ক্যাটাগরি: পরিবেশ | পরিবেশ | মাৎস্য চাষ | মাৎস্য জীববৈচিত্র্য | মাৎস্য ব্যবস্থাপনা | স্বাদুপানি | স্বাদুপানি

প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ: দেশীয় মৎস্য জীববৈচিত্র্যের কফিনে ঠোকা শেষ পেরেক

যে ভূমি বছরে ৩-৪ মাস বন্যার প্লাবিত জলে ডুবে থাকে সে ভূমিকে সাধারণভাবে প্লাবনভূমি বলা হয়ে থাকে। হিমালয়ের ভাটিতে অবস্থিত এই সমতল ভূমির এটিই স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যে প্রতি বর্ষায় উজানের বন্যার পানি ভাটির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ পানির প্রবাহ কেবলমাত্র নদীর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হয় না বলেই অতিরিক্ত পানি নদী উপচে সমতল জমিতে প্রবেশ করে তাকে জলমগ্ন করে তোলে। এভাবে কয়েক মাস চলার পর বৃষ্টির পরিমাণ কমে এলে ভূমি থেকে পানি নেমে যেতে থাকে এবং একটা সময় পর কেবলমাত্র নদী দিয়েই পানির প্রবাহ সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৩-৪ মাস সময় লাগে যা তুলনামূলক ধীর গতির। এই প্রক্রিয়ার সাথে অভিযোজিত হয়ে হাজার বছর ধরে আমাদের দেশে টিকে ছিল প্লাবনভূমির হাজারো জলজ উদ্ভিদ যার মধ্যে রয়েছে চাষকৃত বর্ষালী ধানও। আর এই জলজ উদ্ভিদে ভরপুর জলমগ্ন ভূমিই আমাদের দেশের বেশীরভাগ মাছের প্রধান এবং একমাত্র প্রজননক্ষেত্র। খাল-বিল-নদী-নালা-হাওড়ের মত উন্মুক্ত জলাশয়ে বসবাসকারী মাছ প্রতি বর্ষায় অবাধে জলজ উদ্ভিদে ভরপুর প্লাবনভূমিতে এসে প্রজননে অংশ নিয়ে নিজেদের বংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্ষার কাজটিও প্রাকৃতিক ভাবেই করে থাকতো। আমাদের দেশের মত গঠন প্রক্রিয়া চলমান এই ব-দ্বীপে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকা ছাড়া অন্যান্য সকল অঞ্চলেই একসময় প্লাবনভূমি দেখতে পাওয়া যেত।

ছিল, থাকতো বা যেত লিখতে হচ্ছে এই জন্য যে দেশের বেশীরভাগ অঞ্চলেই এসব আজ অতীত। গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুর দিকেও এদেশের বেশীরভাগ ভূপ্রকৃতি এমনই প্রকৃতি নির্ভর ছিল। এবং যতদিন জলজ উদ্ভিদে ভরপুর প্লাবনভূমি ছিল ততদিন বৈচিত্র্যময় মাছও ছিল। “মাছে-ভাতে বাঙ্গালী” কথাটি এমনি এমনি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু আজ এসব অতীত। আমরা নিজ হাতেই ধ্বংস করেছি এবং করছি আমাদের দেশের মৎস্য জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। আমরা একে একে ঠুকে দিয়েছি আমাদের মৎস্য জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারের কফিনের সবগুলো পেরেক। এর সর্বশেষ সংযোজনা হচ্ছে প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ। এখন দম আটকে মরতে যে সময়টুকু বাকী। বাঁচার জন্য কিছুই যে করা হয়নি তা নয় তবে তা ঐ কফিনে দু-চারটি ছিদ্র করে দম আটকে মরার হাত থেকে রক্ষার মত সাময়িক একটা ব্যবস্থা। কিন্তু এই কফিন ভেঙ্গে ফেলার মত কোন কাজ এখনও হয় নি। অথচ শেষ বিচারে তাই করা আমাদের একান্ত প্রয়োজন অবশ্য যদি আমরা বাঁচতে চাই বা বাঁচাতে চাই আমাদের মৎস্য জীববৈচিত্র্যের এই ভাণ্ডারকে তথা মৎস্য জীববৈচিত্র্যকে। এ লেখায় শেষ পেরেক তথা প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের ফলে আমাদের মৎস্য জীববৈচিত্র্য কিভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে তা তুলে ধরার সাথে সাথে সম্পূর্ণ বিষয়টি ভালভাবে উপলব্ধি করা জন্য অন্যান্য পেরেক তথা মৎস্য জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যান্য কারণগুলো নিয়েও আলোচনা করা হল।

দেশের মৎস্য জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য যেসব কারণসমূহ বিবেচনায় নেয়া হয় সেগুলোকে সাধারণত বড় দাগে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক. প্রাকৃতিক কারণ এবং দুই. মনুষ্যসৃষ্ট কারণ। তবে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে যেসব বিষয় আলোচিত হয় যেমন- নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নাব্যতা কমে যাওয়া, প্লাবনভূমির সাথে সংযোগ খাল ভরাট হওয়া, প্লাবনভূমির বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া, মাছের রোগ-বালাই ইত্যাদি বিষয়াবলী আমার দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক এর পরিবর্তের পরোক্ষভাবে মনুষ্যসৃষ্ট বলেই বিবেচিত হয়। কারণ এর নেপথ্যে প্রকৃতির চেয়ে মানুষের ভূমিকা অনেক অনেক বেশী। আমি মনে করি বাংলাদেশের মৎস্য জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান এবং একমাত্র কারণই হচ্ছে মাছের আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং উভয় জলাশয়ের মাঝে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা। তবে এগুলো একদিনে আবির্ভূত হয় নি। প্রকৃতির প্রতি আমাদের মত মানুষের দীর্ঘদিন ধরে চলা অবিবেচনা প্রসূত কর্মকাণ্ডের ফলে আজ তা এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সেই কর্মকাণ্ডগুলো হচ্ছে- যত্রতত্র অবাধে রাস্তাঘাট ও বাঁধ নির্মাণ, মাছের আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্রের অপব্যবহার (যেমন বর্ষালী ধান চাষের ধাঁচে পরিবর্তন, দখল ও ভরাট, ইজারা প্রদান এবং মাছ চাষের বিবেচনাহীন প্রসার যথা- নতুন সংযোজিত প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ), দূষণ, নির্বিচারে মাছ নিধন, মৎস্য আইন না মানা ও সচেতনতার অভাব এবং দুর্বল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, ক্ষতিকর বিদেশী মাছের উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রবেশাধিকার ইত্যাদি।

বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে অনেক সভ্যতার উত্থানের উদাহরণ থাকায় যাদের হাতে বাঁধ নির্মাণের সক্ষমতা আছে তারা বরাবরই বাঁধ নির্মাণের পক্ষে। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পানি প্রত্যাহারের বিপক্ষে আমার অবস্থান। এর নৈতিক কারণ হচ্ছে একটি বাঁধ যখন নির্মিত হয় তখন তার উজানের সমাজ উপকৃত হলেও ভাটির সমাজকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ ফারাক্কা। এছাড়াও বাংলাদেশের উজানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীতে ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে এদেশের মানুষকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে যা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। প্রাকৃতিকভাবেও এর ক্ষতিকর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এর ফলে বন্যার গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে, নদীর উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, নদীর গতিপথে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, নদীর নাব্যতার হ্রাস প্রক্রিয়া চলমান। এতসব বিষয়াবলী দেখার পরও আমাদের দেশে যখন গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয় তখন বিষয়টি ভয়াবহ চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দেয়।

আমাদের দেশে নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণের পরিমাণ কম হওয়ায় তা মাছের বসবাসের স্থানের যতটা ক্ষতি করেছে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে নির্বিচারে নির্মিত রাস্তাঘাট আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এদেশে আশির দশকের শুরুতে এজাতীয় বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় যা এখনও চলমান। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে দেশের বেশীরভাগ প্লাবনভূমির বস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এমন ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে সেখানকার জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যেটুকু টিকে আছে তা কেবলমাত্র বাঁধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলেই। যদি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো তবে আজ দেশে প্লাবনভূমি বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকতো না এবং দেশীয় মৎস্য জীববৈচিত্র্যের কবর এ স্তরেই রচিত হত। কিন্তু যারা দেশের সকল জমিকে (এমন কি বিল ও হাওড়কেও) বন্যা মুক্ত করে স্থায়ীভাবে ফসলি জমিতে পরিণত করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন তাদের আশায় গুড়ে-বালি যে তারা বিল ও হাওড় এলাকার নিচু ভূমিকে বন্যা মুক্ত করতে সক্ষম হয় নি। তবে তাতে সক্ষম না হলেও যা ক্ষতি করার তা করা হয়ে গেছে এর মধ্যেই। যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণের ফলে বন্যার গতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে এর স্থান কাল পাত্রে। বর্তমানের বন্যাগুলো হচ্ছে স্বল্পকালীন, খুব দ্রুত জমিতে পানি প্রবেশ করছে আবার দ্রুতই তা নেমে যাচ্ছে। এমন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে পারে নি আমাদের দেশীয় বর্ষালী ধানসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী। ফলে একসময়ের বর্ষালী ধান আর ছোট মাছে ভরপুর প্লাবনভূমি আজ প্রায় পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত ভূমির ভূমিকা নিয়েছে। যেহেতু এই স্বল্পকালীন বন্যায় কোন ধান বা ফসল চাষ করার মত প্রযুক্তি জমির মালিকের হাতে নেই ফলে তারা একে বর্ষার সময় অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত হিসেবেই বিবেচনা করছেন। কিন্তু এই প্লাবনভূমিই যে আমাদের দেশীয় মাছের প্রধান প্রজননক্ষেত্র তা বিবেচনা করার মত সক্ষমতা তাদের নেই। আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে প্লাবনভূমিকে অলস জমি দেখিয়ে তাকে কাজে লাগানোর টোপ দিয়ে সূচনা করা হয়েছে প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের মত একটি আত্মঘাতী প্রযুক্তি।

একটি বিষয় লক্ষ করার জন্য পাঠককে অনুরোধ করছি। তা হল- সারা দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনায় মৎস্য জীববৈচিত্র্যের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় নি। এমনকি প্লাবনভূমির গুরুত্বই বিবেচনা করা হয়নি। সকল জমিকে বছরব্যাপী ফসলী জমিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বিচার-বিবেচনাহীনভাবে সারা দেশে এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় যা এখনও চলমান। এই প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশে আজ যেটুকু প্লাবনভূমি অবশিষ্ট আছে তাও আজ হারিয়ে যেত। আর প্লাবনভূমি না থাকলে আমাদের দেশীয় মাছ যে থাকতো না তা সহজেই অনুমেয়। যে কাজটি বিবেচনাহীনভাবে নির্মিত বাঁধ করতে পারে নি তা সম্পূর্ণ করার জন্য এবার এসেছে প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের মত একটি আত্মঘাতী প্রযুক্তি। প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের সূচনা হয় কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এবং বর্তমানে তার প্রসার ঘটেছে যশোর, রাজশাহী, নাটোর, গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ইত্যাদি জেলায়। যেহেতু বিষয়টির সাথে অর্থ উপার্জনের একটা সম্পর্ক রয়েছে তাই তা দ্রুতই সারা দেশের যেসব প্লাবনভূমি এখনও টিকে আছে সেখানে ছড়িয়ে পড়বে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। এভাবে একের পর এক প্লাবনভূমি চাষের আওতায় চলে আসলে সেই ভূমিতে দেশীয় মাছের প্রজনন করার কোন সুযোগ ও সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকবে না। ফলশ্রুতিতে প্রজননক্ষেত্র হারিয়ে ধীরে ধীরে আমাদের অজান্তেই নিঃশেষ হয়ে যাবে দেশীয় মৎস্য জীববৈচিত্র্যের বিশাল ভাণ্ডার।

প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের প্রযুক্তিতে বলা হয়েছে যেসব প্লাবনভূমির দুই/তিন দিকে বাঁধ/রাস্তা/গ্রাম রয়েছে সেসব স্থানের উন্মুক্ত প্রান্ত বাঁধ ও বানা দিয়ে এমন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে যাতে ঐ প্লাবনভূমিতে দেশীয় মাছের রেণু-পোনা প্রবেশ করতে পারে। ফলে রাস্তাঘাট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্লাবনভূমিকে যতটা না খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এই প্রযুক্তি তার চেয়ে আরও অনেক বেশী খণ্ড-বিখণ্ড করে তুলবে। ফলে চাষের আওতায় আসা প্লাবনভূমিতে দেশীয় মাছের প্রজনন করার কোন সুযোগই থাকবেনা। ফলে শুধুমাত্র যেসব প্লাবনভূমি চাষের আওতায় আসবে না কেবলমাত্র সেসব স্থানে দেশীয় মাছের প্রজনন করার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ তাদের প্রজননক্ষেত্র কমতে কমতে একটা সময় পর নিঃশেষ হয়ে যাবে যা আমাদের দেশীয় মৎস্যবৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও চাষের আওতায় আসা প্লাবনভূমিতে গরীব মানুষের প্রবেশাধিকার হ্রাস পাবে যা সামাজিক অসন্তোষের কারণ হিসেবে দেখা দেবে। বর্তমানে প্লাবনভূমি ইজারা দেয়ায় একদিকে যেমন তাতে গরীব মানুষের প্রবেশাধিকার হ্রাস পেয়েছে অন্যদিকে তেমনই অধিক মুনাফালোভী ইজারদার কর্তৃক সমস্ত মাছ ধরার ফলে মৎস্যবৈচিত্র্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তার উপর আবার সেই প্লাবনভূমিকে চাষের আওতায় নিয়ে আসলে মৎস্যবৈচিত্র্য যাইবা অবশিষ্ট আছে তাও ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

তাই আমার বক্তব্য হল- দেশীয় মাছের প্রধান প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় প্লাবনভূমির ইজারা-প্রথা বাতিল এবং প্লাবনভূমিকে মাছ চাষের আওতার বাইরে রেখে একে যতটা সম্ভব অতীতের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে দিতে হবে। তবেই সম্ভব দেশীয় মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। আমাদের স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে কোন প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান কৃত্রিমভাবে করা সম্ভব নয়। তাই কেবলমাত্র প্রকল্প নির্ভর ব্যবস্থাপনা (যেমন- মাছের আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র সংস্কার, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা অবমুক্তি, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি) গ্রহণ করে মৎস্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন মাছের আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষা করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। সে লক্ষ্যে এখনই দেশের নিচু এলাকার সকল বাঁধ অপসারণ করতে হবে, নির্মিত বা নির্মিতব্য রাস্তায় পর্যাপ্ত সেতুর ব্যবস্থা রাখতে হবে, উন্মুক্ত জলাশয়ে ইজারা-প্রথা বাতিল করে নির্বিচারে মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে, কল-কারখানা ও কৃষিজ দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


Visited 281 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.