ক্যাটাগরি: জীববিজ্ঞান | পূর্বপাঠ | প্রাণিবিজ্ঞান

প্রাণিবিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য পথিকৃত

ফিশারীজ কোন মৌলিক বিজ্ঞান নয় বরং এটি জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের একটি সমন্বিত বিজ্ঞান যা মাছ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশিষ্ট জলজ প্রাণীদের জীবতত্ত্ব, চাষ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, আহরণ, প্রক্রিয়াজনকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে। তাই ফিশারীজকে বুঝতে হলে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সে উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শুরু হল বিডিফিশ বাংলার পূর্বপাঠ অধ্যায়। এলেখার বিষয় প্রাণিবিজ্ঞানের পথিকৃত, তাদের জীবনকাল, পরিচিতি ও অবদান। সাথে রইল কুইজে অংশ নেয়ার সুযোগ

 

প্রাণিবিজ্ঞানী ও জীবনকাল পরিচিতি ও অবদান
অ্যারিস্টটল (Aristotle)
৩৮৪-৩২২ বি.সি.
গ্রিক দার্শনিক। প্রাণিবিজ্ঞানের জনক। বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ছাত্র এবং মহাবীর আলেকজান্ডারের শিক্ষক। রচিত গ্রন্থ: History of Animals, Generation of Animals, On the Parts of Animals etc.
প্লিনি দ্য এলডার (Pliny The Elder or Gaius Plinius Secundus)
২৩-৭৯ এ.ডি.
রোমান প্রকৃতি বিজ্ঞানী। রচিত গ্রন্থ: Naturalis Historia বা Natural History
ভেসালিয়াস (Andreas Vesalius)
১৫১৪ – ১৫৬৪
আধুনিক অঙ্গসংস্থানবিদ্যার জনক। রচিত গ্রন্থ: Human anatomy, On the Fabric of the Human Body সংক্ষেপে Human Body
জাহাঙ্গীর (Jahangir)
১৫৬৯-১৬২৭
বাদশাহ জাহাঙ্গীর ছিলেন রাজসিক প্রকৃতিবিজ্ঞানী। তিনি তাজুক-ই-জাহাঙ্গীর বা জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা-য় অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্ণনা ও চিত্র লিপিবদ্ধ করেছেন।
উইলিয়াম হারভে (William Harvey)
১৫৭৮-১৬৫৭
ইংল্যান্ডের ফকস্টোনে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী ছিলেন ইংরেজ চিকিৎসক। তিনি তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান, শারীরবিদ্যা এবং প্রাণীর রক্ত সংবহনতন্ত্রের নানা তথ্য প্রদান করেন। রচিত বই: De Motu Cordis বা On the Motion of the Heart and Blood
ম্যালপিজি (Malpighi)১৬২৮-১৬৯৪ ইটালিয়ান এই চিকিৎসক ছিলেন বোলোঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Bologna) শিক্ষক। কৈশিক রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়ার আবিষ্কারক। Malpighian tubule system ও তিনি আবিষ্কার করেন। তার বিখ্যাত বই Anatomia Plantarum
এ্যন্টনি ফন লিউয়েন হোক (Antonie van Leeuwenhoek)
১৬৩২-১৭২৩
ডাচ বিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, রটিফার, হাইড্রা, মাংসপেশি, স্নায়ুকোষ, শুক্রাণু ইত্যাদির বিবরণ দেন। তাঁকে অনুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
রবার্ট হুক (Robert Hooke)
১৬৩৫-১৭০৩
ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আর্কিটেক্ট প্রকৌশলী। Cell (কোষ) শব্দের প্রবর্তক। রচিত বই: Micrographia
ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus বা Carl Nilsson Linnaeus)
১৭০৭-১৭৭৮
সুইডিস প্রকৃতিবিজ্ঞানী। প্রাণীর দ্বি-পদ নামকরণ (Binominal Nomenclature) পদ্ধতির প্রবর্তক/জনক। রচিত বই: Species Plantarum (১৭৫৩)। আধুনিক ট্যাক্সোনমির জনক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
জ্যাঁ বাপটিস্ট দ্য মনেট ল্যামার্ক (Jean Baptiste de Monet Lamarck)
১৭৪৪-১৮২৯
ফরাসী বিজ্ঞানী। Biology শব্দের প্রবর্তক। ১৮০৫ সালে বিবর্তনের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ Philosophie zoologique –তে তিনি বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে আলোচনা করেন। প্রদত্ত মতবাদ: অধিগত গুনের উত্তরাধিকার।
ক্যুভিয়ে (Georges Cuvier বা Baron Cuvier)
১৭৬৯-১৮৩২
ফরাসী বিজ্ঞানী। তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান চর্চার স্থপতি। তাঁকে Dictator of Biology আখ্যা দেয়া হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থ Vertebrates কে জীবাশ্মবিদ্যার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত বই হচ্ছে- The Animal Kingdom
ফন বেয়ার (Karl Ernst von Baer)
১৭৯২- ১৮৭৬
ভ্রুণবিজ্ঞানী। Baer’s laws of embryologyএর প্রবর্তক।
চার্লস রবার্ট ডারউইন (Charles Robert Darwin)
১৮০৯-১৮৮২
ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী। প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) মতবাদের প্রবক্তা। ১৮৩১ সাল থেকে পরবর্তী ৫ বছর বিগ্‌ল (Beagla) জাহাজে করে পৃথিবীর নানাস্থান হতে অসংখ্য জীবের নমুনা সংগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণ শেষে Origin of Species by Means of Natural Selection শিরোনামের বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।
থিওডর সোয়ান (Theodor Schwann)
১৮১০-১৮৮২
জার্মান শারীরতত্ত্ববিদ। উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্লেইডেনের সহযোগিতায় ১৮৩৮ সালে কোষ মতবাদ প্রদান করেন। তার নাম অনুসারে স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ ধরণের আবরণী কোষের নাম রাখা হয়- সোয়ান কোষ। Metabolism শব্দের প্রবর্তক। জীবের স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টির মতবাদকে ভুল প্রমাণ করেন।
ক্লড বার্নার্ড (Claude Bernard)
১৮১৩-১৮৭৮
ফ্রান্সের ভিলিফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী প্রথম জীবনে চিকিৎসক ছিলেন। গবেষণার জন্য তিনি পরবর্তীতে সরবন-এ শারীরবিদ্যা বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। তাকে আধুনিক গবেষণামূলক শারীরবৃত্ত্বের জনক বলা হয়।
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel)
১৮২২-১৮৮৪
অস্ট্রিয়াবাসী এই বিজ্ঞানী বংশগতি সূত্রের প্রবর্তক এবং বংশগতিবিদ্যার জনক। তাঁর প্রদত্ত বংশগতির সূত্র দুটি ১৮৬৬ সালে Proceedings of the Natural History Society of Brünn তে Experiments on Plant Hybridization শিরোনামের প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়।
লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)
১৮২২-১৮৯৫
ফরাসী রসায়নবিদ ও অণুজীববিজ্ঞানী। জলাতঙ্ক এবং এনথ্রাক্স এর টিকার আবিষ্কারক। পাস্তুর প্রণালীতে দুগ্ধ সংরক্ষণ পদ্ধতির প্রবর্তক। জড় বস্তু থেকে জীবের সৃষ্টির মতবাদকে ভুল প্রমাণ করেন।
অ্যালফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace)
১৮২৩-১৯১৩
ব্রিটিশ প্রাণিভূগোলবিদ। ১৮৫৮ সালে Theory of Evolution by Natural Selection শিরোনামের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যা ডারউইনের প্রাণী বিবর্তনের মতবাদের অনুরূপ। অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার মধ্যবর্তী দ্বীপসমূহে প্রাণীদের বিস্তার সম্পর্কে তার প্রদত্ত মতামতের উপর ভিত্তি করে একটি কাল্পনিক রেখা অংকন করা হয় যা ওয়ালেস রেখা নামে পরিচিত।
আগস্ট ভাইজম্যান (August Weismann)
১৮৩৪-১৯১৪
জার্মপ্লাজম মতবাদের প্রবক্তা। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Germ-Plasm, a theory of Heredity ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি মনে করতেন সন্তানেরা মা-বাবার মত হয় কারণ তারা মা-বাবার জননকোষের সাইটোপ্লাজম তথা জার্মপ্লাজম থেকেই উদ্ভূত।
আর্নস্ট হেকেল (Ernst Haeckel বা Von Haeckel)
১৮৩৪-১৯১৯
জার্মান জীববিজ্ঞানী। পুনরাবৃত্তি মতবাদের (Theory Recapitulation) প্রবক্তা যার মূল বক্তব্য হল- ব্যক্তিজনি জাতিজনির পুনরাবৃত্তি করে (Ontogeny recapitulates phylogeny)। তিনি প্রথম ইকোলজি (Ecology) শব্দটি প্রবর্তন করেন।
হুগো দ্য ভ্রিস (Hugo de Vries বা Hugo Marie de Vries)
১৮৪৮-১৯৩৫
হল্যান্ডের তথা ডাচ বিজ্ঞানী। মিউটেশন (Mutation) মতবাদের প্রবক্তা। মিউটেশন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যৌথভাবে বিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে তিনি বিবেচনা করতেন। তার রচিত বই: The Mutation Theory, Intracellular Pangenesis, Species and Varieties: Their Origin by Mutation ইত্যাদি
থমাস হান্ট মর্গান (Thomas Hunt Morgan)
১৮৬৬-১৯৪৫
আমেরিকান বিজ্ঞানী। The Mechanisms of Mendelian Heridity শিরোনামের গ্রন্থে তিনি ও তাঁর সহকর্মীবৃন্দ ক্রোমোজোমের মধ্য দিয়ে কিভাবে বংশগতির বৈশিষ্ট্য প্রবাহিত হয় তার বর্ণনা দেন। তিনি একই সাথে ডারউইন পদক (১৯২৪), নোবেল প্রাইজ (১৯৩৩) এবং রয়েল সোসাইটির কল্পে পদক (১৯৩৯) বিজয়ী।
স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Sir Alexander Fleming)
১৮৮১-১৯৫৫
সেন্ট মেরী হসপিটাল মেডিক্যাল স্কুলের শিক্ষক ও জীবাণুবিজ্ঞানী। তিনি ১৯২২ (মতান্তরে ১৯২৩) সালে কোষের অভ্যন্তরে লাইসোজোম এবং ১৯২৮ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। ১৯৪৫ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
এইচ. জে. মুলার (Hermann Joseph Muller)
১৮৯০-১৯৬৭
নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমে শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রথম কৃত্রিম উপায়ে ক্রোমোজোমে মিউটেশন (Gene Mutation) ঘটাতে সক্ষম হন।
জে.বি.এস. হ্যালডেন (John Burdon Sanderson Haldane)
১৮৯২-১৯৬৪
জীনতত্ত্বে গণিতের ব্যবহার করেন। রচিত গ্রন্থ: The causes of evolution,  What is life, Science and ethics ইত্যাদি। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় এই বিজ্ঞানী পপুলেশন জেনেটিক্সের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।
সালিম আলি (Salim Ali)
১৮৯৬-১৯৮৭
বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় পাখি পর্যবেক্ষক ও প্রকৃতি বিজ্ঞানী সালিম আলীর পুরো নাম সালিম মইজউদ্দিন আব্দুল আলী। তাঁর রচিত The Book of Indian Birds শিরোনামের বইটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯৪৮ সালে S.D. Ripley এর সহযোগিতায় Handbook of the Birds of India and Pakistan শিরোনামের ১০ খণ্ডের গ্রন্থে এ উপমহাদেশের সমস্ত পাখির যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
এইচ. জি. খোরানা (Har Gobind Khorana)
১৯২২-
কৃত্রিম জীন আবিষ্কারক। ভারতে জন্মগ্রহণকারী আমেরিকান এই বিজ্ঞানী ১৯৫৯ সালে Coenzyme A তৈরি করেন। ১৯৭৬ সালে সম্পূর্ণ কর্মক্ষম কৃত্রিম জীন তৈরি করতে সক্ষম হন।
জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (James Dewey Watson and Francis Crick)
১৯২৮- এবং ১৯১৬-২০০৪
তাঁরা সম্মিলিতভাবে ১৯৫৩ সালে DNA অণুর গঠন আবিষ্কার করেন যা Double helix  বা The double helical structure of a nucleic acid নামে পরিচিত।

 

তথ্যসূত্র:

 

কুইজে অংশ নিতে লিঙ্কটি অনুসরণ করুন


Visited 767 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিস্তারিত

Leave a Reply