ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: দারি, Victory Loach, Schistura scaturigina

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Balitoridae (River loaches)
উপপরিবার: Nemacheilinae
গণ: Schistura
প্রজাতি: Schistura scaturigina

শব্দতত্ত্ব (Etymology):
গ্রীক শব্দ schizein অর্থাৎ ভাগ করা (to divide) এবং গ্রিক শব্দ oura অর্থাৎ লেজ (tail) থেকে Schistura শব্দটি এসেছে যার অর্থ পুচ্ছ পাখনা দ্বিবিভক্ত (an allusion to forked caudal fins) (Fishbase, 2014)।

সমনাম (Synonyms)
Cobitis scaturigina (McClelland, 1839)
Cobitis subfusca
Nemachilus subfuscus
Nemacheilus mugah Day, 1869
Nemachilus mugah
Nemacheilus shebbearei Hora, 1935
Nemachilus shebbearei
Noemacheilus scaturigina (McClelland, 1839)
Schistura zonata
Nemacheilus zonatus
Nemachilus zonatus
Noemacheilus zonatus

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: দারি
English: Victory Loach, Scaturigina Loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005) ও হিমালয় এর পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে এদের দেখা মেলে (Talwar and Jhingran, 1991)। ভারতের পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের দার্জিলিং ও আসাম, নেপাল ও ভুটানে এই মাছের দেখা মেলে (Vancouver, 2014) ।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে এরা বাংলাদেশের হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতির তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
Vishwanath (2012) অনুসারে পৃথিবীতে এদের সংরক্ষণ অবস্থা Least Concern (LC) অর্থাৎ বিস্তৃত এলাকায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন(External Morphology)
দেহ দীর্ঘ ও নলাকার। মাথা উপর-নীচ চাপা এবং লেজ পার্শ্বীয়ভাবে চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। এদের তুণ্ড মোচাকার অর্থাৎ সূচালো এবং উদর গোলাকার। মুখছিদ্র অর্ধবৃত্তাকার। ঠোঁট মাংসল। নিচের ঠোঁটের মাঝ বরাবর একটি খাঁজ উপস্থিত। স্পর্শী তিন জোড়া যার মধ্যে দুই জোড়া নীচের চোয়ালে এবং এক জোড়া উপরের চোয়ালে। চোখ তুলনামূলকভাবে পৃষ্ঠ পাশে অবস্থিত। নাসারন্ধ্র পরস্পরের নিকটে অবস্থিত।
এদের আঁইশ আকারে ছোট কিন্তু সুস্পষ্ট। পৃষ্ঠ পাখনার গোঁড়া থেকে পার্শ্বরেখা পর্যন্ত ১১-১২ সারি আঁইশ বর্তমান। পুচ্ছ পাখনা দ্বিবিভক্ত।
পৃষ্ঠদেশ ধূসর এবং অঙ্কীয়দেশ জলপাই বর্ণের। পার্শ্বীয় দিক হলুদ বর্ণের। মাথার উপরিতল গোলাপি বর্ণের। তুণ্ডের উপরে চারটি কালে দাগ দেখতে পাওয়া যায়। দেহে পাশাপাশি ৯-১২টি উলম্ব রেখা উপস্থিত যা পৃষ্ঠদেশ থেকে পার্শ্বরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 1/8; P1. 10; P2. 7-8; A. 7 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 8; A i 5; P i 9; V i 7 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এদের সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ৫.৯ সেমি (Rahman, 1989 and 2005) এবং আদর্শ দৈর্ঘ্য ৫ সেমি (Talwar and Jhingran, 1991)। Fishbase (2014) অনুসারে পুরুষদের সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ১০ সেমি।

আবাস্থল (Habitat)
স্বাদুপানির ঝর্ণা, খরস্রোতা নদী ইত্যাদি বালি, নুড়ি পাথর, কাঁকর সমৃদ্ধ তলদেশে বাস করে। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও দিনাজপুরের নদীগুলোতে এদের দেখা মেলে (Rahman, 1989 and 2005)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা পোকামাকড়ের শূককীট, কৃমি ও জলজ উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়ামের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত প্রায় সকল ধরণের খাবারই খেয়ে থাকে যেমন- তলদেশে বসবাসকারী জীবন্ত খাবার (Bloodworm বা Brine shrimp), হিমায়িত খাবার (Frozen foods) ইত্যাদি (Vancouver, 2014)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা জলাশয়ের তলদেশে বসবাসকারী জীব খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে (Rahman and Ruma, 2009)।

প্রজনন(Breeding)
এদের পুরুষ ও স্ত্রী মাছ আলাদা। পুরুষদের অধঃচক্ষুকোটরীয় লম্বিকা (flap) উপস্থিত এবং বক্ষ পাখনার ১ম পাখনারশ্মি পুরু ও উপরের তল গুটিকাময় (Rahman and Ruma, 2009)। তবে এদের প্রজনন বিষয়ে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। এদেরকে এখনো এ্যাকুয়ারিয়ামে প্রজনন করানো সম্ভব হয়নি।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
ভারতের মৎস্য খাতে এদের কোন গুরুত্ব পাওয়া যায় না (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে ফলে একক মাছ হিসেবে এর উৎপাদন তথ্য অপ্রতুল।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা:
এ্যাকুয়ারিয়ামের অনুকূল পিএইচ (pH) ৬-৭.৫, হার্ডনেস (Hardness) সর্বোচ্চ ১২ dh, তাপমাত্রা ৬৮-৭৭ ºF বা ১৮-২৫ °C (Vancouver, 2014)

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Day F (1869) On the fishes of Orissa – Part I. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1869 ( 2): 296-310.
  • Fishbase (2014) Species summary: Schistura scaturigina McClelland, 1839. Retrieved on 18 October 2014 and form http://www.fishbase.org/summary/24618
  •  Hora SL (1935) Notes on fishes in the Indian Museum. XXIV. Loaches of the genus Nemachilus from eastern Himalayas, with the description of a new species from Burma and Siam. Records of the Indian Museum (Calcutta) 37(1):49-67, Pl. 1.
  •  IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  •  McClelland J (1839) Indian Cyprinidae. Asiatic Researches 19(2): 217-471, Pls. 37-61.
  •  Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 147-148.
  •  Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 167.
  •  Rahman AKA and Ruma F (2009) Schistura scaturigina. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.), Encyclopedia of flora and fauna of Bangladesh, Vol. 23, Freshwater fishes, Asiatic society of Bangladesh, Dhaka. Pp. 122.
  •  Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 501-502.
  •  Vancouver M (2014) Fish profile: Schistura scaturgina. Retrieved on 18 October 2014 and from http://www.loaches.com/species-index/schistura-scaturgina
  •  Vishwanath (2012) Schistura scaturigina. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.2. Downloaded on 18 October 2014 and from http://www.iucnredlist.org/details/166432/0.

 

আরো পড়তে পারেন:

 

পুনশ্চ:

  • এই মাছের ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার সংগ্রহে থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। শেয়ার করতে ইমেইল করুন contact@bdfish.org এই ইমেইল ঠিকানায় অথবা নিচে মন্তব্য করুন।
  • মাছির ছবি গুগলে দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply