ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ

বাংলাদেশের মাছ: তেলি ফ্যাসা, Scaly hairfin anchovy, Setipinna taty

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position):
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Clupeiformes (Herrings)
পরিবার: Engraulidae (Anchovies)
গণ: Setipinna
প্রজাতি: : Setipinna taty

নামতত্ত্ব (Etymology):
ল্যাটিন (Latin) শব্দ septem অর্থাৎ সাত (seven) এবং ল্যাটিন শব্দ pinna (-ae) অর্থ পাখনা (fin) থেকে Setipinna শব্দটি এসেছে।

সমনাম (Synonyms): (EOL, 2014)
Engraulis taty Valenciennes, 1848
Engraulis telaroides Bleeker, 1849
Setipinna lighti Wu, 1929
Setipinna tenuifilis (non Valenciennes, 1848)
Stolephorus taty (Valenciennes, 1848)

সাধারণ নাম (Common name):
বাংলাদেশে এই মাছ তেলি ফ্যাসা, তেলি ফাসা, ফ্যানসা ও ফেওয়া নামে পরিচিত।
ভারতে পরিচিত ফ্যানসা (Phansa) নামে (Talwar and Jhingran, 1991)।
English: Scaly hair fin anchovy, Half-fin Anchovy (EOL, 2014)

বিস্তৃতি (Distribution):
ভারতের পূর্ব উপকূলীয় এলাকা, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব ভারতে পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 2001)। Day (1958) অনুসারে এদের পাওয়া যায় উডিষ্যা, বঙ্গ,আসামের কাছার (Cachar) জেলা ও বার্মায় (বর্তমানে মায়ানমার)।
অন্যদিকে Fishbase (2014) অনুসারে এদের বিস্তার ইন্দো-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর (Indo-West Pacific): বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ থেকে মালয়েশিয়ার পেনাং (Penang), থাইল্যান্ডের দক্ষিণ থেকে ইন্দোনেশিয়ার জাভা (Java) ও দক্ষিণ কালিমান্টান (southern Kalimantan/Borneo) এলাকায়। এছাড়াও কখনো কখনো ফিলিপাইন (Philippine) ও পাপুয়া নিউ গিনিতে (Papua New Guinea) দেখতে পাওয়া যায়।

তেলি ফ্যাসা মাছের ভৌগোলিক বিস্তৃতি

তেলি ফ্যাসা মাছের ভৌগোলিক বিস্তৃতি তেলি ফ্যাসা মাছের ভৌগোলিক বিস্তৃতি (Aquamaps, 2014)

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status):
আইইউসিএন বাংলাদেশ (IUCN Bangladesh, 2000) অনুসারে বাংলাদেশে এটি হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতির নয়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (Morphology):
আয়তাকৃতির দেহ অত্যন্ত চাপা। পৃষ্ঠ এবং অঙ্কীয় প্রান্ত সমানভাবে উত্তল। উদরের প্রান্ত ত্রিকোণাকৃতির। চোখের উপরে ত্বকীয় আবরণ বিদ্যমান। মুখ উপরের দিকে তীর্যকভাবে উন্মুক্ত হয়ে থাকে। উপরের চোয়াল (maxilla) নীচের চোয়ালের (mandible) সংযোগস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত যা দৈর্ঘ্যে অধঃ কানকোর (preopercle) কোণ পর্যন্ত বর্ধিত হয়ে ফুলকা-ছিদ্রের নিকটে পৌঁছে।
ফুলকা দণ্ডের (gill-raker) সংখ্যা ( Rahman, 1989 and 2005) অনুসারে ১৪-১৫ টি (Talwar and Jhingran, 1991) অনুসারে ১৮-২১ টি যা করাতের দাঁতের ন্যায় বিন্যস্ত।
অধিকাংশ দাঁত উভয় চোয়ালে এক সারিতে বিন্যস্ত থাকে। এছাড়াও কয়েকটি আঙ্গুলাকৃতি (villiform) দাঁত ভোমারে (vomer) দেখতে পাওয়া যায়, অসংখ্য দাঁত প্যালেট (palate) ও টেরিগয়েডে (pterygoid) সাজানো থাকে।
পৃষ্ঠপাখনা একটি ছোট কাঁটা বিশিষ্ট যা পুচ্ছপাখনার চেয়ে তুণ্ডের অধিক নিকটে উৎপন্ন হয়ে পায়ু পাখনার বিপরীততে পৃষ্ঠভাগে বিস্তৃত। বক্ষপাখনা রশ্মি সূত্রাকার যা পায়ু পাখনার মধ্যবর্তী ২৩তম পাখনারশ্মি পর্যন্ত দীর্ঘ। পুচ্ছ পাখনা দ্বিখণ্ডিত (forked) যার উপরের খণ্ডের চেয়ে নিচের খণ্ডটি বেশি লম্বা।
পার্শ্বরেখায় ৪২টি আঁইশ উপস্থিত ((Rahman, 1989 and 2005)। রূপালী বর্ণের দেহের পৃষ্ঠভাগ কালচে নীল (steel-blue)। পৃষ্ঠ, পায়ু ও পুচ্ছ পাখনা হলদে বর্ণে। পুচ্ছ পাখনার উপরের ও পশ্চাতের প্রান্ত কালচে বর্ণের।

পাখনা সূত্র (Fin formula):
D. 1+2/10-12; P1. 1/11-12; P2. 1/6; A. 54-57 (Rahman, 1989 and 2005)
D i 15-16; A iii 45-55; P i 12-14; V i 6 (Talwar and Jhingran, 1991)
D. 1+14-16; P. 15; V. 7; A. 51-60; C. 19 (Shafi and Quddus, 2001)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length):
সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য Shafi and Quddus (2001) অনুসারে ১৫ সেমি এবং Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ১৫.৩ সেমি। অন্যদিকে Talwar and Jhingran (1991) কর্তৃক নথিবদ্ধ আদর্শ দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৩.৫ সেমি।

স্বভাব (Habit):
এরা সর্বভুক মাছ। ফাইটোপ্লাঙ্কটন (phytoplankton) জুপ্লাঙ্কটন (zooplankton), ময়লা-পচা উদ্ভিদ বা প্রাণীদেহের অংশবিশেষ সবই এরা খেয়ে থাকে। তবে সাধারণত শৈবাল, প্রোটোজোয়ান (protozoan) ও ক্রাস্টেশিয়ান (crustacean) এদের প্রধান খাদ্য। প্রাপ্ত বয়স্করা মাইসিড (mysid) ছোট আকারের চিংড়ি খেয়ে থাকে।
এরা পানির উপরিতলে বাস করে তবে অগভীর পানিতে এদের দেখা মেলে না।

আবাস্থল (Habitat):
প্রধানত মোহনা অঞ্চলে দেখা যায়। বর্ষাকালে বড় বড় নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। স্বচ্ছ পানি অপেক্ষা ঘোলা পানিতে এদের উপস্থিতি বেশি দেখতে পাওয়া যায়। ঝাঁকবদ্ধভাবে সাঁতার কাটে (Shafi and Quddus, 2001)। বাংলাদেশে মোহনা এবং জোয়ার-ভাটাসমৃদ্ধ নদীতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989)। সমুদ্র, মোহনা এবং স্বাদুপানিতে বসবাস করে (Talwar and Jhingran, 1991)। সুন্দরবন এলাকার মোহনাঞ্চলে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery important):
এই প্রজাতি খাবারের মাছ হিসেবে পরিচিত। হুগলী মোহনার আর্টিশনাল ফিশিং (artisanal fishing) এর মাধ্যমে (অর্থাৎ স্বল্প পরিসরে সনাতন পদ্ধতিতে অপেশাদার জেলেদের মাধ্যমে) আহরণকৃত মাছের মধ্যে এই প্রজাতির মাছ অন্যতম (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রজাতিটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাধারণত অপেশাদার মৎস্যজীবীরা নদীতে গিলনেট (gill net) ও মোহনাঞ্চলে সেট ব্যাগ নেট (set bag net) ব্যবহার করে ধরে থাকে।

 

তথ্য সূত্র (References):

  • Aquamaps. 2014. Computer Generated Native Distribution Map for Setipinna taty (Scaly hairfin anchovy) (modelled future range map based on IPCC A2 emissions scenario). ww.aquamaps.org, version of Aug. 2013. Web. Accessed 29 Aug. 2014.
  • Bleeker, P. 1849. Bijdrage tot de kennis der ichthyologische fauna van het eiland Madura, met beschrijving van eenige neiuwe soorten. Verhandelingen van het Bataviaasch Genootschap van Kunsten en Wetenschappen. v. 22: 1-16.
  • Day, F. 1958. The Fishes of India: being a Natural History of the fishes known to inhabit the seas and freshwater of India., Burma and Ceylon. Reproduced in 1958 by William Dowson and Sons, London. p. 627.
  • EOL. 2014. Setipinna taty, Half-fin Anchovy, Retrieve on 28 August 2014 and from http://eol.org/pages/994494/names/synonyms
  • Naser SMA. 2011. Fish Profile: Scaly Hairfin Anchovy, Setipinna taty valenciennes 1848, BdFISH Feature. Retrieve on 28 August 2014 and from http://en.bdfish.org/2011/06/scaly-hairfin-anchovy-setipinna-taty-valenciennes-1848/
  •  Rahman AKA. 1989. Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 243-244.
  • Rahman AKA. 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 267-268.
  • Shafi M and Quddus MMA. 2001. Bangladesher Matsho Shampad (Fisheries of Bangladesh) (in Bengali), Kabir publication. Dhaka, Bangladesh. pp. 49-50.
  • Talwar PK and Jhingran AG. 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries,Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 134-135.
  • Wu H-W. 1929. Study of the fishes of Amoy. Part 1. Contributions from the Biological Laboratory of the Science Society of China. (Zoological Series) v. 5 (no. 4): i-vi + 1-90.

 

পুনশ্চ:

  • মাছটির ভাল ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার সংগ্রহে থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।
  • গুগলে মাছটির ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply