ক্যাটাগরি: আইন | প্রকাশনা

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩০ নং আইন) অনলাইনে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আইন মন্ত্রনালয়। উক্ত প্রকাশনাটি ফিশারীজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় প্রচারণা ও সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখানে হুবহু উপস্থাপন করা হল।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন রহিতপূর্বক দেশের
জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক-এ রাষ্ট্র কর্তৃক জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে; এবং
যেহেতু বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত আইন রহিতপূর্বক দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই আইন বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘অভয়ারণ্য’’ অর্থ কোন এলাকা যেখানে বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, গুলি ছোড়া বা ফাঁদ পাতা নিষিদ্ধ এবং মুখ্যত বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন-উদ্ভিদ, মাটি ও পানি সংরক্ষণের নিমিত্তে ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ১৩ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(২) ‘‘অসম্পূর্ণ ট্রফি’’ অর্থ কোন মৃত বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার অংশবিশেষ যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করা হয় নাই এবং বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রহিয়াছে;

(৩) ‘‘আবদ্ধ প্রাণী’’ অর্থ আবদ্ধ বা আটক বা বন্দী অবস্থায় বাচ্চার জন্ম দেয় এইরূপ প্রাণী;

(৪) ‘‘ইকোপার্ক’’ অর্থ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক প্রকৃতিক (ecological) আবাসস্থল ও নয়নাভিরাম দৃশ্য সম্বলিত এলাকা যেখানে পর্যটকদের চিত্তবিনোদনের সুযোগ-সুবিধাদি সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ১৯ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(৫) ‘‘ইকোট্যুরিজম বা প্রকৃতি পর্যটন’’ অর্থ প্রকৃতির কোন ক্ষতিসাধন না করিয়া প্রকৃতিতে ভ্রমণ এবং যাহার মাধ্যমে কোন প্রাকৃতিক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত এলাকার পরিবেশগত সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও স্থানীয় জনসাধারণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হইয়া থাকে;

(৬) ‘‘উদ্ভিদ উদ্যান’’ অর্থ কোন এলাকা যেখানে দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহকে সংরক্ষণ করা হয় অথবা অন্য আবাসস্থল হইতে আনিয়া শিক্ষা, গবেষণা, জিনপুল (gene-pool) উৎস সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ১৯ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(৭) ‘‘কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা’’ অর্থ কোন এলাকা যেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন অথবা কমিউনিটি বা সরকারি খাস জমিতে উদ্ভিদ ও বণ্যপ্রাণী রক্ষা এবং প্রথাগত বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ১৮ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(৮) ‘‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি’’ অর্থ পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৯২) যাহার মূল লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইহার উপাদানসমূহের টেকসই ব্যবহার এবং উহা হইতে প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ;

(৯) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির সকল বা যে কোন উদ্দেশ্য পালনের নিমিত্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং Forest Act, 1927 (Act No. XVI of 1927) এর section 2(2) এ সংজ্ঞায়িত বন কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(১০) ‘‘করিডোর’’ অর্থ রক্ষিত এলাকার প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত চলাচল পথ বা এলাকা যাহার মধ্য দিয়া বণ্যপ্রাণী এক বনাঞ্চল বা এলাকা হইতে অন্য বনাঞ্চল বা এলাকায় যাতায়াত করিয়া থাকে এবং যাহা এই আইনের ধারা ২০ এর অধীন করিডোর হিসাবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(১১) ‘‘কুঞ্জবন’’ অর্থ কোন নির্দিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও লতাগুল্মের সমাহার, যাহা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিকট সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও প্রথাগত মূল্যবোধ রহিয়াছে এবং যাহা এই আইনের ধারা ২৩ এর অধীন কুঞ্জবন হিসাবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(১২) ‘‘কোর জোন’’ অর্থ রক্ষিত এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যমান বন এলাকা, যাহা জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এবং বণ্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশবৃদ্ধির জন্য সকল ধরণের বনজদ্রব্য আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং পর্যটক প্রবেশ সীমিত করার জন্য ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ২০ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(১৩) ‘‘জলাভূমি’’ অর্থ নিচু স্যাঁতস্যাঁতে জলনিমগ্ন আবদ্ধ পিটভূমি অথবা মিঠা বা নোনা পানিযুক্ত প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম জলাশয় যাহা সাধারণতঃ স্রোতহীন এবং পানির গভীরতা ৬ মিটারের নিম্নে থাকে এইরূপ এলাকা;

(১৪) ‘‘জাতীয় উদ্যান’’ অর্থ মনোরম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর এলাকা যাহার মুখ্য উদ্দেশ্য জনসাধারণকে শিক্ষা, গবেষণা ও বিনোদনের অনুমতি প্রদান এবং উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সুন্দর নয়নাভিরাম দৃশ্য সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং যাহা এই আইনের ধারা ১৭ এর অধীন সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত কোন এলাকা;

(১৫) ‘‘জীববৈচিত্র্য’’ অর্থ জল, স্থল ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমে বসবাসকারী সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বা উপ-প্রজাতিসমূহের মধ্যে জেনেটিক ও প্রজাতিগত ভিন্নতা অথবা তাহাদের ইকোসিস্টেমের ভিন্নতা;

(১৬) ‘‘ট্রফি’’ অর্থ কোন মৃত বা আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর সম্পূর্ণ বা উহার কোন অংশ, যাহা পরিশোধন বা প্রক্রিয়াজাত করিয়া স্বাভাবিকভাবে রাখা হয়, যেমন-

(ক) চামড়া, পশমের মোটা চাদর, সম্পূর্ণ বা আংশিক মাউন্টিং বন্যপ্রাণী অথবা ট্যাক্সিডার্মি করা অংশ; এবং

(খ) হরিণের শাখাযুক্ত শিং ও হাড়, কচ্ছপের শক্ত খোলস, শামুক ও ঝিনুকের খোল, হস্তীদন্ত, মৌচাক, পশম, পালক, নখ, দাঁত, খুর এবং ডিম;

(১৭) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই আইনের তফসিল;

(১৮) ‘‘নমুনা’’ অর্থ-

(ক) জীবন্ত বা মৃত কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী; অথবা

(খ) কোন বন্যপ্রাণী বা সহজেই শনাক্তযোগ্য এমন প্রাণীর দেহাংশ বা উহা হইতে উৎপাদিত বস্ত্ত; অথবা

(গ) তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য;

(১৯) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(২০) ‘‘পঁচনশীল বনজ দ্রব্য’’ অর্থ মৃত বন্যপ্রাণী বা উহার অংশবিশেষ (হাঁড়, দাঁত, নখ ও শিং ব্যতীত), অপ্রক্রিয়াজাত কাঠ, বাঁশ, বেত, জ্বালানী কাঠ বা উহার অংশ বিশেষ বা উদ্ভিদ হইতে উৎপন্ন কোন দ্রব্য সামগ্রী, যাহা প্রাকৃতিকভাবে পঁচনশীল;

(২১) ‘‘পবিত্র বৃক্ষ’’ অর্থ কোন ধর্ম ও গোত্রের জনগোষ্ঠীর নিকট ধর্মীয় পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে স্বীকৃত কোন বৃক্ষ;

(২২) ‘‘পরিযায়ী প্রজাতি’’ অর্থ ঐ সকল বন্যপ্রাণী যাহারা এক বা একাধিক দেশের ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করিয়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আসা-যাওয়া করিয়া থাকে;

(২৩) ‘‘প্রধান ওয়ার্ডেন’’, ‘‘অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন’’, ‘‘ওয়ার্ডেন’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন যথাক্রমে প্রধান ওয়ার্ডেন, অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন ও ওয়ার্ডেন হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা;

(২৪) ‘‘বনজদ্রব্য’’ অর্থ ঐ সকল দ্রব্য যাহা ১৯২৭ সনের বন আইনের ধারা-২ এর উপ-ধারা (৪) এ অন্তর্ভুক্ত;

(২৫) ‘‘বন্যপ্রাণী’’ অর্থ বিভিন্ন প্রকার ও জাতের প্রাণী বা তাহাদের জীবনচক্র বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়সমূহ যাহাদের উৎস বন্য হিসাবে বিবেচিত হইয়া থাকে;

(২৬) ‘‘বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র’’ অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কেন্দ্র যেখানে বিরল, বিপন্ন বা মহাবিপদাপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আটক বা উদ্ধার করিয়া পুনর্বাসনের নিমিত্ত রাখিয়া বংশ বৃদ্ধি করা হয়;

(২৭) ‘‘বাফার জোন’’ অর্থ কোর জোন ব্যতীত রক্ষিত এলাকার প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত বনভূমি অথবা লোকালয়ের পার্শ্বে অবক্ষয়িত বন এলাকা, যেখানে স্থানীয় জনসাধারণের বনজদ্রব্য আহরণের প্রবণতা আছে এবং যেখানে রক্ষিত এলাকার উদ্ভিদ প্রজাতির সাথে সামঞ্জস্য রাখিয়া স্বল্প মেয়াদী অংশীদায়িত্ব বনায়নের সুযোগ আছে ও উহার উন্নয়নে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হইবে এবং যাহা এই আইনের ধারা ২০ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(২৮) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(২৯) ‘‘বিপদাপন্ন প্রজাতি’’ অর্থ কোন বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা মহাবিপদাপন্ন, বিপন্ন বা বিরল হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যাহা বিলুপ্ত হওয়ার হুমকির সম্মুখীন;

(৩০) ‘‘বিপন্ন প্রজাতি’’ অর্থ কোন বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজাতি যাহা বর্তমানে মহা-বিপদাপন্ন অবস্থায় না থাকিলেও অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থানে রহিয়াছে;

(৩১) ‘‘বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৩ এর অধীন গঠিত বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড;

(৩২) ‘‘বৈজ্ঞানিক কমিটি’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন গঠিত বৈজ্ঞানিক কমিটি;

(৩৩) ‘‘ভারমিন’’ অর্থ তফসিল ৩ এ উল্লিখিত কৃষি ফসলের ক্ষতিকারক প্রাণী;

(৩৪) ‘‘মহাবিপদাপন্ন’’ অর্থ কোন বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদ যাহা প্রকৃতিতে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে;

(৩৫) ‘‘লাইসেন্স’’ অর্থ ধারা ২৪ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;

(৩৬) ‘‘ল্যান্ডস্কেপ জোন’’ অর্থ কোন স্বীকৃত অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্ক এর বাহিরে সরকারি বা বেসরকারি এলাকা, যাহা রক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করিয়া থাকে ও রক্ষিত এলাকার অবক্ষয়রোধে রক্ষিত এলাকার প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্যের সহিত মিল রাখিয়া ব্যবস্থাপনা করা হয় এবং বণ্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হয় এবং যাহা ধারা ২০ এর অধীন ল্যান্ডস্কেপ জোন হিসাবে ঘোষিত এলাকা;

(৩৭) ‘‘শিকার’’ অর্থ-

(ক) কোন বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা, বিষ প্রয়োগ করা বা অনুরূপ কোন উদ্যোগ; অথবা

(খ) উপ-দফা (ক) এ বর্ণিত কোন উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীকে তাড়াইয়া নেওয়া; অথবা

(গ) কোন বন্যপ্রাণীকে আহত বা ক্ষতি করা এবং কোন বন্যপ্রাণীর কোন অংশ নেওয়া বা বন্য পাখির বা সরীসৃপের বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা ধ্বংস করা;

(৩৮) ‘‘সহ-ব্যবস্থাপনা’’ অর্থ কোন একটি এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে উক্ত সম্পদের পরিচালনা বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ বুঝায় এবং যাহা ধারা ২১ এ উল্লিখিত সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি;

(৩৯) ‘‘সাফারী পার্ক’’ অর্থ যেখানে দেশী-বিদেশী বন্যপ্রাণীসমূহ ন্যূনতম প্রাকৃতিক পরিবেশে রক্ষিত অবস্থায় থাকিয়া বংশ বৃদ্ধির সুযোগ পাইবে এবং উম্মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করিবে এবং যাহা ধারা ১৯ অনুসারে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত;

(৪০) ‘‘সাইটিস (CITES) ’’ অর্থ Convention on International Trade in Endangered Species of Wild Fauna and Flora; (৪১) ‘‘স্মারক বৃক্ষ’’ অর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত মূল্য রহিয়াছে এইরূপ ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ বা পুরাতন বয়স্ক দেশীয় উদ্ভিদ বা শতবর্ষী বৃক্ষ;

(৪২) ‘‘রক্ষিত উদ্ভিদ’’ অর্থ তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ;

(৪৩) ‘‘রক্ষিত এলাকা’’ অর্থ এই আইনের চতুর্থ অধ্যায়ের ধারা ১৩, ১৭, ১৮ ও ১৯ অনুসারে সরকার ঘোষিত সকল অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা, সাফারী পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান ও পঞ্চম অধ্যায়ের ধারা ২২ অনুসারে গঠিত বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা এবং ধারা ২৩ অনুসারে গঠিত জাতীয় ঐতিহ্য ও কুঞ্জবন;

(৪৪) ‘‘রক্ষিত বন্যপ্রাণী’’ অর্থ তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী;

(৪৫) ‘‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’’ অর্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৩ নং আইন) এর ধারা ২(২) এ সংজ্ঞায়িত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।

দ্বিতীয় অধ্যায়
উপদেষ্টা বোর্ড, বৈজ্ঞানিক কমিটি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড, ইত্যাদি

৩। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একজন চেয়ারম্যান এবং জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বোর্ডের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে পর্যালোচনা এবং দিক-নির্দেশনা প্রদান করা;

(খ) জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা;

(গ) জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির নিমিত্ত বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উপদেশ প্রদান করা;

(ঘ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কারিগরি কমিটি, উপ-কমিটি বা অন্য যে কোন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধান ওয়ার্ডেন কর্তৃক সরকারের নিকট উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুমোদন করা;

(ঙ) প্রধান ওয়ার্ডেন কর্তৃক সরকারের নিকট উপস্থাপিত বাৎসরিক প্রতিবেদন সুপারিশসহ অনুমোদন করা;

(চ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত এতদ্‌সম্পর্কিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।

(৩) উপদেষ্টা বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবে।

(৪) উপদেষ্টা বোর্ডের সকল সভা চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৫) উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় কোরামের জন্য উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতির প্রয়োজন হইবে।

বৈজ্ঞানিক কমিটি
৪। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত বরেণ্য ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিশারদগণের সমন্বয়ে অনধিক ৭ (সাত) সদস্যবিশিষ্ট একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
দায়িত্ব অর্পণ

৫।(১) দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, নিরাপত্তার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণের উপর ন্যস্ত থাকিবে, যথাঃ-

(ক) প্রধান ওয়ার্ডেন;

(খ) অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন;

(গ) ওয়ার্ডেন।

(২) বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন সংরক্ষক এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ পদাধিকারবলে যথাক্রমে প্রধান ওয়ার্ডেন, অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন এবং ওয়ার্ডেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) প্রধান ওয়ার্ডেন, অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন এবং ওয়ার্ডেন এর দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং ক্ষেত্রমত, সরকার বা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী তাহারা দায়িত্ব পালন করিবেন।

তৃতীয় অধ্যায়
বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা
বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা

৬। (১) এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা ক্ষেত্রমত, পারমিট গ্রহণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন বন্যপ্রাণী শিকার বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ ইচ্ছাকৃতভাবে উঠানো, উপড়ানো, ধ্বংস বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন নির্দিষ্ট বা সকল বন্যপ্রাণী কোন নির্দিষ্ট বন বা এলাকা বা সমগ্র দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিকার নিষিদ্ধ করিতে পারিবে।

বিপন্ন, বিপদাপন্ন ও মহা-বিপদাপন্ন প্রজাতি নির্ধারণ
৭। বৈজ্ঞানিক উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক-ভাবে গ্রহণযোগ্য বিধান বা প্রথা অনুসরণপূর্বক, প্রধান ওয়ার্ডেন, বৈজ্ঞানিক কমিটির সহিত পরামর্শক্রমে, তফসিল ১, ২ ও ৩ এ উল্লিখিত কোন্ কোন্ প্রজাতির বা উপ-প্রজাতির বন্যপ্রাণী বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বিপন্ন, বিপদাপন্ন বা মহা-বিপদাপন্ন তাহা নির্ধারণ করিবেন।
বন্যপ্রাণী অপসারণ, ইত্যাদি

৮। (১) অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ কোন কিছু উল্লেখ না থাকিলে, কোন বন্যপ্রাণী-

(ক) মানুষের জীবন ও সম্পদের (গৃহপালিত পশু ও ফসলের) প্রতি হুমকির কারণ হইলে; অথবা

(খ) দৈহিকভাবে পঙ্গু বা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হইলে; অথবা

(গ) কোন এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যের প্রতি হুমকির কারণ হইলে-

প্রধান ওয়ার্ডেন বা অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন বা ওয়ার্ডেন কারণ উল্লেখ করিয়া উক্ত বন্যপ্রাণী অপসারণ, হত্যা বা ক্ষেত্রমত, পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং পনের দিনের মধ্যে বিষয়টি উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিতে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করিবেন।

(২) কোন বিমানঘাঁটি বা বিমান ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে, কোন বন্যপ্রাণীকে অপসারণের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

বন্যপ্রাণী অবমুক্তকরণ
৯। অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, ধৃত, উদ্ধারকৃত বা জব্দকৃত কোন বণ্য প্রণী খাঁচায় বা আবদ্ধ অবস্থায় রাখা উহার জীবনের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ হইলে উক্ত বন্য প্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ অবমুক্ত করিবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
পারমিট প্রদান

১০। কোন বন্য প্রাণীর দেহের অংশ, মাংস, ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি সংগ্রহ এবং তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ সংগ্রহ করা, দখলে রাখা, অথবা উহা হইতে উৎপাদিত দ্রব্য কোন বন অথবা দেশের যে কোন স্থান হইতে পরিবহনের জন্য নিম্নবর্ণিত কারণে প্রধান ওয়ার্ডেন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি প্রদান সাপেক্ষে পারমিট প্রদান করিতে পারিবেন, যথাঃ-

(ক) শিক্ষা;

(খ) বৈজ্ঞানিক পবেষণা;

(গ) বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা;

(ঘ) কোন উদ্ভিদ উদ্যান, সাফারী পার্ক, স্বীকৃত চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, হার্বেরিয়াম অথবা একইরূপ অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শন;

(ঙ) জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরির জন্য উদ্ভিদ বা সাপের বিষ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ; এবং

(চ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বংশ বিস্তারের জন্য।

ব্যাখ্যা।-এই ধারায় ‘‘বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা’’ অর্থ-

(১) কোন বন্যপ্রাণীকে অন্য কোন সুবিধাজনক আবাসস্থলে স্থানান্তর করা;

(২) কোন বন্যপ্রাণী অথবা নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদের ব্যবস্থাপনার জন্য হত্যা না করিয়া বা বিষ প্রয়োগ না করিয়া অথবা ধ্বংস না করিয়া প্রজনন নিয়ন্ত্রন করা; এবং

(৩) বিজ্ঞানসম্মতভাবে কালিং (পঁষষরহম) করাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কালিংকৃত প্রাণী মাটি চাপা দিয়া ধ্বংস করিতে হইবে।

বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ নিবন্ধিকরণ এবং নিবন্ধন সনদ ইস্যু

১১। (১) এই আইন কার্যকর হইবার একশত আশি দিনের মধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডেন তাহার এলাকাধীন কোন ব্যক্তির নিকট সংগৃহীত ও সংরক্ষিত কোন বন্যপ্রাণী অথবা বন্যপ্রাণীদের অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, অথবা তফসিল-৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপাদিত দ্রব্য নিবন্ধন করাইবেন, যথাযথ নিবন্ধনকরণ চিহ্ন প্রদান করিবেন এবং উহার সংখ্যা ও অবস্থান উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত বিবরণ প্রধান ওয়ার্ডেন এর নিকট প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, প্রথাগতভাবে পূর্ব হইতেই কোন ব্যক্তির হেফাজতে কোন ট্রফি বা বন্যপ্রাণীর স্মৃতি চিহ্ন থাকিলে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে নাঃ

তবে আরো শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তির নিকট রক্ষিত কোন ট্রফি বা বন্যপ্রাণীর স্মৃতি চিহ্ন থাকিলে তিনি উহা প্রধান ওয়ার্ডেন বা ওয়ার্ডেন বা উপজেলা ফরেস্ট অফিসার এর নিকট ঘোষণা করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধিকরণ চিহ্ন প্রদানের পর উক্ত কর্মকর্তা বিধি ধারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত বন্যপ্রাণী, মাংস, ট্রফি, বা ক্ষেত্রমত, উদ্ভিদের আইনানুগ দখলের প্রমাণ স্বরূপ নিবন্ধন সনদ ইস্যু করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, লালন-পালনযোগ্য বন্যপ্রাণীর জন্য নিবন্ধন সনদ ইস্যুর পূর্বে নিশ্চিত হইতে হইবে যে, আবেদনকারী আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং উক্ত বন্যপ্রাণী লালন-পালনের জন্য ক্ষেত্রমত, প্রয়োজনীয় স্থান, জলাধার, পরিবেশ, ফিডিং স্পট ও পরিচর্যাকারী লোকবল, লালন-পালন সম্পর্কে জ্ঞান ও সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রহিয়াছে।

হস্তান্তর

১২। (১) নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন বন্যপ্রাণী, মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, বন্যপ্রাণীর অংশবিশেষ (ভারমিন ছাড়া) অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য দান, বিক্রয় বা অন্য কোন প্রকারে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন না।

(২) প্রধান ওয়ার্ডেন বা ক্ষেত্রমত, ওয়ার্ডেন এর পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিয়া নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে বা তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে এমন কোন বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কাহারো নিকট, স্থানান্তর, হস্তান্তর বা পরিবহণ করিতে পারিবেন।’’।

(৩) চিড়িয়াখানার আবদ্ধ প্রাণী বিনিময়ের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

চতুর্থ অধ্যায়
রক্ষিত এলাকা
অভয়ারণ্য ঘোষণা

১৩। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয় বননীতি ও বন মহাপরিকল্পনার আলোকে এবং প্রকৃতি, ভূমিগঠনগত বৈশিষ্ট্য, জীববৈচিত্র্য বা পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া কোন সরকারি বন, বনের অংশ, সরকারি ভূমি, জলাভূমি বা যে কোন নির্দিষ্ট এলাকাকে বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের নিমিত্ত সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা নির্ধারণপূর্বক, অভয়ারণ্য ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত অভয়ারণ্যকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, পাখি অভয়ারণ্য, হাতি অভয়ারণ্য বা জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য, বা ক্ষেত্রমত, মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসাবে নির্ধারণ করা যাইবে।

(৩) কোন জলাভূমিকে অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষণা করা হইলে উক্ত এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী, যেমন-জেলে, নৌকাচালক ইত্যাদি পেশাগত, প্রথাগত বা জীবন জীবিকার অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।

অভয়ারণ্য সম্পর্কে বাধা নিষেধ

১৪। (১) কোন ব্যক্তি অভয়ারণ্যে-

(ক) চাষাবাদ করিতে পারিবেন না;

(খ) কোন শিল্প কারখানা স্থাপন বা পরিচালনা করিতে পারিবেন না;

(গ) কোন উদ্ভিদ আহরণ, ধ্বংস বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না;

(ঘ) কোন প্রকার অগ্নিসংযোগ করিতে পারিবেন না;

(ঙ) প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোন প্রকার আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করিতে পারিবেন না;

(চ) কোন বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করিতে বা ভয় দেখাইতে পারিবেনা কিংবা বন্যপ্রাণীর আবাস্থল বিনষ্ট হইতে পারে এইরূপ কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য, গোলাবারুদ, বা অন্য কোন অস্ত্র বা দ্রব্য ব্যবহার করিতে পারিবেন না;

(ছ) বিদেশী (ঊীড়ঃরপ) প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদ প্রবেশ করাইতে পারিবেন না;

(জ) কোন গৃহপালিত পশু প্রবেশ করাইতে বা কোন গৃহপালিত পশুকে নিরুদৃষ্ট রাখিতে পারিবেন না;

(ঝ) বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর পদার্থ গাদি (ডাম্পিং) করিতে পারিবেন না;

(ঞ) কোন খনিজ পদার্থ আহরণের জন্য অনুসন্ধান কিংবা গর্ত করিতে পারিবেন না;

(ট) উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বংশ বিস্তারের উদ্দেশ্যে সিলভিকালচারেল অপারেশন ব্যতীত অন্য কোন কারণে কোন উদ্ভিদ বা উহার অংশ কাটিতে পারিবেন না;

(ঠ) জলপ্রবাহের গতি পরিবর্তন, বন্ধ বা দূষিত করিতে পারিবেন না; অথবা

(ড) কোন এলিয়েন (Alien) ও আগ্রাসী (Invasive) প্রজাতির উদ্ভিদ প্রবেশ করাইতে পারিবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী এই আইন প্রবর্তনের পর অভয়ারণ্যের সীমানার ২ (দুই) কিলোমিটারের মধ্যে কোন শিল্প কারখানা বা ইট ভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করিতে পারিবেন না।

অভয়ারণ্যে প্রবেশ, ইত্যাদি

১৫। (১) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেহ অভয়ারণ্যে প্রবেশ অথবা অবস্থান করিতে পারিবেন না, যথাঃ

(ক) এই আইন বা বিধির অধীন দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তা;

(খ) প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি;

(গ) বন অধিদপ্তর কর্তৃক মনোনীত সংরক্ষণ কাজের সহিত জড়িত কোন ব্যক্তি;

(ঘ) অভয়ারণ্যের মধ্যে নির্মিত মহাসড়ক, সড়ক বা জলপথে চলাচলরত কোন ব্যক্তি; এবং

(ঙ) অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা বা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আবশ্যক ব্যক্তি, যিনি প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণপূর্বক ও ক্ষেত্রমত, প্রবেশ ফি আদায় সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, যথাঃ-

(ক) বন্যপ্রাণীর উপর প্রাসঙ্গিক ও সহায়ক বিষয়ের উপর অধ্যয়ন বা অনুসন্ধান;

(খ) ছবি তোলা;

(গ) গবেষণা; ও

(ঘ) ইকোট্যুরিজম।

অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা

১৬। (১) প্রতিটি অভয়ারণ্যের জন্য সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করিবে।

(২) প্রধান ওয়ার্ডেন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করিবেন এবং এতদ্উদ্দেশ্যে সীমিত আকারে অভয়ারণ্যের ভিতর-

(ক) কোন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য কোন পর্যটন দোকান, কটেজ বা হোটেল নির্মাণ ব্যতীত রাস্তা, সেতু, ভবন, বেষ্টনী বা প্রতিবন্ধক প্রবেশ তোরণ নির্মাণ ও সীমানা চিহ্নিতকরণ অথবা এই ধরণের অন্যান্য কাজ যাহা অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আবশ্যক তাহা করিতে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন;

(খ) বন্যপ্রাণী বা উহার আবাসস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন;

(গ) বন্যপ্রাণী রক্ষার স্বার্থে আবাসস্থল উন্নয়ন, প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা, প্রজননের সময় উপদ্রব মুক্তরাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সীমিত আকারে বন্যপ্রাণী খাদ্য উপযোগী বাগান সৃজন করিতে পারিবেন;

(ঘ) সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহিত পরামর্শক্রমে, মাছ ধরা কার্যক্রম বা জলযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে কচ্ছপ, কুমির, ডলফিন, তিমি, শুশুক ইত্যাদি মিঠা ও নোনা পানির জলজ প্রাণী রক্ষা করিবার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবেন; অথবা

(ঙ) অভয়ারণ্য এলাকার সীমানা হইতে ২ (দুই) কিলোমিটারের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকান্ড চিহ্নিত করিয়া উহা নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন।

জাতীয় উদ্যান ঘোষণা

১৭। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন সরকারি বন, বনের অংশ বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সরকারি ভূমিকে, বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের উন্নয়ন অথবা পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা নির্ধারণপূর্বক, জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জাতীয় উদ্যান ঘোষণার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অনুসরণ বা ক্ষেত্রমত, বিবেচনা করিতে হইবে, যথাঃ-

(ক) বন ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার জাতীয় নীতিমালা বা মহা-পরিকল্পনা;

(খ) ভূমির গঠনগত বৈশিষ্ট্য; গুরুত্ব ;

(গ) ইকোলজি;

(ঘ) পরিবেশ।

(৩) ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ এ উল্লিখিত বিধানাবলী জাতীয় উদ্যানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা ঘোষণা

১৮। (১) ল্যান্ডস্কেপ জোনের অন্তর্ভুক্ত নহে এইরূপ কোন জমি বা জলাভূমির মালিক কোন ব্যক্তি বা কমিউনিটি কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ এর প্রথাগত অথবা কৃষ্টিগত মূল্যবোধ বা ব্যবহার সংরক্ষণ এবং উক্ত জমি বা জলাভূমির টেকসই উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা হিসাবে ঘোষণার লক্ষ্যে সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন করা হইলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, আবেদনে উল্লিখিত জমি বা জলাভূমিকে কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন ঘোষিত এলাকায় সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করিতে পারিবে এবং সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন ঘোষিত এলাকার কোন ক্ষতিগ্রস্ত মালিককে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সরকার ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে পারিবে।

সাফারী পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ঘোষণা

১৯। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যপ্রাণীর স্বীয় আবাসস্থলে (in-situ) বা আবাসস্থলের বাহিরে অন্যত্র (ex-situ) সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা গবেষণা, জনসাধারণের চিত্তবিনোদন বা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে যে কোন সরকারি বনভূমিকে, সাফারী পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান বা ক্ষেত্রমত, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ এ উল্লিখিত বিধানাবলী সাফারী পার্ক, ইকোপার্ক, উদ্ভিদ উদ্যান বা বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সাফারী পার্কে চিত্তবিনোদনের জন্য বিদেশী প্রজাতির প্রাণী প্রদর্শন করা যাইবে।

ল্যান্ডস্কেপ জোন বা করিডোর, বাফার জোন ও কোর জোন ঘোষণা

২০। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণপূর্বক ঘোষিত যে কোন এলাকা, রক্ষিত বা সংরক্ষিত বন এলাকার সীমানার বাহিরে কিন্তু উহার সংলগ্ন যে কোন সরকারি বা বেসরকারি এলাকাকে বন্যপ্রাণী চলাচলের উপযোগী বা বিশেষ উন্নয়ন সাধনের প্রয়োজনে বা উক্ত এলাকার যে কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ল্যান্ডস্কেপ জোন বা করিডোর হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, রক্ষিত এলাকা বা কোর জোন এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনজদ্রব্য আহরণের উপর চাপ হ্রাস ও রক্ষিত বন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের জন্য কোর জোন ব্যতীত রক্ষিত বনের অভ্যন্তরে বা প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত অবক্ষয়িত বন এলাকাকে বাফার জোন হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বংশ বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের জন্য জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ বা বনজদ্রব্য আহরণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রক্ষিত এলাকার কেন্দ্রস্থলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বন বা দীর্ঘ মেয়াদী বনকে, কোর জোন হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

২১। (১) সরকার অভয়ারণ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বন অধিদপ্তর, বনাঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিবার জন্য সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করিতে এবং উক্ত কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।

বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা

২২। (১) সরকার স্বীয় উদ্যোগে কিংবা কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন সরকারি ভূমি, ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি বা বৃক্ষরাজি অথবা সংরক্ষিত বন, খাস জমি, জলাভূমি, নদী, সমুদ্র, খাল, দীঘি বা বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত পুকুরকে উক্ত এলাকার প্রথাগত বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং অনুশাসন সংরক্ষণ সাপেক্ষে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(২) ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ এ উল্লিখিত বিধানাবলী বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন ঘোষণা

২৩। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সরকারি বন, কোন সংস্থার অধীন ভূমি, খাস জমি বা কমিউনিটির মালিকানাধীন ভূমিতে অবস্থিত বৃক্ষ বা কুঞ্জবন যাহা সাংস্কৃতিক, প্রথাগত, ধর্মীয় বা স্মৃতিস্মারক হিসাবে চিহ্নিত ও ব্যবহৃত এবং যাহা বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসাবে উক্ত এলাকায় পরিচিত তাহা উক্ত ভূমির মালিক, সংস্থা বা ব্যক্তির আবেদনক্রমে, জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, কুঞ্জবন হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে ঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কমিউনিটি বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাহাদের প্রথাগত বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং অনুশাসন সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(২) ধারা ১৪, ১৫ ও ১৬ এ উল্লিখিত বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ বা কুঞ্জবনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়
আবদ্ধ প্রাণী, বন্যপ্রাণী, ট্রফি ইত্যাদির লাইসেন্স
লাইসেন্স

২৪। (১) কোন ব্যক্তি কোন বন্যপ্রাণী অথবা উহার দেহের অংশ, মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ, আহরণ, উৎপাদন, লালন-পালন, আমদানি-রপ্তানি অথবা কোন বন্যপ্রাণী শিকার করিতে চাহিলে, প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে কোন ব্যক্তি কোন বন্যপ্রাণী অথবা উহার দেহের অংশ, মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত কোন উদ্ভিদ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উৎপাদনপূর্বক মজুত করিয়া রাখিলে এই আইন কার্যকর হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী লাইসেন্স গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা যথাযথ পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া সন্তুষ্ট হইলে মজুতকৃত বন্যপ্রাণী অথবা উহার দেহের অংশ, মাংস, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদে সনাক্তকরণ চিহ্ন প্রদান করিবেন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স প্রদান করিবেন।

(৪) লাইসেন্সের মেয়াদ প্রদানের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত বহাল থাকিবে।

(৫) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করিতে হইবে।

লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতকরণ
২৫। কোন লাইসেন্স গ্রহীতা এই আইন বা বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা লাইসেন্স গ্রহীতাকে যুক্তিসংগত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবেন।
আপীল

২৬। (১) ধারা ২৪ ও ২৫ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশে কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী দায়েরকৃত আপীল ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং আপীলে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্য সংরক্ষণ
২৭। প্রত্যেক লাইসেন্স গ্রহীতাকে লাইসেন্স সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নির্ধারিত ফরম অথবা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং উক্ত ফরম বা রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিদর্শনের সময় চাহিবামাত্র প্রদর্শন করিতে হইবে।
সপ্তম অধ্যায়
বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদ আমদানি, রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি
আমদানি

২৮। (১) কোন ব্যক্তি-

(ক) আগমন শুল্ক বন্দর ব্যতীত অন্য কোন পথে;

(খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সাইটিস (CITES) সার্টিফিকেট ব্যতীত; এবং

(গ) লাইসেন্স ব্যতীত কোন বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য বাংলাদেশে আমদানি করিতে পারিবেন না।

(২) প্রতিটি আমদানি করা বন্যপ্রাণী বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ অথবা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য আগমন শুল্ক বন্দরে আসার পর আমদানিকৃত রাষ্ট্রের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট প্রদর্শন করিতে হইবে।

রপ্তানি

২৯। কোন ব্যক্তি-

(ক) বহির্গমন শুল্ক বন্দর ব্যতীত অন্য কোন পথে;

(খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সাইটিস (CITES) সার্টিফিকেট ব্যতীত; এবং

(গ) লাইসেন্স ব্যতীত-

কোন বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য রপ্তানি বা পুনঃরপ্তানি করিতে পারিবেন না।

বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র
৩০। সরকার কোন আহত, জব্দকৃত, বাজেয়াপ্ত, পরিত্যক্ত অথবা দানকৃত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা সেবা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্ত উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে এবং উদ্ধার কেন্দ্র হইতে বন্যপ্রাণী প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার জন্য নির্দেশিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন

৩১। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, প্রটোকল, চুক্তি ইত্যাদির সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার জন্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দর, স্থল বন্দর বা সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের যে কোন স্থানে শুল্ক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী, সরকার বিধি দাবারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

অষ্টম অধ্যায়
অনুসন্ধান, জব্দ, ইত্যাদি
জব্দকরণ

৩২। (১) কোন কর্মকর্তা এই আইনের অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত দ্রব্য বা সামগ্রী জব্দ করিতে পারিবেন, যথাঃ-

(ক) লাইসেন্স ব্যতীত শিকার করা, দখলে রাখা বা ধৃত বন্যপ্রাণী বা উহাদের আবদ্ধ অবস্থায় রাখিবার কারণে প্রজননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রাণী;

(খ) দুর্ঘটনার কারণে মারা গিয়াছে বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রহিয়াছে এইরূপ বন্যপ্রাণী;

(গ) এই আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত অথবা লাইসেন্স গ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ কোন বন্যপ্রাণী বা উহার কোন অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য;

(ঘ) অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত অস্ত্র, বস্ত্ত ও যন্ত্রপাতি;

(ঙ) ধারা ২৮ ও ২৯ অনুযায়ী আমদানী বা রপ্তানী করা হয় নাই এমন কোন বন্যপ্রাণী বা উহার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা উহার অংশ বা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্যঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত, ঐতিহ্য বা দৈনন্দিন জীবন ধারণের অংশ হিসাবে ব্যবহৃত বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা স্মৃতি চিহ্ন এর ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত সকল দ্রব্য বা সামগ্রী সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত যে সকল দ্রব্য বা সামগ্রী দ্রুত এবং প্রাকৃতিকভাবে পঁচনশীল সে সকল দ্রব্য বা সামগ্রী জব্দকারী কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিক্রয়, ধ্বংস, অপসারণ বা অন্য কোন পন্থায় নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা

৩৩। (১) এই আইন বা বিধির বিধানাবলী যথাযথভাবে পালিত হইতেছে কিনা তাহা যাচাইয়ের জন্য প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা যে কোন সময় যে কোন স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি বা কোন কিছু আটক বা কোন কিছুর নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কোন স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবেন।

(২) এই ধারার অধীন তল্লাশি, আটক বা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।

(৩) বনজদ্রব্যের সকল ক্রেতা, সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সহিত জড়িত ব্যক্তি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণপূর্ত বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি, চৌকিদার, দফাদার, গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্য, ভিলেজ হেডম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, কানুনগো এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী এই আইন বা বিধির অধীন দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সকল সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।

নবম অধ্যায়
অপরাধ ও দন্ড
কতিপয় অপরাধের দন্ড

৩৪। কোন ব্যক্তি যদি-

(ক) ধারা ১১ এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত এবং প্রদত্ত নিবন্ধন চিহ্ন নকল, বিনিময় অথবা অন্য কোনভাবে হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তন করেন; বা

(খ) লাইসেন্স অথবা পারমিট প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কাহারো নিকট হইতে কোন বন্যপ্রাণী, বন্যপ্রাণীর কোন অংশ, মাংস, ট্রফি অথবা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্য বা বনজদ্রব্য বা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ অথবা উহা হইতে উৎপন্ন দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি করেন-

তাহা হইলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ

১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত করাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

ধারা ১৪ এর বিধান লংঘনের দন্ড

৩৫। কোন ব্যক্তি ধারা ১৪ এ উল্লিখিত কোন নিষিদ্ধ কর্মকান্ড করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন ও উক্তরূপ অপরাধের জন্য জামিন অযোগ্য হইবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ

৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৪ (চার) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

বাঘ ও হাতি হত্যা, ইত্যাদির দন্ড

৩৬। (১) কোন ব্যক্তি ধারা ২৪ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ না করিয়া তফসিল ১ এ উল্লিখিত কোন বাঘ বা হাতি হত্যা করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন ও উক্তরূপ অপরাধের জন্য জামিন অযোগ্য হইবেন এবং তিনি সর্বনিম্ন ২ (দুই) বৎসর এবং সর্বোচ্চ ৭ (সাত) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং সর্বনিম্ন ১ (এক) লক্ষ এবং সর্বোচ্চ ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, বাঘ বা হাতি কর্তৃক কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হইলে এবং উহার ফলে তাহার জীবনাশঙ্কার সৃষ্টি হইলে জীবন রক্ষার্থে উক্ত আক্রমণকারী বাঘ বা হাতিকে হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে নাঃ

তবে আরো শর্ত থাকে যে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা দায়েরের প্রশ্ন দেখা দিলে, সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ওয়ার্ডেন এর সহিত পরামর্শক্রমে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) কোন ব্যক্তি ধারা ১০ এর অধীন পারমিট গ্রহণ না করিয়া তফসিল ১ এ উল্লিখিত কোন বাঘ বা হাতির ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে, দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত করাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

চিতা বাঘ, লাম চিতা, উল্লুক, সাম্বার হরিণ, কুমির, ঘড়িয়াল, তিমি বা ডলফিন হত্যা, ইত্যাদির দন্ড

৩৭। (১) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ এ উল্লিখিত কোন চিতা বাঘ, লাম চিতা, উল্লুক, সাম্বার হরিণ, কুমির, ঘড়িয়াল, তিমি বা ডলফিন হত্যা করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩ (তিন) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, চিতা বাঘ বা কুমির কর্তৃক কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হইলে এবং উহার ফলে তাহার জীবনাশঙ্কার সৃষ্টি হইলে জীবন রক্ষার্থে উক্ত আক্রমণকারী চিতা বাঘ বা কুমিরকে হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে নাঃ

তবে আরো শর্ত থাকে যে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা দায়েরের প্রশ্ন দেখা দিলে, সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ওয়ার্ডেন এর সহিত পরামর্শক্রমে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ এ উল্লিখিত কোন চিতা বাঘ, লাম চিতা, উল্লুক, সাম্বার হরিণ, কুমির, ঘড়িয়াল, তিমি বা ডলফিন এর ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে, দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ৪ (চার) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা, ইত্যাদির দন্ড

৩৮। (১) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত কোন পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি তফসিল ১ ও ২ এ উল্লিখিত কোন পাখি বা পরিযায়ী পাখির ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে, দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

ধারা ৬, ১০, ১১ ও ১২ এর বিধান লংঘনের দন্ড
৩৯। কোন ব্যক্তি ধারা ৬, ১০, ১১ বা ১২ এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
ধারা ২৪ ও ২৭ এর বিধান লংঘনের দন্ড
৪০। কোন ব্যক্তি ধারা ২৪ বা ২৭ এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
অপরাধ সংঘটনের সহায়তা, প্ররোচনা, ইত্যাদির দন্ড
৪১। কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করিলে বা উক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা প্রদান করিলে এবং উক্ত সহায়তা বা প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হইলে, উক্ত সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারী তাহার সহায়তা বা প্ররোচনা দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের বা বেআইনীভাবে জব্দকরণের দন্ড

৪২। (১) এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এই আইনের বিধান লংঘন করিয়া কোন দ্রব্য বা সামগ্রী জব্দ বা কোন ব্যক্তিকে হয়রানি করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।

(২) এই আইনের দায়েরকৃত কোন মামলায় আদালত শুনানী ও বিচারান্তে যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস প্রদান করে এবং আদালত তাহার রায়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক, তাহা হইলে মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

অপরাধের আমলযোগ্যতা, আমল অযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা, জামিন অযোগ্যতা ও আপোষ যোগ্যতা
৪৩। ধারা ৩৬ এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হইবে এবং উক্ত ধারা ব্যতীত অন্যান্য ধারার অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমল অ-যোগ্য, জামিনযোগ্য ও ক্ষতিপূরণ সাপেক্ষে আপোষযোগ্য।
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার

৪৪। (১) ধারা ৪৩ এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা অথবা ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।

(২) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) বা অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ক্ষেত্রমত, Code of Criminal Procedure, 1898 ?? section 12 এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ বিচার্য হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এবং Code of Criminal Procedure, 1898 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩৬ এ উল্লিখিত অপরাধের বিচার Courts of Sessions কর্তৃক বিচার্য হইবে। (৪) Code of Criminal Procedure, 1898 এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে অনুমোদিত যে কোন অর্থদন্ড আরোপ করিতে পারিবে।

ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
৪৫। এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
কোম্পানী, ইত্যাদি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

৪৬। কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এমন প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

ব্যাখ্যা। -এই ধারায় –

(ক) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ এবং সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত; এবং

(খ) ‘‘পরিচালক’’ অর্থ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।

দশম অধ্যায়
বিবিধ
বাৎসরিক প্রতিবেদন
৪৭। প্রধান ওয়ার্ডেন রক্ষিত এলাকার বন্যপ্রাণীর প্রকৃতিগত অবস্থান বা স্ট্যাটাস ও সংরক্ষণ গতিধারার বিস্তারিত বিবরণসহ বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত করিয়া বোর্ডের নিকট উপস্থাপন করিবেন এবং বোর্ডের অনুমোদনক্রমে উহা মুদ্রিত আকারে ও অন-লাইনে প্রকাশ করিবেন।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা
৪৮। কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোন বণ্যপ্রাণী বা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিষয়ে গবেষণা করিতে ইচ্ছুক হইলে প্রধান ওয়ার্ডেন বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
এয়ারগান সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা

৪৯। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের স্বার্থে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এয়ারগান আমদানি, বিক্রয়, ব্যবহার বা বহনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিতে পারিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত প্রজ্ঞাপনে জাতীয় স্যুটিং ফেডারেশন কর্তৃক নিবন্ধিত স্যুটিং ক্লাব ও বনাঞ্চল সন্নিহিত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী তাহাদের নিরাপত্তা, দৈনন্দিন প্রয়োজন ও সামাজিক প্রথার কারণে উক্তরূপ নিষেধাজ্ঞার আওতার বহির্ভূত রাখিতে হইবে।

সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ
৫০। এই আইন বা বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজকর্মের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা দায়ের বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা
৫১। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৫২।১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ণ না করিয়া নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করা যাইবে, যথাঃ –

(ক) লাইসেন্স বা পারমিট এর জন্য আবেদন ফরম, শর্তাবলী, ফি ইত্যাদি;

(খ) সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন, ক্ষমতা, কার্যাবলী ও মেয়াদ;

(গ) অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, বাফার জোন, কোর জোন, ল্যান্ডস্কেপ জোন বা করিডোর, কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা, মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া, জাতীয় ঐতিহ্য, স্মারক, পবিত্র বৃক্ষ, কুঞ্জবন, ইকোপার্ক, সাফারী পার্ক, মেরিন পার্ক, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, উদ্ভিদ উদ্যান, বেসরকারি বিনোদন পার্ক, চিড়িয়াখানা, পোষা পাখি ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা;

(ঘ) বেসরকারি আবদ্ধ বন্যপ্রাণীর প্রজনন খামার নিয়ন্ত্রণ;

(ঙ) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বণ্যপ্রাণী সংক্রান্ত গবেষণা, শিক্ষা এবং গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার বা পদক ঘোষণা;

(চ) এই আইনের অধীন অপরাধ উদঘাটনে সহায়তা করিবার জন্য তথ্য প্রদানকারী বা বন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পুরস্কার বা পদক প্রদান;

(ছ) বেসরকারি বন্যপ্রাণী খামার ও উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন;

(জ) বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ;

(ঝ) বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী;

(ঞ) জব্দকৃত দ্রব্য বা সামগ্রী বিক্রয়, ধ্বংস, অপসারণ বা অন্য কোন পন্থায় নিস্পত্তির ব্যবস্থা।

ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৫৩। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

রহিতকরণ ও হেফাজত

৫৪। (১) Bangladesh Wild Life (Preservation) Order, 1973 (President�s Order No. 23 of 1973) , অতঃপর রহিত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও –

(ক) রহিত আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত কোন কার্য বা কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত কার্য বা কার্যধারা উক্ত রহিত আইনের বিধান অনুযায়ী এইরূপে নিষ্পত্তি করিতে হইবে, যেন এই আইন প্রবর্তিত হয় নাই;

(খ) রহিত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, নোটিশ, ইত্যাদি এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।

চতুর্দশ অধ্যায়
বকেয়া কর আদায়
বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধ

১০৬। (১) বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধ করিবার নিমিত্ত কমিশনার একজন খেলাপি করদাতাকে নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন এবং কোন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে উক্তরূপ অনুমতি বাতিল করিতে পারিবেন।

(২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কিস্তিতে বকেয়া কর পরিশোধের সময়সীমা ১২ (বার) মাসের অতিরিক্ত হইবে না।

তথ্যসূত্র:

 

Visitors' Opinion

Leave a Reply