ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: কানপোনা, Estuarine ricefish, Oryzias melastigma

কানপোনা, Estuarine ricefish, Oryzias melastigma

কানপোনা, Estuarine ricefish, Oryzias melastigma

শ্রেণীতাও্বিক অবস্থান( Systematic Possition)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii
বর্গ: Beloniformes
গোত্র: Adrianichthyidae (Adrianichthyids)
উপগোত্র: Oryziinae (Medakas or ricefishes)
গণ: Oryzias
প্রজাতি: Oryzias melastigma

সমনাম (Synonym)
Oryzias melastigmus (McClelland, 1839)
Aplocheilus melastigmus McClelland, 1839
Haplochilus melastigma (McClelland, 1839)
Panchax argenteus Day, 1868
Panchax cyanopthalma Blyth, 1858
Panchax melastigma (McClelland 1839)
Panchax melastigma (McClelland, 1839)
Aplocheilus mcclellandi Bleeker 1854
Aplocheilus carnaticus Jerdon 1849

সাধারণ নাম (Common name)
ইংরেজি: Estuarine ricefish (India), Java medaka (USA), Blue eye (Sri Lanka)
বাংলা: কানপোনা, বেচি, ডানকানা (বাংলাদেশ)
অন্যান্য: ভারতে Ilisha (Andhra Pradesh); Mundakanni (Tamil Nadu); Poochhutti and Manathakannan (Kerala) and Kudabaddu and Kuddian (Karnataka) ইত্যাদি নামে (Talwar and Jhingran, 1991) এবং শ্রীলঙ্কাতে Hande titteya নামেও পরিচিত।

ভৌগোলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
প্রধানত বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। এছাড়াও নেপাল, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াতেও এদের দেখা মেলে।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ অবস্থা বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই (IUCN Bangladesh, 2000).

অঙ্গসংস্থান (Morphology)
অত্যন্ত চাপা দেহ কিছুটা লম্বা। মাথা অবনমিত। চোখজোড়া অনেকটা বড়। মুখের হা ছোট ও তির্যক। নীচের চোয়াল উপরের চেয়ে সামান্য লম্বা। বড় আকৃতির সাইক্লয়েড আঁইশে দেহ আবৃত। অনুদৈর্ঘ্য সারিতে ২৭ টি আঁইশ বর্তমান।
পৃষ্ঠ পাখনা পুচ্ছ পাখনার নিকটবর্তী এবং পায়ু পাখনার শেষ চতুর্থাংশ বরাবর পৃষ্ঠ দিকে অবস্থিত। পুচ্ছপাখনা গোলাকার। (Rahman, 1989 and 2005; Talwar and Jhingran, 1991)।

দেহের পৃষ্ঠভাগ হলকা সবুজ, অঙ্কীয়ভাগ রূপালী সাদাটে। দেহের উভয়পাশে মাঝ বরাবর লম্বালম্বিভাবে একটি কালো রেখা তথা দাগ মাথার পর থেকে শুরু করে পুচ্ছপাখনার গোড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও পায়ু পাখনার কাছে অনেকগুলো ঘন দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পায়ু পাখনার শেষ ভাগ সাদাটে এবং অন্য সব পাখনা স্বচ্ছ।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 7; P1. 11 (1/10); P2. 6; A. 23-24 (Rahman, 1989 and 2005)
D. 6-7; A 20-24; P 15; V 6 (Talwar and Jhingran, 1991).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
বাংলাদেশ: ৩.৪ সেমি (Rahman, 1989 and 2005)
ভারত: ৪ সেমি (Talwar and Jhingran, 1991).

স্বভাব ও বাসস্থান (Habit and Habitats)
এরা মাংসাশী। মূলত পোকামাকড়ই এদের প্রধান পছন্দ। এছাড়াও এরা জলজ পচা আবর্জনাও খেয়ে থাকে।
মোহনা ও নোনাজলে এরা বসবাস করে। এছাড়াও স্বাদুপানির পুকুর, হ্রদ ও নদীতেও এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশের মোহনা অঞ্চলে এবং যে সব নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় সেখানে এদের দেখা পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)। বাংলাদেশে খুলনার কাছাকাছি গোলামারি খালে এদের সর্বপ্রথম সনাক্ত করা হয় (Rahman, 1989 and 2005)।

প্রজনন (Reproduction)
এরা সারা বছরই স্বাদু ও লোনা পানিতে ডিম ছাড়ে বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে (Talwar and Jhingran, 1991). ডিমগুলো মা মাছের চ্যাপ্টা আকৃতির জনন-অঙ্গীয়-প্যাডের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং ডিম থেকে ডিমপোনা না ফোটা পর্যন্ত ডিমগুলো সেখানেই মা মাছেরা বহন করে থাকে।

মৎস্য তথ্য (Fisheries Information)
প্রজাতিটি এখনো বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। জেলেদের জালে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে। তাই সুনির্দিষ্টভাবে এই মাছের মজুদ ও উৎপাদন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়না। ভারতে এই মাছটি রুই মাছের পোনার সাথে দুর্ঘটনাবশত আন্দামান দ্বীপ থেকে আনা হয় বলে তথ্য রয়েছে (Talwar and Jhingran, 1991).

 

তথ্যসূত্র (Reference)

  • Blyth E (1858) Report of Curator, Zoological Department, for May, 1858. Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal 27(3): 267-290.
  • Day F (1868) On some new or imperfectly known fishes of India. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1867 (pt 3): 699-707.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • McClelland J (1839) Indian Cyprinidae. Asiatic Researches 19(2): 217-471, Pls. 37-61.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 63-64.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 78-79.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 2, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 745-746.

পুনশ্চ:
English Feature: Estuarine ricefish, Oryzias melastigmus (McClelland, 1839)

Visitors' Opinion

লেখক

Research Student, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202, Bangladesh. E-mail- Kamrulhasanak@gmail.com. More...

Leave a Reply