে মাছের বাচ্চা দেয়া শেষ হয়ে গেলে পুনরায় মাছকে পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়ামে সরিয়ে নিতে হবে। বাচ্চা দেয়া শেষ হয়েছে এটা বোঝা যাবে মাছের পেট দেখে। এ সময় মাছের পেটের আকৃতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে।

পোনা মাছ এক থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়।

পোনা মাছ ও ব্রুড মাছের খাবার:
গাপ্পি মাছের খাবারে ৪০% প্রোটিন ও ৮% ফ্যাট থাকা খুবই দরকারি। এ মাছ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। ছোট জুপ্লাংকটন ও কেবল ফুটানো আর্টিমিয়া খাবার হিসেবে দেয়া যায়। এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছের জন্য প্রস্তুত ভাসমান খাবার এবং শুকনা বা তাজা টিউবিফেক্সও খেয়ে থাকে। জীবন্ত টিউবিফেক্স কুচি করে দিতে হবে। পোনা মাছ কে জন্মের পরপরই খাবার দিতে হবে। ব্রুড ও পোনা উভয় মাছকেই দিনে দুবার করে খাবার দিতে হবে। যেহেতু মাছ অনেক সময় নিয়ে বাচ্চা প্রসব করে তাই ব্রিডিং নেটে থাকা মা মাছকে খাবার দেয়ার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। যেমন- মাছ গুলো কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দেয়া যাবে না। যেহেতু মাছ জাল থেকে বের হতে পারবে না সে কারণে এ্যাকুয়ারিয়ামের মেঝেতে জমে থাকা খাবারও খেতে পারবে না সেহেতু এমন ভাবে খাবার দিতে হবে যাতে মাছ সহজেই তা খেয়ে ফেলে। ব্রিডিং নেটের উপরের অংশে (পানির লেভেলে) কাপড় লাগিয়ে নেয়া যেতে পারে যাতে ভাসমান খাবার ভাসতে ভাসতে জালের বাইরে না চলে যায়। তা করা সম্ভব না হলে খাবারের সময় নজরদারই বাড়াতে হবে অর্থাৎ খাবার ভেসে বাইরে চলে গেলে তা হাত দিয়ে বা কোন কিছু দিয়ে নেটের বাইরে থেকে ভিতরে দিতে হবে।

এ্যাকুয়ারিয়াম পরিচর্যা:
এ্যাকুয়ারিয়ামের নিচে খাবার জমে থাকলে তা সাইফোনিং এর মাধ্যমে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে জমে থাকা খাবারে ছত্রাক আক্রমণ করবে না এবং মাছও বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাবে। সপ্তাহে এক তৃতীয়াংশ পানি পরিবর্তন করে দিতে হবে। সম্পূর্ণ পানি পরিবর্তন করলে বা এ্যাকুয়ারিয়াম পরিষ্কার করলে নতুন পানি দেবার সাথে সাথে মাছকে এ্যাকুয়ারিয়ামে দেয়া যাবে না। পানিটাকে স্থির হবার জন্য সময় দিতে হবে নয়তো অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যাবে। কোন মাছ মারা গেলে সাথে সাথে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। নয়তো পানি দূষিত হবে। নতুন পানি দিলে পানিতে এক ফোটা মিথাইলিন ব্লু ব্যবহার করতে হবে। এ্যাকুয়ারিয়ামকে অতিরিক্ত তাপ ও আলো থেকে দূরে রাখতে হবে।

যা অবশই করতে হবে:

  • মাছকে প্রজননের আগে ও পরে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
  • ছেড়া নেট ব্যাবহার করা যাবে না।এতে করে মাছ ছেড়া অংশ দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে এবং গিলে নেট আটকে মারা যাবে। পোনা দেবার পর বের হয়ে পোনা খেয়ে ফেলবে।
  • অতিরিক্ত ছোট মাছকে ব্রিডিং নেটে দেয়া যাবে না।
  • নেটে আলকাতরা বা যে কোন রং করতে হবে এতে জাল পানি থেকে রক্ষা পাবে। নেটের রং ভাল ভাবে রোদে শুকাতে হবে।
  • পোনা মাছ সতর্কতার সাথে তুলতে হবে।
  • পোনা দেয়া শেষ হয়েছে এটা নিশ্চিত হবার সাথে সাথে মাছকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

কৃতজ্ঞতা:

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে সাহায্য করার জন্য শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফিশারিজ কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
  • ব্রিডিং নেটটি তৈরির চিন্তা প্রদান এবং আমার ছোট্ট হ্যাচারিতে মাছের পরিচর্যা ও প্রজননের কাজে সহযোগিতা করেছে বন্ধু আতিকুল ইসলাম।
  • আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্রিড্রিং নেটটি তৈরি করে দিয়েছে বাদাতেঘোরিয়া গ্রামের কুদ্দুস ভাই।
  • এছাড়াও যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

তথ্যসূত্র:

 


Visited 3,686 times, 2 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বি.এস-সি. ফিশারিজ (অনার্স) ৬ষ্ঠ ব্যাচ (সেশনঃ২০০৪-২০০৫), শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব ফিশারীজ কলেজ মেলান্দহ, জামালপুর। বিস্তারিত

Leave a Reply