ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: গোয়ালপাড়া লোচ, Goalpara loach, Neoeucirrhichthys maydelli

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
অধিগোত্র: Cobitoidea
গোত্র: Cobitidae (Loaches)
উপগোত্র: Cobitinae
গণ: Neoeucirrhichthys
প্রজাতি: N. maydelli

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology)
গ্রিক শব্দ neos অর্থ নতুন (new), গ্রিক শব্দ eu অর্থ ভাল (good), ল্যাটিন শব্দ cirrus অর্থ পেঁচান (curl) এবং গ্রিক শব্দ ichthys অর্থ মাছ (fish) থেকে Neoeucirrhichthys শব্দটি এসেছে (Froese and Pauly, 2015)।

সমনাম (Synonyms)
পাওয়া যায় নি।

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: গোয়ালপাড়া লোচ
English: Goalpara loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
নেপালের হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশ, ভারতের উত্তরবঙ্গ ও আসাম (ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকা), মধ্য চীনের দক্ষিণে এবং বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005; Rahman and Akhtar, 2009; Talwar and Jhingran, 1991; EOL, 2015; Froese and Pauly, 2015) । বাংলাদেশে সিলেটের সারি ও লুবাছরা নদী এবং ঠাকুরগাঁও জেলার টাঙ্গন নদী এই প্রজাতির মাছের আদর্শ আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত (Rahman and Akhtar, 2009)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ বিষয়ক পর্যাপ্ত তথ্য নেই (Data deficient) । তবে বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির মাছের মধ্যে এই প্রজাতি অন্যতম।
বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড 3.1 অনুসারে Least Concern অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। তবে বাসস্থান ধ্বংসের কারণে এই মাছ হুমকির মুখে রয়েছে এবং জনতার ধারা (Population Trend) অজানা (Vishwanath, 2010)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বা দেহ পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। তুণ্ড মোচাকৃতির এবং সরু । মুখ নিম্নমুখী এবং এর প্রান্ত অশ্বখুরাকৃতি । উপরের ঠোঁটের সামনে ত্বকের একটি পুরু স্তর রয়েছে যা উপরের ঠোটের একটি প্রতিরূপ তৈরি করে ।মাথা লম্বা, নলাকার ও সরু এবং আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট । এদের চোখ বড়, পাতলা ত্বকীয় পর্দা দ্বারা আবৃত এবং মাথার পৃষ্ঠদেশের নিকটে অবস্থিত। পৃষ্ঠপাখনা তুণ্ডের অগ্রভাগের চেয়ে পুচ্ছপাখনার গোরার নিকটে অবস্থিত। পুরুষ মাছের বক্ষ পাখনার পাখনা রশ্মিগুলি বিশেষত মাঝের রশ্মিটি বেশ পুরু ও প্রশস্ত হয়ে থাকে। শ্রোণী পাখনা পুচ্ছপাখনা নিকটে অবস্থিত। পুচ্ছ পাখনার শেষ প্রান্ত সামান্য খাঁজযুক্ত তথা দ্বিবিভক্ত ।
এদের দেহের রং হালকা সবুজাভ। দেহের উভয় পাশে পার্শ্বরেখা অঙ্গ বরাবর বেশ কয়েকটি (সাধারণত ১০-১২টি) ত্রিকোণাকার দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও দেহের পৃষ্ঠদেশে অনিয়মিতভাবে সজ্জিত ফোটা বা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। একটি কালো দাগ পুচ্ছপাখনার গোরায় উপরের অংশে একটি কালো দাগ থাকে। অনেক সময় পুচ্ছপাখনায় ইংরেজি ভি (v) আকারের দাগ বা রেখা তৈরি হতে দেখা যায়। (Rahman, 1989 and 2005; Rahman and Akhtar, 2009; Shafi and Quddus, 2001; Talwar and Jhingran, 1991)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 2/7; P1. 2/8; P2. 1/5; A 2/5 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 7; A ii 5; P 10; V 6 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman (1989 and 2005) অনুসারে বাংলাদেশে এই প্রজাতির সর্বোচ্চ ৪.৩ সেমি দৈর্ঘ্যের মাছ পাওয়া গেছে। নথিভুক্ত সর্বোচ্চ আদর্শ দৈর্ঘ্য (standard length) ৩.৬ সেমি (EOL, 2015; Froese and Pauly, 2015) ।

আবাস্থল (Habitat)
এরা বালুময় অথবা পাথুরে পরিষ্কার প্রবহমান জলধারায় বসবাস করে (Rahman, 1989 and 2005) । বালুময় তলদেশ বিশিষ্ট অগভীর ঝর্ণাধারায় এদের দেখতে পাওয়া যায় (EOL, 2015; Froese and Pauly, 2015)। এরা কাদার মাছ হলেও পরিস্কার জলাধারের বালি বা নুড়িময় তলদেশে সবচেয়ে বেশী দেখতে পাওয়া যায় (Rahman and Akhtar, 2009)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
তলাবাসী এই মাছ তলদেশের জীব (benthos) এবং গলিত ও পচা খাবার খেয়ে থাকে (Rahman and Akhtar, 2009)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
জলাশয়ের তলদেশের গলিত ও পচা খাবার খেয়ে আবাসস্থল পরিস্কার রাখতে সহায়তা করে (Rahman and Akhtar, 2009)।

প্রজনন (Breeding)
স্ত্রী ও পুরুষ আলাদা করা সহজ নয়। তবে পুরুষ মাছের বক্ষ পাখনার পাখনা রশ্মিগুলি বিশেষত মাঝের রশ্মিটি বেশ পুরু ও প্রশস্ত হয়ে থাকে যা থেকে স্ত্রী ও পুরুষকে আলাদা করা যায়।
পনের মাসের কম সময়ের মধ্যেই এদের জনতা (population) দ্বিগুণ হয় (Froese and Pauly, 2015)।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
মাছ চাষে এই মাছের গুরুত্ব নেই। এক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্যও পাওয়া যায় না। বিরল হলেও জেলেদের মাছ ধরার জালে কদাচিৎ অন্যান্য প্রজাতির মাছে সাথে ধরা পড়ে (Rahman and Akhtar, 2009)। এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে দেশ বিদেশে এর প্রচলন করা সম্ভব হলে এটিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ মাছ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Banarescu P and Nalbant TT (1968) Cobitidae (Pisces, Cypriniformes) collected by the German India expedition. Mitteilungen aus dem Hamburgischen Zoologischen Museum und Institut 65: 327-351, Pls. 1-2.
  • EOL (2015) Neoeucirrhichthys maydelli, Goalpara Loach. Downloaded on 21 April 2015 and from http://eol.org/pages/218103/details
  • Froese R and Pauly D (Eds.) (2015) Species Summery: Neoeucirrhichthys maydelli Banarescu & Nalbant, 1968, Goalpara loach. FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 21 April 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/24684
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 160-161.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 180.
  • Rahman AKA and Akhtar S (2009) Neoeucirrhichthys maydelli. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 130-131.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 529-530.
  • Vishwanath, W. 2010. Neoeucirrhichthys maydelli. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 21 April 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/168460/0

 

English Feature:

 

পুনশ্চ:
এই মাছের ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনাদের নিজের তোলা ছবি (এই মাছের) থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি।

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply