ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: অঞ্জু, Zebra danio, Danio rerio

অঞ্জু, Zebra danio, Danio rerio

অঞ্জু, Zebra danio, Danio rerio

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Danio
প্রজাতি: D. rerio

সমনাম (Synonyms)
Barilius rerio (Hamilton, 1822)
Brachydanio frankei Meinken, 1963
Brachydanio rerio (Hamilton, 1822)
Cyprinus chapalio Hamilton, 1822
Cyprinus rerio Hamilton, 1822
Danio frankei (Meinken, 1963)
Danio lineatus Day, 1868
Nuria rerio (Hamilton, 1822)
Perilampus striatus McClelland, 1839

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা (বাংলাদেশ): অঞ্জু
ভারত: অঞ্জু (পশ্চিমবঙ্গ); Poncha-geraldi (উড়িষ্যা); Chintaku-parega (অন্ধ্র প্রদেশ) এবং Aratti এবং Sellai-palava (তামিলনাড়ু) (Talwar and Jhingran, 1991)।
English: Zebra danio, Zebrafish

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত (পশ্চিমবঙ্গ এর কৃষ্ণ নদী), নেপাল এবং পাকিস্তানে পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991) । এছাড়াও ভুটান ও মায়ানমারে এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে (Menon, 1999 এবং EOL, 2015)। এদের ভৌগলিক বিস্তৃতি 33°N – 8°N, 66°E – 98°E (Fishbase, 2015)।
এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে এই মাছ বর্তমানে প্রায় সারা বিশ্বেই পাওয়া যায়।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এরা হুমকিগ্রাস্ত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয় (IUCN Bangladesh, 2000) । এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা: Least Concern (Vishwanath, 2010)। অর্থাৎ এই মাছে প্রকৃতিতে বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। জনতার ধারা (Population Trend) নিম্নমুখী (Decreasing) (Vishwanath, 2010)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বা দেহ পার্শ্বীয়ভাবে সামান্য চাপা। এদের অঙ্কীয় প্রান্ত পৃষ্ঠীয় প্রান্তের চেয়ে অধিক বাঁকানো। উপরের চোয়াল নীচের চোয়ালের চেয়ে সামান্য বড়। মুখ প্রান্তীয় ও সামান্য উপরের দিকে উত্থিত। এদের মুখের চির অক্ষিকোটরের সম্মুখ প্রান্তের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। স্পর্শী দুই জোড়া যার মধ্যে একজোড়া ছোট ও চঞ্চুতে অবস্থিত এবং অপর জোড়া দীর্ঘ ও নীচের চোয়ালে অবস্থিত। পৃষ্ঠপাখনা পায়ুপাখনা বরাবর বিপরীত পাশে অবস্থিত। পুচ্ছ পাখনা দ্বিখণ্ডিত এবং উভয় খণ্ড দৈর্ঘ্যে সমান। এদের পার্শ্বরেখা অনুপস্থিত। পার্শ্ব দিকে ২৬-২৮টি আঁইশ উপস্থিত (Rahman, 1989 and 2005)।
এদের পৃষ্ঠীয় প্রান্ত কালচে বর্ণের। জোড় পাখনাগুলো বর্ণহীন। তবে পায়ুপাখনায় তীর্যকভাবে নীল বর্ণের তিনটি ডোরা উপস্থিত। এদের দেহের উভয় পাশে চারটি করে ধাতব নীল বর্ণের ডোরা লম্বালম্বিভাবে উপস্থিত যেগুলো তিনটি সরু রূপালী বর্ণের ডোরার মাধ্যমে আলাদা । এছাড়াও তিনটি নীলাভ ডোরা পুচ্ছপাখনা বরাবর বিস্তৃত (Rahman and Chowdhury, 2009)।
আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৪.০-৪.২ ও ৫.০-৫.২ গুণ এবং দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৩.৬-৪.১ ও ৪.৫-৫.২ গুণ। মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যসের ২.৭ গুণ। (Rahman, 1989 and 2005)। এদের মেরুদণ্ডে ৩১-৩২টি কশেরুকা উপস্থিত (Fang, 1998 and Fishbase, 2015)। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই মাছের ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা ৫০টি উল্লেখ করা হয়েছে (Rahman and Chowdhury, 2009)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 2/7; P1. 13; P2. 1/6; A. 2-3/11-13 (Rahman, 1989 and 2005)
D ii 6-7; A ii-iii 12-13; P i 11-12; V i 6 (Talwar and Jhingran, 1991)
D. 9(2/7); A. 15-16(2-3/12-13); C. 19 (Shafi and Quddus, 2001)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman (2005) অনুসারে ২.৯ সেমি, Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ৪.৫ সেমি এবং Menon (1999) অনুসারে আদর্শ দৈর্ঘ্যে ৩.৮ সেমি।

আবাস্থল (Habitat)
নদী, খাল, বিল, হাওর ও বাঁওড় এ এদের খুঁজে পাওয়া যায় (Shafi and Quddus, 2001)। বাংলাদেশ জুড়ে প্রবহমান জলস্রোত (ঝর্ণা), প্লাবনভূমি, নর্দমা, পুকুর এবং বিল এ এরা বাস করে (Rahman, 1989 and 2005)। ধীরে চলমান থেকে শুরু করে নিশ্চল জলাশয়ে বিশেষ করে ধানক্ষেতে এরা বাস করে (Talwar and Jhingran, 1991)।
এরা পানির উপরিস্তর ও তলদেশ উভয় স্তরেই বাস করে তবে সাধারণত পানির উপরিস্তরে সাঁতরায় (Rahman and Chowdhury, 2009)। জলাশয়ের কিনারে এদের অধিক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতিতে এদের পছন্দনীয় তাপমাত্রা ১৮-২৪ °C, পিএইচ ৬-৮, হার্ডনেস ৫-১৯ dH (Fishbase, 2015)

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা ক্ষুদ্রাকার উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরণের খাবারই খেয়ে থাকে। যেমন- উদ্ভিদকণা (phytoplankton), প্রাণিকণা (zooplankton), জলজ কীট (worms), ক্ষুদ্রাকার ক্রাশটেশিয়ানস (crustaceans), পোকা-মাকড়ের শূককীট (insect larvae) ইত্যাদি খেয়ে থাকে (Rahman and Chowdhury, 2009)। তবে খাবারের প্রাপ্যতা না থাকলেই কেবলমাত্র কীট ও ক্ষুদ্রাকার ক্রাশটেশিয়ানস খেয়ে থাকে (EOL, 2015)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
জলজ কীট, ক্রাশটেশিয়ানস, পোকা-মাকড়ের শূককীট ইত্যাদি খেয়ে থাকে খাদ্যচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে (Rahman and Chowdhury, 2009)।

প্রজনন (Breeding)
এরা গড়ে ৩.৫ বছর (সর্বোচ্চ ৫.৫ বছর) বেঁচে থাকে (EOL, 2015)। সারা বছর জুড়েই প্রজনন করে থাকে। তবে বর্ষায় এদের অধিক পরিমাণে প্রজনন করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাবারের প্রাপ্যতা ও পরিবেশ (যেমন অনুকূল তাপমাত্রা) প্রজননকে প্রভাবিত করে থাকে (Vishwanath, 2010)।
এদের স্ত্রীদের চেয়ে পুরুষেরা অধিক বর্ণিল হয়ে থাকে। স্ত্রীরা পুরুষের চেয়ে তুলনামূলকভাবে দৈর্ঘ্যে ছোট তবে স্ফীত (গোলাকার উদর বিশিষ্ট) হয়ে থাকে। ফলে প্রজননকালে এদেরকে সহজেই আলাদা করা যায়। এরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতাবিশিষ্ট জলজ উদ্ভিদের ঝোপে ডিম দেয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় (Rahman and Chowdhury, 2009)।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium Management)
এদের জন্য ন্যূনতম এ্যাকুয়ারিয়ামের আকার ৯০X৩০ সেমি। এ্যাকুয়ারিয়ামে অনুকূল তাপমাত্রা ৭৬.২-১০১.৫ °F বা ২৪.৬-৩৮.৬ °C উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় আর ১৮-২৫ °C শীতপ্রধান এলাকায়। পিএইচ ৬-৮ এবং হার্ডনেস ৯০-৩৫৭ পিপিএম (Seriouslyfish, 2015)।
এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা ক্ষুদ্রাকার প্রাণী যেমন মশার শূককীট, ক্ষুদ্রাকার ক্রাশটেশিয়ানস ইত্যাদি জীবন্ত অবস্থায় বা হিমায়িত অবস্থায় খেয়ে থাকে। এছাড়াও ডাফনিয়া (Daphnia), আর্টেমিয়া (Artemia), ব্লাডওয়ার্ম (Bloodworm) ইত্যাদি জীবন্ত খাবার খেয়ে থাকে (Seriouslyfish, 2015)।

মৎস্য গুরুত্ব (Fisheries importance)
একক প্রজাতি হিসেবে এর উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায় না। খাবারের মাছ হিসেবে এর গুরুত্ব জানা যায় না। তবে এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসাবে সারা পৃথিবীজুড়ে এর গুরুত্ব রয়েছে। শ্রেষ্ঠ ছোট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ হিসাবে এর পরিচিতি রয়েছে (Talwar and Jhingran, 1991)।
এছাড়াও মশা নিয়ন্ত্রণের এই প্রজাতির মাছ ব্যবহার করা যেতে পারে (Rahman and Chowdhury, 2009)।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Day F. 1868. On some new fishes from Madras. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1868 (pt 1): 192-199.
  • EOL (2015) Danio rerio, Zebrafish. downloaded on 20 March 2015 and from http://eol.org/pages/204011/details#habitat
  • Fang, F. 1998 Danio kyathit, a new species of cyprinid species from Myitkyina, northern Myanmar. Ichthyol. Explor. Freshwat. 8(3):273-280.
  • Fishbase (2015) Species summary: Danio rerio (Hamilton, 1822) Zebra danio. Downloaded on 20 March 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/4653
  • Hamilton F. 1822. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh. 2000. Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • McClelland J. 1839. Indian Cyprinidae. Asiatic Researches v. 19 (pt 2): 217-471, Pls. 37-61.
  • Meinken H. 1963. Mitteilungen der Fischbestimmungsstelle des VDA XLII: Brachydanio frankei spec. nov., der Leopard-Danio. v. 42: 39-43.
  • Menon, A.G.K. 1999 Check list – fresh water fishes of India. Rec. Zool. Surv. India, Misc. Publ., Occas. Pap. No. 175, 366 p.
  • Rahman AKA. 1989. Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 101-102.
  • Rahman AKA. 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 118-119.
  • Rahman AKA and Chowdhury GW (2009) Danio rerio. In: Ahmed, Z.U., Ahmed, A.T.A., Kabir, S.M.H., Ahmed, M., Begum, Z.N.T., Hasan, M.A., and Khondker, M. (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 69-70.
  • Seriouslyfish (2015) Species Profile: Brachydanio rerio (Hamilton, 1822), Zebra ‘Danio’. downloaded on 20 March 2015 and from http://www.seriouslyfish.com/species/danio-rerio/
  • Shafi M and Quddus MMA. 2001. Bangladesher Matsho Shampad (Fisheries of Bangladesh) (in Bengali), Kabir publication. Dhaka, Bangladesh. pp. 162-163.
  • Talwar PK and Jhingran AG. 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, p. 360.
  • Vishwanath, W. 2010. Danio rerio. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 20 March 2015 and form http://www.iucnredlist.org/details/166487/0

 

পুনশ্চ:

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply