ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ

বাংলাদেশের মাছ: কামিলে, Common pike conger, Muraenesox bagio

কামিলে, Common pike conger, Muraenesox bagio

কামিলে, Common pike conger, Muraenesox bagio

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Anguilliformes (Eels)
উপবর্গ: Congroidei
পরিবার: Muraenesocidae (Pike congers)
গণ: Muraenesox
প্রজাতি: M. bagio

নামতত্ত্ব (Etymology)
ল্যাটিন শব্দ muraena যার অর্থ মরি ইল (moray eel) এবং Esox যা মূলত পাইকের পুরানো নাম (old name for pike) থেকে Muraenesox শব্দটি এসেছে Fishbase (2014)।

সমনাম (Synonyms)
Muraena bagio (Hamilton, 1822)
Muraenesox baggio (Hamilton, 1822)
Muraenisox bagio (Hamilton, 1822)
Muraenosox bagio (Hamilton, 1822)
Muraenesox cinereus (non Forsskål, 1775)
Muraenesox yamaguchiensis Katayama and Takai, 1954

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: কামিলে, কামিলা
English: Common pike conger, False conger eel, Common pike eel

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকার পূর্ব উপকূল, লোহিত সাগর, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন, চীন ও জাপান Ahmed (2009) ।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এই প্রজাতিটি হুমকিগ্রস্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয় (IUCN Bangladesh, 2000)। বঙ্গোপসাগর ও এর মোহনা অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণে এই মাছ পাওয়া যায়।

দৈহিক গঠন (Morphology)
দেহ অত্যন্ত লম্বা অনেকটা বাইন মাছের (eel) মত। তুণ্ড প্রলম্বিত ও সিলিন্ডার আকৃতির। দেহের পশ্চাদভাগ চ্যাপ্টা। মুখ অনেক বড়। উপর ও নীচের চোয়ালের সংযোগস্থল চোখের অনেকটা পেছনে অবস্থিত। জিহ্বা অনুপস্থিত। উপরের চোয়ালে দাঁত দুই সরিতে অবস্থিত যার মধ্যে সম্মুখের গুলো তুলনামূলকভাবে বড় এবং কর্তনে উপযোগী। নিচের চোয়ালে তিন সারি দাঁত দেখতে পাওয়া যায় যার মধ্যে মধ্য সারির দাঁত উভয় পাশের দাঁতের চেয়ে বড়। ভোমারেও দাঁত উপস্থিত যার মধ্যে মধ্য সারির আটটি দাঁত বেশ বড়।
ফুলকা রন্ধ্র মাঝারি আকৃতির। অন্তঃম্যাক্সিলার (intermaxilla) পেছনের চামড়া একটু সংকোচিত অবস্থায় থাকে যার ফলে এদের চোয়াল অনেকটা কুমিরের চোয়ালের মত দেখায় (Rahman, 1989 and 2005)। ফুলকা রন্ধ্রের উপর বরাবর পৃষ্ঠদেশে পৃষ্ঠপাখনার উৎপত্তি। বক্ষপাখনা গোলাকার। দেহের সম্মুখ অর্ধাংশ থেকে পায়ুপাখনার উৎপত্তি। পৃষ্ঠ ও পায়ু পাখনায় পুরু ত্বকের স্তর উপস্থিত এবং উভয় পাখনা পেছনের দিকে বর্ধিত হয়ে ক্ষুদ্রাকার পুচ্ছপাখনায় মিলিত হয়েছে (Rahman, 1989 and 2005)। মাথার দৈর্ঘ্য মোট দৈর্ঘ্যের ৬ গুণ অন্যদিকে দেহের উচ্চতা মোট দৈর্ঘ্যের ১৫ গুণ (Rahman, 1989 and 2005).
দেহের উপরের অংশ উজ্জ্বল বাদামী বা ধুসর বাদামী বর্ণের এবং নিচের অংশ তামাটে জলপাই বর্ণের। পৃষ্ঠ ও পায়ু পাখনার শেষভাগ কালো বর্ণের (Rahman, 1989 and 2005; Talwar and Jhingran, 1991)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 240; P1. 18; P2. absent; A. 222 (Rahman, 1989 and 2005).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman, 1989 and 2005 অনুসারে বাংলাদেশ এই মাছের সর্বোচ্চ নথিভুক্ত দৈর্ঘ্য ৮৮ সেমি। Talwar and Jhingran, 1991 অনুসারে ১৫ সেমি। জাপানে এই মাছের নথিভুক্ত সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২০০ সেমি (Ahmed, 2009)। Smith (1999) অনুসারে এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১.৮ মিটার।

স্বভাব ও আবাস্থল (Habit and Habitat)
এরা মূলত মোহনা অঞ্চলের তলাবাসী মাছ। তবে সমুদ্রে অভিপ্রয়াণ করে থাকে। জোয়ার-ভাটার নদীতেও এদের দেখা মেলে (IUCN Bangladesh, 2000; Rahman, 1989 and 2005)। Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে এরা সাধারণত পানির ১০০ মিটার গভীরে নরম কাঁদায় বসবাস করে। ভারতের হুগলী মোহনাতে এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)।
এরা নিশাচর এবং এদের প্রধান খাদ্য ক্রাশটেশিয়ানস (Crustaceans)।

মৎস্য তথ্য (Fishery info)
বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলার নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ে। তবে একক মাছ হিসেবে এই মাছ উৎপাদনের কোন তথ্য পাওয়া যায় না। এই মাছ ড্রিফট নেট (Drift net) ও ব্যাগ নেট (Bag net) দিয়ে ধরা হয়। বাজারে তাজা ও সতেজ অবস্থায় বিক্রি হয়। হিমায়িত অবস্থায় বিদেশেও রপ্তানি হয়। এর শুঁটকীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। (Ahmed, 2009)।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Ahmed MS (2009) Muraenesox bagio (in Bengali). In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.), Encyclopedia of flora and fauna of Bangladesh, Vol. 23, Freshwater fishes, Asiatic society of Bangladesh, Dhaka. pp. 14-15.
  • Fishbase (2014) Species Summery: Muraenesox bagio (Hamilton, 1822), Common pike conger. Retrieve on 01 November 2014 and from http://www.fishbase.org/summary/5514
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Katayama M and Takai T (1954) A new conger-like eel, Muraenesox yamaguchiensis, from the Inland Sea of Japan. Japanese Journal of Ichthyology 3: 97-101.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 46-47.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 61-62.
  • Smith, D. G. 1999. Muraenesocidae. in Carpenter, K.E. & V.H. Niem (Eds). FAO Species Identification Guide for Fishery Purposes. The Living Marine Resources of the Western Central Pacific. Volume 3. Batoid fishes, chimaeras and bony fishes part 1 (Elopidae to Linophrynidae). FAO, Rome. Pp. iii-vi, 1398-2068. – See more at: http://australianmuseum.net.au/Common-Pike-Eel-Muraenesox-bagio-Hamilton-Buchanan-1822#sthash.eSc8l8i6.dpuf
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries,Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 91-92.

 

English Feature:

 

Acknowledgement:
Special thanks go to Mr. Hamid Badar Osmany, the owner of the photograph of Muraenesox bagio (length 47 cm, at Karachi, Pakistan on 16 January 2014) used in this feature. Copyright: CC-BY. Retrieve on 1 November 2014 and from http://www.fishbase.org/photos/thumbnailssummary.php?Genus=Muraenesox&Species=bagio

 

 

Visitors' Opinion

লেখক

Research Student, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202, Bangladesh. E-mail- Kamrulhasanak@gmail.com. More...

Leave a Reply