ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: ঘোড়া মুখো রুই, Pangusia labeo, Labeo pangusia

ঘোড়া মুখো রুই, Pangusia labeo, Labeo pangusia

ঘোড়া মুখো রুই, Pangusia labeo, Labeo pangusia

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Labeo
প্রজাতি: L. pangusia

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology):
ল্যাটিন শব্দ Labeo যার অর্থ বড় ঠোটধারী থেকে Labeo গণ নামটি এসেছে (Froese and Pauly, 2015)।

সমনাম (Synonyms)
Cyprinus pangusia (Hamilton, 1822)
Gobio pangusia (Hamilton, 1822)
Labeo kunki Chaudhuri, 1912

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা (বাংলাদেশ): ঘোড়া মুখো, ঘোড়া মুখ্যা, লংগু রুই, ঘোড়া মাছ
ভারত: Lasu (লাসু) Utti (উত্তি), Boalla (বয়াল্লা), Rewa (রেওয়া), Loanee (লওয়ানী), Akhrot (আখরোট) and Bhangan (ভাঙ্গন) ।
English: Pangusia labeo

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত (হিমালয় এর গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকা) এবং পাকিস্তানে এই মাছ পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। আফগানিস্তান, ভুটান ও মায়ানমার এ এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য পাওয়া যায় (Froese and Pauly, 2015)।
বাংলাদেশে বৃহত্তর সিলেট জেলায় এদের পাওয়া যায় (IUCN Bangladesh, 2000)। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নদী এবং ছাতক (সিলেট) নিকটবর্তী সুরমা নদীতে এদের পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
বাংলাদেশে এই মাছের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এরা মহা-বিপন্ন প্রজাতির তালিকার অন্তর্ভূক্ত (IUCN Bangladesh, 2000)।
এই মাছের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড ৩.১ অনুসারে হুমকিগ্রস্তের নিকটবর্তী (Near Threatened) এবং এদের জনতার ধারা নিম্নমুখী (Dahanukar, 2010.)।
এই মাছের জনতা দ্বিগুণ হওয়ার সময়কাল ন্যূনতম ১৪ বছর (Froese and Pauly, 2015)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
এদের দেহ লম্বা এবং পৃষ্ঠ প্রান্ত অঙ্কীয় প্রান্তের চেয়ে অধিক উত্তল। মুখ ছোট। চোখ ছোট, ঠোঁট পুরু ও ঝালর-বিহীন। উপরের চোয়ালে ছোট স্পর্শী উপস্থিত। পৃষ্ঠপাখনা তুণ্ডের অগ্রভাগে প্রথিত অবস্থায় থাকে। বক্ষপাখনা শ্রোণীপাখনা পর্যন্ত বর্ধিত নয়। পুচ্ছপাখনা দ্বিখণ্ডিত । (Rahman, 1989 and 2005) অনুসারে পার্শ্বরেখা বরাবর ৪০-৪৩ টি মাঝারি আকারের আঁইশ উপস্থিত।
দেহের বর্ণ বসবাসকারী জলাশয়ের জলের বর্ণের উপর নির্ভরশীল। নদীতে বসবাসকারী মাছের পৃষ্ঠপ্রান্ত বাদামী, পার্শ্ব ও অঙ্কীয় প্রান্ত হলুদাভ ও সাদা। অন্যদিকে পাহাড়ি নদীর ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপ্রান্ত গাঢ় কালচে এবং অঙ্কীয় প্রাপ্ত হালকা হলুদাভ বর্ণের হয়ে থাকে।
এদের আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৪.০-৪.২ ও ৫.০-৫.৬গুণ। আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৩.৪-৩.৬ ও ৪.২-৪.৬গুণ । মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যাসের ৫.০-৫.৮ গুণ ,তুণ্ডের ২.৬-৪.২ গুণ ,আন্তঃ অরবিটালের ২.৫-৪.০ গুণ (Rahman, 1989 and 2005) ।
এই মাছের ডিপ্লয়েড ক্রোমোজম সংখ্যা ৫০ (Haque, 2009) ।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D ii-iii 10-11; A ii 5; P i 14-15; V i 8 (Talwar and Jhingran, 1991)
D. 12-13 (2/10-11); P1. 15-16; P2. 9(1/8); A. 7(2/5) (Rahman, 1989 and 2005; IUCN Bangladesh, 2000)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman ( 1989 and 2005) অনুসারে ৩৫.৭ সে.মি.। Talwar and Jhingran ( 1991) অনুসারে ৬০ সে.মি.। IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে ৩৬ সে.মি. । Froese and Pauly (2015) অনুসারে মোট দৈর্ঘ্যে সর্বোচ্চ ৯০ সেমি পর্যন্ত হতে পারে।

আবাস্থল (Habitat)
এরা নদী, হ্রদ এবং পুকুর এ বসবাস করে (Talwar and Jhingran, 1991; IUCN Bangladesh, 2000) । পানির উপরিভাগ ও তলদেশ উভয়স্তরেই বাস করে এবং স্বাদুপানির অভ্যন্তরেই এরা অভিপ্রয়াণ করে (Haque, 2009)। নদী, হ্রদ ও অন্যান্য স্রোতযুক্ত জলাশয়ে এদের দেখা মেলে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা প্রধানত শৈবাল (algae), ডায়াটম (diatoms), জলজ উদ্ভিদ ইত্যাদি খেয়ে থাকে (Haque, 2009) ।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা শৈবাল (algae), ডায়াটম (diatoms), জলজ উদ্ভিদ ইত্যাদি খেয়ে এদের আবাস্থল পরিস্কার রাখতে ভূমিকা রাখে (Haque, 2009)।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery information)
খাবারের মাছ হিসেবে এরা চমৎকার। বাংলাদেশে একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায়না। নদীতে খুব কমই এরা ধরা পড়ে (Rahman, 2005)। ভারতের উত্তরবঙ্গ ও আসামের মৎস্যখাতে এদের অবদান অল্পই (Talwar and Jhingran, 1991)।

তথ্য সূত্র (References)

  • Chaudhuri BL (1912) Descriptions of some new species of freshwater fishes from north India. Records of the Indian Museum (Calcutta) v. 7 (pt 5): 437-444, Pls. 38-41.
  • Dahanukar N (2010) Labeo pangusia. The IUCN Red List of Threatened Species 2010: e.T166497A6221734. http://dx.doi.org/10.2305/IUCN.UK.2010-4.RLTS.T166497A6221734.en. Downloaded on 03 December 2015.
  • Froese R and Pauly D (Editors) (2015) Species Summery: Labeo pangusia (Hamilton, 1822). FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 03 December 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/13176
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Haque W (2009) Puntius guganio. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. p.85-86.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 118-119.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 135-136.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 216-217.

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply