ক্যাটাগরি: আলোকচিত্র | চারুকলা | নানাবিধ | শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ফল ও সবজি কার্ভিং: বিষয়বস্তু মাছ

কাঁচা মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মাছ ও মানুষের মুখ

কাঁচা মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মাছ ও মানুষের মুখ

কার্ভিং (carving) এর আভিধানিক অর্থ “খোদাই করা নিখুঁত মূর্তি বা নক্সা”। সবজি ও ফলমূলের ওপর শিল্পীর মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁচড় কেটে যে নিদারুণ রূপ দেয়া হয় তাই ফল ও সবজি কার্ভিং। পরিবারের প্রিয়জন কিম্বা অতিথির সামনে আকর্ষণীয়ভাবে খাবার পরিবেশনে ফল ও সবজি কার্ভিং একটি কার্যকরী ও আধুনিক কৌশল। খাবারের পাশাপাশি কার্ভিং করা ফল বা সবজির উপস্থিতি খাবারের পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ। একই সাথে খাবার পরিবেশনকারীর রুচি ও ব্যক্তিত্বও প্রকাশিত হয় এর মাধ্যমে। আজকাল কোন অনুষ্ঠানে খাবার কেবল সুস্বাদু হলেই হয়না এর সাথে খাবারের শৈল্পিক উপস্থাপনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই দিন দিন গায়ে হলুদের মত ঘরোয়া অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সভা, সেমিনারের মত অফিশিয়াল অনুষ্ঠানেও এর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।

মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মুখোমুখি দুটি মাছ

মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মুখোমুখি দুটি মাছ

ফল ও সবজি কার্ভিং এর বিষয়বস্তুর মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত বিষয়টি হচ্ছে ফুল। ফুলের পরই কার্ভিং এর বিষয় হিসেবে প্রাণীর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি যেমন- মাছ, পাখি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন ধরণের পুতুল ইত্যাদি। লতা-পাতা এমন কি জ্যামিতিক নক্সার প্রচলনও রয়েছে যথেষ্ট। এমনকি কার্ভিং এর মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব সাহিত্য এবং ইতিহাস। কার্ভিং এর বিষয়বস্তুর সাথে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান একে আরও বেশি দৃষ্টি নন্দন করে তোলে নিঃসন্দেহে। তাই মৎস্য বিষয়ক সভা, সেমিনার, কনফারেন্সে এবং যে কোন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মাছের আইটেম থাকলে তার সাথে সাথে মাছও হতে পারে ফল ও সবজি কার্ভিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু।

তরমুজের উপর carving করা মাছের লেজ

তরমুজের উপর carving করা মাছের লেজ

কার্ভিং এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনের কল্পনাশক্তি ও অভিজ্ঞতা। তাই আগ্রহীদের কার্ভিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা কার্ভিং গুলো খুবই মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা খুবই জরুরী। আর কার্ভিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি পাওয়া যায় হাতের কাছেই। যেহেতু কার্ভিং একটি নিখুঁত শিল্পকর্ম এবং একবার ভুল করলে আনডু (পূর্ব অবস্থায় ফেরা) করার তেমন কোন সুযোগ নেই তাই মনোযোগ ও নিখুঁত উপকরণ ও যন্ত্রপাতি অত্যাবশ্যক একটি বিষয়। সাধারণত কার্ভিং এর সবগুলো উপকরণ একসাথে এক জায়গায় পাওয়া যায়না। তাই আলাদা আলাদাভাবেই সংগ্রহ করতে হবে। ফল ও সবজি কার্ভিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে যে কোন ফল ও সবজির দোকান থেকে। তবে ফল ও সবজির আকার আকৃতি বাছাইয়ে পূর্বপরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। আর যন্ত্রপাতি যেমন ধারালো ছুরি, পিলার, স্কুপার, ডিজাইন কাটার, জিগজ্যাগ ইত্যাদি পাওয়া যায় যে কোন বড় কোকারিজের দোকানে।

তরমুজের উপর carving করা মাছ

তরমুজের উপর carving করা মাছ

একবার তৈরি করা কার্ভিং যদিও কয়েকদিন ফ্রিজে রেখে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায় তবে সাথে সাথে ব্যবহার করাই ভাল। একান্তই ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রথমে কার্ভিং পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং তারপর তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি ৭-৮ ঘণ্টা পরপর ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ফ্রিজে রাখলে কয়েকদিন পর্যন্ত ভাল থাকবে তবে তা নির্ভর করবে কার্ভিং এর ফল ও সবজির প্রকারের উপর।

মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মাছ

মিষ্টিকুমড়ার উপর carving করা মাছ

যতদূর জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে চিন দেশে সর্বপ্রথম ফল ও সবজির কার্ভিং শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সাথে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৩৬৪ সালে থাইল্যান্ড এই চমৎকার শিল্পটি চিন থেকে রপ্ত করে। চিন, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য উন্নত দেশে প্রতি বছর কার্ভিং মেলা এবং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে এই পরিসরে এর উপস্থাপনা দেখতে পাওয়া গেলেও গায়ে হলুদ, বউ ভাত ইত্যাদি অনুষ্ঠানে, বিভিন্ন অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের ডিনারে ও রেস্টুরেন্টে কার্ভিং এর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। তাই ফল ও সবজি কার্ভিং হতে পারে অর্থ উপার্জনের একটি বিকল্প পন্থাও।

এ লেখার ছবিগুলো কাতারের মিসাইদ সি এরিয়ার ফ্লাওয়ার এন্ড ভেজিটেবল সো থেকে গত ৫ এপ্রিলে তুলে পাঠিয়েছেন বিডিফিশের লেখক নুসরাত আহমেদ যা এর আগে প্রকাশিত হয়েছে বিডিফিশ গ্যালারিতে। তার কাছে লেখক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে কারণ ছবিগুলো না পাঠালে লেখকের পক্ষে এ লেখাটি তৈরি করা সম্ভব হতোনা। লেখক আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে সেই সব লেখকবৃন্দকে, যাদের লেখা তথ্যাদি (বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত) এ লেখায় ব্যবহার করা হয়েছে।

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply