ক্যাটাগরি: ই-ডকুমেন্ট | ওয়েবসাইট | প্রকাশনা

ওয়েবসাইট পরিচিতি: Halda River: a natural fish spawning heritage of Bangladesh

haldariver.org ওয়েবসাইটের হোমপেজ

haldariver.org ওয়েবসাইটের হোমপেজ

বিডিফিশের ফিশারীজ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট পরিচিতিতে এবার সাইট- Halda River: a natural fish spawning heritage of Bangladesh যার ওয়েব ঠিকানা www.haldariver.org। বলা হয়ে থাকে এটিই হালদা নদীর উপর প্রকাশিত একমাত্র ওয়েবসাইট। অন্যভাবে বলা যায় এটিই একমাত্র ওয়েবসাইট যেখানে শুধুমাত্র হালদা নদী বিষয়ক তথ্যাদি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সাইটটি ২০১১ সালে জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পুরস্কার-২০১১ প্রতিযোগিতায় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করে। সাইটটির হোমপেজ থেকে জানা যায় গত ০৭ জুলাই ২০১১ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নভো থিয়েটারে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত এর কাছে থেকে ট্রফিটি গ্রহণ করেন সাইট এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মনজুরুল কিবরীয়া, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সাইটটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিভাগ হচ্ছে ভিডিও। তথ্যবহুল এসব ভিডিও মূলত বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত খবর বা প্রামাণ্যচিত্রের ইউটিউব ভার্শন। এছাড়াও রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের উপর একটি ভিডিও রয়েছে এখানে। ইমেজ বিভাগটিও কম লোভনীয় নয়। যাদের পক্ষে হালদা নদীটি স্বচক্ষে দেখা সুযোগ হয় নি তাদের তো বটেই যারা দেখেছেন তাদেরও দেখার চাহিদা পূরণ করবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। হালদা পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত রয়েছে পাবলিকেশন বিভাগে। এখানে “হালদা পুনরুদ্ধার প্রকল্প: জনপ্রত্যাশা ও বাস্তবতা” শিরোনামের বইটির বিভিন্ন অধ্যায় পিডিএফ ফরমেটে রক্ষিত রয়েছে যা হালদা নদী বিষয়ে জ্ঞানপিপাসুদের আগ্রহ মেটাতে সক্ষম হবে তা বলা যায়। এছাড়াও নিউজ আর্কাইভে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রে হালদা বিষয়ক প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ও সংযুক্তি। ম্যাপ বিভাগে রয়েছে হালদায় মাছের প্রজননক্ষেত্রের অবস্থানগত মানচিত্র। মানচিত্রগুলোর আকার আরও বড় হওয়া প্রয়োজন যাতে করে দর্শকরা তা ভালভাবে বুঝতে পারে। হালদা প্রকল্প বিভাগে “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্প” সম্পর্কে নানাবিধ তথ্যাদি উপস্থাপন করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য বিভাগে হালদাকে বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, বাংলাদেশের জাতীয় নদী, নদী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভাণ্ডার তৈরি ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। সাইটটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে পারেন এই পাতা থেকে। সাইট এর ব্যবস্থাপনা দল সম্পর্কে জানতে যেতে পারেন এই পাতায়। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে সাইটটি তৈরি করা হলেও এর বেশিরভাগ তথ্যই বাংলায় প্রকাশ করা হয়েছে যা বাংলাভাষীদের জন্য বাড়তি পাওনা তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

এতকিছুর মাঝে যে পাতাটি সম্পর্কে আলাদা করে না বললেই নয় তার শিরোনাম হল- “হালদা নদী কেন বাংলাদেশের জাতীয় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ঐতিহ্য?”। পাতাটিতে হালদা নদীর গুরুত্ব বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সাবলীল ভাষায় অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর প্রতিটি তথ্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তা এখানে হুবহু তুলে ধরার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।
 

হালদা নদী কেন বাংলাদেশের জাতীয় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ঐতিহ্য?

অদ্বিতীয় নদী:
হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র এবং বিশ্বের একমাত্র জোয়ারভাটার নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোন জোয়ার-ভাটার নদী থেকে সরাসরি ডিম সরাসরি ডিম আহরণের নজির আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এ কারণে হালদা নদী বাংলাদেশের জন্য এক বৈশ্বিক উত্তরাধিকারও বটে।

ঐতিহ্যবাহী:
হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ, আহরিত ডিম থেকে রেণু উৎপাদন এবং পরিচর্যা প্রযুক্ত স্থানীয়দের সম্পূর্ণ নিজস্ব (Indigenous)। স্মরণাতীতকাল থেকে ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সংমিশ্রণে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিম আহরণ, আহরিত ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করে আসছে। স্থানীয় জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের এই নিজস্ব পদ্ধতিতে নদীর পাড়ে খননকৃত মাটির গর্তে (কুয়ায়) ডিম ফোটানো হয় এবং চারদিন লালন করে রেণু পোনা তৈরি করা হয়। বংশপরম্পরায় ডিম সংগ্রহকারীরা এই প্রযুক্তি এখনো ব্যবহার করে আসছে।

আর্থিক অবদান:
হালদা নদীকে কেন্দ্র করে সারা বছরে আবর্তিত হয় এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। ডিম থেকে উৎপাদিত রেণু পোনা থেকে মাছ হিসেবে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত দেশের মৎস্য খাতে হালদা নদী চার ধাপে অবদান রাখে। এখান থেকে প্রাপ্ত ডিম, উৎপাদিত রেণুর পরিমাণ এবং উৎপাদিত মাছের হিসাব করলে দেখা যায়, এক বছরে জাতীয় অর্থনীতিতে হালদার অবদান ৮০০ কোটি টাকা। এর সাথে কৃষিজ উৎপাদন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে যোগ করলে একক নদী হিসাবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে হালদা নদীর অবদান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

পরিবেশ:
বাংলাদেশের অজস্র নদী থেকে হালদা নদীর বিশেষ পার্থক্য মূলত: পরিবেশগত। বর্ষা মৌসুমে নদীর পরিবেশগত কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য এখানে মাছ ডিম ছাড়তে আসে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো ভৌতিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক। আমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে বজ্রসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত, উজানের পাহাড়ি ঢল, তীব্র স্রোত, ফেনিল ঘোলা পানিসহ নদীর ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বিত ক্রিয়ায় হালদা নদীতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে রুই জাতীয় মাছকে বর্ষাকালে ডিম ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে যে পরিবেশ বাংলাদেশের অন্যান্য নদ-নদী থেকে স্বতন্ত্র।

জিন ব্যাংক:
হালদা নদী বাংলাদেশের রুই জাতীয় মাছের একমাত্র বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক। প্রাকৃতিক এ জিন পুল বাঁচিয়ে রাখার জন্য হালদা নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রগুলিতে ইন-ব্রিডিং এর কারণে মাছের বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বামনত্ব, বিকলাঙ্গতাসহ বিভিন্ন ধরণের জিনগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দ্রুত বর্ধনশীল বড় আকারের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিগনি মাছ এক সময় রূপকথার গল্পের মত মনে হবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য হালদা নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই।

পানি সম্পদ:
হালদা নদী বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রাম শহরের সুপেয় পানির প্রধান উৎস। পানির বিশেষ গুণগতমান ও পরিমাণের কথা বিবেচনা করে ১৯৮৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসা মোহরা পানি শোধনাগারের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি গ্যালন পানি উত্তোলন করে শহরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করে আসছে। এ নদীর পানিতে হেভি মেটালের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান থেকে কম হওয়ায় বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির উৎস হিসাবে হালদা নদীর পানি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 
এ লেখাটি তৈরি করতে এবং হালদা বিষয়ক অধ্যয়নে আমাকে অনেকের লেখা পড়তে হয়েছে। তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আবার অনেক লেখা আমাকে কয়েকটি বিষয়ে বিভ্রান্তও করেছে। কিন্তু আমার সকল বিভ্রান্তি দূর করেছে এই সাইটে প্রকাশিত তথ্যাদি। তাই বলা যায় এই সাইটের তথ্যাদির উপর আস্থা রাখা যায় নিশ্চিতভাবেই।

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply