ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | সামুদ্রিক মাছ

বাংলাদেশের মাছ: মেঘা ওলুয়া, Ramcarat grenadier anchovy, Coilia ramcarati

মেঘা ওলুয়া, Ramcarat grenadier anchovy, Coilia ramcarati

মেঘা ওলুয়া, Coilia ramcarati, Ramcarat grenadier anchovy (Photo: Parvez, 2011)

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position):
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Clupeiformes (Herrings)
পরিবার: Engraulidae (Anchovies)
উপপরিবার: Coiliinae
গণ: Coilia
প্রজাতি: C. ramcarati

সমনাম (Synonyms):
Coilia cantoris Bleeker, 1853
Coilia quadragesimalis Valenciennes, 1848
Engraulis hamiltonii Gray, 1830
Mystus ramcarati Hamilton, 1822

সাধারণ নাম (Common name):
বাংলা: মেঘা ওলুয়া, ওলুয়া, মেঘা আউলা, আউলা, বৈরাগী
English: Ramcarat grenader anchovy, Tapetail anchovy and Rat-tail anchovy

বিস্তৃতি (Distribution):
বাংলাদেশের মোহনাঞ্চল, উপকূলীয় নদী, সুন্দরবনের মোহনাঞ্চলে এদের দেখা মেলে (Rahman, 1989 and 2005) । গাঙ্গেয় বদ্বীপ (Ganga delta) ও আন্দামান সাগরে (মায়ানমারের ইয়াঙ্গুনের/রেঙ্গুনের দক্ষিণে) পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status):
আইইউসিএন বাংলাদেশ (IUCN Bangladesh, 2000) এর লাল তালিকা অনুসারে বাংলাদেশে এরা হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতি নয়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (Morphology) :
চাপা দেহ বেশ লম্বা। দেহ পৃষ্ঠপাখনার পর থেকে পুচ্ছের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে শেষ হয়েছে। মুখ সামান্য তির্যকভাবে উন্মুক্ত এবং বড়। তুণ্ড সুস্পষ্ট ও সরু-প্রান্ত বিশিষ্ট। চোখ পাতলা ত্বকে আবৃত। চোয়ালে সূক্ষ্ম দাঁত দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও মুখের তালু (palate), উপরের চোয়ালের (maxilla) নীচের প্রান্তেও দাঁ দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম ফুলকা খিলানে (gill arch) ফুলকা দণ্ডের (gill raker) রয়েছে ২৮-৩৩টি।
বক্ষপাখনায় Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৬ টি, Parvez (2011) অনুসারে ৬-৭ টি সূত্রাকার পাখনারশ্মি উপস্থিত। এই পাখনা রশ্মিগুলো লম্বা হয়ে শ্রোণীপাখনা অতিক্রম করে পায়ুপাখনার অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। পায়ু পাখনা লম্বা এবং পুচ্ছপাখনার সাথে একীভূত।
আঁইশ পাতলা, ক্ষণস্থায়ী এবং পার্শ্বরেখায় প্রায় ৭০ টি আঁইশ রয়েছে। উদরে ১৪-১৫টি স্কিউট (scute) উপস্থিত (Rahman, 1989 and 2005)।
দেহে সোনালী অথবা বাদামী বর্ণের তবে Coilia dussumieri এর ন্যায় গোলাকার কোন দাগ নেই। পাখনাগুলো স্বচ্ছ তবে পায়ু পাখনার শেষের দিকটা কালচে বর্ণের।

পাখনা সূত্র (Fin formula):
D. 1/13-14; P1. 6/6; P2. 10; A. 96-105 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 13-14; A ii 90; P vi+5-6; V i 8-9 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length):
Rahman (1989 and 2005) অনুসারে সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ২১.৯ সেমি। অন্যদিকে Huda et al. (2003) অনুসারে সর্বোচ্চ আদর্শ দৈর্ঘ্য ১৬ সেমি এবং মোট দৈর্ঘ্য ২৫ সে মি।

স্বভাব (Habit):
এরা বিভিন্ন জলজপ্রাণী যেমন- মাছ, চিংড়িসহ অন্যান্য ক্রাশটেশিয়ান (crustacean) বিশেষত কোপিপড (copepod) এবং পলিকিট (Polychaete) ইত্যাদির লার্ভা খেয়ে থাকে।
মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ডিম দেয় এবং একটি স্ত্রী মাছ এক প্রজনন ঋতুতে ১০০-৫০০০টি ডিম দিয়ে থাকে।

আবাস্থল (Habitat):
প্রধানত সমুদ্রে ও উপকূলীয় এলাকায় ঝাঁকবদ্ধভাবে বসবাস করে (Parvez, 2011)। বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে মোহনায় এদের দেখা মেলে (Rahman, 1989 and 2005)। উপকূলীয় জলাশয় ও মোহনায় এদের বসবাস করতে দেখা যায় (Talwar and Jhingran, 1991)।

মৎস্য তথ্য (Fishery information):
স্বল্প পরিসরে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য প্রজাতি এবং মৎস্য খাতে এটি অবদান রাখে প্রায় ০.১২ – ২.২৫ শতাংশ (Nabi, 2007)। এটি সাধারণত অন্যান্য মাছের সাথে মাছ ধরার বিভিন্ন জাল (beach seines, purse seines, set bag net) ও ফাঁদ (bamboo-stake traps) দিয়ে ধরা হয় (Parvez, 2011)।
ছোট আকৃতির এই মাছ অধিক স্বাদযুক্ত এবং এজাতীয় অনন্য প্রজাতির মাছের থেকে এর বাজার মূল্য বেশী। ধৃত মাছের অধিকাংশই শুটকি হিসেবে এবং সামান্য কিছু অংশ তাজা অবস্থায় বাজারে বিক্রি করা হয়। তাজা অপেক্ষা শুটকি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কাছে বেশী সমাদৃত। (Parvez, 2011)।

 

তথ্য সূত্র (References):

  • Bleeker P (1853) Bijdrage tot de kennis der Muraenoïden en Symbranchoïden van den Indischen Archipel. Verhandelingen van het Bataviaasch Genootschap van Kunsten en Wetenschappen.25(5):1-62+ 63-75.
  • Cuvier G and Valenciennes A (1848) Histoire naturelle des poissons. Tome vingt et unième. Suite du livre vingt et unième et des Clupéoïdes. Livre vingt-deuxième. De la famille des Salmonoïdes. Histoire naturelle des poissons. 21: i-xiv + 1 p. + 1-536.
  • Gray JE.  1830. Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., 20 parts in 2 vols. Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., Pls. 1-202.
  • Hamilton F(1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • Huda MS, Haque ME, Babul AS and Shil NC (ed.) (2003) Field guide to finfishes of Sundarban, Aquatic resources division, Sundarban, Boyra, Khulna, Bangladesh, p. 61.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Nabi MR (2007) Management of Estuarine Set Bag Net Fishery of Bangladesh: Application of Traditionl Scientific Methods, Sustainable Livelihoods Approach and Local Indigenous Knowledge (Ph.D. Thesis), Borneo Marine Research Institute, University Malaysia Sabah, p. 240.
  • Parvez MS (2011) Fish Profile: Ramcarat Grenadier Anchovy, Coilia ramcarati. BdFISH Feature. Retrieve on 31 August 2014 and from http://en.bdfish.org/2011/08/ramcarat-grenadier-anchovy-coilia-ramcarati/
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 241.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 264-265.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries,Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 130-131.

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply