ক্যাটাগরি: মাৎস্য চাষ | স্বাদুপানি

শিং ও মাগুর মাছের চাষ: বাস্তবতা ও সম্ভাবনা

শিং ও মাগুর মাছ

শিং ও মাগুর মাছ

ভূমিকা:
শিংমাগুর মাছ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনই পুষ্টিকর। এ মাছে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশী থাকায় এবং সহজপাচ্য হওয়ায় রোগীর পথ্য হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রক্ত স্বল্পতায় পীড়িত মানুষের পথ্য হিসেবে শিং-মাগুরের চাহিদা রয়েছে (Siddique and Choudhury, 1996)। প্রতি ১০০ গ্রাম শিং মাছে প্রোটিন ২৩ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৭০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৬৫০ মিলিগ্রাম ও ৭৯.৩ শতাংশ পানি বর্তমান এবং প্রতি ১০০ গ্রাম মাগুর মাছে প্রোটিন ৩২ গ্রাম, চর্বি ২ গ্রাম, লৌহ ০.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৭২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০০ মিলিগ্রাম ও পানি ৬৬.৩ গ্রাম বর্তমান (Siddique and Choudhury, 1996)।

পানির পাশাপাশি বায়ু থেকে শ্বাস গ্রহণ করতে পারায় শিং-মাগুর মাছ প্রতিকুল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ফলে এদেরকে হাজা-মজা পুকুরেও চাষ করা সম্ভব। বাজারে এ প্রজাতির মাছের চাহিদা তুলনামূলক বেশী। অন্যদিকে সুস্বাদু হওয়ায় ও পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় এর বাজার দর বেশ চড়া। বর্তমানে রাজশাহীতে দেশী শিং-মাগুর মাছ বিক্রয়ের স্থান ও কাল এবং মাছের আকার ও আবাসস্থল ভেদে ৫০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

বর্তমান অবস্থা:
ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে দেশী শিং ও মাগুর মাছের চাষ এখনও বৃহৎ পরিসরে শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে অল্প পরিসরে অনেক জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ শুরু হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এদের একক চাষ করা হয়ে থাকে তবে উপযুক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করলে মিশ্র চাষ করা সম্ভব। যদিও অর্থনৈতিকভাবে এ প্রজাতির চাষ করা গুরুত্বপূর্ণ তবুও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এর চাষ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে মাগুর মাছের চাষ ও কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করে চাষের পোনার চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তাই বলা যায় এ মাছের পোনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চাষিরা প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই প্রাকৃতিক উৎসের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান প্রভৃতি দেশে এ প্রজাতির কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও চাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এমন কি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও শিং ও মাগুর মাছ চাষে সফলতা অর্জিত হয়েছে।

FRSS (2006-07) এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে শিং-মাগুর মাছের অবস্থান:

  • মোট মৎস্য উৎপাদনে জিওল মাছের (শিং, মাগুর ও কৈ) অবদান ৫৮,১৫৮ মে.টন যা মোট উৎপাদনের ২.৩৪ শতাংশ।
  • বেশিরভাগই জিওল মাছ (শিং, মাগুর ও কৈ) উৎপাদিত হয় প্লাবনভূমিতে (৪৯,৮২০ মে.টন), পুকুরে (৬,৪৪১ মে.টন) এবং বিলে (১,৬৫৩ মে.টন)। এছাড়া নদীতে ও কাপ্তাই হ্রদেও কিছু জিওল মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে।
  • বেশিরভাগই জিওল মাছ (শিং, মাগুর ও কৈ) উৎপাদিত হয় কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনি, সুনামগঞ্জ জেলায়।
  • শুধুমাত্র বিল থেকে আহরণকৃতি শিং-মাগুরের পরিমাণ ৯৩২ মে.টন যা বিল থেকে উৎপাদিত মাছের মোট পরিমাণের ১.২৪ শতাংশ।
  • একক জলাশয় হিসেবে কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরণকৃত শিং-মাগুর মাছের পরিমাণ ২৫ মে.টন।
  • শুধুমাত্র প্লাবনভূমি থেকে আহরণকৃত মাছের মধ্যে জিওল মাছের (শিং, মাগুর ও কৈ) অবদান ৬.৪৮ শতাংশ।
  • চাষকৃত (Cultured), চাষযোগ্য (Culturable) ও পরিত্যক্ত (Derelict) পুকুর থেকে উৎপাদিত মাছের মধ্যে শিং-মাগুরের অবদান যথাক্রমে ০.০৯, ১.৮৮ ও ৩.৬ শতাংশ যা সকল ধরণের পুকুর থেকে উৎপাদিত মোট মাছের ০.৫ শতাংশ।

উপরোক্ত তথ্য থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে চাষকৃত শিং ও মাগুর মাছের উৎপাদনের চেয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ (যেমন- প্লাবনভূমি, বিল, নদী ইত্যাদি) থেকে উৎপাদিত শিং-মাগুর মাছের উৎপাদন অনেক অনেক গুণ বেশী। যদিও মোট মৎস্য উৎপাদনের অতি সামান্য একটি অংশ হচ্ছে শিং-মাগুর তথাপি এর ব্যাপক বাজার চাহিদার কথা বিবেচনা করে বলা যায় এখনই চাষের মাধ্যমে এর উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ অপরিহার্য। আশার কথা এই যে মৎস্য চাষিদের মাঝে শিং-মাগুর মাছ চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পোনা স্বল্পতা, খাবার ও আহরণ সম্পর্কিত কতিপয় সমস্যার কারণে ব্যাপকভাবে এর চাষ শুরু হয় নি। নিচে শিং-মাগুর মাছ চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোকপাত করা হল।

সমস্যা:

  • পোনার স্বল্পতা:
    এখনও শিং-মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজনন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সারাদেশের হ্যাচারিগুলোতে এ মাছের পোনার উৎপাদন এখনও বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় নি। তাই বাস্তবতা হচ্ছে, প্রাকৃতিক উৎসই পোনা প্রাপ্তির একমাত্র উপায়। কিন্তু প্রাকৃতিক আবাস থেকে পোনা সংগ্রহ করা সহজ কাজ নয়। এছাড়াও প্রকৃতি থেকে এভাবে প্রতি বছর ব্যাপকভাবে পোনা সংগ্রহের ফলে তা এ প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এছাড়াও প্রকৃতি থেকে এ মাছের পোনা সংগ্রহের সময় অন্যান্য প্রজাতির পোনাও ধরা পড়ে। অসচেতনতার ফলে তা জলাশয়ে ফেরার সুযোগ না পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
  • উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ:
    এ মাছ মাংসাশী (Carnivorous) ফলে অধিক প্রোটিন বিশিষ্ট খাবার এদের সঠিক বৃদ্ধির জন্য দরকার। তাই এ প্রজাতি চাষের ক্ষেত্রে অধিক প্রোটিন বিশিষ্ট খাদ্য সরবরাহে খরচ অনেক বেশী হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে বাড়ীতে তৈরি মাছের খাবারে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে তা এ মাছের কাঙ্ক্ষিত প্রোটিনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। ফলে প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করা আবশ্যক হয়ে দেখা দেয় যা ব্যয়বহুল। আবার অনেক এলাকায় প্যাকেটজাত খাবার সহজপ্রাপ্যও নয়।
  • স্বপ্রজাতি ভক্ষণের স্বভাব (Cannibalism):
    শিং-মাগুর মাছের স্বপ্রজাতি ভক্ষণ আচরণ দেখতে পাওয়া যায়। তবে চাষের জলাশয়ে খাবারের স্বল্পতা দেখা দিলেই কেবলমাত্র এরা নিজেদের প্রজাতির অন্যান্য সদস্যকে আক্রমণ করে থাকে এবং এমনকি খেয়েও থাকে। এমন বিষয় মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে কারণ এতে মৃত্যুহার বাড়ে ও উৎপাদন কমে যায়। তাই খাবার সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত সচেতনতার সাথে নিশ্চিত করার প্রয়োজন হয়।
  • মাছ আহরণের (Harvesting) সমস্যা:
    যেহেতু এ মাছ জলাশয়ের তলদেশের কাদামাটিতে থাকতে পছন্দ করে তাই জাল টেনে সম্পূর্ণ মাছ সংগ্রহ সম্ভব নয়। যদিও বর্তমানে পুকুর শুকিয়ে শিং-মাগুর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে তবে এভাবে মাছ সংগ্রহ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি। বিশেষত বড় আকারে পুকুরের ক্ষেত্রে আহরণ ব্যয় অনেক বেশী হয়ে থাকে যা লাভের পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। আবার পুকুর শুকিয়ে ফেললে এরা কাদার ভেতরে প্রবেশ করে থাকে ফলে হাত দিয়ে বা কোঁচ দিয়ে এদের সংগ্রহ করতে হয় যা সময় সাপেক্ষ একটি বিষয়। আবার শিং মাছ শ্রোণী পাখনার কাঁটার (Spine of pectoral fin) মাধ্যমে বিষ-গ্রন্থিতে উৎপন্ন বিষ প্রয়োগ করতে পারে বিধায় কাদার মধ্যে থেকে এ মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে কোঁচ দিয়ে সংগ্রহ করলে এর দেহে ক্ষতের সৃষ্টি হয় যা এর বাজারমূল্য কমিয়ে দেয়।
  • বাজারমূল্য:
    স্বাভাবিক ভাবে দেখা যায় যে, যে সব দেশী ছোট/বড় মাছ প্রকৃতি (বিল/নদী) থেকে ধরা হয়ে থাকে তার বাজারমূল্য চাষকৃত মাছের প্রায় তিন-চার গুণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বিলের কৈ মাছের বাজার মূল্য ৬০০-৭০০ টাকা/কেজি হলে চাষকৃত কৈ মাছ একই সময় ও স্থানে ১৫০-২০০ টাকা/কেজির বেশী নয়। বাজারমূল্যের এমনতর পার্থক্যের কারণে চাষিরা চাইলেও উচ্চমূল্যের অধিক প্রোটিন বিশিষ্ট খাবার সরবরাহ করে চাষ করতে আগ্রহী হয় না কারণ এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেয়ে লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

 

সম্ভাবনা:

  • পোনার অভাব পূরণ:
    কেবলমাত্র প্রকৃতি থেকে সংগ্রহকৃত পোনা দিয়ে এ মাছের চাষকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই শিং-মাগুর মাছের পোনার চাহিদা পূরণে কৃত্রিম প্রজননের কোন বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। দরকার সারা দেশের সরকারী হ্যাচারিসমূহে কৃত্রিম প্রজননের পদ্ধতি উন্নয়নের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনের প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ। কৃত্রিম প্রজননের কৌশল দেশের হ্যাচারিগুলোতে সম্প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেশে এ মাছের পোনার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
  • শিং-মাগুরের খাবার:
    খাদ্যে উচ্চ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য কম খরচে স্থানীয়ভাবে শিং-মাগুরের খাবার উৎপাদন করার সহজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহের খরচ কমানো যেতে পারে। এছাড়া হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল, মাছ ইত্যাদির ফেলে দেয়া অংশ সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে শুকিয়ে গুড়ো করে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ীতেই টিউবিফেক্স, কেঁচো ইত্যাদি চাষ করে এ জাতীয় জীবন্ত খাবার সরবরাহের সহজ প্রযুক্তি সকল এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে। তুলনমূলক স্বল্পমূল্যে প্যাকেটজাত খাবার সহজপ্রাপ্য করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে।
    নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় খাবার সরবরাহ করে স্বপ্রজাতি ভক্ষণের সমস্যাও এড়ানো যায় সহজেই।
  • আহরণ:
    সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে শিং-মাগুর আহরণ এখন পর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। কাজটিকে সহজ করার জন্য বড় জলাশয়ের পরিবর্তে ছোট থেকে মাঝারি আকারের জলাশয় এ মাছের চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।
    এ জাতীয় মাছের আহরণ সহজ করার লক্ষে পুকুর প্রস্তুতির সময় ছোট-মাঝারি আকারের জলাশয়ের তলদেশে মাছ চাষের খাঁচা তৈরির জাল বিছিয়ে দেয়া যেতে পারে। জাল কাদা-মাটির মধ্যে কিছুটা প্রোথিত অবস্থায় থাকে। চাষ শেষে মাছ সংগ্রহের সময় জাল ধরে টেনে তুলে সহজের মাছ সংগ্রহ করা যায়। ব্যয়বহুল বিধায় বড় পুকুরের ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও ছোট থেকে মাঝারি পুকুরের ক্ষেত্রে পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • বাজার মূল্যের বৈষম্য:
    প্রাকৃতিক জলাশয়ের শিং-মাগুর ও চাষকৃত জলাশয়ের শিং-মাগুর মাছের বাজার দরের যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তা বিবেচনায় নিয়ে এ মাছের উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব।

 

উপসংহার:

  • যদিও শিং ও মাগুর মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে কিন্তু প্রাপ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মাটির গঠন, তাপমাত্রা, আবহাওয়া ইত্যাদি এ প্রজাতি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই আমাদের দেশে এ প্রজাতি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
  • মাছ চাষের প্রচলিত জলাশয় ছাড়াও যে কোন হাজা-মজা পুকুর ও ডোবাতে এ মাছ চাষ করা সম্ভব। পানির পাশাপাশি বাতাস থেকেও অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে পারে বিধায় এদের অভিযোজন ক্ষমতা অন্যান্য সাধারণ মাছের চেয়ে বেশী। তাই যত সামান্য সংস্কার করে যে কোন ধরনের জলাশয়ে শিং-মাগুর চাষ করা যেতে পারে।
  • বাংলাদেশে বর্ষার মৌসুমে অনেক জলাশয়ে (যেমন- রাস্তা ও রেললাইনের পার্শ্ববর্তী ডোবা ইত্যাদি বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্ট মৌসুমি জলাশয়) সহজেই এ মাছ চাষ করা যেতে পারে।
  • এ প্রজাতি চাষের কৌশল জটিল নয় ফলে প্রান্তিক চাষিরাও অতি সহজে এ প্রজাতি চাষ করে লাভবান হতে পারে।
  • বৃহৎ জলাশয়ে এমনকি উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় এ প্রজাতি চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
  • শিং-মাগুর যেহেতু অগভীর পানিতে বাস করতে পারে তাই ধানক্ষেতেও এ মাছ চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
  • এরা বদ্ধ পানিতেও ডিম দিতে ও ফোটাতে সক্ষম এবং বাচ্চারা এ পরিবেশেই বেড়ে উঠতে পারে বিধায় সহজেই এদের হ্যাচারি ও নার্সারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা যেতে পারে।

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় কিছু অন্তরায় থাকা সত্ত্বেও শিং-মাগুর চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আমাদের দেশে বর্তমানে রয়েছে। উল্লেখিত বাঁধাসমূহ অতিক্রমের করে এর উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব তেমনই সম্ভব অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া।

 

তথ্যসূত্র:

  • FRSS (2006-07). Department of Fisheries. Ministry of Fisheries and livestock. Bangladesh. pp. 42.
  • Siddiqui K and Choudhury SN (1996) A Manual on Pond Pisciculture, The National Institute of Local Government, Dhaka, Bangladesh, p. 106.

 

Visitors' Opinion

লেখক

শিক্ষার্থী, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত

Leave a Reply