ক্যাটাগরি: একুয়ারিয়াম | মাৎস্য চাষ | হ্যাচারি

এ্যাকুয়ারিয়ামে প্লাটি মাছের প্রজনন

দুই মাস বয়সী প্লাটি মাছ

দুই মাস বয়সী প্লাটি মাছ

প্লাটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় বিদেশী বাহারি মাছের মধ্যে অন্যতম। এর আদি নিবাস উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, ব্রাজিল, উত্তর মেক্সিকো। অন্যান্য জরায়ুজ (Viviparous) মাছের (গাপ্পি, মলি, সোর্ডটেইল ইত্যাদি) মত এরাও সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। এদের  নিষেক ক্রিয়া দেহের অভ্যন্তরে ঘটে। আমাদের দেশে প্লাটিকে বাহারি মাছ হিসেবে এ্যাকুয়ারিয়ামে লালন-পালন করার পাশাপাশি এর প্রজননও করানো হয়। প্রকৃতিতে বিভিন্ন রঙের প্লাটি দেখতে পাওয়া যায়। লালচে কমলা প্লাটিতে কালো পাখনা বা কমলা পাখনা বিদ্যমান থাকে। অনেক জায়গায় হলুদ রঙ্গের প্লাটিও পাওয়া যায়। এরা নিজেদের সদ্যজাত বাচ্চাকে  খাবার হিসেবে গ্রহণ করে থাকে তাই এদের প্রজনন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। আসুন তার আগে জেনে নিই প্লাটির পরিচয় ও এর প্রজনন সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি।

 

ট্যাক্সোনমিতে প্লাটি মাছের অবস্থান:
Phylum: Chordata
Class: Actinopterygii
Order: Cyprinodontiformes
Family: Poeciliidae
Genus: Xiphophorus
Species: X. maculates

 

প্রজননের বয়স সময় ও তাপমাত্রা:

২৫ –২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬৪-৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এদের বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য সবচেয়ে ভাল। তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে বছরের যে কোন সময়ই এরা বাচ্চা প্রসব করে থাকে। এরা জন্মের ৩-৪ মাসের মধ্যে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়।একটি পূর্ণ বয়স্ক প্লাটি ৬-৭ সেমি হয়ে থাকে।

 

স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সনাক্তকরণ:

মা ও বাবা প্লাটি মাছ

মা ও বাবা প্লাটি মাছ (স্ফীত উদরের মাছ দুটি মা মাছ)

প্লাটির স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সনাক্ত করণের একমাত্র উপায় এদের বহি: যৌনাঙ্গ (External Genital organ)। পুরুষ প্লাটির পায়ু পাখনা (Anal fin) পুরুষ বহি:জননাঙ্গ (Male external genital organ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুরুষদের বহি:জননাঙ্গ স্ত্রীদের দেহের অভ্যন্তরে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাহায্য করে থাকে। স্ত্রী মাছে পায়ু পাখনায় এজাতীয় কোন পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়না।

 

প্রজননের জন্য এ্যাকুয়ারিয়াম প্রস্তুতি:
একটি ১৫ ইঞ্চি প্রস্থ, ১৫ ইঞ্চি উচ্চতা ও ২৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এ্যাকুয়ারিয়ামে বা এর থেকে ছোট এ্যাকুয়ারিয়ামেও সহজে এই মাছ প্রজনন করে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়ামের পানি সামান্য ক্ষারীয় হলেই ভাল। পিএইচ ৭- ৮ হলে সবচেয়ে ভাল। এ্যাকুয়ারিয়াম প্রস্তুতির সময় ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সম্পূর্ণ এ্যাকুয়ারিয়ামে পাথর না দেয়াই ভাল কারণ মাছের ছোট পোনা পাথরের ফাঁকে লুকানোর চেষ্টা করে এতে সহজে পোনা সংগ্রহ করা যায় না।

প্লাটি মাছের মা-বাবার মাঝে প্রসব পরবর্তী মাতৃ-পিতৃ যত্ন (Parental care) দেখতে পাওয়া যায় না। বাচ্চা প্রসবের পরপরই সুযোগ পেলে মা ও বাবা মাছ নিজেদের বাচ্চাই খেয়ে ফেলে। তাই সদ্যজাত পোনাকে তাদের মা-বাবার কাছ থেকে দ্রুতই আলাদা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার যা নিম্নরূপ-

অনেকেই মাছ থেকে পোনা বাঁচানোর বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলে থাকেন। যেমন-

  • এ্যাকুয়ারিয়ামে মার্বেল দিলে মার্বেলের ফাঁকে মাছের পোনা আশ্রয় পেতে পারে কিন্তু এখানে অসুবিধা হল  পোনা খুবই চঞ্চল প্রকৃতির এবং জন্মের পর থেকেই এরা দৌড়াতে থাকে ফলে এক জায়গায় স্থির না থাকার কারণে সহজেই বড় মাছ এদের উপস্থিতি টের পায় এবং খেয়ে ফেলে। শাবকদের সংগ্রহ করতেও সমস্যা হয়।
  • এ্যাকুয়ারিয়ামে ভাঙ্গা মাটির হাড়ি-পাতিলের টুকরা ,গাছ -পালা দিলেও পোনা সেখানে আশ্রয় নিতে পারে কিন্তু এখানেও উপরে বর্ণিত সমস্যা বিদ্যমান।
  • প্লাস্টিকের রশি এক হাত লম্বা করে কেটে প্রত্যেকটা প্যাঁচ খুলে দলা পাকিয়ে এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখলেও সেখানে পোনা মাছ আশ্রয় নিতে পারে কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় মাছ পোনাকে তাড়া করে রশির জটলায় ঢুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মাছের কানকোতে (Operculum) রশি আটকে মাছের মৃত্যু হয়। এভাবে মৃত্যুর হার অনেক বেশী বলে এ পদ্ধতিটিও খুব একটা কাজের নয়।
  • প্রজনন জাল (Breeding net) ব্যবহার করে সহজেই পোনা মাছকে মা-বাবা মাছ থেকে আলাদা করা যায়। প্রজনন জাল তৈরির জন্য প্রয়োজন চিকন করে কাটা বাঁশ অথবা মোটা জিআই তার এবং ০.২ ইঞ্চি মেস সাইজের জাল। প্রথমে চিকন করে কাটা বাঁশের একটি ফ্রেম তৈরি করে তার চার পাশে জাল সেলাই করে দিতে হবে (ছবির মত করে)। উপরে বর্ণিত সাইজের এ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য ১৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ১২ ইঞ্চি প্রস্থের ফ্রেম তৈরি করতে হবে আর জালের দৈর্ঘ্য হবে ১২ ইঞ্চি। প্রস্তুতকৃত এই প্রজনন জালটিকে এ্যাকুয়ারিয়ামের প্রস্থ বরাবর ফ্রেমের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী স্থাপন করতে হবে। ফ্রেমের দুই বিপরীত প্রান্ত এ্যাকুয়ারিয়ামের কাঁচের সাথে আটকে রাখতে হবে (চিত্রের মত)। প্রজনন জাল অবশ্যই এ্যাকুয়ারিয়ামের মাঝামাঝি স্থাপন করতে হবে। জালটির পাঁচ ভাগের চার ভাগ পানিতে ডুবানো অবস্থায় রাখতে হবে। এর ফলে পোনা নেটের উভয় পাশে যথেষ্ট জায়গা পাবে। এভাবে তৈরি প্রজনন জালে সহজেই মাছ বাচ্চা প্রসব করতে পারে এবং বাচ্চাকে রক্ষাও করা যায় সহজে।

 

প্রজনন প্রক্রিয়া:
প্রজননের আগে মা ও বাবা মাছকে ইচ্ছা করলে আলাদা এ্যাকুয়ারিয়ামে রেখে পরিচর্যা করা যায় কিন্তু এক সাথে রাখলেও খুব একটা সমস্যা দেখা যায় না। যদি ব্রুড মাছ বিক্রির উদ্দেশ্য থাকে তবে মা ও বাবা মাছকে একসাথে রাখাটা সুবিধাজনক নয় কারণ এদের প্রজনন হার খুব বেশী। এক সাথে থাকার ফলে এরা বারবার প্রজননে অংশ নেয় এবং বৃদ্ধি রোহিত হয়।
পরিচর্যার সময় বাবা ও মা মাছকে এক সাথে রাখলে গর্ভবতী মা মাছকে সনাক্ত করে সরাসরি প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামের প্রজনন জালে স্থানান্তর করতে হবে। অন্যদিকে আলাদাভাবে রেখে পরিচর্যা করা মাছের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি বাবা মাছ ও দুটি মা মাছ অনুপাতে (বাবা:মা = ১:২ অনুপাতে)  ২-৩ দিনের জন্য প্রজনন এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে হবে। অতঃপর মা-বাবা মাছকে পুনরায় পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থানান্তর করতে হবে। প্রজনন (Breeding) পরবর্তী এক মাসের মধ্যে গর্ভবতী মা মাছ বাচ্চা প্রসবের জন্য উপযুক্ত হবে। বাচ্চা প্রসবের সময় হলে মা মাছকে প্রজনন জালে স্থানান্তর করতে হবে। এ সময় পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়াম থেকে প্রজনন জাল স্থাপনকৃত এ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রা যেন একই বা কাছাকাছি থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। উপরে বর্ণিত আকারের জালে ১০ থেকে ১৫ টি মাছ রাখা যাবে।

 

নেট স্থাপন ও গর্ভবতী মা সনাক্তকরণ:

এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থাপিত একটি প্রজনন-জাল

এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থাপিত একটি প্রজনন-জাল

এক ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ০.৩-০.৪ ইঞ্চি প্রস্থের মা-বাবা মাছকে উপরে বর্ণিত মাপের প্রজনন জালে দেয়া যাবে। এর থেকে ছোট আকারে মাছেরা জাল দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে এবং কানকোতে জাল আটকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমনকি মারাও যেতে পারে। তাই মাছের আকার ও জালের মেসের আকারের দিকে নজর রাখতে হবে। তবে আরও ছোট আকারের মা-বাবা মাছকে প্রজনন জালে স্থানান্তর করার দরকার হয় না কারণ এদের মুখ-ছিদ্র (Mouth opening)  এত ছোট থাকে যে তারা প্রসবকৃত অর্থাৎ সদ্যজাত মাছ খেতে পারে না। ফলে একেবারেই ছোট আকারের মা ও পোনা মাছ একই সাথে রাখা যায়।
কয়েকটি বিষয় লক্ষ করে প্রজননে আগ্রহী মা-বাবা ও গর্ভবতী মা মাছকে শনাক্ত করা যায়। যথা-

  • গর্ভবতী মা মাছের উদর স্বাভাবিক অবস্থার মাছের তুলনায় অনেক ফোলা হয় এবং পায়ু পাখনার (Anal fin) কাছে কালো দাগ (Spot) দেখা যায়।
  • এক সাথে রাখা মা-বাবা মাছের ক্ষেত্রে বাবা মাছকে মা মাছের উদরের দিকে (Genital opening এর কাছাকাছি) মৃদু স্পর্শ বা আঘাত করে প্রজননে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায়।
  • সাধারণত স্ত্রীরা সাঁতার কাটা অবস্থায় বাচ্চা প্রসব করে এবং এ্যাকুয়ারিয়ামে থাকা অন্যান্য মাছ সেসব বাচ্চা খাবার জন্য তার পেছন পেছন তাড়া করে থাকে। এ থেকে সহজেই গর্ভবতী মা মাছকে আলাদা করা যায়।

 

পোনা প্রসব:
একটি মা প্লাটি এক প্রজনন চক্রে ২০-২৪টি পোনা প্রসব করে থাকে। পোনার সংখ্যা নির্ভর করে মা মাছের বয়স ও পরিচর্যার উপর।
কম ও বেশী বয়সের মায়েরা তুলনামূলক কম সংখ্যক পোনা প্রসব করে কিন্তু মাঝবয়সী মায়েদের পোনা প্রসবের হার তুলনামূলক বেশী হয়ে থাকে। খাবার গ্রহণ ও অন্যান্য পরিচর্যা যথাযথ না হলে এ সংখ্যায় তারতম্য ঘটতে দেখা যায়।

 

পোনা সংগ্রহ:

মা প্লাটি স্থানান্তর

মা প্লাটি স্থানান্তরের সময় প্রজনন জালের নীচে হাত দিয়ে অবলম্বন দেয়া প্রয়োজন

এক দিন বয়সী প্লাটি

এক দিন বয়সী প্লাটি

পোনা সংগ্রহের জন্য এ্যাকুয়ারিয়ামে মাছ ধরার হাত জালে কাপড় লাগিয়ে নিয়ে সহজেই ব্যবহার করা যায় অথবা মোটা জিআই তারের একটি ফ্রেম তৈরি করে তাতে কাপড় লাগিয়ে নিয়েও এমন হাত-জাল তৈরি করে নেয়া যেতে পারে। পোনার আকার খুব ছোট হওয়ায় কাপড় লাগিয়ে নিতে হয়।

যেহেতু সদ্যজাত পোনা সারা এ্যাকুয়ারিয়ামজুড়ে ছুটাছুটি করে এবং এ্যাকুয়ারিয়ামে আগে থেকেই মা মাছ ও প্রজনন জাল বিদ্যমান থাকে তাই পোনা সংগ্রহের সুবিধার্থে মা মাছসহ প্রজনন জালকে অন্য একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থানান্তর করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে যাতে স্থানান্তরিত প্রজনন জালে রাখা মা মাছ নতুন এ্যাকুয়ারিয়ামের পানিতে ডুবে থাকে এবং উভয় এ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রা যেন একই বা কাছাকাছি হয়। স্থানান্তরের সময় জালের নিচে হাত দিয়ে (চিত্রের মত) বা প্রশস্ত থালা বা ট্রে দিয়ে অবলম্বন দিতে হবে। এতে করে মা মাছসহ প্রজনন জাল পানি থেকে তোলার সময় একে অন্যের উপরে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না।

এবার এ্যাকুয়ারিয়ামের পোনাগুলোকে তাড়া করে কাপড়ের হাত জালে ঢুকাতে হবে। কাপড়ের হাত জাল পানিতে থাকা অবস্থাতেই ছোট বাটি দিয়ে হাত জাল থেকে পানিসহ পোনাগুলো তুলে অন্য একটি এ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রেও পানির তাপমাত্রা একই রকম বা কাছাকাছি থাকা আবশ্যক। সব পোনা স্থানান্তরের পর মা মাছসহ প্রজনন-জালকে আগের এ্যাকুয়ারিয়ামে পুনঃ স্থাপন করতে হবে। এভাবে মা মাছের বাচ্চা দেয়া শেষ হলে মা মাছকে পরিচর্যা এ্যাকুয়ারিয়ামে সরিয়ে নিতে হবে। বাচ্চা দেয়া শেষ হয়েছে এটা বোঝা যাবে মাছের পেটের ফোলা অবস্থা দেখে। সবগুলো বাচ্চা প্রসবের পর মা মাছের পেটের ফোলা অবস্থা কমে গিয়ে গর্ভ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে।

সদ্যজাত পোনা মাছ পরবর্তী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক মাছে পরিণত হয়ে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হয়ে থাকে।

 

পোনা ও ব্রুড মাছের খাবার:
এ বয়সের মাছ উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরনের খাবারই খেয়ে থাকে। যথা- প্রকৃতিতে উদ্ভিদ, কেঁচোজাতীয় প্রাণী, ক্রাস্টেশিয়ান (Crustacean) ও বিভিন্ন পোকা (Insect) খেয়ে থাকে। তবে একুরিয়ামে  শুধুমাত্র ফুটানো আর্টিমিয়া, কুচি করা টিউবিফেক্স, মাছের জন্য তৈরি করা দানাদার খাদ্য  বা প্যাকেটজাত খাদ্য দেয়া যায়। পোনা মাছগুলোকে জন্মের পরপরই খাবার দিতে হবে। ব্রুড ও পোনা উভয়কেই দিনে দুবার করে খাবার দিতে হবে। যেহেতু মাছ অনেক সময় নিয়ে বাচ্চা প্রসব করে তাই প্রজনন-জালে থাকা মা মাছকে খাবার দেয়ার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। যেমন- মা মাছ গুলো কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দেয়া যাবে না। এছাড়াও যেহেতু মাছ জাল থেকে বের হতে পারবে না সে কারণে এ্যাকুয়ারিয়ামের মেঝেতে জমে থাকা খাবারও খেতে পারবে না সেহেতু এমন ভাবে খাবার দিতে হবে যাতে মাছ সহজেই তা খেয়ে ফেলে। প্রজনন জালের উপরের অংশে (পানির স্তর বরাবর) কাপড় লাগিয়ে নেয়া যেতে পারে যাতে ভাসমান খাবার ভাসতে ভাসতে জালের বাইরে না চলে যায়। তবে তেমনটি করা সম্ভব না হলে খাবারের সময় নজরদারি বাড়াতে হবে অর্থাৎ খাবার ভেসে বাইরে চলে গেলে তা হাত দিয়ে বা কোন কিছু দিয়ে নেটের বাইরে থেকে ভিতরে দিতে হবে।

 

এ্যাকুয়ারিয়াম পরিচর্যা:
এ্যাকুয়ারিয়ামের নিচে খাবার জমে থাকলে তা সাইফোনিং এর মাধ্যমে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে জমে থাকা খাবারে কারণে পানির গুণাগুণ নষ্ট হবে না আবার ছত্রাকের আক্রমণের সম্ভাবনা কমবে ফলে মাছও বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাবে। সপ্তাহে এক তৃতীয়াংশ পানি পরিবর্তন করে দিতে হবে। সম্পূর্ণ পানি পরিবর্তন করলে বা এ্যাকুয়ারিয়াম পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে নতুন পানি দেবার সাথে সাথে মাছকে এ্যাকুয়ারিয়ামে দেয়া যাবে না। পানিটাকে স্থির হবার জন্য সময় দিয়ে অতঃপর মাছগুলোকে এ্যাকুয়ারিয়ামে স্থানান্তর করতে হবে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে কোন মাছ মারা গেলে সাথে সাথে তা সরিয়ে ফেলতে হবে যাতে করে পানির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে না যায়। নতুন পানি দেয়ার পরপরই পানিতে দু’এক ফোটা মিথাইলিন ব্লু ব্যবহার করতে হবে। এ্যাকুয়ারিয়ামকে এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যাতে ঘরে ব্যবহৃত কোন যন্ত্র থেকে উৎপন্ন কোন তাপ না লাগে এবং সূর্যের বা অধিক আলোকিত বাল্ব থেকে আসা আলো সরাসরি যাতে না পড়ে।

 

যা অবশই করতে হবে:

  • মাছকে প্রজননের আগে ও পরে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
  • ছেড়া প্রজনন জাল ও হাত জাল ব্যাবহার করা যাবে না। এতে করে মাছ ছেড়া অংশ দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে এবং কানকোতে জাল আটকে মারা যেতে পারে বা পোনা প্রসবের পর বের হয়ে পোনা খেয়ে ফেলতে পারে।
  • অতিরিক্ত ছোট মাছকে প্রাপ্ত বয়স্ক তথা প্রজনন উপযোগী হলেও তা ব্যবহার না করাই ভাল।
  • অনেকেই জালে রং ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে জালের রং ভাল ভাবে রোদে শুকাতে হবে। রং অবশ্যই পানিতে অদ্রবীভূত হতে হবে।
  • পোনা ও মা-বাবা মাছ অতি সতর্কতার সাথে স্থানান্তর করতে হবে।
  • পোনা প্রসব করা শেষ হয়েছে নিশ্চিত হবার সাথে সাথেই মা মাছকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হবে।

 

কৃতজ্ঞতা:

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে সাহায্য করার জন্য শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ফিশারিজ কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
  • প্রজনন জাল তৈরির ধারণা (Idea) প্রদান এবং আমার ছোট্ট হ্যাচারি কাম নার্সারিতে মা-বাবা ও পোনা মাছের পরিচর্যা ও প্রজননের কাজে সহযোগিতা করেছে বন্ধু আতিকুল ইসলাম।
  • আমাদের চাহিদামতো প্রজনন জালটি তৈরি করে দিয়েছেন বাদাতেঘোরিয়া গ্রামের কুদ্দুস ভাই।
  • এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে যারা সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

তথ্যসূত্র:

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বি.এস-সি. ফিশারিজ (অনার্স) ৬ষ্ঠ ব্যাচ (সেশনঃ২০০৪-২০০৫), শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব ফিশারীজ কলেজ মেলান্দহ, জামালপুর। বিস্তারিত

Leave a Reply