ক্যাটাগরি: মাৎস্য চাষ | স্বাদুপানি

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: আঁতুড় পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: আঁতুড় পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: আঁতুড় পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের কার্যক্রমের মধ্যে প্রধানত তিন ধরণের পুকুর (আঁতুড় পুকুর, চারা পুকুর ও মজুদ পুকুর) ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। এ লেখায় আঁতুড় পুকুর ব্যবস্থাপনার বর্ষপঞ্জী উপস্থাপন করা হল। পরবর্তী লেখায় থাকবে চারা পুকুরমজুদ পুকুর এবং হ্যাচারি ব্যবস্থাপনার বর্ষপঞ্জী।

 

বৈশাখ (এপ্রিল-মে)

  • আঁতুড় পুকুর প্রস্তুত করার সময় চলছে। ইতোমধ্যে পুকুর প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু না করে থাকলে এখনই শুরু করুন। যেমন- আঁতুড় পুকুরের পানি সেঁচে শুকিয়ে নিন। পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাঁদা থাকলে সরিয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে তলদেশ রোদে শুকিয়ে নিন। পরিমাণমত চুন ছিটিয়ে দিয়ে মাটি শোধ করে নিন। চুন প্রয়োগের ৭-১৫ দিন পর পুকুরের প্রয়োজনমত সার প্রয়োগ করুন। রেণু পোনা ছাড়ার অন্তত পনের দিন আগে বৃষ্টি বা সেঁচের মাধ্যমে আঁতুড় পুকুরে এক থেকে দেড় মিটার পানি জমিয়ে রাখুন ফলে পানিতে রেণুর জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মাবে।
  • আঁতুড় পুকুর প্রস্তুতি চলাকালে রেণুর জন্য সরকারী বা বেসরকারি হ্যাচারির সাথে যোগাযোগ করুন। নদীর রেণু পোনা সংগ্রহে আগ্রহীরা এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে যোগাযোগ করুন।
  • আর গত মাসে পুকুর প্রস্তুত করে থাকলে এ মাসের শুরুতেই রেণু পোনা মজুদ করুন। রেণু সংগ্রহ ও ছাড়ার আগে আঁতুড় পুকুরে ঘন মশারীর কাপড়ের জাল টেনে ও প্রয়োজনমত কেরোসিন বা ডিজেল ব্যবহার করে জলজ পতঙ্গ ও ব্যাঙ্গাচি অপসারণ করুন। রেণু পোনা সকালে (সম্ভব না হলে বিকেলে) অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহণ করুন এবং পুকুরের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার পর পুকুরে ছাড়ুন।
  • রেণু ছাড়ার তৃতীয় দিন থেকে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করুন।
  • পোনা এক ইঞ্চির মত বড় হলে চারা পুকুরে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।

 

জ্যৈষ্ঠ (মে-জুন)

  • উৎপাদিত চারা পোনা (প্রায় এক ইঞ্চি) এখনও চারা পুকুরে স্থানান্তর না করে থাকলে এখনই স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।
  • নতুন করে রেণু পোনা মজুদ করতে চাইলে রেণু সংগ্রহ ও ছাড়ার আগে আঁতুড় পুকুরে ঘন মশারীর কাপড়ের জাল টেনে ও প্রয়োজনমত কেরোসিন বা ডিজেল ব্যবহার করে জলজ পতঙ্গ ও ব্যাঙ্গাচি অপসারণ করুন। হ্যাচারি অথবা নদী থেকে সংগৃহীত রেণু মজুদ করুন এবং মজুদের তৃতীয় দিন থেকে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করুন।
  • নতুন করে রেণু মজুদ করতে না চাইলে পুকুরটি চারা পুকুর এমন কি মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পুকুরের আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোনা রেখে চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • গত মাসে প্রথমবারের মত আঁতুড় পুকুর প্রস্তুত করার পর রেণু মজুদ না করে থাকলে এখনই করুন।
  • সামনে বর্ষা। তাই বর্ষা বা বন্যার পানিতে পুকুরের পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখার ব্যবস্থা নিন।

 

আষাঢ় (জুন-জুলাই)

  • উৎপাদিত চারা পোনা (প্রায় এক ইঞ্চি) এখনও চারা পুকুরে স্থানান্তর না করে থাকলে এখনই স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।
  • নতুন করে রেণু পোনা মজুদ করতে চাইলে রেণু সংগ্রহ বা ছাড়ার আগে আঁতুড় পুকুরে ঘন মশারীর কাপড়ের জাল টেনে ও প্রয়োজনমত কেরোসিন বা ডিজেল ব্যবহার করে জলজ পতঙ্গ ও ব্যাঙ্গাচি অপসারণ করুন। হ্যাচারি অথবা নদী থেকে সংগৃহীত রেণু মজুদ করুন এবং মজুদের তৃতীয় দিন থেকে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করুন।
  • নতুন করে রেণু মজুদ করতে না চাইলে পুকুরটি চারা পুকুর এমন কি মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পুকুরের আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোনা রেখে চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। পানিতে পুকুরের পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখার ব্যবস্থা নিন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

শ্রাবণ (জুলাই-আগস্ট)

  • উৎপাদিত চারা পোনা (প্রায় এক ইঞ্চি) এখনও চারা পুকুরে স্থানান্তর না করে থাকলে এখনই স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।
  • নতুন করে রেণু পোনা মজুদ করতে চাইলে রেণু সংগ্রহ বা ছাড়ার আগে আঁতুড় পুকুরে ঘন মশারীর কাপড়ের জাল টেনে ও প্রয়োজনমত কেরোসিন বা ডিজেল ব্যবহার করে জলজ পতঙ্গ ও ব্যাঙ্গাচি অপসারণ করুন। হ্যাচারি অথবা নদী থেকে সংগৃহীত রেণু মজুদ করুন এবং মজুদের তৃতীয় দিন থেকে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করুন।
  • নতুন করে রেণু মজুদ করতে না চাইলে পুকুরটি চারা পুকুর এমন কি মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পুকুরের আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোনা রেখে চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • এখন ভর বর্ষা। পানিতে পুকুরে পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখুন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

ভাদ্র (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)

  • উৎপাদিত চারা পোনা (প্রায় এক ইঞ্চি) এখনও চারা পুকুরে স্থানান্তর না করে থাকলে এখনই স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।
  • নতুন করে রেণু পোনা মজুদ করতে চাইলে রেণু সংগ্রহ বা ছাড়ার আগে আঁতুড় পুকুরে ঘন মশারীর কাপড়ের জাল টেনে ও প্রয়োজনমত কেরোসিন বা ডিজেল ব্যবহার করে জলজ পতঙ্গ ও ব্যাঙ্গাচি অপসারণ করুন। হ্যাচারি অথবা নদী থেকে সংগৃহীত রেণু মজুদ করুন এবং মজুদের তৃতীয় দিন থেকে সম্পূরক খাবার সরবরাহ করুন।
  • নতুন করে রেণু মজুদ করতে না চাইলে পুকুরটি চারা পুকুর এমন কি মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পুকুরের আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোনা রেখে চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • এখন ভর বর্ষা। পানিতে পুকুরে পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখুন।
  • দুর্ঘটনাবশত পুকুরের পাড় ডুবে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে পোনা অবমুক্ত হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভেসে যাওয়া পুকুরগুলোতে ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরত্বে একটি চটের ব্যাগে ৫ থেকে ৭ কেজি ধানের কুড়া বা গমের ভুসি ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পানির নিচে একটি খুঁটির সাথে বেধে দিতে হবে। তবে ব্যাগটিতে অবশ্যই ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে। এতে খাবার পেয়ে মাছ পুকুরেই অবস্থান করবে। তবে বেশিরভাগ মাছ অবমুক্ত হয়ে পড়লে নতুন করে শুরু করাই ভাল। সেক্ষেত্রে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত পাড় মেরামত করার পর আমাছা ও রাক্ষুসে মাছ অপসারণ করে নিন এবং নতুন করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা করুন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

আশ্বিন (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)

  • উৎপাদিত চারা পোনা (প্রায় এক ইঞ্চি) এখনও চারা পুকুরে স্থানান্তর না করে থাকলে এখনই স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুন।
  • নতুন করে রেণু মজুদ না করে পুকুরটি চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। পুকুরের আয়তন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোনা রেখে চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • বর্ষা শেষ হওয়ার পথে। পুকুরে জন্মানো জলজ আগাছা অপসারণ করুন।
  • পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

কার্তিক (অক্টোবর-নভেম্বর)

  • পুকুরটি চারা বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

 

অগ্রাহণ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

  • পুকুরটি চারা বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

 

পৌষ (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)

  • পুকুরটি চারা বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

 

মাঘ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)

  • পুকুরটি চারা বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়নের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ নিতে চাইলে এখন থেকেই ভাল পুকুরের খোঁজ খবর নিন।
  • যারা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহী তারা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

 

ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)

  • পুকুরটি চারা বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার করে থাকলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
  • শীত যাই যাই করছে। পুকুরের পানিও নিচের দিকে রয়েছে। প্রয়োজনে পুকুরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে পানির গভীরতা বাড়িয়ে দিন এবং এই স্থানে জলজ আগাছা যেমন কচুরিপানা ইত্যাদি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে সেঁচের মাধ্যমে পানি যোগ করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়নের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ নিতে চাইলে ভাল পুকুরের খোঁজ খবর নিয়ে অগ্রিম লিজ গ্রহণ করুন।
  • যারা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহী তারা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ না করে থাকলে এখনই করুন।

 

চৈত্র (মার্চ-এপ্রিল)

  • চারা পুকুর বা মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরটি পুনরায় আঁতুড় পুকুর হিসেবে ব্যবহারের সময় এসেছে। সেজন্য পানি সেঁচে পুকুর থেকে সব মাছ ধরে অন্য পুকুরে স্থানান্তর করুন বা বাজারজাত করুন।
  • পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাঁদা থাকলে সরিয়ে ফেলুন। সম্ভব হলে তলদেশ রোদে শুকিয়ে নিন। পরিমাণমত চুন ছিটিয়ে দিয়ে মাটি শোধ করে নিন। চুন প্রয়োগের ১০-১৫ দিন পর পুকুরের প্রয়োজনমত সার প্রয়োগ করুন। বৃষ্টি বা সেঁচের মাধ্যমে আঁতুড় পুকুরে এক থেকে দেড় মিটার পানি জমিয়ে রাখুন ফলে পানিতে রেণুর জন্য প্রান্ত প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মাবে।
  • আঁতুড় পুকুর প্রস্তুতি চলাকালে রেণুর জন্য সরকারী ও বেসরকারি হ্যাচারির সাথে যোগাযোগ করুন। নদীর রেণু পোনা সংগ্রহে আগ্রহীরা এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে যোগাযোগ করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়ন করে ফেলুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ এখনও গ্রহণ না করে থাকলে এখনই করুন।
  • ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট অফিসে এখনও যোগাযোগ না করে থাকলে এখনই করুন এবং প্রয়োজনমত ঋণ গ্রহণ করুন।

 

পুনশ্চ

  • লিজের মাধ্যমে সংগৃহীত পুকুরের লিজের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করুন।
  • কিস্তিভিত্তিক পরিশোধের শর্তে গৃহীত ঋণ নিয়ে থাকলে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করুন।
  • মাছ চাষের ব্যবস্থাপনামূলক তথ্যাদি ও অর্থনৈতিক হিসাব (আয়-ব্যয়) যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করুন।
  • প্রতি সপ্তাহেই পরবর্তী সপ্তাহের করণীয় বিষয়াদি ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করুন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন।
  • আঁতুড় পুকুর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত যে কোন সমস্যায় সঠিক পরামর্শের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে স্থানীয় মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply