ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: নানচিল কোরাল, Indo-Pacific tarpon, Megalops cyprinoides

নানচিল কোরাল, Indo-Pacific tarpon, Megalops cyprinoides

নানচিল কোরাল, Indo-Pacific tarpon, Megalops cyprinoides

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Elopiformes (Tenpounders)
পরিবার: Elopiformes (Tenpounders)
গণ: Megalops
প্রজাতি: M. cyprinoides

শব্দতত্ত্ব (Etymology)
গ্রিক শব্দ megas, megalos অর্থ বৃহৎ ( great) এবং গ্রিক শব্দ ops অর্থ আবির্ভাব (appearance) এর সমন্বয়ে Megalops শব্দটি এসেছে (Fishbase, 2015) ।

সমনাম (Synonyms)
Brisbania staigeri Castelnau, 1878
Clupea cyprinoides Broussonet, 1782
Clupea thrissoides Bloch and Schneider, 1801
Cyprinodon cundinga Hamilton, 1822
Elops cundinga (Hamilton, 1822)
Elops cyprinoides (Broussonet, 1782)
Megalops cundinga (Hamilton, 1822)
Megalops curtifilis Richardson, 1846
Megalops filamentosus Lacepède, 1803
Megalops indicus Valenciennes, 1847
Megalops macrophthalmus Bleeker, 1851
Megalops macropterus Bleeker, 1866
Megalops oligolepis Bleeker, 1866
Megalops setipinnis Richardson, 1843

 
সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: নানচিল কোরাল
English: Indo-Pacific tarpon and Oxeye tarpon

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
ইন্দো-পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলে এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991) । এই প্রজাতি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিশেষত আফ্রিকার পূর্ব উপকূল থেকে আরব উপদ্বীপ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ফরাসি পলিনেশিয়া (সোসাইটি দ্বীপপুঞ্জ), উত্তর জাপান থেকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় (Adams et. al, 2015)। এদের ভৌগোলিক বিস্তৃতি: 34°N – 28°S, 16°E – 130°W (Fishbase, 2015)

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা Data Deficient (DD) অর্থাৎ এই প্রজাতি সংরক্ষণ অবস্থা নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই (Adams et. al, 2015)।
বাংলাদেশেও এই প্রজাতির সংরক্ষণ অবস্থা Data Deficient (DD) অর্থাৎ এই প্রজাতি সংরক্ষণ অবস্থা নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই (IUCN Bangladesh, 2000)

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বা দেহ পার্শ্বীয়ভাবে চাপা ও মধ্যম দেহ উচ্চতা বিশিষ্ট। চোখজোড়া বেশ বড় ও চর্বি বিশিষ্ট পাতা বিশিষ্ট। মুখ ঊর্ধ্বমুখী ও তির্যক। পৃষ্ঠপাখনা দেহের পৃষ্ঠদেশের মাঝামাঝিতে শ্রোণীপাখনার বিপরীতে অবস্থান করে এবং এই পাখনার শেষ পাখনা রশ্মি প্রলম্বিত হয়ে সূত্রাকার রূপ ধারণ করে। দাঁত ভিলি আকৃতির (villiform) এবং চোয়াল, ভোমার ও তালুতে অবস্থিত। Hossain and Sultana (2009), Rahman (1989 and 2005), Talwar and Jhingran (1991)
আঁইশ আকারে বড়। পার্শ্বরেখা সম্পূর্ণ। পার্শ্বরেখা বরাবর আঁইশের সংখ্যা Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৩৫-৩৯টি; Talwar ও Jhingran (1991) অনুসারে ৩৭-৪২টি। Hossain and Sultana (2009) অনুসারে পার্শ্বরেখার উপরে পৃষ্ঠপাখনার গোঁড়া পর্যন্ত ও নীচে শ্রোণীপাখনার গোঁড়া পর্যন্ত উভয়ক্ষেত্রে ৫.৫ সারি আঁইশ উপস্থিত।
দেহের পৃষ্ঠদেশের বর্ণ নীল বা সবুজ। উদরের দিকটা রুপালী। পৃষ্ঠপাখনা ও পায়ুপাখনার প্রান্ত কালচে। Hossain and Sultana (2009) অনুসারে এই প্রজাতির মাছের ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা (2n) ৫২।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 2-3/16; P1. 14-16; P2. 11-12; A. 2/23-25 (Rahman, 1989 and 2005)
D 17-21; A 24-31; P 15-16; V 10-11 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman (1989 and 2005) অনুসারে এরা দৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ১৫০ সেমি, Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে এদের গড় দৈর্ঘ্য ৪০ সেমি ও ওজন ৪৫০ গ্রাম। অন্যদিকে Fishbase (2015) অনুসারে এদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১৫০ সেমি, ওজন ১৮ কেজি ও বয়স ৪৪ বছর।

স্বভাব ও আবাস্থল (Habit and Habitat)
এরা Amphidromus অর্থাৎ এরা সমুদ্র থেকে স্বাদুপানিতে ও স্বাদুপানি থেকে সমুদ্র অভিপ্রয়াণ করে থাকে। এরা Euryhaline অর্থাৎ এরা বিস্তৃত পরিসর বিশিষ্ট লবণাক্ত পানিতে বসবাস করতে পারে। এরা Airbreathing অর্থাৎ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে সক্ষম Hossain and Sultana (2009)।
এরা সামুদ্রিক, উপকূলীয় ও স্বাদুপানির জলাশয়ে বাস করে। এরা উষ্ণজলের মাছ এবং এদের অনুকূল তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৪ ডি.সে (Fishbase, 2015)। Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে উপকূলীয় জলাশয়, বদ্ধ পোতাশ্রয়, মোহনা এবং স্বাদুপানিতে এদের পাওয়া যায়। যেমন- হুগলী মোহনা ও উডিষ্যার চিলকা হ্রদ (Chilka lake) ইত্যাদি। এমনকি সমুদ্র থেকে দূরবর্তী বিভিন্ন নদীর উজান অঞ্চলেও এদের দেখতে পাওয়া যায়। Rahman (1989 and 2005) অনুসারে মেঘনা নদী, উপকূলীয় মোহনা সমূহ ও বঙ্গোপসাগরে এদের দেখা মেলে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা শিকারি মাছ অর্থাৎ অন্য জলজ প্রাণী শিকার করে খেয়ে থাকে। এদের পছন্দের শিকার হচ্ছে অন্যান্য ছোট আকারের মাছ, চিংড়ি, পতঙ্গ ইত্যাদি।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা ইউরিহেলাইন (Euryhaline) প্রজাতি। এরা কম অক্সিজেন ঘনত্বে সহজেই বেঁচে থাকতে পারে।

প্রজনন (Breeding)
Talwar and Jhingran (1991) মতে এরা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ২৫ সেমি থাকে।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium Management)
বৃহৎ আকারের কারণে এই মাছ সাধারণ এ্যাকুয়ারিয়ামে লালনপালন করা যায়না। এর জন্য প্রয়োজন বড় আকারে এ্যাকুয়ারিয়াম। এই মাছের জন্য এ্যাকুয়ারিয়ামের ন্যূনতম আকার হওয়া প্রয়োজন ৭ x ২ x ২ মিটার Practicalfishkeeping (2015) । এদের পছন্দের খাবার মাছ হলেও এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা পিলেট (pellet), ক্রুম্বল (crumble) ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery information)
একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায়না। অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে তাই অর্থনৈতিকভাবে এরা কম গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে না হলেও অনেক দেশে এই মাছ চাষ করা হয়। ক্রীড়া মাছ হিসেবে এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। খাদ্য হিসেবে এই মাছের গ্রহণযোগ্যতা কম। তাজা, শুটকি ও হিমায়িত অবস্থায় বাজারে বিক্রি হতে দেখা যায়। Hossain and Sultana (2009)।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Adams, A., Guindon, K., Horodysky, A., MacDonald, T., McBride, R., Shenker, J. & Ward, R. 2012. Megalops cyprinoides. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 15 January 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/166868/0.
  • Bleeker P (1851) Over eenige nieuwe soorten van Megalops, Dussumieria, Notopterus en Astronesthes. Natuurkundig Tijdschrift voor Nederlandsch Indië 1: 417-424.
  • Bleeker P (1866) Sur la pluralité des espèces Indo-archipélagiques du genre Megalops Lac. Nederlandsch Tijdschrift voor de Dierkunde 3: 278-292.
  • Bloch ME and Schneider JG (1801) M. E. Blochii, Systema Ichthyologiae iconibus cx illustratum. Post obitum auctoris opus inchoatum absolvit, correxit, interpolavit Jo. Gottlob Schneider, Saxo. Berolini. Sumtibus Auctoris Impressum et Bibliopolio Sanderiano Commissum. M. E. Blochii, Systema Ichthyologiae.: i-lx + 1-584, Pls. 1-110.
  • Broussonet PMA (1782) Ichthyologia, sistens piscium descriptiones et icones. Decas I. London. Ichthyologia, sistens piscium descriptiones et icones. Decas I.: 49 unnum. pages, incl. i-iv., Unnum. Pls. 1-11.
  • Castelnau FL (1878) Australian fishes. New or little known species. Proceedings of the Linnean Society of New South Wales 2(3): 225-248, Pls. 2-3.
  • Cuvier G and Valenciennes A (1847) Histoire naturelle des poissons. Tome dix-neuvième. Suite du livre dix-neuvième. Brochets ou Lucioïdes. Livre vingtième. De quelques familles de Malacoptérygiens, intermédiaires entre les Brochets et les Clupes. Histoire naturelle des poissons. 19: i-xix + 1-544 + 6 pp., Pls. 554-590.
  • Fishbase (2015) Species summary: Megalops cyprinoides (Broussonet, 1782). Indo-Pacific tarpon. Retrieved on 15 January 1015 and from http://www.fishbase.org/summary/Megalops-cyprinoides.html
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • Hossain MA and Sultana N (2009) Lepidocephalus berdmorei (Blyth, 1861). In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bangla). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp.6-7.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Lacepède BGE (1803) Histoire naturelle des poissons. Histoire naturelle des poissons. v. 5: i-lxviii + 1-803 + index, Pls. 1-21.
  • Practicalfishkeeping (2015) Indo Pacific Tarpon, Megalops cyprinoides. Retrieved on 15 January 2015 and from http://www.practicalfishkeeping.co.uk/content.php?sid=2331
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 234-236.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 259-260.
  • Richardson J (1846) Report on the ichthyology of the seas of China and Japan. Report of the British Association for the Advancement of Science 15th meeting [1845]: 187-320.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 69-70.

 

Acknowledgement:

  • The great thanks goes to the photographer named Randall, John E. (India) of an added image which was uploaded to FishBase previously by him under the following copyright: CC BY NC (Image can be freely copied and altered, as long as original author and source are properly acknowledged).

 

English Feature:

Visitors' Opinion

লেখক

গবেষক শিক্ষার্থী, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল: shahanul65@gmail.com, মোবাইল: +88 01749-166661

Leave a Reply