ক্যাটাগরি: মাৎস্য পরিসংখ্যান | মাৎস্য সম্পদ

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ পরিসংখ্যান (২০১১-২০১২): একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা

বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তর বিগত বছরগুলোর মত ২০১৩ সালেও ২০১১-২০১২ অর্থ বছরের মৎস্যসম্পদের বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই পরিসংখ্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলনামূলক বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করা হল।

 

অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক জলায়তন:
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্যের জলায়তনের মধ্যে উন্মুক্ত জলাশয়ের জলায়তনের পরিমাণ কমলেও (-২.৪৮%) বেড়েছে বদ্ধ জলাশয়ের আয়তন (+১৪.০৫%)। বদ্ধ জলাশয়ের মধ্যে পুকুর ও বাঁওড়ের (অক্সবো লেক) জলায়তনের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে চিংড়ি খামারের আয়তন (-০.৪৬%)। এবছর আধাবদ্ধ জলাশয়ের পরিবর্তে মৌসুমি জলাশয় সংযুক্ত হয়েছে যার জলায়তন ১,২২,০২৬ হেক্টর। অন্যদিকে উন্মুক্ত জলাশয়ের মধ্যে নদী ও মোহনা, সুন্দরবন, বিল ও কাপ্তাই হ্রদের জলায়তন অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে প্লাবনভূমির জলায়তন (-৩.৫৫%)। বিস্তারিত রয়েছে টেবিল-এক এ।

সামুদ্রিক মৎস্যের জলায়তনের পরিমাণের মধ্যে সমুদ্রসীমা এবং একান্ত অর্থনৈতিক এলাকার একক পূর্ববর্তী বছরের মতো বর্গ নটিক্যাল মাইলের পরিবর্তে এবছর বর্গ কিলোমিটারে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু মহীসোপান এলাকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তৃতি আগের মতই যথাক্রমে বর্গ নটিক্যাল মাইল ও কিলোমিটারে প্রকাশ করা হয়েছে যার পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বিস্তারিত টেবিল-দুই এ দেখানো হল।

 

টেবিল-একঃ অভ্যন্তরীণ জলায়তন

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
বদ্ধ জলাশয়
পুকুর ৩,৭১,৩০৯ হেক্টর
অক্সবো লেক (বাঁওড়) ৫,৪৮৮ হেক্টর
চিংড়ি খামার ২,৭৫,২৩২ হেক্টর – ০.৪৬
মৌসুমী জলাশয়* ১,২২,০২৬ হেক্টর
মোট ৭,৭৪,০৫৫ হেক্টর + ১৪.০৫
উন্মুক্ত জলাশয়
নদী ও মোহনা ৮,৫৩,৮৬৩ হেক্টর
সুন্দরবন ১,৭৭,৭০০ হেক্টর
বিল ১,১৪,১৬১ হেক্টর
কাপ্তাই লেক ৬৮,৮০০ হেক্টর
প্লাবনভূমি ২৭,১০,৭৬৬ হেক্টর – ৩.৫৫
মোট ৩৯,২৫,২৯০ হেক্টর – ২.৪৮
সর্বোমোট ৪৬,৯৯,৩৪৫ হেক্টর + ১.৬৫

*নতুন অন্তর্ভূক্ত জলাশয় তাই পরিমাণের হ্রাস বা বৃদ্ধি দেখানো হল না।

 

টেবিল-দুইঃ সামুদ্রিক জলায়তন

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
সমুদ্রসীমা ৯,০৬০ বর্গ কিলোমিটার*
একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা ১,৪০,৮৬০ বর্গ কিলোমিটার*
মহীসোপান এলাকা ২৪,৮০০ বর্গ নটিক্যাল মাইল
উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তৃতি ৭১০ কিলোমিটার

*নতুন একক ব্যবহার করা হয়েছে তাই পরিমাণের হ্রাস বা বৃদ্ধি দেখানো হল না।

 

জেলে ও মৎস্যচাষির সংখ্যা:
অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক উভয় জলাশয়ের জেলের সংখ্যা গত বছর অপরিবর্তিত থাকলেও এবছরে সামান্য বেড়েছে [টেবিল-তিন]। মৎস্য চাষিদের মধ্যে চিংড়ি চাষির সংখ্যা গত বছর অপরিবর্তিত থাকলেও এবছরে কমেছে অনেকটাই (-২৭.৫৭%) অন্যদিকে গত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও বেড়েছে মৎস্য চাষির সংখ্যা (+ ৩৫০.১৩%) [টেবিল- চার]।

টেবিল-তিনঃ জেলের সংখ্যা

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের জেলে ৮.০০ লক্ষ জন + ৩.৯০
সামুদ্রিক জেলে ৫.১৬ লক্ষ জন + ১.১৮
মোট ১৩.১৬ লক্ষ জন + ২.৮১

 

টেবিল-চারঃ মৎস্য চাষির সংখ্যা

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
মৎস্য চাষি ১৩৮.৬৪ লক্ষ জন + ৩৫০.১৩
চিংড়ি চাষি ৮.৩৩ লক্ষ জন – ২৭.৫৭
মোট ১৪৬.৯৭ লক্ষ জন + ২৪৭.৪৫

 

মোট মৎস্য উৎপাদন:
টেবিল পাঁচ, ছয় ও সাত অনুসারে এবছর দেশের মোট মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৩২,৬১,৭৮২ মে. টন যা গত বছরের চেয়ে ৬.৫৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে অভ্যন্তরীন জলাশয়ের মৎস্য উৎপাদন বেড়েছে ৬.৬৭ শতাংশ এবং সামুদ্রিক উৎস্য হতে উৎপাদন বেড়েছে ৫.৯১%। বদ্ধ জলাশয় (চাষকৃত), ট্রলার দ্বারা আহরিত এবং আর্টিস্যানাল (ইঞ্জিন চালিত নৌকা দ্বারা আহরিত) মৎস্য উৎপাদন বাড়লেও (যথাক্রমে +১৮.১৬%, +৭৬.১৩% এবং +০.১১%) কমেছে উন্মুক্ত জলাশয় (আহরিত) এর মৎস্য উৎপাদন (-৯.২৪%)। গতবছর ট্রলার দ্বারা আহরিত মৎস্যের উৎপাদন কমলেও (- ২১.৮৯%) এবছর বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে (+৭৬.১৩%)। গতবছরের মত এবছরও উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য উৎপাদন কমেছে এবং এর বিপরীতে চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে।

টেবিল-পাঁচঃ মোট মৎস্য উৎপাদনঃ অভ্যন্তরীণ জলাশয় হতে-

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
বদ্ধ জলাশয় (চাষকৃত) ১৭,২৬,০৬৭ মে. টন + ১৮.১৬
উন্মুক্ত জলাশয় (আহরিত) ৯,৫৭,০৯৫ মে. টন – ৯.২৪
মোট ২৬,৮৩,১৬২ মে. টন + ৬.৬৭

 

টেবিল-ছয়ঃ মোট মৎস্য উৎপাদনঃ সামুদ্রিক জলাশয় হতে-

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
ট্রলার দ্বারা আহরিত ৭৩,৩৮৬ মে. টন + ৭৬.১৩
আর্টিস্যানাল (ইঞ্জিন চালিত নৌকা দ্বারা আহরিত) ৫,০৫,২৩৪ মে. টন + ০.১১
মোট ৫,৭৮,৬২০ মে. টন + ৫.৯১

 

টেবিল-সাতঃ মোট মৎস্য উৎপাদন

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
অভ্যন্তরীণ জলাশয় ২৬,৮৩,১৬২ মে. টন + ৬.৬৭
সামুদ্রিক জলাশয় ৫,৭৮,৬২০ মে. টন + ৫.৯১
মোট ৩২,৬১,৭৮২ মে. টন + ৬.৫৪

 

গড় মৎস্য উৎপাদন:
পুকুরে চাষকৃত মাছের গড় উৎপাদন গতবছরে কমলেও (-২৬.৬৮%) বেড়েছে (+৫১.৫৭%) এবছর। এবছর মৌসুমী চাষ জলাশয় শিরোনামের একটি নতুন জলাশয় যোগ করা হয়েছে অন্যদিকে গত বছরের আধাবদ্ধ জলাশয় (প্লাবনভূমি) বাদ দেয়া হয়েছে। বাঁওড়ের গড় মৎস্য উৎপাদন গত বছর কম (-২২.৪৮%) হলেও এবছর বেড়েছে ৬.৬৬ শতাংশ। চিংড়ি খামারের গড় উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও বেড়েছে ৬.৩৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে নদী ও মোহনার গড় মৎস্য উৎপাদন গত বছর কমলেও (- ৬.১১%) সামান্য বেড়েছে (+১.১৮%) এবছর। কিন্তু সুন্দরবনের গড় মৎস্য উৎপাদন গত বছর বাড়লেও (+১৭৩.৯১%) এবছরে তা কমেছে ৩.১৭ শতাংশ। কাপ্তাইলেক ও প্লাবনভূমির গড় মৎস্য উৎপাদন গত বছর বাড়লেও এবছরে কমেছে যথাক্রমে ৫.৩৪ ও ৯.৫১ শতাংশ। বিস্তারিত টেবিল-আট এ দেখানো হয়েছে।

টেবিল-আটঃ গড় মৎস্য উৎপাদন (অভ্যন্তরীণ জলাশয় হতে)

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
বদ্ধ জলাশয় (চাষকৃত)
পুকুর ৩,৬১৫ কেজি/হেক্টর + ৫১.৫৭
মৌসুমী চাষ জলাশয়* ১,৪৯৪ কেজি/হেক্টর
বাঁওড় ৯৪৫ কেজি/হেক্টর + ৬.৬৬
চিংড়ি খামার ৭১৩ কেজি/হেক্টর + ৬.৫৮
উন্মুক্ত জলাশয় (আহরিত)
নদী ও মোহনা ১৭১ কেজি/হেক্টর + ১.১৮
সুন্দরবন ১২২ কেজি/হেক্টর – ৩.১৭
বিল ৭৪৬ কেজি/হেক্টর + ৪.৪৮
কাপ্তাই লেক ১২৪ কেজি/হেক্টর – ৫.৩৪
প্লাবনভূমি ২৫৭ কেজি/হেক্টর – ৯.৫১

* এবছর নতুন সংযোজন করা হয়েছে তাই মৎস্য উৎপাদনের হ্রাস বা বৃদ্ধি দেখানো হল না।

 

প্রজাতি ভিত্তিক মৎস্য উৎপাদন:
প্রজাতি ভিত্তিক মৎস্য উৎপাদন ইলিশের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমেছে ০.০৪ শতাংশ যদিও গতবছেরর উৎপাদন হ্রাসের হার ছিল ০.২২ শতাংশ। অন্য দিকে ইলিশের সামুদ্রিক উৎপাদন বেড়েছে (+২.৯৮%) যদিও গত বছরের  (+১৩.৪৭%) চেয়ে তা অনেক কম। চাষকৃত ও আহরিত চিংড়ির উৎপাদন বাড়লেও (যথাক্রমে +১০.০৫% ও ০.৪৭%) এই বৃদ্ধির হার গত বছরের (যথাক্রমে + ৪১.৬৯% ও + ১৬.০৭) চেয়ে অনেক কম।  মোট উৎপাদিত চিংড়ির ৫৪.৩২ ভাগই চাষকৃত যা গত বছরের চেয়ে ৪.৩৬ ভাগ বেশি যদিও পূর্ববর্তী বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ১০.৫৮ শতাংশ। বিস্তারিত দেওয়া হল টেবিল-নয়।

টেবিল-নয়ঃ প্রজাতি ভিত্তিক মৎস্য উৎপাদন

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
ইলিশ
অভ্যন্তরীণ ১,১৪,৪৭৫ মে. টন – ০.০৪
সামুদ্রিক ২,৩২,০৩৭ মে. টন + ২.৯৮
মোট ৩,৪৬,৫১২ মে. টন + ১.৯৬
চিংড়ি
চাষকৃত ১,৩৭,১৭৫ মে. টন + ১০.০৫
আহরিত (অভ্যন্তরীণ + সামুদ্রিক) ১,১৫,৩৪৮ মে. টন + ০.৪৭
মোট ২,৫২,৫২৩ মে. টন + ৫.৪৬
চাষকৃত চিংড়ির শতকরা হার ৫৪.৩২ মে. টন + ৪.৩৬

 

মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি:
মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্যাদি রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য গত বছর যথাক্রমে ২৪.৩৪ ও ৩৫.০৭ শতাংশ বাড়লেও এবছর যথাক্রমে কমেছে ৪.১৪ শতাংশ ও বেড়েছে ২.১৭ শতাংশ। মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্টের সংখ্যা গতবছর অপরিবর্তিত থাকলেও এবছর কমেছে ৩৮.২৭ শতাংশ। যদিও ইইউ অনুমোদিত প্লান্টের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১টি। জাতীয় মোট রপ্তানিতে বৈদেশিক মূদ্রার অবদান গত বছর বেড়েছিল ১.১১ শতাংশ আর এবছর কমেছে ৯.৮৯ শতাংশ। বিস্তারিত টেবিল-দশ এ।

টেবিল-দশঃ মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
পরিমাণ ৯২,৪৭৯.৭০ মে. টন – ৪.১৪
মূল্য ৪,৭০৩.৯৫ কোটি টাকা + ২.১৭
মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট ১০০ টি – ৩৮.২৭
জাতীয় মোট রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অবদান ২.৪৬ শতাংশ – ৯.৮৯

 

জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান:
গত দু’বছর জিএনপি-তে মাছের মূল্যের কোন পরিবর্তন না হলেও এবছর বেড়েছে ৩৭.৯৪ শতাংশ। জিডিপিতে অবদান গত বছর বেড়েছিল ১৮.৪৫ শতাংশ কিন্তু এবছর কমেছে ০.৯০ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষিখাতে অবদান গত বছর সামান্য কমলেও (-০.০৯%) এবছরে বেড়েছে ২.৪৮ শতাংশ। বিস্তারিত টেবিল-এগার তে।

টেবিল-এগারঃ জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
জিএনপি-তে মাছের মূল্য ২,৬৯,৯২৮.০০ মিলিয়ন টাকা + ৩৭.৯৪
জিডিপি-তে অবদান ৪.৩৯ শতাংশ – ০.৯০
কৃষিখাতে অবদান ২২.৭৬ শতাংশ + ২.৪৮

 

মাছ গ্রহণ, চাহিদা ও ঘাটতি:
জনপ্রতি মাছের বাৎসরিক চাহিদা, জনপ্রতি বাৎসরিক মাছ গ্রহণ ও জনপ্রতি বাৎসরিক মাছের ঘাটতি গতবছরের মত এবছরও অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে বাৎসরিক মাছের চাহিদা গত বছর অপরিবর্তিত থাকলেও এবছর বেড়েছে ৩.৬১ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষ সরবরাহে মাছের অবদান গত বছর ৩.৪৫ শতাংশ বাড়লেও এবছর রয়েছে অপরিবর্তিত। বিস্তারিত রইল টেবিল-বার তে।

টেবিল-বারঃ মাছ গ্রহণ, চাহিদা ও ঘাটতি

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
জনপ্রতি মাছের বাৎসরিক চাহিদা ২০.৪৪ কেজি
জনপ্রতি বাৎসরিক মাছ গ্রহণ ১৮.৯৪ কেজি
জনপ্রতি বাৎসরিক মাছের ঘাটতি ১.৫০ কেজি
বাৎসরিক মাছের চাহিদা ৩৩.৯০ লক্ষ মে. টন + ৩.৬১
প্রাণিজ আমিষ সরবরাহে মাছের অবদান ৬০ শতাংশ (প্রায়)

 

মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারির সংখ্যা এবং রেণু উৎপাদন ও সংগ্রহ:
দেশে মৎস্য হ্যাচারির সংখ্যা গত দু’বছর কমলেও এবছর বেড়েছে ৬.৭৩ শতাংশ। তবে গতবছর হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন ৩৬.৮৪ শতাংশ বাড়লেও এবছর বেড়েছে মাত্র ২.৮২ শতাংশ। অন্যদিকে মৎস্য নার্সারির সংখ্যা গতবছর বাড়লেও (+২১.৬৩%) এবছর কমেছে ১২.৫ শতাংশ। নার্সারিতে পোনা মাছ উৎপাদন গত বছর কমলেও (-১৪.৫৪%) এবছর বেড়েছে ১৭.০২ শতাংশ। প্রাকৃতিক উৎস্য হতে রেণু সংগ্রহের পরিমাণ গত বছর ৯৮.৩৭% বেড়ে ৪,৩৭০ কেজি‌ হলেও এবছর তা ৬.৩৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৪,০৯৩ কেজি। বিস্তারিত টেবিল-তের তে।

টেবিল-তেরঃ মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারির সংখ্যা এবং রেণু উৎপাদন ও সংগ্রহ

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
মৎস্য হ্যাচারির সংখ্যা ৯৮৩ টি + ৬.৭৩
হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন ৬,৪৬,৯৩৬.২৬ কেজি + ২.৮২
মৎস্য নার্সারির সংখ্যা ৯,৪৫২ টি – ১২.৫০
নার্সারিতে পোনা মাছ উৎপাদন ৯৬,০০১ লক্ষ + ১৭.০২
প্রাকৃতিক উৎস্য হতে রেণু সংগ্রহ ৪,০৯৩ কেজি – ৬.৩৪

 

চিংড়ি হ্যাচারির সংখ্যা এবং রেণু উৎপাদন ও সংগ্রহ:
বাগদা হ্যাচারির সংখ্যা গত বছরের মত এ বছরও সামান্য বেড়েছে (+১.৬৭%)। অন্যদিকে গলদা হ্যাচারির সংখ্যা গত বছর ৫০.৯৪ শতাংশ বাড়লেও এ বছর কমেছে ১২.৫০ শতাংশ। গত বছরের মত এ বছরও হ্যাচারিতে বাগদা ও গলদার রেণু (পিএল) উৎপাদন বেড়েছে। প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে চিংড়ির রেণু (পিএল) সংগ্রহের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বিস্তারিত রইল টেবিল-চৌদ্দ তে।

টেবিল-চৌদ্দঃ চিংড়ি হ্যাচারির সংখ্যা এবং রেণু উৎপাদন ও সংগ্রহ

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
বাগদা হ্যাচারির সংখ্যা ৬১ টি + ১.৬৭
বাগদার রেণু (পিএল) উৎপাদন ৮২০ কোটি + ৩৭.৮২
গলদা হ্যাচারি সংখ্যা ৭০ টি – ১২.৫০
গলদার রেণু (পিএল) উৎপাদন ১২৫.০৩ কোটি + ৪.১৯
প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে চিংড়ির রেণু (পিএল) সংগ্রহ ৯,০০০ লক্ষ*

* মূল ডকুমেন্টে “হাজার লক্ষ” উল্লেখ করা হলেও এটি “লক্ষ” হওয়ার সম্ভাবনা অধিক বিধায় “লক্ষ” রাখা হল।

 

সরকারী অবকাঠামো:
মৎস্য/চিংড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমি, চিংড়ি প্রদর্শনী খামার, চিংড়ি আহরণ ও সেবা কেন্দ্র, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) ও মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (উপকেন্দ্র) রয়েছে আগের মতই [টেবিল-পনের]।

টেবিল-পনেরঃ সরকারী অবকাঠামো (সংখ্যায়)

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
মৎস্য/চিংড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ০৬ টি
মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমি ০১ টি
চিংড়ি প্রদর্শনী খামার ০২ টি
চিংড়ি আহরণ ও সেবা কেন্দ্র ২০ টি
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) ০৯ টি
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র (উপকেন্দ্র) ১০ টি

 

সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ইউনিট:
সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ইউনিটের মধ্যে ট্রলারের সংখ্যা গত বছর বাড়লেও (+১১.৩৭%) কমেছে (-১২.৯০%) এবছর। ইঞ্জিন চালিত ও ইঞ্জিন বিহীন উভয় প্রকারের নৌকা গতবছর কমলেও এবছর বেড়েছে সামান্য। জাল ও বড়শী গতবছর কমলেও (-৬৪.২৪%) এবছর বেড়েছে ২১০.১৫ শতাংশ। বিস্তারিত টেবিল-ষোল তে দেওয়া হল।

টেবিল-ষোলঃ সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ইউনিট (সংখ্যায়)

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
ট্রলার ১৬২ টি – ১২.৯০
ইঞ্জিন চালিত নৌকা ২১,৭২৬ টি + ৩.৩৮
ইঞ্জিন বিহীন নৌকা ২৩,৯৬৩ টি + ৮.৩৩
জাল ও বড়শী ২,৪২,৪৫০ টি + ২১০.১৫

 

মৎস্য প্রজাতি:
স্বাদু পানির মাছ, বিদেশী মৎস্য প্রজাতি, স্বাদু পানির চিংড়ি প্রজাতি, সামুদ্রিক সৎস্য প্রজাতি, সামুদ্রিক চিংড়ি প্রজাতির সংখ্যা গত বছরের মত এবছরও রয়েছে অপরিবর্তিত [টেবিল-সতের]।

টেবিল-সতেরঃ মৎস্য প্রজাতি (সংখ্যায়)-

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
স্বাদু পানির মাছ ২৬০ টি
বিদেশী মৎস্য প্রজাতি ১২ টি
স্বাদু পানির চিংড়ি প্রজাতি ২৪ টি
সামুদ্রিক সৎস্য প্রজাতি ৪৭৫ টি
সামুদ্রিক চিংড়ি প্রজাতি ৩৬ টি

 

মৎস্য সেক্টরের জনবল:
বিএফআরআই ও বিএফডিসি এর জনবল দু’বছর যাবৎ অপরিবর্তিত থাকলেও মৎস্য অধিদপ্তরে জনবল এবছর কমেছে অনেকটাই [টেবিল আঠার]।

টেবিল-আঠারঃ মৎস্য সেক্টরের জনবল

বিবরণ পরিমাণ একক বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)
মৎস্য অধিদপ্তর
প্রথম শ্রেণী ৬৬৪ জন – ৩০.১১
অন্যান্য ৩,৩৮৭ জন – ১৩.০৬
মোট ৪,০৫১ জন – ১৬.৪১
বিএফআরআই
প্রথম শ্রেণী ৭৭ জন
অন্যান্য ১৬৯ জন
মোট ২৪৬ জন
বিএফডিসি
প্রথম শ্রেণী ৯৪ জন
অন্যান্য ৬৯৭ জন
মোট ৭৯১ জন

 

পুনশ্চঃ

  • “বৃদ্ধি বা হ্রাস (%)” বলতে বাৎসরিক হ্রাস বা বৃদ্ধির শতকরা হার বোঝানো হয়েছে। কোন আইটেম ১০০% বৃদ্ধি বা হ্রাস বলতে তা আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
  • বৃদ্ধি বা হ্রাস (%) শিরোনামের কলামে প্রদত্ত উপাত্তের সামনে + দিয়ে বাৎসরিক বৃদ্ধির হার, – দিয়ে বাৎসরিক হ্রাসের হার এবং ০ বলতে অপরিবর্তশীল বোঝানো হয়েছে।

 

তথ্যসূত্রঃ

 

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply