ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: ঘর পোয়া, Sucker head, Garra gotyla gotyla

ঘর পোয়া, Sucker head, Garra gotyla gotyla

ঘর পোয়া, Sucker head, Garra gotyla gotyla

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Garra
প্রজাতি: G. gotyla gotyla

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology)
মায়ানমারের স্থানীয় নাম তথা শব্দ garra অর্থাৎ বড় নাক (big nose) থেকে Garra শব্দটি এসেছে (Froese and Pauly, 2015)।

সমনাম (Synonyms)
Cyprinus gotyla Gray, 1830
Discognathus jerdoni kangrae Prashad, 1919
Discognathus kangrae Prashad, 1919
Garra gotyla (Gray, 1830)
Garra kangrae (Prashad, 1919)
Garra montisalsi Hora, 1921

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা (বাংলাদেশ): ঘর পোয়া, ঘর পইয়া
English: Gotyla, Sucker head
India: Siltoka, Kurka, Shingacha-mallaya (Talwar and Jhingran, 1991)।

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং মায়ানমারের উপরের দিকের এলাকায় এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপালে এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে (Froese and Pauly, 2015)। বাংলাদেশ, ভারত (অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, বিহার, ছত্তিসগড়, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তরাঞ্চল, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ), মায়ানমার ও পাকিস্তানের স্থানীয় মাছ (Rayamajhi and Jha, 2010)।
বাংলাদেশের সিলেটের নদী পিয়ান গাঙ (Piyan gang) এর অগভীর কূলবর্তী স্থান এবং ঠাকুরগাঁও এর নিকটবর্তী টাঙ্গন নদী থেকে এই মাছের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে (Rahman, 1989 and 2005) । ভারতে হিমালয়ের পরিষ্কার প্রবহমান জলধারায় এবং হ্রদে এদের খুঁজে পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এরা হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতির অন্তর্গত নয় (IUCN Bangladesh, 2000) । এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড সংস্করণ ৩.১ অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় যদিও এর জনতার ধারা (Population Trend) অজানা (Rayamajhi and Jha, 2010)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
লম্বা দেহ প্রায় নলাকার তবে পার্শ্বীয়ভাবে সামান্য চাপা। অঙ্কীয় প্রান্ত প্রায় সোজা তবে পৃষ্ঠীয় প্রান্ত উত্তল। এদের মুখ অর্ধবৃত্তাকার ও নিম্নমুখী । থুতনিতে চোষক চাকতি উপস্থিত যারা সাহায্যে এরা সহজেই পাথরের গায়ে আটকে থাকতে পারে। তুণ্ড উন্নতভাবে বিকশিত এবং বর্ধিত। মূলত একটি খাঁজ প্রসারিত হয়ে এটি তৈরি করে। এদের দুই জোড়া স্পর্শী উপস্থিত যার মধ্যে এক জোড়া চঞ্চুতে এবং অপর জোড়া উপরের চোয়ালে অবস্থিত। স্পর্শী গুলো খর্বাকার যা চক্ষু ব্যাসের চেয়েও অনেক খাটো। নাসারন্ধ্র চোখের সম্মুখে অবস্থিত। চোখ তুলনামূলকভাবে পৃষ্ঠদেশের নিকটে অবস্থিত।
পৃষ্ঠপাখনা দেহের পৃষ্ঠদেশে তুলনামূলকভাবে পুচ্ছপাখনার ভিত্তির চেয়ে তুণ্ডশীর্ষের নিকটে শুরু হয়েছে। শ্রোণীপাখনা তুণ্ডশীর্ষ ও পুচ্ছপাখনার ভিত্তির মধ্যবর্তী স্থানে অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত। পার্শ্বরেখা অস্পষ্ট। পার্শ্বরেখা বরাবর Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৩২ টি এবং Tawar and Jhingran (1991) অনুসারে ৩২-৩৫ টি আঁইশ উপস্থিত। শ্রোণীপাখনার গোড়া ও পার্শ্বরেখার মাঝে ৩.৫ সারি, শ্রোণীপাখনার গোড়া ও পৃষ্ঠপাখনার উৎপত্তির মাঝে ৬-৬.৫ সারি এবং পৃষ্ঠপাখনার অগ্রে ৯ সারি আঁইশ উপস্থিত (Rahman and Ruma, 2009)। আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৩.৬-৩.৮ ও ৪.৫-৪.৮গুণ এবং দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৪.৩-৩.৫ ও ৫.৩-৫.৫গুণ (Rahman, 1989 and 2005)।
দেহের পৃষ্ঠদেশ গাঢ় বাদামী বর্ণের কিন্তু অঙ্কীয়দেশ হালকা গোলাপি বর্ণের। কানকোর উপরের কিনারায় একটি কালো দাগ উপস্থিত। পৃষ্ঠপাখনার গোড়া বরাবর এক সারি কারো দাগ দেখতে পাওয়া যায় (Rahman and Ruma, 2009)। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই মাছের ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা ৫০ পাওয়া গেছে (Rahman and Ruma, 2009)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 10 (2/8); P1. 15; P2. 9; A. 7 (2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 7-8; A ii 5; P i 14; V i 8 (Talwar and Jhingran, 1991).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এই মাছের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য Talwar and Jhingran, (1991) অনুসারে ১৪ সেমি, Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৮.৬ সেমি। অন্যদিকে Menon (1999) অনুসারে এই মাছের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য মোট দৈর্ঘ্যে ১৪.৫ সেমি।

স্বভাব ও আবাস্থল (habit and Habitat)
পরিণত মাছেরা ঝর্ণাধারা ও হ্রদে বাস করে (Froese and Pauly, 2015)। পাহাড়ি অঞ্চলের পরিষ্কার প্রবহমান জলধারায় এবং হ্রদে এদের পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991) । জলাশয়ের পাথুরে তলদেশে অবস্থান করে এরা তীব্র স্রোত ও শিকারি প্রাণীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে EOL (2015)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রধানত শৈবাল, জলজ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদ ও প্রাণীর গলিত ও পচা অংশ খেয়ে থাকে (Froese and Pauly, 2015)। এরা প্রধানত উদ্ভিদভোজী এবং জলাশয়ের তলদেশ থেকে খাবার সংগ্রহ করে থাকে। মূলত এরা শৈবাল, আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ ও উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা ও গলিত অংশ খাবার হিসেবে গ্রহণ করে থাকে EOL (2015)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা বাস্তুতস্ত্রে শৈবালের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (Rahman and Ruma, 2009)। গলিত ও পচা উদ্ভিদাংশ খেয়ে পানি পরিস্কারে এদের ভূমিকা রয়েছে।

প্রজনন (Breeding)
পরিণত পুরুষ মাছের নাসিকায় ক্ষুদ্র গুটিকা দেখা যায় যা থেকে এদের স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করা যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। পনের মাসের কম সময়ের মধ্যেই এদের জনতা (population) দ্বিগুণ হয়ে থাকে (Froese and Pauly, 2015)।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
ভারতে খাবারের মাছ হিসাবে এই মাছ অত্যন্ত মূল্যবান কিন্তু মৎস্যখাতে অর্থনৈতিকভাবে এরা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় (Talwar and Jhingran, 1991) । বাংলাদেশে এই মাছ বিরল। একক প্রজাতি হিসেবে এর উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায় না। হাওর এলাকায় কদাচিৎ অন্য মাছের সাথে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এই মাছের কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে করা সম্ভব হলে এবং চাষের মাছ হিসেবে এর উৎপাদন করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন বিলুপ্তির হাত থেকে এই প্রজাতিকে বাঁচানো সম্ভব হবে অন্যদিকে মৎস্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • EOL (2015) Garra gotyla gotyla (Gray, 1830) Sucker head. Downloaded on 05 May 2015 and form http://eol.org/pages/1279493/details
  • Froese R and Pauly D (Eds.) (2015) Species Summery: Garra gotyla gotyla (Gray, 1830) Sucker head. FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 05 May 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/13249
  • Gray JE (1830) Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., …. 20 parts in 2 vols. Illustrations of Indian zoology; chiefly selected from the collection of Major-General Hardwicke, F.R.S., …. Pls. 1-202.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Menon AGK (1999) Check list – fresh water fishes of India. Rec. Zool. Surv. India, Misc. Publ., Occas. Pap. No. 175, 366 p.
  • Prashad B. 1919. On a new species of Discognathus from the Kangra Valley. Records of the Indian Museum (Calcutta) v. 16 (pt 1): 163-165.
  • Rahman AKA. 1989. Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 141-142.
  • Rahman AKA. 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 160-161.
  • Rahman AKA and Ruma F (2009) Garra gotylat. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 74-75.
  • Rayamajhi A and Jha BR (2010) Garra gotyla. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 04 May 2015 and form http://www.iucnredlist.org/details/166526/0
  • Talwar PK and Jhingran AG. 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 421-422.

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply