ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: গোনিয়া, Kuria labeo, Labeo gonius

গোনিয়া, Kuria labeo, Labeo gonius

গোনিয়া, Kuria labeo, Labeo gonius

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Labeo
প্রজাতি: L. gonius

নামের শব্দতত্ত্ব
ল্যাটিন শব্দ Labeo যার অর্থ বড় ঠোটধারী (one who has large lips)।

সমনাম (Synonyms)
Cyprinus gonius Hamilton, 1822
Labeo microlepidotus Valenciennes, 1842
Osteochilus chalybeatus (Valenciennes, 1842)
Rohita chalybeata Valenciennes, 1842
Rohita gonius (Hamilton, 1822)
Rohita microlepidota (Valenciennes, 1842)

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: গোনিয়া, ঘাইন্না, গোনি, কুরচি ।
English: Kuria labeo
India: Gonya, Courie, Bahtoor, Kurhi, Kuria, Kurcha, Sirheen and Siriha (Talwar and Jhingran, 1991).

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
এরা স্বাদুপানির মাছ, উষ্ণজলের স্বাদুপানির মধ্যেই অভিপ্রয়াণ করে থাকে। এদের ভৌগলিক বিস্তৃতি 38°N – 8°S (Froese and Pauly, 2013)।
বাংলাদেশ, ভারত (অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিম বঙ্গ), মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তানে এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে (Dahanukar, 2010) ।
বাংলাদেশের সিলেটের নষ্টগঙ্গা নদীতে এদের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে (Rahman, 1989 and 2005)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে এরা বাংলাদেশে বিপদাপন্ন (Endangered) মৎস্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।
এদের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status) মানদণ্ড ৩.১ অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই প্রজাতির মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় তবে জনতার ধারা (Population Trend) অজানা

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
দেহ লম্বা। উদরীয় প্রান্ত পৃষ্ঠীয় প্রান্তের চেয়ে বেশি উত্তল। মুখ ভোঁতা, সংকীর্ণ এবং নিম্নমুখী। ঠোঁট পুরু এবং ঝালর বিশিষ্ট। মাঝারি আকারে চোখ যা মাথার নীচের দিক থেকে দৃষ্টিগোচর হয় না । এদের দুই জোড়া ছোট স্পর্শী বর্তমান যার মধ্যে একজোড়া চঞ্চুতে এবং অপর জোড়া নিচের চোয়ালে অবস্থিত। বক্ষপাখনা মাথার দৈর্ঘ্যের সমান, পুচ্ছপাখনা দ্বিখণ্ডিত। পার্শ্বরেখায় Bhuiyan (1964) এবং Talwar and Jhngran (1991) অনুসারে ৭১-৮৪ টি এবং Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৭৩-৮০ টি আঁইশ দেখতে পাওয়া যায় ।
পৃষ্ঠ দিকের বর্ণ সবুজাভ কালো যা পার্শ্বীয় দিকে ক্রমশ ক্রমশ হালকা হয়ে গেছে । আঁইশ এর প্রান্ত কালো বর্ণ ধারণ করে যা অণুদৈর্ঘ্য রেখার সৃষ্টি করে। এদের আদর্শ ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৩.৮-৪.০ ও ৫.০-৫.৩গুণ এবং দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৩.৫-৩.৭ ও ৪.৫-৪.৮গুণ। মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যাসের ৫.০-৫.৫ গুণ, তুণ্ড চোখের ব্যাসের ১.৫-২.০ গুণ (Rahman, 1989 and 2005) ।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 15-19 (2-3/13-16); P. 17-18; V. 9; A. 8 (3/5); C. 19 (Bhuiyan, 1964)
D ii-iii 13-16; A ii 5-6; P i 16; V i 8 (Talwar and Jhingran, 1991)
D. 16-17 (3/13-14); P1. 15-16; P2. 9(1/8); A. 7(2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D. 15-19; A. 8(3/5); P. 17-18; V. 9; C. 19 (Shafi and Quddus, 2001)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ও ওজন (Maximum length weight)
Bhuiyan(1964) অনুসারে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি, Rahman ( 1989 and 2005) অনুসারে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬১ সেমি এবং সর্বোচ্চ ওজন ১.৩৬ কেজি, Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১৫০ সেমি এবং Shafi and Quddus, (2001) অনুসারে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি, Froese and Pauly (2013) অনুসারে এই মাছের নথিভুক্ত সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ১৫০ সেমি এবং সর্বোচ্চ ওজন ১.৪ কেজি।

আবাস্থল (Habitat)
স্বচ্ছজলের নদী ও উপনদীতে বাস করে । ছোট আকারে গভীর জলাশয় (pool), ধীরগতির স্রোত বিশিষ্ট ছোট নদীতেও এদের পাওয়া যায় (Bhuiyan, 1954)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা শেত্তলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ, ক্রাস্টেশিয়ান এবং পতঙ্গের শূককীট খেয়ে থাকে (Bhuiyan, 1964; Shafi and Quddus, 2001)।

প্রজনন (Breeding)
এরা নদীর মাছ এবং নদীতেই বর্ষায় প্রজনন করে থাকে। সাধারণত পুকুরে প্রজনন করে না। দক্ষিণ-পশ্চিমের মৌসুমি বায়ু প্রবাহের সময়কালে এরা ডিম দেয়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সফল ভাবে পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে (Talwar and Jhingran, 1991)। সাধারণত বৃষ্টির পরে ৭০-৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় পরিষ্কার জলে এরা ডিম দেয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিমের পরিস্ফুটন সম্পন্ন হয় ও ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়ে থাকে (Bhuiyan, 1964)। এদের ডিম ভাসমান প্রকৃতির তবে আঠালো নয় (Shafi and Quddus, 2001)।
এদের জনতা দ্বিগুণ হওয়া সময়কালে ১৪ বছর (Froese and Pauly, 2013)।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
মাছচাষের প্রজাতি হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। রুই জাতীয় মাছের সাথে চাষ করা যায়। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। মাছ চাষ ও মৎস্য ব্যবস্থাপনায় এই মাছের বাণিজ্যিক গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয় (Froese and Pauly, 2013)।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Bhuiyan AL (1964) Fishes of Dacca, Asiat. Soc. Pakistan, Pub. 1, No. 13, Dacca, pp. 24-26.
  • Dahanukar N (2010) Labeo gonius. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2015.1. . Downloaded on 03 June 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/166436/0
  • Froese R and Pauly D (Editors) (2013) Species Summery: Labeo gonius (Hamilton, 1822), Kuria labeo. FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 06 June 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/10254.
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Shafi M and Quddus MMA (2001) Bangladesher Matsho Shampad (Fisheries of Bangladesh) (in Bengali), Kabir publication. Dhaka, Bangladesh. pp. 67-68.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 113-114.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 130-131.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 210-211.
  • Cuvier G and Valenciennes A (1842) Histoire naturelle des poissons. Tome seizième. Livre dix-huitième. Les Cyprinoïdes. Histoire naturelle des poissons. v. 16: i-xx + 1-472, Pls. 456-487.

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply