ক্যাটাগরি: বিদেশী মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ

বাংলাদেশের বিদেশী মাছ: সাকারমাউথ ক্যাটফিশ

Suckermouth catfish, Hypostomus plecostomus

সাকারমাউথ ক্যাটফিশ, Hypostomus plecostomus

সাকারমাউথের আদি নিবাস দক্ষিন আমেরিকা (বিশেষ করে ব্রাজিল) (Akhter, 1995)। বাংলাদেশে এই মাছটি ১৯৮০ সালে থাইল্যাণ্ড হতে আনা হয় (Rahman, 2005)। যদিও সাকারমাউথ আনা হয়েছিলো একুরিয়ামে পালনের উদ্দেশ্যে কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়েও এই মাছটির উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। এই মাছটি অতীব শক্ত (হার্ডি) একটি মাছ এবং এটি প্রায় ১০-১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে (Galib and Mohsin, 2011; Fishlore, 2009)।

শ্রেণীবিন্যাস
Phylum: Chordata
Class: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
Order: Siluriformes (Catfishes)
Family: Loricariidae (Suckermouth armored catfishes)
Genus: Hypostomus
Species: H. plecostomus

অন্যান্য নাম: প্লিকোসটোমাস বা প্লিকো

সিনোনেম
Acipenser plecostomus
Linnaeus, 1758
Hypostomus guacari Lacepède, 1803
Loricaria flava Shaw, 1804
Plecostomus bicirrosus Gronow, 1854
Plecostomus brasiliensis Bleeker, 1864
Plecostomus plecostomus (Linnaeus, 1758)
Pterygoplichthys plecostomus (Linnaeus, 1758)

দেহবর্ননা: দেহ লম্বাটে এবং তলদেশ চ্যাপ্টা। চোখ মাথার উপরের অংশে অবস্থিত। মুখ বেশ প্রশস্ত এবং বার্বেল বিদ্যমান। সমস্ত দেহ খসখসে আঁইশে আবৃত কিন্তু মাথার নিচের অংশ ও উদরীয় অংশে কোন আঁইশ নেই। দেহ বর্ণ কালো বা কালচে সেইসাথে সমস্ত দেহজুড়ে কমলা রংয়ের অনিয়মিত দাগ দেখা যায়।

ফিন ফর্মূলা: D1. 12-13; D2. 1; P1. 6; P2. 6; A. 5; C. 16 (Galib and Mohsin, 2011).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য: ৩৫ সেমি (রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার একটি পুকুর হতে প্রাপ্ত) (Galib and Mohsin, 2011)।

খাদ্য ও খাদ্যাভাস: শৈবাল জাতীয় খাবার গ্রহণের জন্য বেশ পরিচিত (Fishlore, 2009) এবং একুরিয়ামের কাঁচে লেগে থাকতে দেখা যায় (Galib and Mohsin, 2011)। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শৈবালের পরিমাণ কমিয়ে সম্পূরক খাদ্য দেয়া যেতে পারে। চিংড়ির পিলেট বা অন্যান্য একুরিয়াম ফিডও এই মাছটির বেশ পছন্দনীয় খাবার (Galib and Mohsin, 2011)।

প্রজনন: সাধারণত প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রজনন করে থাকে। বাড়িতে একুরিয়ামে সহজে প্রজনন করে না; বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুরুষ-স্ত্রী মাছ চিহ্নিতকরণ খুবই কঠিন কারণ এদের বাহ্যিক কোন পার্থক্য থাকে না (Fishlore, 2009)।

বাসস্থান: স্বাদুপানির জলাশয়; বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে পাওয়া যাচ্ছে; যেমন, ঢাকার গুলশান লেক (Rahman, 2007), রাজশাহীর বিভিন্ন পুকুর (Galib and Mohsin, 2010 and 2011) এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন পুকুর, নদী ও বিল হতে এই মাছটি অন্যান্য মাছের সাথে ধৃত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বেশ ক’দিন পরপরই “বিরল প্রজাতির মাছ” শিরোনামে সাকারমাউথ এর ছবি সম্বলিত প্রবন্ধ ছাপা হয় যা দেশের বিভিন্ন জলাশয় হতে ধরা পড়েছিলো।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব: বাংলাদেশে বর্তমানে সময়ে সাকারমাউথ একুরিয়াম মাছ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে (Galib and Mohsin, 2011)। স্থান ও কাল (সময়) ভেদে দেশের বিভিন্ন একুরিয়ামের দোকানে এই মাছটির প্রতি জোড়ার মূল্য ৩০-৩০০ টাকা (Galib and Mohsin, 2011)। এছাড়া বদ্ধ ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে পাওয়া যাওয়ার কারণে বর্তমানে এটি মানুষের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মাছটির স্বাদ বেশ সুস্বাদু বলে স্থানীয় মাছ বিক্রেতা ও জেলেরা মন্তব্য করেছেন (নওগাঁর আত্রাই উপজেলা জেলে ও মাছ বিক্রেতা)।

নেতিবাচক প্রভাব: সাকারমাউথ দেশীয় মাছের জন্য হুমকীর কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে (Galib and Mohsin, 2011)। উদহারণস্বরূপ, ঢাকা শহরে স্থানীয় জনগণ একুরিয়ামে পালনের পর মাছটি বড় হয়ে গেলে সেই মাছগুলো গুলশান লেকে ছেড়ে দেয় এবং পরবর্তীতে মাছগুলো ঐ লেকে বংশবৃদ্ধির লেকটিতে নিজেদের সংখ্যা এত বৃদ্ধি করেছে যে বর্তমানে ঐ লেকের অন্যতম প্রধান একটি প্রজাতি হলো সাকারমাউথ (Rahman, 2007)।

_______________________________________________

তথ্যসূত্র

Akhter MS. 1995. Aquarium Guide, published by Echo Aqua Fisheries Project, 1/6 Pallabi, Mirpur, Dhaka, Bangladesh, pp. 51-71 (in Bengali).

Bleeker P. 1864. Notices sur quelques genres et espèces de Cyprinoïdes de Chine. Nederlandsch Tijdschrift voor de Dierkunde, 2: 18-29.

Fishlore. 2009. FishLore.com Tropical Fish Information, retrieved on December 12, 2009; http://www.fishlore.com/Profiles-Pleco.htm.

Galib SM and Mohsin ABM. 2010. Exotic Ornamental Fishes of Bangladesh, Bangladesh Journal of Progressive Science and Technology, 8(2): 255-258.

Galib SM and Mohsin ABM. 2011. Cultured and Ornamental Exotic Fishes of Bangladesh, LAP-Lambert Academic Publishing, Germany, pp. 76-78.

Gronow LT. 1854. Catalogue of fish collected and described by Laurence Theodore Gronow, now in the British Museum. London, pp. 1-196.

Lacepède BGE. 1803. Histoire naturelle des poissons. Histoire naturelle des poissons, 5: 1-803.

Linnaeus C. 1758. Systema Naturae, Ed. X. (Systema naturae per regna tria naturae, secundum classes, ordines, genera, species, cum characteribus, differentiis, synonymis, locis. Tomus I. Editio decima, reformata.) Holmiae. Systema Naturae, Ed. X, 1: 1-824.

Rahman AKA. 2007. Exotic fishes and their impact on environment, 16th Annual General Meeting and National Conference 2007, Zoological Society of Bangladesh, 30 March, Dhaka, Bangladesh, pp.26-39.

Rahman AKA. 2007. Exotic fishes and their impact on environment, 16th Annual General Meeting and National Conference 2007, Zoological Society of Bangladesh, 30 March, Dhaka, Bangladesh, pp.26-39.

Shaw G. 1804. General zoology or systematic natural history, 5(1): 1-25.

 


Visited 413 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রভাষক, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, বাংলাদেশ। প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ইমেল: thegalib@gmail.com

Leave a Reply