ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: গুতুম, Annaldale loach, Lepidocephalichthys annandalei

গুতুম, Annaldale loach, Lepidocephalichthys annandalei

গুতুম, Annaldale loach, Lepidocephalichthys annandalei

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cobitidae (Loaches)
উপপরিবার: Cobitinae
গণ: Lepidocephalichthys
প্রজাতি: L. annandalei

শব্দতত্ত্ব (Etymology)
গ্রিক শব্দ lepas অর্থ আটকে থাকা (limpet) এবং গ্রিক শব্দ ichtys অর্থ মাছ (fish) থেকে Lepidocephalichthys শব্দটি এসেছে (Fishbase, 2014)।

সমনাম (Synonyms)
Lepidocephalus annandalei (Chaudhuri, 1912)
Lepidocephalichthys menoni Pillai and Yazdani, 1976
Lepidocephalus menoni (Pillai and Yazdani, 1976)
Lepidocephalus berdmorei (non Blyth, 1860)
Lepidocephalichthys goalparensis (non Pillai and Yazdani, 1976)

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: গুতুম , পুঁইয়া
English: Annaldale loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005) এবং ভারতে (উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদী অববাহিকা এবং মেঘালয়ের গারো পাহাড়) এদের দেখা মেলে (Talwar and Jhingran, 1991)। Fishbase (2014) অনুসারে এই মাছ ভারত (আসাম), বাংলাদেশ ও নেপালে (গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকা) পাওয়া যায়। Dahanukar (2010) অনুসারে এই মাছের বিস্তার বাংলাদেশ, ভারত (অরুণাচল, বিহার, দার্জিলিং, হিমাচল, মেঘালয়, সিকিম, উত্তরাঞ্চল, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ)।
বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও এর টাঙ্গন নদী ও ফেনীর মুহুরী নদী থেকে এই মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে (Rahman, 1989 and 2005) ।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে এরা বাংলাদেশের হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতির তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়। Dahanukar (2010) অনুসারে এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা Least Concern অর্থাৎ এই মাছ প্রকৃতিতে বিস্তৃতি পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
দেহ দীর্ঘ, নলাকার ও পার্শ্বীয়ভাবে সামান্য চাপা (দেহের অগ্রপ্রান্তের চেয়ে পশ্চাদপ্রান্ত পার্শ্বীয়ভাবে বেশি চাপা। মুখ নিম্নমুখী। আঁইশ ক্ষুদ্রাকার। অগ্র নাসারন্ধ্র লম্বিকা (flap) দ্বারা পরিবেষ্টিত। চোখজোড়া পরস্পরের নিকটবর্তী এবং মাথার পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত। তিন জোড়া স্পর্শী আকারে ক্ষুদ্রাকার। এর মধ্যে দুই জোড়া চঞ্চুতে (rostral) এবং একজোড়া উপরের চোয়ালে (maxilla) অবস্থিত। শ্রোণীপাখনা পৃষ্ঠপাখনার ঠিক বিপরীত পাশে সামান্য পেছনে অবস্থিত। অর্ধচন্দ্রাকৃতির পুচ্ছপাখনার প্রান্ত খাঁজকাটা।
দেহের হালকা ধুসর বর্ণের। পার্শ্বরেখা বরাবর ৯-১০টি অনিয়মিত বাদামী বর্ণের ফোটা বা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। যায় । মাথা এবং তুণ্ডতে কালো বিন্দু ঘনীভূত হয়ে নির্মিত রেখা দেখতে পাওয়া যা। পৃষ্ঠপাখনায় চারটি কালো দাগ (band) দেখা যায় । জোড় পাখনা (বক্ষ ও শ্রোণী) গুলোতেও দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পুচ্ছপাখনার ভিত্তিতে একটি গাঢ় কালো দাগ উপস্থিত।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 1/7; P1. 8; P2. 6; A. 2/5 (Rahman, 1989 and 2005)
D i-ii 6-7; A ii 5; P i 6-7; V i 6 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৫ সেমি (Rahman, 1989 and 2005)। Fishbase (2014) অনুসারে এই মাছের সর্বোচ্চ আদর্শ দৈর্ঘ্য ৪.৩ সেমি।

স্বভাব ও বাসস্থল (Habit and Habitat)
এরা স্বচ্ছ এবং স্রোতস্বিনী ঝর্ণার বালুময় তলদেশে বাস করে (Rahman, 2005)। এছাড়াও ধীরে প্রবহমান জলধারা ও বাঁওড়েও এদের দেখা মেলে (Fishbase, 2014)। হাওড়েও দেখতে পাওয়া যায়।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রধানত তলাবাসী ক্ষুদ্রাকৃতির শিকারি প্রাণী যেমন- পতঙ্গের শূককীট (insect larvae), ক্রাশটেশিয়ানস (crustaceans) ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা জলজ পরিবেশে কাঁদায় বসবাসকারী জীবের ন্যায় ভূমিকা রাখে এবং নদীর তলদেশে অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে Chowdhury (2009)।

প্রজনন (Breeding)
একই বয়সের স্ত্রীরা পুরুষদের চেয়ে সামান্য হলেও বড় হয়ে থাকে। এদের প্রজনন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়না Seriouslyfish (2014) ।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium management):
এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের অনুকূল তাপমাত্রা ২২.৫-২৬°C, পিএইচ ৫.৫-৭.৫ ও হার্ডনেস ৩৬-২৬৮ পিপিএম। এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা প্যাকেটজাত খাবার, তাজা ও হিমায়িত ডাফনিয়া (Daphnia), আর্টেমিয়া (Artemia), ব্লাডওয়ার্ম (bloodworm) ইত্যাদি খেয়ে থাকে Seriouslyfish (2014) ।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery information)
মৎস্য খাতে এদের কোন গুরুত্ব পাওয়া যায় না (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশে একক প্রজাতি হিসেবে এদের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায় না। অন্যান্য মাছের সাথে কদাচিৎ ধরা পড়ে।
এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে দেশে ও বিদেশে এর উজ্জ্বল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Chaudhuri BL (1912) XXXV. Descriptions of some new species of freshwater fishes from north India. Records of the Indian Museum (Calcutta) 7(5): 437-444.
  • Chowdhury MM (2009) Lepidocephalichthys annandalei. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.), Encyclopedia of flora and fauna of Bangladesh, Vol. 23, Freshwater fishes (in Bengali), Asiatic society of Bangladesh, Dhaka. pp. 127-128.
  • Dahanukar, N. 2010. Lepidocephalichthys annandalei. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.2. <www.iucnredlist.org>. Downloaded on 07 November 2014. http://www.iucnredlist.org/details/166499/0
  • Fishbase (2014) Species summary: Lepidocephalichthys annandalei Chaudhuri, 1912, Annandale loach. Retrieve on 7 November 2014 and from http://www.fishbase.org/summary/24673
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 158.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 177-178.
  • Seriouslyfish (2014) Species profile: Lepidocephalichthys annandalei CHAUDHURI, 1912. Retrieve on 7 November 2014 and from http://www.seriouslyfish.com/species/lepidocephalichthys-annandalei/
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 522-523.

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply