ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ

বাংলাদেশের মাছ: রাম ফ্যাসা, Hamilton’s Thryssa, Thryssa hamiltonii

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান(Systematic position):
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Clupeiformes (Herrings)
উপবর্গ: Clupeoidei
পরিবার: Engraulidae (Anchovies)
উপ-পরিবার: Coiliinae
গণ: Thryssa
প্রজাতি: T. hamiltonii Gray, 1835

সমনাম (Synonyms):
Engraulis grayi Bleeker, 1851
Engraulis nasuta Castelnau 1878
Scutengraulis hamiltonii (Gray, 1835)
Stolephorus hamiltonii (Gray, 1835)
Thrissocles grayi (Bleeker, 1851)
Thrissocles hamiltonii Gray, 1835
Thryssa hamiltoni Gray 1835

সাধারণ নাম (Common name):
বাংলা: রাম ফ্যাসা, রাম ফাসা, রাম ফাঁসা
English: Hamilton’s Thryssa, Hamilton’s anchovy

বিস্তৃতি (Distribution):
ভারত থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর (Talwar and Jhingran, 1991); সিন্ধ নদী, ভারত মহাসাগর থেকে মালয় দ্বীপপুঞ্জ (Malay Archipelago) (Day, 1958); বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চল, উত্তর-দক্ষিণ কুইন্সল্যান্ড (Quinsland), পাকিস্তান এবং পারস্য উপসাগর (Shafi and Quddus, 2003) পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি পরিলক্ষিত হয়।
Fishbase (2014) অনুসারে বিস্তৃতি 31°N – 25°S, 52°E – 152°E। এশিয়া (২৭টি) ও অস্ট্রেলিয়া (২টি) মহাদেশের মোট ২৯টি দেশে এই মাছের উপস্থিতি জানা গেছে। এশিয়ার দেশগুলো মধ্যে পশ্চিমে ইরাক, পূর্বে রয়েছে জাপান, উত্তরে চীন আর দক্ষিণে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান (Fishbase, 2014)।

Geographical distribution of Thryssa hamiltonii (Aquamaps, 2013)

Geographical distribution of Thryssa hamiltonii (Aquamaps, 2013)

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status):
আইইউসিএন বাংলাদেশ (IUCN Bangladesh, 2000) অনুসারে এটি হুমকিগ্রস্থ প্রজাতির তালিকাভুক্ত নয় ।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন(Morphology):
উভয় প্রান্ত সরু (Fusiform) দেহ পার্শ্বীয়ভাবে বেশ চাপা। পৃষ্ঠ পার্শ্বের (dorsal profile) চেয়ে অঙ্কীয় পার্শ্ব (ventral profile) অনেক বেশি উত্তল। তুণ্ড (Snout) স্পষ্ট এবং চোখের কেন্দ্রের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। উপরের চোয়াল (Maxilla) নীচের চোয়ালের (mandibular) চেয়ে খাটো। উভয় চোয়ালের সংযোগস্থল কানকুয়ার কিনারা অতিক্রম করে প্রায় বক্ষ পাখনার অগ্র প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী প্রান্তীয় (superior terminal) মুখের হা বেশ বড়। উভয় চোয়ালে এক সারি তীক্ষ্ণ দাঁত উপস্থিত। এছাড়াও ভোমার (vomer) তালু (palate), টেরিগয়েড (pterygoid) ও জিহ্বাতেও (tongue) এক সারি তীক্ষ্ণ দাঁত দেখতে পাওযা যায়।

চোখে ত্বকীয় পর্দা (Subcutaneous) উপস্থিত। নিচের চোয়ালের মাংসল স্থান (isthmus) থেকে পায়ু পর্যন্ত মোট ১৬ থেকে ১৯+৮/৯ টি ত্রিকোণাকার স্কিউট (keled scutes) বর্তমান। প্রথম ফুলকা খিলানের (gill arch) নিম্নভাগে Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ১২-১৪টি, Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ১১-১২টি ফুলকা দাঁত (gillraker) দেখতে পাওয়া যায়।

পৃষ্ঠপাখনা মস্তক ও পুচ্ছ পাখনার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। শ্রোণীপাখনা বক্ষপাখনা দৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেক। বক্ষপাখনা ও শ্রোণীপাখনায় অতিরিক্ত আঁইশ উপস্থিত। পুচ্ছ পাখনার নীচের খণ্ড (lobe) উপরের চেয়ে লম্বা।
Rahman (1989 and 2005) অনুসারে মাথার দৈর্ঘ্য যথাক্রমে আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্যে ৪-৪.৪ এবং ৫- ৫.৪ গুণ। অন্যদিকে দেহ উচ্চতা যথাক্রমে আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্যে ৩.২-৪.০ ও ৪- ৫ গুণ। পার্শ্বরেখা বরাবর আঁইশের সংখ্যা ৪৪।

পৃষ্ঠ দিক রূপালী অথবা কাল বর্ণের। পৃষ্ঠ প্রান্ত কালো এবং গ্রীবাদেশ (scapular region) কালো বর্ণের রক্ত নালিকা (venules) বর্তমান। পাখনাগুলো হলুদ বর্ণের।

পাখনা সূত্র (Fin formula):
D. 1/14-15; P1.12; P2. 7; A. 40-41 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 10-12; A iii 32-39; P i 11-12; V i 6 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length):
এরা সর্বোচ্চ ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে (Rahman,1989 and 2005)।

আবাস্থল (Habitat):
সমুদ্র ও মোহনা অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। সমুদ্রের উপরিতল উপকূলের তটস্থ রেখার নিকটে ও মোহনায় এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। Rahman (1989) অনুসারে বঙ্গোপসাগর ও মোহনা অঞ্চলে এদের দেখা মেলে। Shafi and Quddus (2003) অনুসারে এরা সমুদ্রে ঝাঁক বেঁধে থাকে।
Fishbase (2014) অনুসারে এরা উষ্ণ জলের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মাছ। এদের অবস্থান জলাশয়ের ১০ থেকে ১৩ মিটার গভীরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এরা এম্ফিড্রোমাস অভিপ্রয়াণ (Amphidromous migration) প্রদর্শন করে। অর্থাৎ এরা প্রজননের উদ্দেশ্য ছাড়াই সমুদ্র থেকে নদীতে এবং নদী থেকে সমুদ্রে অভিপ্রয়াণ করে থাকে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit):
এরা প্ল্যাঙ্কটন (plankton) খেয়ে বেচে থাকে (Shafi and Quddus, 2003)। প্রধানত প্রাণিকণা (zooplankton) এদের প্রধান খাদ্য।

প্রজনন (Reproduction):
এদের স্ত্রী ও পুরুষ আলাদা। ডিম প্রায় গোলাকার বা ডিম্বাকার এবং বর্ণহীন। নিষেক দেহের বাইরে ঘটে।
এরা সামুদ্রিক হলেও স্বাদুপানিতে প্রজনন করে থাকে। সদ্যজাত পোনা সমুদ্রে গমন করে এবং সেখানে কয়েক মাস খাদ্য গ্রহণ ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার পর আবার নদীতে ফিরে আসে এবং জুভেনাইলে (juvenile) পরিণত হয়। নদীতেই খাদ্যগ্রহণ করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে এবং পরিপক্বতা লাভ করে প্রজননে অংশ নেয়।

রোগ (Disease):
Arthur and Ahmed (2002) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের পরজীবীঘটিত (প্রোটোজোয়া (protozoa) ও কীট (worms)) সংক্রমণ পরিরক্ষিত হয় যাকে এসকেরিডাটোসিস (Ascaridatosis) বলা হয়ে থাকে। এই সংক্রমণ মূলত পাকস্থলীতে হয়ে থাকে।

মৎস্য গুরুত্ব (Fisheires importance):
মৎস্য খাতে এর কোন অবদান নাই (Talwar and Jhingran, 1991)।
বাংলাদেশে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে। এককভাবে এই মাছ উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায় না। বাজারে তাজা মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও শুটকি ও লবণজাত শুটকি হিসেবেও পাওয়া যায়।

 

তথ্য সূত্র (References):

  • Aquamaps (2013) Reviewed Native Distribution Map for Thryssa hamiltonii (modelled 2100 map based on IPCC A1B emissions scenario) (Hamilton’s thryssa). www.aquamaps.org, version of Aug. 2013. Web. Accessed 2 May. 2014.
  • Arthur JR and Ahmed ABA (2002) Checklist of the parasites of fishes of Bangladesh. FAO Fish. Tech. Paper (T369/1), 77 p.
  • Bleeker P (1851) Over eenige nieuwe soorten van Pleuronectoïden van den Indischen Archipel. Natuurkundig Tijdschrift voor Nederlandsch Indië 1:401-416.
  • Day F (1958) The Fishes of India: being a Natural History of the fishes known to inhabit the seas and freshwater of India., Burma and Ceylon. Reproduced in 1958 by William Dowson andSons, London. 625 p.
  • Eol (2014) Thryssa hamiltonii: Hamilton’s Thryssa. Encyclopedia of Life. Retrieved on May 04, 2014.
  • Fishbase (2014) Species Summary: Thryssa hamiltonii Gray, 1835. Hamilton’s thryssa. Retrieved on May 04, 2014.
  • Gray JE (1835) Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., 20 parts in 2 vols. Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., Pls. 1-202.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 245-246.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 269-270.
  • Shafi M and Quddus MMA (2003) Bangopshagorer Matsho Shampad (in bengali), Kabir Publication, Dhaka, Bangladesh, p. 145.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 144-145

 

পুনশ্চ:

  • রাম ফ্যাসা মাছের ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার তোলা ছবি আমাদের সাথে শেয়ার করতে চাইলে পাঠিয়ে দিন contact@bdfish.org এই ইমেইল ঠিকানায়।
  • গুগলে রাম ফ্যাসা মাছের ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply