ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: দেবারি, Bengal danio, Devario devario

দেবারি, Bengal danio, Devario devario

দেবারি, Bengal danio, Devario devario

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Devario
প্রজাতি: D. devario

সমনাম (Synonyms)
Cyprinus devario Hamilton, 1822
Danio devario (Hamilton, 1822)
Leuciscus devario (Hamilton, 1822)
Perilampus devario (Hamilton, 1822)
Deuario deuario (Hamilton, 1822) [misspelled]
Devario buchanani Bleeker, 1860
Devario macclellandi Bleeker, 1860
Perilampus ostreographus (non McClelland, 1839) [misspelled]
Devario cyanotaenia (non Bleeker, 1860) [misspelled]

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: দেবারি, বাঁশপাতা, ছিবলী, ছেবলি, দেবাশী, চাপিলা ।
English: Bengal danio, Sind Danio, Devario danio,
India: লাউপুতি (Lauputi), ধরি (Dharie),অঞ্জু (Anju),দেবারি (Debari),বাঁশপাতা (Baspata),পাতুকরই (Patukari), খঞ্চে (Khange),মল্লি (Malle), পুরান্দাহ (purrandah), পাথা (Patha), মুখনি (Mukhni), বঙ্কুয়াসো (Bonkuaso), চাপচেলা (Chapchela), বানসপাতা (Banspata) এবং ছিবলি (Chebli) (Talwar and Jhingran, 1991) ।

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং নেপালে এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991; Bhuiyan, 1964) । আফগানিস্তানেও প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে (Ahmed MS, 2009)।
সারা বাংলাদেশেই পাওয়া যায় তবে সর্বত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না (Ahmed MS, 2009)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এই মাছ হুমকির সম্মুখীন নয় (IUCN Bangladesh, 2000) । এই মাছ গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে বর্ষাকালে প্লাবনভূমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যেত কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নদীতে পলি জমায় ও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও ভেড়ী বাঁধের কারণে আবাসস্থল শুকিয়ে যাওয়ায় এদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে (Ahmed MS, 2009)।
বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের স্থানীয় এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড 3.1 অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় যদিও জনতার ধারা (Population Trend) এখনও অজানা। বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও আবাস্থল ধ্বংসের কারণে এই মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে কমে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয় (Vishwanath, 2010)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
দেহ রম্বস (rhomboidal) তথা চতুষ্কোকোন আকৃতির। পার্শ্বীয়ভাবে অত্যন্ত চাপা। পৃষ্ঠ প্রান্তের চেয়ে অঙ্কীয় প্রান্ত অধিক উত্তল তথা বাঁকানো। উপরের চোয়ালের চেয়ে নীচের চোয়াল তুলনামূলক লম্বা। উপরের চোয়ালে খাঁজ দেখতে পাওয়া যায় এবং নিচের চোয়ালের সংযোগস্থলে পিণ্ডের ন্যায় গঠন দেখতে পাওয়া যায় (Ahmed, 2009)। প্রান্তীয় মুখ স্পর্শী বিহীন এবং মুখের হা ছোট ও উপরের দিকে তির্যকভাবে অবস্থিত।
পৃষ্ঠপাখনা তুণ্ড-শীর্ষ ও পুচ্ছপাখনার ভিত্তির মধ্যবর্তী স্থানে পৃষ্ঠদেশে উৎপন্ন হয়ে থাকে। পার্শ্বরেখা দেহের নিচের অর্ধাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত যা পুচ্ছপাখনার ভিত্তির মাঝ বরাবর নিচ পর্যন্ত প্রসারিত। পার্শ্বরেখায় Rahman (1989) অনুসারে ৪৫-৫০টি, Ahmed (2009) অনুসারে ৪০-৪৫টি, Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ৩৩-৩৮টি আঁইশ দেখতে পাওয়া যায়। মাথার দৈর্ঘ্য আদর্শ ও মোট দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ২৩.৫ ও ১৮.৫ শতাংশ। দেহ উচ্চতা আদর্শ ও মোট দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৪৩.১ ও ৩৩.৮%। চোখ মাথার দৈর্ঘ্যের ৩৩.৩ শতাংশ (Galib, 2008)।
সবুজাভ রূপালি দেহের কেন্দ্র বরাবর পৃষ্ঠপাখনার উৎপত্তিস্থল থেকে পুচ্ছপাখনার গোড়া পর্যন্ত নীল ডোরা বর্তমান যার পেছনের দিকে (পুচ্ছদণ্ডের নিকটে) উভয় পাশে আরও একটি করে ডোরা দেখতে পাওয়া যায়। ডোরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থান হলুদাভ। এর পায়ুপাখনা সোনালী এবং অন্যান্য পাখনাগুলো হলুদাভ।

দেবারি, Bengal danio, Devario devario

দেবারি, Bengal danio, Devario devario

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D ii-iii 15-17; A ii-iii 16-17; P I 11-12; V i 7 (Talwar and Jhingran, 1991).
D. 2-3/15-16; P1. 12; P2. 8; A. 2-3/17 (Rahman, 1989).
B. iii; D. 18-19; A. 18-13; C. 19 (Bhuiyan, 1964)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
নথিভুক্ত সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬.৫ সেমি (Galib, 2008), ১০ সে মি (Talwar and Jhingran, 1991), ৯.৩ সেমি (Rahman, 1989) এবং ৭ সেমি (Bhuiyan, 1964)।

আবাস্থল (Habitat)
প্রকৃতিতে স্বাদুপানির এই মাছের অনুকূল তাপমাত্রা ১৫-২৬ °C, হার্ডনেস ৫-১৯ dH এবং পিএইচ ৬-৮ (Fishbase, 2015) । জলাশয়ের উপরিস্তর ও তলদেশ উভয় স্তরেই বাস করে। বিশেষত বর্ষাকালে যখন পাট পচতে শুরু করে তখন এদেরকে উপরিতলে দেখতে পাওয়া যায় (Ahmed, 2009)।
বাংলাদেশের নদী, খাল, পুকুর, বিল এবং প্লাবিত ধান ক্ষেতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989)। ভারতের সমতল এবং পার্বত্য এলাকার জলাশয়ে এদেরকে বাস করতে দেখা যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। পরিষ্কার প্রবহমান জলধারা যেমন নদী, বিলে এদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় (Bhuiyan, 1964)। চলন বিলেও এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে (Galib et al., 2009)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা মূলত পতঙ্গ (insects), কীট (worms) ও ক্ষুদ্রাকার ক্রাশটেশিয়ানস (crustaceans) ইত্যাদি খেয়ে থাকে (Fishbase, 2015)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা শিকারি মাছের অন্যতম শিকার হওয়ায় জলজ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে (Ahmed, 2009)।

প্রজনন (Breeding)
একই বয়সের পুরুষের চেয়ে স্ত্রীরা আকারে বড় হয়ে থাকে। স্ত্রীদের উদর পুরুষদের তুলনায় স্ফীত ও গোলাকার হয়ে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রীদের তুলনায় পুরুষেরা অনেক বেশী বর্ণিল হয়ে থাকে।
প্রকৃতিতে এদের মধ্যে প্রত্যক্ষ মাতৃপিতৃযত্ন দেখতে পাওয়া যায় না। এদের ডিমগুলো গুচ্ছাকারে না থেকে বরং বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে Seriouslyfish (2015) ।
এ্যাকুয়ারিয়ামে সহজেই এদের প্রজনন করানো যায়। স্প্যানিশ মস (Spanish moss) এদের ডিম ছাড়ার জন্য সেরা মাধ্যম । ডিম ছাড়ার পর মা-বাবাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। খাবার হিসেবে ব্রায়ান শ্রিম্প (brine shrimp) সরবরাহ করা প্রয়োজন (Talwar and jhingran, 1991)।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium Management)
এদের জন্য আদর্শ এ্যাকুয়ারিয়ামের আকার কমপক্ষে ১২০x ৪৫ সেমি। এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের অনুকূল তাপমাত্রা ১৫-২৬°C, পিএইচ ৬-৮, হার্ডনেস ৩৬-২৬৮ পিপিএম।
প্রকৃতিতে এরা প্রধানত পতঙ্গ খেয়ে থাকলেও এ্যাকুয়ারিয়ামে সকল ধরণের খাবারই খেয়ে থাকে। প্যাকেটজাত খাবারের পাশাপাশি জীবন্ত বা হিমায়িত ব্লাডওয়ার্ম (bloodworm), ডাফনিয়া (Daphnia), আর্টেমিয়া (Artemia) ইত্যাদি খেয়ে থাকে। জীবন্ত এসব খাবার এদের দেহের বর্ণ ধারণে প্রভাব ফেলে (Seriouslyfish, 2015) ।

মৎস্য গুরুত্ব (Fisheries importance)
একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায় না। অন্যান্য ছোট মাছের সাথে ধরা পড়ে। খাবারের মাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয় (Galib, 2008)।
এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর কদর রয়েছে। এমন কি আমাদের দেশেও বাহারি মাছ হিসেবে এর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Ahmed MS (2009) Devario devario. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 71-72.
  • Bhuiyan AL (1964) Fishes of Dacca, Asiat. Soc. Pakistan, Pub. 1, No. 13, Dacca, p. 45
  • Fishbase (2015) Species Summary: Devario devario (Hamilton, 1822), Sind danio. Downloaded on 27 March 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/10831
  • Galib SM, Samad MA, Mohsin ABM, Flowra FA and Alam MT (2009) Present Status of Fishes in the Chalan Beel- the Largest Beel (Wetland) of Bangladesh, Int. J. Ani. Fish. Sci. 2(3): 214-218.
  • Galib SM (2008) A Study on Fish Diversity and Fishing Gears of Chalan Beel with Reference to Preservation of Catches. Honors dissertation submitted to the Department of Fisheries, University of Rajshahi, Bangladesh, 172 pp.
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39. [Often seen as Hamilton-Buchanan or Buchanan-Hamilton; in work as Hamilton [formerly Buchanan].
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 100-101.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. I, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 367-368.
  • Seriouslyfish (2015) Species Profile: Devario devario (HAMILTON, 1822) Bengal Danio. Downloaded on 27 March 2015 and from http://www.seriouslyfish.com/species/devario-devario/
  • Vishwanath W (2010) Devario devario. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 26 March 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/166528/0

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply