ক্যাটাগরি: বিদেশী মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ

বাংলাদেশের বিদেশী মাছ: প্লাটি, Platy, Xiphophorus maculatus

প্লাটি, Platy, Xiphophorus maculatus

প্লাটি, Platy, Xiphophorus maculatus

মধ্য আমেরিকার মাছ প্লাটি (Fishlore, 2014) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বাহারি মাছ হিসেবে পরিচিত। শুরুতে বাহারি মাছের আমদানিকারকেরা এই মাছ আমাদের দেশে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করলেও বর্তমানে দেশেই এর প্রজনন ও বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে।

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Perciformes
পরিবার: Poeciliidae
গণ: Xiphophorus
প্রজাতি: Xiphophorus maculatus

শব্দতত্ত্ব (Etymology):
Xiphophorus শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ xiphos অর্থাৎ তলোয়ার (sword) এবং গ্রীক শব্দ pherein অর্থাৎ বহনকরা (to carry) থেকে (Romero P, 2002)।

সমনাম (Synonyms)
Platypoecilus aurata Stoye, 1935
Platypoecilus cyanellus Meinken, 1935
Platypoecilus maculatus Günther, 1866
Platypoecilus maculatus aurata Stoye, 1935
Platypoecilus maculatus cyanellus Meinken, 1935
Platypoecilus maculatus sanguinea Stoye, 1935
Platypoecilus nigra Brind, 1914
Platypoecilus pulchra Brind, 1914
Platypoecilus rubra Brind, 1914
Platypoecilus sanguinea Stoye, 1935
Poecilia maculata (Günther, 1866)

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: প্লাটি
English: Platy, Southern platy fish, Common platy, Moonfish, Mickey mouse platy

বিস্তৃতি (Distribution)
মধ্য আমেরিকার দেশসমূহ যথা- ম্যাক্সিকো (Mexico), নিকারাগুয়া (Nicaragua), গুয়েতেমালা (Guatemala), বেলিজ (Belize) (seriouslyfish, 2014)

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
এবিষয়ে তথ্য অপ্রতুল।

দৈহিক গঠন (Morphology)
ছোট দেহ লম্বা ও পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। বিভিন্ন বর্ণের প্লাটি মাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে সাধারণত লাল থেকে গাঢ় কমলা বর্ণের প্লাটি মাছই বেশী দেখতে পাওয়া যায়। এদের পাখনা কাল বর্ণের হয়ে থাকে। মুখমণ্ডল ও পাখনায় কালো দাগ (spot) দেখতে পাওয়া যায়।
পরিণত পুরুষের পায়ু-পাখনা পরিবর্তিত হয়ে গনোপোডিয়ামে (gonopodium) পরিণত হয় যা প্রজননের সময় শুক্রাণু স্ত্রীর দেহে স্থানান্তরে ব্যবহৃত হয় (Fishlore, 2010j)।
পৃষ্ঠ-পাখনায় ৮-১০টি পাখনা রশ্মি বর্তমান। আদর্শ দৈর্ঘ্যের দেহ উচ্চতার দ্বিগুণ (Greenfield and Thomerson, 1997)।

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ৪ সেমি (Keith et. al. 2006)। Seriouslyfish, 2014 অনুসারে পুরুষেরা ২ ইঞ্চি (৫ সেমি) এবং স্ত্রীরা ৩ ইঞ্চি (৭.৫) সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, একই বয়সের স্ত্রীরা পুরুষের চেয়ে বড় হয়ে থাকে।

আবাস্থল (Habitat)
প্রকৃতিতে এদের ঝর্ণাধারা (streams) ও নদীতে পাওয়া যায় (seriouslyfish, 2014)। স্বাদুপানির উষ্ণ এলাকায় এদের বিচরণ রয়েছে (Fishbase, 2014)। এরা অভিপ্রয়াণ করেনা (Fishbase, 2014)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রকৃতিতে এই মাছ সর্বভুক অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরণের খাবারই খেয়ে থাকে। যেমন- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ বিশেষ (plant matter), কীট (worms), ক্রাস্টেশিয়ানস (crustaceans), পতঙ্গ (insects)। এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা সকল ধরণের এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছের প্যাকেটজাত খাবারই খেয়ে থাকে। তবে জীবন্ত খাবার যথা- টিউবিফিক্স (Tubifex) এদের প্রথম পছন্দ।

জীবনকাল ও প্রজনন (Lifecycle and Breeding)
এদের জীবনকাল ২-৩ বছর। এরা অণ্ডজরায়ুজ (Ovoviviparous) অর্থাৎ নিষেক দেহের অভ্যন্তরে ঘটে এবং বাচ্চা প্রসব করে তবে এরা পুষ্টি উপাদান মায়ের পরিবর্তের কুসুমে সঞ্চিত পুষ্টি উপাদান থেকে পেয়ে থাকে।
এরা ৩-৪ মাসেই প্রজননের উপযোগী হয়ে থাকে। এরা জলজ উদ্ভিদ উপস্থিত রয়েছে এমন স্থানে প্রজনন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নিষেকের ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করে। একটি পরিপূর্ণ মা মাছ এক ঋতুতে ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে (Seriouslyfish, 2014)।

উপযোগী পরিবেশ (Suitable Environment)
এদের পছন্দনীয় তাপমাত্রা ২০-২৬° সে. (৬৮-৭৯° ফা.) এবং পিএইচ (pH): ৭-৮.২। এ্যাকুয়ারিয়ামের আকার ৬০x30x30 সেমি বা ২৪x১২x১২ ইঞ্চি। এরা শান্তি প্রিয় মাছ। একাধিক প্রজাতির (যেমন- সোর্ডটেল (swordtails), মলি (mollies)) সাথে একই এ্যাকুয়ারিয়ামে নিশ্চিতভাবেই রাখা যায় (Seriouslyfish, 2014)।

রোগ (Diseases)
Bailey and Stanford (1999) অনুসারে প্লাটি ছত্রাক (Fung) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশেই এই মাছের বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে (Galib and Mohsin, 2011)। ফলে বিদেশ থেকে এই মাছ নিয়ে আসার পরিবর্তে দেশেই ঘরোয়া-ভাবে এর প্রজনন হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। এসব হ্যাচারি বৃহৎ পরিসরে করা সম্ভব হলে এই মাছের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
যদিও এ্যাকুয়ারিয়ামে এই মাছ অন্যান্য দেশীয় মাছের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়না তথাপি অত্যধিক প্রজননহার দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের দেশীয় মাছের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই মাছটি যাতে উন্মুক্ত জলাশয়ে চলে না আসে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি থাকা আবশ্যক।

বাজার মূল্য:
আকার ও বয়সের উপর ভিত্তিকরে প্রতি জোড়া এ্যাকুয়ারিয়ামের জীবন্ত প্লাটি ৩০-৫০ টাকা মূল্যে বিক্রয় হয়ে থাকে।

 

তথ্য সূত্র (References)

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply