ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: বালিছাঁটা, River loach, Acanthocobitis zonalternans

বালিছাঁটা, River loach, Acanthocobitis zonalternans

বালিছাঁটা, River loach, Acanthocobitis zonalternans

শ্রেণীতাত্ত্বিকঅবস্থান(Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Balitoridae (River loaches)
উপপরিবার: Nemacheilinae
গণ: Acanthocobitis
প্রজাতি: A. zonalternans

শব্দতত্ত্ব (Etymology)
Acanthocobitis শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ akantha অর্থাৎ কাঁটা (thorn) এবং গ্রিক শব্দ kobitis (-idos) অর্থাৎ এক প্রকার সার্ডিন (a kind of sardine) থেকে (Fishbase, 2014)

সমনাম (Synonyms)
Cobitis zonalternans Blyth, 1860
Nemacheilu sphuketensis Klausewitz, 1957
Noemacheilu sphuketensis Klausewitz, 1957
Nemacheilus zonalternans (Blyth, 1860)
Noemacheilus zonalternans (Blyth, 1860)

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: বালিছাঁটা
English: River loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005); ভারত এবং মায়ানমারে (Talwar and jhingran, 1991)এদের দেখা মেলে।
ভারতের আসামের মনিপুর এলাকায় এই মাছ প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডের পেনিনসুলার (Peninsular) – এ এদের দেখা মেলে (Fishbase, 2014)।
এদের আদিবাস বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমান ও থাইল্যান্ড (Vishwanath, 2010)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই (Data deficient)।
Vishwanath (2010) অনুসারে এদের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা Least Concern অর্থাৎ প্রকৃতিতে বিস্তৃত পরিসরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
এদের দেহ লম্বা ও নলাকার। মাথা কিছুটা অবনমিত ও উপর-নিচ চাপা। অর্ধবৃত্তাকার ক্ষুদ্রাকার মুখ যা মাংসল ঠোট বিশিষ্ট। নিচের ঠোটের মাঝ বরাবর একটি খাঁজ দেখতে পাওয়া যায়। তিন জোড়া স্পর্শী উপস্থিত যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর মধ্যে দুই জোড়া চঞ্চুতে এবং এক জোড়া উপরের চোয়ালে অবস্থিত। ক্ষুদ্রাকার আঁইশ উপস্থিত। চোখ তুলনামূলকভাবে মাথার পৃষ্ঠ দিকে অবস্থিত।
পার্শ্বীয় রেখা অসম্পূর্ণ এবং পৃষ্ঠপাখনার গোরার নিচ বরাবর শেষ হয়ে থাকে। দশ-বারটি আড়াআড়িভাবে অবস্থিত কালো দাগ উপস্থিত যা পার্শ্বীয় দিকে একটি আঁকাবাঁকা দাগ সৃষ্টি করে। এছাড়াও ১২-১৫টি কালো ডোরা পৃষ্ঠ দিক থেকে পার্শ্ব দিকে সামান্য নেমে যেতে দেখা যায়। এদের সারা দেহে বিচ্ছিন্নভাবে মার্বেল আকৃতির দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পুচ্ছপাখনা সামান্য খাঁজকাটা তবে তা অস্পষ্ট। এ পাখনায় পাঁচ সারি ইংরেজি বর্ণমালা ভি (>) আকৃতির দাগ উপস্থিত। পৃষ্ঠপাখনায় ৩-৫ সারি ইংরেজি বর্ণমালা ভি (>) আকৃতির দাগ উপস্থিত।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 11 (2/9); P1. 10; P2. 6; A. 7 (2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 10; A iii 5-6; P i 11; V i 7 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এদের সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৩.৮ সেমি এবং Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ৭.৮সেমি।

স্বভাব ও আবাস্থল (Habit and Habitat)
এরা তলাবাসী মাছ। অগভীর, স্বচ্ছ ও স্রোতস্বিনী নুড়ি-পাথর সমৃদ্ধ তলদেশে বসবাস করতে পছন্দ করে। বাংলাদেশের সিলেটের ডাহুকী নদীতে এই মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (Rahman and Ruma, 2009)।
এদের অনুকূল পিএইচ ৬.৮ – ৭.৮, হার্ডনেস (Hardness) ৮-১৮ dH, তাপমাত্রা ২৪-২৬ °C (Fishbase, 2014)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
সাধারণত তলদেশের ক্ষুদ্রাকার প্রাণী ও পোকামাকড়ের শূককীট খেয়ে থাকে (Rahman and Ruma, 2009)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
তলদেশের ক্ষুদ্রাকার প্রাণী ও পোকামাকড়ের শূককীট খেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা পালন করে থাকে (Rahman and Ruma, 2009)।

প্রজনন (Breeding)
পরিণত পুরুষ মাছের পাখনায় হলুদ থেকে লালচে কমলা বর্ণের উজ্জ্বল বর্ণায়ন দেখতে পাওয়া যায় বিশেষত পৃষ্ঠপাখনায় (Vancouver , 2014)।
স্ত্রীদের উল্লেখিত বর্ণায়ন দেখা যায় না তবে তারা একই বয়সের পুরুষের তুলনায় বড় ও স্থূল হয়ে থাকে।
এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা প্রায় ৩০০টি ডিম পাড়ে। ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হয় এবং তিন দিনের মধ্যের এরা সাঁতার শিখে যায় ও প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করতে শেখে (Seriouslyfish, 2014)।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium management)
এরা অধিকাংশ প্যাকেটজাত খাবারই খেয়ে থাকে। এছাড়াও ডাফনিয়া (Daphnia), আর্টেমিয়া (Artemia) ও ব্লাডওয়ার্ম (bloodworm) ইত্যাদি জীবন্ত অবস্থায় অথবা হিমায়িত অবস্থায় খেয়ে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের অনুকূল পিএইচ -৬-৭.৫, হার্ডনেস (Hardness) সর্বোচ্চ ১২ dh এবং তাপমাত্রা ৬৮-৭৭ ºF তথা ১৮-২৫ °C (Seriouslyfish, 2014)।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery information)
ভারতের মৎস্য খাতে এদের কোন গুরুত্ব পাওয়া যায় না (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশে একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদনের কোন তথ্য পাওয়া যায় না। দেশের এ্যাকুয়ারিয়ামের দোকানগুলোতে এই মাছের দেখা না মিললেও পৃথিবীর নানান দেশে এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Blyth E (1860) Report on some fishes received chiefly from the Sitang River and its tributary streams, Tenasserim Provinces. Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal 29(2):138-174.
  • Fishbase (2014) Species Summery: Acanthocobitis zonalternans. Rrtrive on 27 October 2014 and from http://www.fishbase.us/summary/24649
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • KlausewitzW (1957) NeueSüsswasserfischeaus Thailand. SenckenbergianaBiologica 38(3/4):193-204, Pls. 17, 17a, 18.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 146.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology,
  • University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 165.
  • Rahman AKA and Ruma F (2009) Acanthocobitis zonalternans. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.), Encyclopedia of flora and fauna of Bangladesh, Vol. 23, Freshwater fishes, Asiatic society of Bangladesh, Dhaka. p. 118.
  • Seriouslyfish (2014) Species Profile: Acanthocobitis zonalternans. Retrieve on 27 October 2014 and from http://www.seriouslyfish.com/species/acanthocobitis-zonalternans/
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries,Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, p. 508.
  • Vancouver M (2014) Acanthocobitis zonalternans. Loaches.com. Retrieve on 27 October 2014 and from http://www.loaches.com/species-index/acanthocobitis-zonalternans
  • Vishwanath, W. 2010. Acanthocobitis zonalternans. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.2. Downloaded on 26 October 2014 and from http://www.iucnredlist.org/details/168298/0

 

আরও পড়ুন:

Fish profile: Acanthocobitis zonalternans. BdFISH Feature. Retrieve on 27 October 2014 and from http://en.bdfish.org/2011/08/loach-acanthocobitis-zonalternans/

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply