ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: ঘনিয়া, Boggut labeo, labeo boggut

ঘনিয়া, Boggut labeo, labeo boggut

ঘনিয়া, Boggut labeo, labeo boggut

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Labeo
প্রজাতি: L. boggut

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology)
ল্যাটিন শব্দ labeo অর্থ যার বড় ঠোট আছে থেকে Labeo শব্দটি এসেছে (Froese and Pauly, 2015) ।

সমনাম (Synonyms)
Chondrostoma boggut Sykes, 1839
Tylognathus striolatus Günther, 1868

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: ঘনিয়া, গহরিয়া
English: Boggut labeo
india: নুনিয়া (Nunia), নুসিগাদু (Nusigadu), কোলিস (Kolees), সন্ধি (Sande) ও লোই (Loi) (Talwar and Jhingran, 1991) ।

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত ( উত্তর ভারত এবং কাবেরী নদীর অববাহিকা পর্যন্ত ) এবং পাকিস্তানে এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991) ।
বাংলাদেশ, ভারত (অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার, ছত্তিসগড়, গোয়া, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) ও পাকিস্তানের স্থানীয় মাছ (Dahanukar, 2013)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই (Data deficient) । Rahman (1989) গবেষণায় বাংলাদেশে এই প্রজাতির কোন সদস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি ।
এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড 3.1 অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই মাছ বিস্তৃত পরিসরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এই প্রজাতির জনতার ধারা (Population Trend) স্থিতিশীল (Stable) (Dahanukar, 2013)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বা দেহ পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। পৃষ্ঠ প্রান্ত অঙ্কীয় প্রান্তের চেয়ে অনেক বেশী উত্তল। অঙ্কীয় প্রান্ত প্রায় সোজা তবে পায়ুপাখনার পেছনে হঠাৎ করের অধিক বাঁকা। তুণ্ড ও ঠোট পুরু। মুখের হা মধ্যম আকারের। এক জোড়া খর্বাকার স্পর্শী উপরের চোয়ালে অবস্থিত। তুণ্ডে কয়েকটি ছিদ্র উপস্থিত। পার্শ্বরেখা সামান্য অবতল ও দেহের উভয় পাশে মাঝ বরাবর অস্থান করে। পার্শ্বরেখা সম্পূর্ণ অর্থাৎ কানকোর পর থেকে পুচ্ছপাখনার গোড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। Rahman (1989) এবং Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে পার্শ্বরেখা বরাবর ৬০-৬৫ টি আঁইশ উপস্থিত। শ্রোণীপাখনার গোড়া থেকে পার্শ্বরেখা পর্যন্ত ৮-৯ সারি আঁইশ উপস্থিত (Mohsin, 2009)।
বক্ষপাখনা প্রায় মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। পৃষ্ঠপাখনা পুচ্ছপাখনার গোড়ার চেয়ে তুণ্ডশীর্ষের সামান্য নিকটবর্তী স্থান হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। শ্রোণীপাখনা পৃষ্ঠপাখনার বিপরীতে অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত। পুচ্ছপাখনা গভীরভাবে দ্বিবিভক্ত। Rahman (1989 and 2005) অনুসারে এদের মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যে ও দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৫.৫-৬.০ গুণ ও ৫.৫-৬.৩গুণ এবং মাথার দৈর্ঘ্য চোখের বাসের ৪.৫-৫.০ গুণ।
এদের দেহের উভয় পাশ রূপালি বর্ণের। পৃষ্ঠদেশ কালচে। পুচ্ছপাখনার গোড়ায় একটি গাঢ় কালো দাগ উপস্থিত। পাখনাসমূহ কমলা বর্ণের।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 11-12 (3/8-9); P1. 17; P2. 9 (1-8); A. 7(2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 8-9; A ii 5; P i 16; V i 8 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ২০ সেমি। অন্যদিকে Menon (1999) অনুসারে ২৯ সেমি।

স্বভাব ও আবাস্থল (Habit and Habitat)
এই প্রজাতির মাছ প্রধানত নদী ও হ্রদে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে হাওর এলাকায় এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য পাওয়া যায়। জলাশয়ের উপরিভাগ ও তলদেশ উভয় স্থানেই এদের দেখতে পাওয়া যায় (Mohsin, 2009)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রধানত উদ্ভিদকণা (plankton) খেয়ে থাকে (Mohsin, 2009)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
প্রাথমিক খাদক হিসেবে জলজ বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য-জালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে (Mohsin, 2009)।

প্রজনন (Breeding)
এই প্রজাতির জনতার (population) দ্বিগুণ হওয়ার ন্যূনতম সময়কাল কমপক্ষে পনের মাস (Froese and Pauly, 2015)।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
ভারতে চাষের পুকুরের একটি জনপ্রিয় প্রজাতি এবং সম্ভবত ভারতের গুজরাটের কঠিয়ায়ের (kathiawar) অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে স্বাদুপানির মাছের মধ্যে এই মাছ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991) ।
বাংলাদেশে একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির যত মাছ আছে তার মধ্যে এর অবস্থান প্রথম দিকে। এই মাছকে কৃত্রিম প্রজননসহ ও চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় তেমনই মৎস্য উৎপাদনেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Dahanukar N (2013) Labeo boggut. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 03 May 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/172409/0
  • Froese R and Pauly D (Eds.) (2015) Species Summery: Labeo boggut (Sykes, 1839), Boggut labeo.
    FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 04 May 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/13169
  • Günther A (1868) Catalogue of the fishes in the British Museum. Catalogue of the Physostomi, containing the families Heteropygii, Cyprinidae, Gonorhynchidae, Hyodontidae, Osteoglossidae, Clupeidae,… [thru]… Halosauridae, in the collection of the British Museum. Catalogue of the fishes in the British Museum. v. 7: i-xx + 1-512.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Menon AGK (1999) Check list – fresh water fishes of India. Rec. Zool. Surv. India, Misc. Publ., Occas. Pap. No. 175, 366 p.
  • Mohsin ABM (2009) Labeo boggut. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 80-81.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 116.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 133.
  • Sykes WH (1839) On the fishes of the Deccan. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1838 (pt 6): 157-165.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 201-202.

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply