ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: গাঙ গুতুম, River loach, Schistura sikmaiensis (Hora, 1921)

শ্রেণীতাত্ত্বিকঅবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Balitoridae (River loaches)
উপপরিবার: Nemacheilinae
গণ: Schistura
প্রজাতি: S. sikmaiensis

নামতত্ত্ব (Etymology)
গ্রিক শব্দ schizein অর্থ ভাগ করা (to divide) এবং গ্রিক শব্দ oura অর্থ লেজ (tail) থেকে Schistura শব্দটি এসেছে। sikmaiensis শব্দটি এসেছে ভারতের মনিপুরের (Manipur) সিকমারি ঝর্ণার (Sikmai stream) নামে থেকে (Fishbase, 2014)।

সমনাম (Synonyms)
Nemacheilus sikmaiensis Hora, 1921
Noemacheilus sikmaiensis (Hora, 1921)

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: গাঙ গুতুম
English: River loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারে এদের দেখা মেলে (Talwar and Jhingran, 1991)। চীনের ইউনান (Yunnan) প্রদেশে পাওয়া যায় (Ahmed, 2007)।
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্রুত প্রবহমান স্বচ্ছ জলের জলাধার বিশেষত ঝর্ণায় এদের পাওয়া যায়।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই (Data deficient)। বাংলাদেশে সিলেটের ডাহুকী নদী ও অন্যান্য ঝর্ণায় সত্তরের দশকে এই মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে পাওয়া যায় না (Ahmed, 2007)।
IUCN (2014) অনুসারে এই প্রজাতির বর্তমান অবস্থা (status) Least Concern (Vishwanath, 2010)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বাটে দেহের অঙ্কীয় প্রান্ত প্রায় সোজা। পৃষ্ঠ প্রান্ত অঙ্কীয় প্রান্তের চেয়ে সামান্য বাঁকানো (Rahman, 1989 and 2005)। অর্ধবৃত্তাকার মুখ আকারে ছোট। উভয় ঠোটই মাংসল। নাসারন্ধ্র পরস্পরের সন্নিকটে অবস্থিত। তিন জোড়া স্পর্শী (Barbels) উপস্থিত যার মধ্যে ২ জোড়া নিচের চোয়ালে এবং ১ জোড়া উপরের চোয়ালে। অঙ্কীয় পাশ ছাড়া সারা দেহেই ক্ষুদ্রাকার আঁইশ দেখতে পাওয়া যায়। পার্শ্বরেখা অসম্পূর্ণ। পুচ্ছপাখনা গভীরভাবে দ্বিখণ্ডিত। শ্রোণী পাখনায় আঁইশাকার উপাঙ্গ উপস্থিত।
দেহকে ঘিরে ১০টি কালো বর্ণের বলয় (rings) উপস্থিত যা সরু সাদা বর্ণের রিং এর মাধ্যমে আলাদা হয়ে থাকে। পুচ্ছপাখনার ভিত্তিতে দণ্ডকার কালো দাগ বিদ্যমান এবং পৃষ্ঠপাখনার প্রথম কয়েকটি পাখনারশ্মিতে কালো ফোটা দেখতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 9 (I/8); P1. 11 (1/10); P2. 6 (1/5); A. 7 (2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D ii 8; A ii 5; P i 10-11; V i 7 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এর সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ৫.১ সেমি (Rahman, 1989 and 2005) এবং আদর্শ দৈর্ঘ্য ২.৭ সেমি (Talwar and Jhingran, 1991)।

আবাস্থল (Habitat)
এরা স্বচ্ছ ও স্রোতস্বিনী পাথুরে তলদেশ বিশিষ্ট ঝর্ণার তলদেশের নিকটে এরা বাস করে (Rahman, 1989 and 2005)। জলে নিমজ্জিত পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
বেনথোস (benthos), আবর্জনার (debris) ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
জলাশয়ের তলদেশের কাঁদা-মাটি, বেনথোস (benthos), আবর্জনার (debris) ইত্যাদি খেয়ে পানি পরিষ্কারে এদের ভূমিকা রয়েছে।

প্রজনন (Breeding)
এদের প্রজননতত্ত্ব বিষয়ক তথ্য অজানা।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এর কোন ভূমিকা নেই।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery information)
মৎস্য খাতে এদের কোন গুরুত্ব পাওয়া যায় না (Talwar and Jhingran, 1991)।

 

তথ্যসূত্র (Reference)

  • Ahmed MS (2007) Schistura sikmaiensis (Hora, 1921). In: Siddiqui K U, Islam M A, Kabir S M H, Ahmad M, Ahmed A T A, Rahman A K A, Haque E U, Ahmed Z U, Begum Z N T, Hassan M A, Khondker M and Rahman M M (eds.). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23 (Freshwater Fishes). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 98.
  • Fishbase (2014. Species Summery: Schistura sikmaiensis. Retrieve on 24 September 2014 and form www.fishbase.org/summary/Schistura-sikmaiensis.html
  • Hora SL (1921) Fish and fisheries of Manipur with some observations on those of the Naga Hills.Records of the Indian Museum (Calcutta) 22(3/19): 165-214,Pls. 9-12.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conversation union xii+116 pp.
  • Rahman AKH (1989)Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 149-150
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka- 1000, pp. 169-171.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries,Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 504-505
  • Vishwanath, W. 2010. Schistura sikmaiensis. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.2. Downloaded on 22 September 2014 from www.iucnredlist.org.

 

More Read

 

পুনশ্চ:

  • এই মাছটির ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার সংগ্রহে থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। শেয়ার করতে যোগাযোগ করুন contact@bdfish.org এই ইমেইলে।
  • মাছটি ছবি গুগলে দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply