ক্যাটাগরি: নানাবিধ | মাৎস্য চাষ | স্বাদুপানি

মাছ ও চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার

মাছের ক্ষত রোগের জন্য ২ কেজি রসুন, ২ কেজি লবণ, ২০ গ্রাম পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট ও ২০ গ্রাম কপার সালফেট ( তুঁতে) ভাল করে ৩০-৫০ লিটার জলে মিশিয়ে পুকুরে প্রয়োগ করা হচ্ছে

কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত ভাবে রাসায়নিক ঔষধ (chemical drugs) মাছ চাষের পুকুরে প্রয়োগ করা সঠিক নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে মাছচাষিরাই বলতে শুরু করেছেন এন্টিবায়োটিকসহ বিবিধ রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহারের প্রেক্ষিতে মাছের সঠিক বৃদ্ধি হচ্ছে না, মাছের রঙ সুন্দর হচ্ছে না, ঔষধ প্রয়োগে কখনো কখনো সাময়িক কমে গেলেও মাছের কিছুদিন পরপরই আবার বিভিন্ন রোগ বালাই হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা ভাবতে বাধ্য হচ্ছি বিকল্প ব্যবস্থার। আমাদের হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন উদ্ভিদ যেমন নিম, তুলসী, পান, রসুন, আদা, কলাগাছ ইত্যাদির মাঝেই রয়েছে মাছের রোগ প্রতিরোধের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ। একই সাথে এসবের মাঝেই লুকিয়ে আছে মাছ চাষের খরচ কমানোর সব রহস্য। এছাড়াও মাছের রোগ প্রতিরোধ বা নিরাময়ে এসব উদ্ভিদ ব্যবহারের কোনও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও নেই। এমন কি এই সব উদ্ভিদের থেকে মাছের বৃদ্ধি, ক্ষুধামন্দা দূর, রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। ভেষজ এসব উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে কয়েক ধরণের শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকসহ সিনথেটিক ওষুধ বিভিন্ন সংবেদনশীলতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে। খাদ্যের সাথে গৃহীত এন্টিবায়োটিক পেশী কোষে সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শারীরিক অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে যেমন এলার্জি, বিষক্রিয়া, অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর পরিবর্তন ও ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি। মানুষের খাদ্যে ক্লোরামফেনিকলের উপস্থিতি রক্তাল্পতা ঘটাতে পারে। এর ফলে অস্থি-মজ্জার গুরুতর রোগ হতে পারে। নাইট্রোফুরান জাতীয় এন্টিবায়োটিক ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ ঘটাতে সক্ষম। এর বিষয়ে জানার পর বিশ্বব্যাপী সচেতন ব্যক্তিরা এন্টিবায়োটিকের প্রতিকূল প্রভাব বুঝতে পেরে রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রাকৃতিক জৈব উপাদান ব্যাবহারে আগ্রহী হচ্ছে এবং বেশীরভাগ দেশসমূহ জল কৃষি ও হ্যাচারিতে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।

এমতাবস্থায় রাসায়নিক ঔষধের পরিবর্তে ভেষজ উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহারই সুবিধাজনক। রোগ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক ব্যবহার করলে মাছের পেশীতে দূষিত রেমিট্যান্স বাড়ে যা মাছ গ্রহীতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ সে মাছ খেলে মানুষের শরীরে ক্ষতিকারক পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু ভেষজ উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহার জৈবিক পদ্ধতি হওয়ায় তা ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয় না একই সাথে এটি পরিবেশবান্ধবও। রাসায়নিক ঔষধ পরজীবী সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদী সমাধান দিতে পারে। তাছাড়া এগুলো অনেকক্ষেত্রেই মাছ চাষিদের কাছে ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি। রাসায়নিক উপাদান সমূহ সাধারণত পরজীবী সংক্রমণ থেকে অস্থায়ী পরিত্রাণ নিয়ে আসে এবং এর ফলে মাছে স্ট্রেস সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ায়। এই রাসায়নিক পদার্থগুলি বেশিরভাগ পরিবেশগত ভাবে টেকসই নয় এবং অধিকাংশই জলজ পালন পদ্ধতিতে ব্যবহারের জন্য অনেক দেশে নিষিদ্ধ। আমাদের দেশেও কয়েকটি এন্টিবায়োটিক ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

দেশীয় ভেষজ প্রযুক্তির ব্যবহার অনেকক্ষেত্রেই মাছ চাষিরা বংশপরম্পরা ব্যবহার করে থাকেন। প্রযুক্তিটির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে তাদের প্রায়ই কোন ধারণা না থাকা সত্ত্বেও তারা এর সুফল পেয়ে থাকে। বর্তমানে মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা এসব ভেষজ উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কিত বিষয়াদি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ জানতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের অর্জিত জ্ঞানের আলোকে চাষের পুকুরে মাছের রোগ নিরাময়ে রসুন, আদা, নিম, রেড়ি প্রভৃতি উদ্ভিদের ঔষধি গুনাগুণ ও এর ব্যাবহার পদ্ধতির উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিচে প্রদান করা হল।

পুকুরের জল মধ্যে ডুবিয়ে রাখা কলা গাছের কোষ ক্ষারীয় স্রোতের মাধ্যমে পুকুরের জলের পিএইচ (pH) বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

পুকুরের জল মধ্যে ডুবিয়ে রাখা কলা গাছের কোষ ক্ষারীয় স্রোতের মাধ্যমে পুকুরের জলের পিএইচ (pH) বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

কলা গাছ:
কলা গাছের কাণ্ড টুকরা টুকরা করে পুকুরের জলে ছড়িয়ে দেয়ার ফলে এর মধ্যে থাকা ক্ষারীয় উপাদান পুকুরের জলে মিশে জলের পিএইচ (pH) বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে । এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিকারের ভাল উদাহরণ।

বাঁশ ও গাছের ডাল:
বাঁশ ও গাছের ডাল পুকুরে ডুবিয়ে রাখা একটি দেশিয় পদ্ধতি। এতেকরে মাছের গায়ে উকুন হলে, প্রদত্ত বাঁশ বা ডালে মাছ গা ঘষে ঘষে উকুন তুলে ফেলতে পারে।

রসুন:
মাছের ক্ষত রোগ নিয়ন্ত্রণে রসুনের ব্যাবহার করা যায়। রসুনটি কার্যকর ভেষজ হিসাবে বিবেচিত হয় কারণ এটিতে অ্যালিসিন নামক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যৌগিক আছে যার ঔষধি গুণ বিশিষ্ট। পুকুরে খাবার প্রয়োগের পূর্বে প্রতি ১০০ কেজি মাছের জন্য ১০ গ্রাম রসুন ৩ দিন পর পর প্রয়োগ করলে মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। এপিজুটিক আলসারেটিভ সিন্ড্রোম বা মাছের ক্ষত রোগের জন্য ২ কেজি রসুন, ২ কেজি লবণ, ২০ গ্রাম পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট ও ২০ গ্রাম কপার সালফেট ( তুঁতে) ভাল করে ৩০-৫০ লিটার জলে মিশিয়ে ৩৩ শতাংশ বা ডেসিম্যাল (১ বিঘা) পুকুরে স্প্রে করে ছড়িয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও রসুনকে তুলসী ও হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে কাতলা মাছের ডিম পোনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

আদা, পেঁয়াজ ও রসুন

আদা, পেঁয়াজ ও রসুন

পেঁয়াজ:
মাছের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে পেঁয়াজ আখরোটের সাথে বেটে প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়। আবার পেঁয়াজ বেটে সয়াবিন যুক্ত মাছের খাবারের সাথে মিশিয়ে মাছকে খাওয়ালে তেলাপিয়া মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। পেঁয়াজে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ভিটামিন সি এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্ষতিকারক মাইক্রোঅরগানিজম দূর করতে সাহায্য করে।

তুলসী:
অ্যান্টিবডি তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা আছে তুলসীর। নিয়মিত তুলসীর ব্যাবহার মাছের মৃত্যুহার যেমন কমায় ঠিক তেমনি প্রাকৃতিক বৃদ্ধিকারক (গ্রোথ প্রোমোটার) হিসেবে কাজ করে। তাই সিনথেটিক গ্রোথ প্রোমোটার এর পরিবর্তে আমাদের উঠানের তুলসী গাছটি কেন ব্যবহার করব না? তাছাড়া ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে তুলসী। তুলসীর পাতা, ডাল, শিকড়, ফুল অর্থাৎ পুরো গাছই পুকুরে ব্যবহার করার উপযোগিতা আছে। ডেসিম্যাল প্রতি ১০ পিপিএম মাত্রায় ১৫ দিন পর পর ব্যাবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

কলমি শাক:
গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের কটন-মাউথ রোগের সব থেকে বড় আন্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে কলমি শাকের ব্যবহার সবথেকে বেশি কার্যকরী । প্রতি ১০ হাজার লিটার পুকুরের জলের জন্য ৩০ গ্রাম কলমি পাতা ভিজিয়ে প্রয়োগ করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ভেন্না বা রেড়ী:
ভেন্না বা রেড়ী (বৈজ্ঞানিক নাম: Ricinus communis) বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর পাতা মাছের লাল দাগ রোগে (এপিজুটিক আলসারেটিভ সিন্ড্রোম) ভালো কার্যকর। একহাজার বর্গ মিটার (২৫ ডেসিম্যাল ) ক্ষেত্রফলের পুকুরে (জলের গভীরতা ১ মিটার) রেড়ি বা ভেন্না গাছের ১৫ কেজি পাতা পনেরো দিন অন্তর জলের মধ্যে ডুবিয়ে প্রদান করলে উপকার পাওয়া যায়।

নিম:
নিম একটি দারুণ ভেষজ গাছ। মাছের রোগ নিরাময়ে নিমের ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। নিম পাতা পরজীবী রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যায়। মাছের উকুন নিয়ন্ত্রণে নিম পাতা পুকুরে ডুবিয়ে রাখতে হবে। একহাজার বর্গ মিটার (২৫ ডেসিম্যাল ) ক্ষেত্রফলের পুকুরে (জলের গভীরতা ১ মিটার) নিম গাছের ১০০ টি ডাল সহ পাতা পুকুরে ডুবিয়ে রাখতে হবে, প্রয়োজনে পনেরো দিন অন্তর দিলে উপকার পাওয়া যায়। এই উদ্ভিদের পাতায় নিম্বিন, আজাদিরচটিন ও মেলিয়েন্ট্রিল রয়েছে যা কীটনাশক ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। অনেকক্ষেত্রে নিমের ডালসহ পাতাকে জলে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে স্প্রে করা হয়ে থাকে। রঙিন মাছের ব্যাক্টেরিয়াল রোগে নিম দারুণ ভাবে কাজ করে। মাছের ক্ষতরোগ নিরাময়ে নিম বীজ গুঁড়া করে পুকুরে প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়। শীতের বা রোগের শুরুতে প্রতি শতাংশ/ডেসিম্যাল পুকুরে ১ কেজি নিম বীজ গুঁড়ো প্রয়োগ করতে হবে।

নুনিয়া শাক:
গ্রাসকার্প মাছের ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নুনিয়া শাক (বৈজ্ঞানিক নাম: Portulaca oleracea) খাবার হিসেবে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ১০০ কেজি গ্রাসকার্প মাছের জন্য ১.৫-৩ কেজি নুনিয়া শাক খাবার হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। নুনিয়া গাছের পাতাকে ভাল করে পরিস্কার মিষ্টি জলে ধুয়ে আবার হালকা (৩%) নোনাজলে ধুয়ে নিতে হবে । এভাবে ৫-৭ দিন প্রত্যহ একবার করে দিতে হবে। যখন মাছের খাদ্যের চাহিদা বেশি থাকবে তখন দিলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

কালোকেশী বা কেশরাজ:
মাছের পরজীবী আক্রমণের থেকে রক্ষা পেতে কালোকেশী বা কেশরাজ (বৈজ্ঞানিক নাম: Eclipta alba) গাছের পাতা খাবার হিসেবে দিলে উপকার পাওয়া যায়। ১০ গ্রাম কালোকেশী গাছের পাতার সাথে ১০ গ্রাম পান পাতা বেটে স্কুইড লিভার অয়েলের সাথে মাখিয়ে দিনে তিনবার মাছের খাবারের সাথে মিশিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

বিষকাটালী:
বিষকাটালী বা ওয়াটার পিপার এর পাতা এপিজুটিক আলসারেটিভ সিন্ড্রোম বা মাছের লাল দাগ রোগে ভালো কার্যকর। ১০০ কেজি মাছের জন্য ৩ কেজি বিষকাটালী বা ওয়াটার পিপার এর পাতাকে জলে সেদ্ধ করে মাছের খাবারের সাথে মিশিয়ে পর পর ৩-৬ দিন দিলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

ভুঁই আমলা:
ভুঁই আমলা ছোট বর্ষজীবী বীরুৎ। পাতা সরল ছোট। ফুল ছোট ছোট। ফল আমলকীর মতো, তবে খুব ছোট। বর্ষার শেষ ভাগে ফুল ও তারপর ফল হয়। . প্রচলিত নাম : ভুঁই আমলা (Phyllanthus), বৈজ্ঞানিক নাম: Phyllanthus riruri । এটি মাছ ও চিংড়ির ভাইরাস ঘটিত রোগে ভাল উপকার দেয়। ১০০-১৫০ মিলিগ্রাম প্রতি দেহ ওজনে প্রয়োগ করা হয়। এর সক্রিয় যৌগগুলি মাছের দেহের কোষে ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা প্রদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ এটি হোস্ট ইমিউন সিস্টেমের জন্য immunostimulants হিসাবে কাজ।

করলা:
করলা মাছ ও চিংড়ির ভাইরাস ঘটিত রোগে ভাল উপকার দেয়। করলার কার্যকারিতা ও ব্যবহার ভুঁই আমলা অনুরূপ।

ঘৃতকুমারী:
ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) রস মাছের রোগ নিরাময়েও ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। ঘৃতকুমারীতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরী উপাদান। এই দুটি উপাদান মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গোল্ড ফিসে এটি প্রয়োগে সফলতা পেয়েছেন মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা।

আদা:
মাছের পরিপাক সংক্রান্ত সমস্যা এর প্রতিষেধক হিসেবে আদার ব্যবহার খুব জনপ্রিয়।

অশ্বগন্ধা:
অশ্বগন্ধা গাছের পাতায় কার্প জাতীয় মাছের হাইড্রফিলা সংক্রমণের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা এবং রোগ প্রতিরোধের উদ্দীপনামূলক প্রভাব রয়েছে।

কলমিশাক, ঘৃতকুমারী ও থানকুনি

কলমিশাক, ঘৃতকুমারী ও থানকুনি

কালমেঘ ও থানকুনি:
কালমেঘ ও থানকুনি প্রয়োগে মাছের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের প্রভাব কমানো যায়।

মাশরুম ও মধুমতী:
মাশরুম ও মধুমতী ফুলের মিশ্রণ প্রয়োগে তেলাপিয়া মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।

সুপারি:
আবার মাছের হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননে উৎপন্ন ডিমের খোলস শক্ত করতে সুপারির ব্যাবহার করেন অনেক হ্যাচারি মালিক। আবার সুপারির এই নির্যাস অপরিণত ডিম উৎপাদনেও বাধা দেয়।

উপরে বর্ণিত ভেষজ উদ্ভিদের যে বর্ণনা দেয়া হল তা হাজারও উদ্ভিদের সামান্য অংশ মাত্র। এবিষয়ে আরও অনেক অনেক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এসব পদ্ধতির বেশিরভাগই অনেক মাছ চাষির কাছে পরিচিত হলেও সবার কাছে নয়। এসব পদ্ধতিসমূহ আরও জনপ্রিয় করার জন্য চাষিদের মাঝে আরও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। রোগ নিয়ন্ত্রণে ভেষজ পদ্ধতির সুবিধাদি মাছচাষিদের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচারে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বলা যায়, জলাশয়ে দেশীয় ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের সুবিধাদি সম্পর্কিত বিষয়ে মাছ চাষিরা আরও সচেতন হলে সামগ্রিকভাবে নীরোগ মাছের উৎপাদন বাড়বে তা নিশ্চিত।


Visited 1,195 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

লেখক

মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক, মৎস্য দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ইমেইল: [email protected]বিস্তারিত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.