ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: এক থুটা, Wrestling halfbeak, Dermogenys pusilla

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Beloniformes (Needle fishes)
অধিগোত্র: Exocoetoidea
গোত্র: Hemiramphidae (Halfbeaks)
উপগোত্র: Zenarchopterinae
গণ: Dermogenys
প্রজাতি: Dermogenys pusilla

শব্দতত্ত্ব (Etymology)
Dermogenys শব্দটি এসেছে গ্রিক derma অর্থ ত্বক (skin) এবং গ্রিক geny, -yos অর্থ মুখমণ্ডল (face) বা চোয়াল (jaw) থেকে।

সমনাম (Synonyms)
Dermogenys pusillus Kuhl & van Hasselt, 1823

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: এক থুটা, এক ঠোটা, এক থোটা
English: Wrestling halfbeak, Malayan Halfbeak

বিস্তৃতি (Distribution)
বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন এবং চীন।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
উপযুক্ত বাসস্থানের অভাবে এবং বাসস্থান কমে যাওয়ার কারণে মাছটি বাংলাদেশে হুমকির সম্মুখীন (IUCN Bangladesh, 2000).

দৈহিক গঠন (Morphology)
লম্বা দেহ সামান্য চাপা। উপরের চোয়াল নিচের চোয়ালের চেয়ে ছোট ও ত্রিভূজাকৃতির। নিচের চোয়াল উপরের চোয়াল চেয়ে দুই থেকে আড়াই গুন বড়। নিচের চোয়ালটি অস্থিময় চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে। উভয় চোয়ালেই অনেকগুলো সারিতে আঙ্গুলাকৃতির (villiform) দাঁত উপস্থিত।
পৃষ্ঠ পাখনা পায়ু পাখনার বিপরীত পাশে অবস্থিত। পায়ু পাখনার ৬ষ্ঠ বা ৭ম রশ্মি বরাবর বিপরীত পাশে পৃষ্ঠ পাখনা শুরু হয়ে থাকে। বক্ষ পাখনার দৈর্ঘ্য তুণ্ড বাদে মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। চোখ ও পুচ্ছ পাখনার মধ্যবর্তী স্থানে শ্রোণী পাখনা অবস্থিত। পুচ্ছ পাখনা গোলাকার (Rahman, 1989 and 2005)।
দেহ জলপাই-বাদামী অথবা বাদামী-ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। উদর সাদাটে রূপালী বর্ণের হয়ে থাকে। পায়ু পাখনার নিকটবর্তী অংশ হালকা অথবা গাঢ় লাল বর্ণের হয়ে থাকে। পরিণত পুরুষ মাছের শ্রোণী পাখনায় স্পষ্ট লাল দাগ দেখতে পাওয়া যায় (IUCN Bangladesh, 2000)।
স্ত্রী মাছেরা পুরুষ মাছদের থেকে আকারে বড় হয়ে থাকে। পরিণত পুরুষ মাছের পায়ু পাখনা পরিবর্তিত হয়ে গনোপোডিয়াম (gonopodium) এর ন্যায় এন্ড্রোপোডিয়াম (andropodium) নামক জননাঙ্গে পরিণত হয়। প্রজননের সময় এ অঙ্গের মাধ্যমেই পুরুষেরা স্ত্রী মাছে শুক্রাণু স্থানান্তর করে। (Rahman, 1989 and 2005)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 3-4/6; P1. 10; P2. 1/5; A. 3-4/11-12 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 6-9; A i 14-15; P i 8; V i 5 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman (1989 and 2005) এবং IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে স্ত্রী মাছ ৭.১ সেমি এবং পুরুষ মাছ ৪.৫ সেমি লম্বা হয়ে থাকে। অন্যদিকে Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে পুরুষ মাছের দৈর্ঘ্য ৭.৫ সেমি।

আবাস্থল (Habitat)
এরা সাধারণত স্বাদুপানি এবং হালকা নোনা জলে বাস করে ( নদী, ছোট নদী, খাল, নালা, পুকুর এবং হ্রদ) (Talwar and Jhingran, 1991)। তবে মাঝেমধ্যে সমুদ্রেও পাওয়া যায়।
ভাসমান জলজ উদ্ভিদ ও জলাশয়ের তলদেশে মূলাবদ্ধ জলজ উদ্ভিদের মাঝে এদের অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। জলাশয়ে মাঝামাঝি স্তর থেকে উপরিভাগে এদের দেখা মেলে।
অনুকূল পিএইচ ৭-৮, তাপমাত্রা ২৪-২৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড।
বাংলাদেশের কর্ণফুলী নদী এবং কাপ্তাই এর নিকটবর্তী জলাধার থেকে এই মাছ প্রথম সনাক্ত করা হয় (Rahman, 1989 and 2005)।

খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস (Food and Feeding habit)
এরা মাংসাশী। এদের প্রধান খাবার জলজ কীট (worms), পতঙ্গ (insects), ক্রাস্টেশিয়ানস (crustaceans)।

স্বভাব (Habit)
এরা শান্ত মাছ হিসেবে পরিচিত হলেও পুরুষেরা প্রায়ই মারামারিতে অংশ গ্রহণ করে থাকে।

প্রজনন (Breeding)
এদের মায়েরা ডিম ছাড়ে না বরং সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। আড়াই সেমি লম্বা হলেই এদের মধ্যে যৌন-দ্বিরূপতার বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ হতে শুরু করে যার মাধ্যমে পুরুষ ও স্ত্রী মাছ সনাক্ত করা সম্ভব হয় (Talwar and Jhingran, 1991)।

মৎস্য তথ্য (Fishery info)
মাছটি খাদ্য হিসেবে তেমন জনপ্রিয় নয়। বাজারে অন্যান্য মাছের সাথে কদাচিৎ দেখতে পাওয়া যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এদের মশার ডিম ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক দেশে অ্যাকুয়ারিয়ামে বাহারি মাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে (Talwar and Jhingran, 1991).

 

তথ্য সূত্র (References)

  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 60-61.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 75-76.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 2, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 732-733.
  • van Hasselt JC (1823) Uittreksel uit een’ brief van Dr. J. C. van Hasselt, aan den Heer C. J. Temminck. Algemein Konst- en Letter-bode II Deel (35): 130-133.

 

পুনশ্চ:

Visitors' Opinion

লেখক

Research Student, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202, Bangladesh. E-mail- Kamrulhasanak@gmail.com. More...

Leave a Reply