ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: ভাঙ্গন, Boga labeo, Labeo boga

ভাঙ্গন, Boga labeo, Labeo boga

ভাঙ্গন, Boga labeo, Labeo boga [Photo credit: Sharmin Siddique Bhuiyan (Reference)]

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes
পরিবার: Cyprinidae
উপপরিবার: Cyprininae
গণ: Labeo
প্রজাতি: L. boga

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology)
ল্যাটিন (Latin) শব্দ Labeo অর্থ বড় ঠোঁটধারী অর্থাৎ এদের মাংসল পুরু ঠোট উপস্থিত (Froese and Pauly, 2015)।
অন্যদিকে boga শব্দটি এসেছে এর স্থানীয় বাংলা নাম থেকে (Seriouslyfish, 2015) ।

সমনাম (Synonyms)
Cyprinus boga Hamilton-Buchanan, 1822.
Labeo boga Day, 1878, 1889; Shaw and Shebbeare, 1937; Jayaram et al., 1982
Gobio boga McClelland, 1839
Cirrhina boga Steindachner, 1867

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: ভাঙ্গন, ভাঙ্গন বাটা ।
English: Boga labeo
বাহারি মাছ হিসেবে বাণিজ্যিক নাম (Ornamental Trade Name): Violet Shark

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মায়ানমার (Froese and Pauly, 2015)। ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও অন্যান্য প্রধান প্রধান নদী, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ ও মায়ানমারে এই মাছ পাওয়া যায়। নদী ও নদীর অববাহিকা ছাড়াও মানুষ সৃষ্ট জলাশয় যেমন পুকুর, হ্রদ ইত্যাদিতেও এদের দেখা মেলে (Seriouslyfish, 2015) । বাংলাদেশের দিনাজপুরের কাঞ্চন নদীতে এই প্রজাতি মাছের দেখা মেলে (Rahman and Ruma, 2009)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই প্রজাতি মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। আবাসস্থল ধ্বংসই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড ৩.১ অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই প্রজাতির মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। এই মাছের বর্তমান জনতার ধারা (Population Trend) অজানা (Dahanukar, 2010)। জনতা দ্বিগুণ হতে ন্যূনতম সময় লাগে ১.৪ থেকে ৪.৪ বছর (Froese and Pauly, 2015)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
এদের দেহ লম্বা। পৃষ্ঠীয়প্রান্ত অঙ্কীয় প্রান্তের চেয়ে সামান্য উত্তল। তুণ্ড মুখের তুণ্ড চোয়ালের উপর মধ্যমভাবে অভিক্ষিপ্ত এবং অল্প সংখ্যক ছিদ্রবিশিষ্ট তবে এতে কোন পার্শ্বীয় লোব থাকে না। চোখ তুলনামূলক বড় এবং তুলনামূলকভাবে মাথার উপরের দিকে অবস্থিত যা অঙ্কীয় তল থেকে দেখা যায় না। মুখ সংকীর্ণ, ঠোঁট বেশ পুরু। অধর তথা নিচের ঠোঁট যোজকের মাধ্যমে ইসমাসের (isthmus) সাথে সংযুক্ত। উপরের চোয়ালে ক্ষুদ্রাকার স্পর্শী উপস্থিত। পৃষ্ঠ পাখনা তুলনামূলকভাবে পুচ্ছ পাখনার গোঁড়ার চেয়ে তুণ্ডের নিকট থেকে শুরু হয়েছে যা শ্রোণী পাখনার সামান্য সম্মুখে পৃষ্ঠীয় দিকে অবস্থিত।
পৃষ্ঠদেশ ধূসর কিন্তু উদর ও পার্শ্বদেশ রূপালি বর্ণের। মাথার শেষ প্রান্তে পৃষ্ঠদেশ বরাবর কালো দাগ উপস্থিত। কানকো তামাটে বর্ণের। পাখনাসমূহ কাল দাগ যুক্ত এবং বক্ষপাখনা ছাড়া অন্যান্য পাখনাসমূহে কিঞ্চিৎ লালচে ভাব দেখা যায়। Rahman (2005), Rahman and Ruma (2009) and Talwar and Jhingran (2001)।

পার্শ্বরেখা বরাবর Talwar and Jhingran (2001) অনুসারে ৩৭-৩৯ টি, Rahman and Ruma (2009) অনুসারে ৩৯টি আঁইশ উপস্থিত।

ভাঙ্গন, Boga labeo, Labeo boga

ভাঙ্গন, Boga labeo, Labeo boga [Photo Credit: Ismat Ara Zakia (Reference)]

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 2-3/9-10, P1. 1/15-17, P2. 1/8, A. 2-3/5-6 (Zakia IA (2010)
D. 2-3/9-10, P1.1/15, P2. 1/8. A. 2/5 (Talwar and Jhingran, 2001)
D. 3/8-9, P1.17, P2. 9. A. 2/5 (Rahman, 2005 )
D. 3/9, P1.15, P2. 9. A. 2/5 (Rahman and Ruma, 2009)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি (Talwar and Jhingran, 2001), বাংলাদেশে ৯.৭ সেমি (Rahman and Ruma, 2009)।

আবাসস্থল (Habitat)
এরা প্রধানত নদী, খাল, বিল, হাওর-বাওরে বসবাস করে । এরা তলদেশ অধিবাসী (Bhuiyan, 1964)। উষ্ণজলের এই মাছ জলাশয়ের তলদেশ ও উপরিতলে বাস করে এবং স্বাদুপানির জলাশয়ের অভ্যন্তরেই অভিপ্রয়াণ করে (Froese and Pauly, 2015)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
প্রকৃতিতে এরা প্রধানত তলাবাসী প্রাণী খেয়ে থাকে (Seriouslyfish, 2015) । সাধারণত প্ল্যাঙ্কটন, শৈবাল, ছোট ছোট জলজ উদ্ভিদ, ক্রাশটেশিয়ানস ইত্যাদি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে থাকে (Rahman and Ruma, 2009)। এরা তলদেশের অধিবাসী এবং পচা উদ্ভিদ, শ্যাওলা এবং প্ল্যাঙ্কটন ইত্যাদি খাবার হিসেবে খেয়ে থাকে (Rahman, 2005)।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খেয়ে খাদ্যচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে (Rahman and Ruma, 2009)।এরা উদ্ভিদ পঁচা অংশ খেয়ে জলাশয়কে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রজনন (Breeding)
এদের প্রজনন কাল এপ্রিল-জুন, গ্রীষ্মের শুরুতে যখন খুব বেশি বৃষ্টি তখন এরা প্রজনন করে থাকে (Bhuiyan, 1964)। এরা ভরা বর্ষায় প্রজনন করে থাকে (Rahman and Ruma, 2009)।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium Management):
এই মাছের জন্য আদর্শ এ্যাকুয়ারিয়ামের ন্যূনতম আকার ২৪০ x ৬০ সেমি। তাপমাত্রা ১৮-২৪ °C, পিএইচ ৬-৮ এবং হার্ডনেস ৩৬-২৬৮ পিপিএম। এ্যাকুয়ারিয়ামে এর অধিকাংশ ডুবন্ত খাবার, ব্লাডওয়ার্ম (Bloodworm), টিউবিফেক্স (Tubifex) এবং শুষ্ক খাবার খেয়ে থাকে (Seriouslyfish, 2015) ।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
এটি একটি সুস্বাদু মাছ হিসাবে সুপরিচিত । এদেরকে পুকুরেও চাষ করা যায় (Rahman, 2005)। এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবেও দেশে-বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Bhuiyan AL (1964) Fishes of Dacca. Asiatic Soc. Pakistan, Publ. No. 13, Dacca. p.29.
  • Dahanukar N (2010) Labeo boga. The IUCN Red List of Threatened Species 2010: e.T166626A6250201. http://dx.doi.org/10.2305/IUCN.UK.2010-4.RLTS.T166626A6250201.en. Downloaded on 02 December 2015.
  • Day F (1878) Fishes of India. William Dowson and Sons., London. P. 576.
  • Day F (1889) Fishes. Fauna. Brit. India. William Dowson and Sons., London. 1-2: p. 269.
  • Froese R and Pauly D (Editors) (2015) Species Summery: Labeo boga. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 06 June 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/23949.
  • Hamilton-Buchanan (1822) Fishes of the Ganges. Archibald Constable and Company, Edinburgh. p. 286.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh. The Zoological Society of Bangladesh, Dhaka. p. 116.
  • Rahman AKA and Ruma F (2009) Labeo boga. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. p. 79-80.
  • Seriouslyfish (2015) Labeo boga (Hamilton, 1822), Violet Shark. Downloaded form
    http://www.seriousl1yfish.com/species/labeo-boga/ and on 31 December 2015.
  • Shaw GE and Shebbeare EO (1937) Fishes of Northern Bengal. J. Royal Asiat. Soc. Bengal Science. p. 43.
  • Talwar PK and Jhingran AG (2001) Inland Fishes of India and Adjacent countries. Oxford and IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi. p. 200.

 

English Feature:

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply