ক্যাটাগরি: মাৎস্য চাষ | স্বাদুপানি

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: মজুদ পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: মজুদ পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের বর্ষপঞ্জী: মজুদ পুকুর ব্যবস্থাপনা

রুই জাতীয় মাছ চাষের কার্যক্রমের মধ্যে প্রধানত তিন ধরণের পুকুর (আঁতুড় পুকুর, চারা পুকুর ও মজুদ পুকুর) ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। এ লেখায় মজুদ পুকুর ব্যবস্থাপনার বর্ষপঞ্জী উপস্থাপন করা হল। আগের দুটি লেখায় আঁতুড় পুকুরচারা পুকুর ব্যবস্থাপনার বর্ষপঞ্জী উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী লেখায় থাকবে হ্যাচারি ব্যবস্থাপনার বর্ষপঞ্জী।

 

বৈশাখ (এপ্রিল-মে)

  • গত বছরের মাছ সম্পূর্ণ আহরণ করতে না চাইলে নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন পানিতে গুলিয়ে ঠাণ্ডা করে সমস্ত পুকুরে সমভাবে ছিটিয়ে প্রয়োগ করুন। বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • আর নতুন করে পোনা ছাড়তে চাইলে সমস্ত মাছ ধরে বাজারজাত করুন এবং নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুরে উৎপাদিত পোনা (বিশেষত চাপের পোনা) মজুদ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

 

জ্যৈষ্ঠ (মে-জুন)

  • গত বছরের মাছ সম্পূর্ণ আহরণ করতে না চাইলে নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন প্রয়োগ না করে থাকলে এখনই করুন। বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • আর নতুন করে পোনা ছাড়তে চাইলে সমস্ত মাছ ধরে বাজারজাত করুন। এখনই মাছের বাজারে উচ্চ মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
  • নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

 

আষাঢ় (জুন-জুলাই)

  • গত বছরের মাছ সম্পূর্ণ আহরণ করতে না চাইলে নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন প্রয়োগ না করে থাকলে এখনই করুন। বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • আর নতুন করে পোনা ছাড়তে চাইলে সমস্ত মাছ ধরে বাজারজাত করুন। নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। পানিতে পুকুরের পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখার ব্যবস্থা নিন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

শ্রাবণ (জুলাই-আগস্ট)

  • গত বছরের মাছ সম্পূর্ণ আহরণ করে বাজারজাত করাই ভাল।
  • এরপর নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • এবছরের শুরুতেই পোনা মাছ মজুদ করে থাকলে তুলনামূলক বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন ও সমসংখ্যক পোনা পুনঃ মজুদ করুন।
  • এখন ভর বর্ষা। পানিতে পুকুরে পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখুন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

ভাদ্র (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)

  • গত বছরের মাছ এখনও সম্পূর্ণ আহরণ করে বাজারজাত করে না থাকলে এখনই করুন।
  • এরপর নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • এবছরের শুরুতেই পোনা মাছ মজুদ করে থাকলে তুলনামূলক বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন ও সমসংখ্যক পোনা পুনঃ মজুদ করুন।
  • এখন ভর বর্ষা। পানিতে পুকুরে পাড় ডুবে যাওয়া সম্ভাবনা থাকলে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন যেমন- ক্ষতিগ্রস্ত পাড় বেঁধে নিন, নিচু পাড় উঁচু করে নিন, প্রয়োজনে জাল ও বানা সংগ্রহে রাখুন।
    দুর্ঘটনাবশত পুকুরের পাড় ডুবে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে পোনা অবমুক্ত হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভেসে যাওয়া পুকুরগুলোতে ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরত্বে একটি চটের ব্যাগে ৫ থেকে ৭ কেজি ধানের কুড়া বা গমের ভুসি ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পানির নিচে একটি খুঁটির সাথে বেধে দিতে হবে। তবে ব্যাগটিতে অবশ্যই ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে। এতে খাবার পেয়ে মাছ পুকুরেই অবস্থান করবে। তবে বেশিরভাগ মাছ অবমুক্ত হয়ে পড়লে নতুন করে শুরু করাই ভাল। সেক্ষেত্রে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত পাড় মেরামত করার পর আমাছা ও রাক্ষুসে মাছ অপসারণ করে নিন এবং নতুন করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা করুন।
  • আকাশ মেঘলা থাকলে বিশেষত পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

আশ্বিন (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)

  • প্রস্তুতকৃত পুকুরে এখনও পোনা মজুদ না করে থাকলে আর দেরী না করে এখনই মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করুন। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদের পর নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • এবছরের শুরুতেই পোনা মাছ মজুদ করে থাকলে তুলনামূলক বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন ও সমসংখ্যক পোনা পুনঃ মজুদ করুন।
  • বর্ষা শেষ হওয়ার পথে। পুকুরে জন্মানো জলজ আগাছা অপসারণ করুন।
  • পুকুরে অতিরিক্ত সবুজ বর্ণের উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পুকুর পর্যবেক্ষণ করুন এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা নিন।
  • অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্মালে সার ও খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখুন।

 

কার্তিক (অক্টোবর-নভেম্বর)

  • নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • আগাছা অপসারণ করুন বা পচিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি করে পুকুরে ব্যবহার করুন।
  • শীত আসি আসি করছে। পুকুরের পানি কমতে শুরু করেছে। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন প্রয়োগ করুন।
  • এবছরের মজুদকৃত বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।

 

অগ্রাহণ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)

  • নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন তবে প্রয়োগের হার ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন।
  • জৈব সার ব্যবহার না করে অজৈব সার ব্যবহার করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • শীত এসে গেছে। পুকুরের পানি কমেছে। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন ইতোমধ্যে প্রয়োগ না করে থাকলে এখনই করুন।
  • এবছরের মজুদকৃত বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।

 

পৌষ (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)

  • নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন তবে প্রয়োগের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখুন।
  • জৈব সার ব্যবহার না করে অজৈব সার ব্যবহার করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • পুরোদমে শীত পড়েছে। পুকুরের পানিও কমেছে। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন ইতোমধ্যে প্রয়োগ না করে থাকলে এখনই করুন।
    এবছরের মজুদকৃত বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।

 

মাঘ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)

  • নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন তবে প্রয়োগের হার সীমিত পর্যায়ে রাখুন।
  • জৈব সার ব্যবহার না করে অজৈব সার ব্যবহার করুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • পুরোদমে শীত পড়েছে। পুকুরের পানিও কমেছে। রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন প্রয়োগ করুন।
  • বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়নের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ নিতে চাইলে এখন থেকেই ভাল পুকুরের খোঁজ খবর নিন।
  • যারা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহী তারা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

 

ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)

  • নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন তবে প্রয়োগের হার ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন।
  • জাল টেনে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।
  • রোগ প্রতিরোধে শতাংশ প্রতি আধা কেজি চুন প্রয়োগ না করে থাকলে এখনই করুন।
  • বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • শীত যাই যাই করছে। পুকুরের পানিও নিচের দিকে রয়েছে। প্রয়োজনে পুকুরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে পানির গভীরতা বাড়িয়ে দিন এবং এই স্থানে জলজ আগাছা যেমন কচুরিপানা ইত্যাদি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে সেঁচের মাধ্যমে পানি যোগ করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়নের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ নিতে চাইলে ভাল পুকুরের খোঁজ খবর নিয়ে অগ্রিম লিজ গ্রহণ করুন।
  • যারা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহী তারা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ না করে থাকলে এখনই করুন।

 

চৈত্র (মার্চ-এপ্রিল)

  • গত বছরের মাছ সম্পূর্ণ আহরণ করতে না চাইলে নিয়মিত সার ও খাদ্য প্রয়োগ অব্যাহত রাখুন তবে বড় আকারের মাছ আংশিক আহরণ করে বাজারজাত করুন।
  • আর সম্পূর্ণ আহরণ করতে চাইলে সব মাছ ধরে বাজারজাত করুন এবং নতুন করে পুকুর প্রস্তুতির প্রস্তুতি নিন।
  • নিয়মানুসারে ভালোভাবে পুকুর প্রস্তুত করে পোনা ছাড়ার ব্যবস্থা নিন যেমন- পানি অপসারণ, কাঁদা অপসারণ, আগাছা পরিষ্কার, চুন প্রয়োগ, সার পানি দেয়া, পানি পরীক্ষা, পুকুর পাড়ে নিত্য পাতা ঝরা গাছ ছাঁটাই বা কেটে ফেলাসহ অন্যান্য কাজগুলো করে নিন।
  • পুকুর প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হলে নিয়মানুসারে রুই জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করুন। পানির তিনটি স্তরের কথা বিবেচনা করে পোনা প্রজাতি নির্বাচন করুন। রুই জাতীয় মাছের সাথে তেলাপিয়া, সরপুঁটি ও চিংড়ির পোনাও মজুদ করা যায়। পোনা নিজের আঁতুড় ও চারা পুকুর থেকে (বিশেষত চাপের পোনা) সংগ্রহ করাই ভাল। যদি বাহিরের উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতেই হয় তবে সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করতে হবে। নদীর পোনাও সংগ্রহ করা যেতে পারে।
  • পোনা মজুদ করা সম্ভব হলে নিয়মানুসারে সার ও খাদ্য প্রয়োগ শুরু করুন।
  • পোনার মজুদ হার, ভাল পোনার প্রাপ্তিস্থান, পুকুর প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা বিষয় তথ্যের জন্য প্রয়োজনে স্থানীয় মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • পুকুরটি নিজস্ব না হলে আগামী মওসুমের জন্য পুকুরের লিজ নবায়ন করে ফেলুন।
  • আগামী মওসুমের জন্য নতুন পুকুর লিজ এখনও গ্রহণ না করে থাকলে এখনই করুন।
  • ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করতে আগ্রহীরা সংশ্লিষ্ট অফিসে এখনও যোগাযোগ না করে থাকলে এখনই করুন এবং প্রয়োজনমত ঋণ গ্রহণ করুন।

 

পুনশ্চ

  • লিজের মাধ্যমে সংগৃহীত পুকুরের লিজের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করুন।
  • কিস্তিভিত্তিক পরিশোধের শর্তে গৃহীত ঋণ নিয়ে থাকলে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করুন।
  • মাছ চাষের ব্যবস্থাপনামূলক ও অর্থনৈতিক (আয়-ব্যয়) তথ্যাদি যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করুন।
  • প্রতি সপ্তাহেই পরবর্তী সপ্তাহের করণীয় বিষয়াদি ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করুন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন।
  • পুকুর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত যে কোন সমস্যায় সঠিক পরামর্শের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে স্থানীয় মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply