ক্যাটাগরি: জীববিজ্ঞান | পূর্বপাঠ | প্রাণিবিজ্ঞান

কলা: আবরণী ও যোজক

ফিশারীজ কোন মৌলিক বিজ্ঞান নয় বরং এটি জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের একটি সমন্বিত বিজ্ঞান যা মাছ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশিষ্ট জলজ প্রাণীদের জীবতত্ত্ব, চাষ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, আহরণ, প্রক্রিয়াজনকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে। তাই ফিশারীজকে বুঝতে হলে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সে উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শুরু হল বিডিফিশ বাংলার পূর্বপাঠ অধ্যায়। এলেখার বিষয় প্রাণীর আবরণী ও যোজক কলা।  প্রাণীর পেশী ও স্নায়ু কলা সম্পর্কে রয়েছে এখানেসাথে রইল কুইজে অংশ নেয়ার সুযোগ

কলা:

  • যখন একগুচ্ছ কোষ একই উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাজ করে থাকে তখন সেই কোষগুচ্ছকে কলা বলে।
  • বিভিন্ন ধরণের কলা নিয়ে অঙ্গ, একাধিক অঙ্গ নিয়ে অঙ্গতন্ত্র এবং কতগুলো অঙ্গতন্ত্র নিয়ে প্রাণীদেহ গঠিত।
  • এককোষী বিধায় প্রোটোজোয়া পর্বের প্রাণীদের কোন কলা নেই, পরিফেরা পর্বের প্রাণী একাধিক কোষ নিয়ে গঠিত হলেও তা কলা গঠন করে নি। বহুকোষী প্রাণীদের মধ্যে সিলেন্টের‍্যাটা পর্বের প্রাণীদের দেহে সরল প্রকৃতির কলা দেখতে পাওয়া যায়।
  • কলা চার প্রকার। যথা- আবরণী কলা (Epithelial tissue), যোজক কলা (Connective tissue), পেশী কলা (Muscular tissue) এবং স্নায়ু কলা (Nervous tissue)

 

আবরণী কলা:

  • প্রাণীদেহের বাইরের এবং ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গের বহিঃতলকে আবৃত করে রাখে আবরণী কলা।
  • এ কলার কোষগুলি ঘনভাবে ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকায় আন্তঃকোষীয় পদার্থের পরিমাণ কম থাকে এবং এতে কোন রক্ত বাহিকা থাকে না।
  • দেহের অন্যান্য কলাকে সুরক্ষা প্রদান এবং ক্ষরণ রেচন ও শোষণে সাহায্য করা ছাড়াও এরা অনেক সময় উদ্দীপনা গ্রহণের কাজ করে থাকে।

 

যোজক কলা:

  • প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ অথবা একই অঙ্গের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্তকারী এই কলা কঙ্কাল গঠন করে দেহ কাঠামো প্রদান করে, বিভিন্ন পদার্থ পরিবহণে অংশ নেয়, ক্ষতিকারক পদার্থ ও জীবাণু থেকে রক্ষা করে, ক্ষত নিরাময়ে অংশগ্রহণ করে এমন কি দেহস্থ তাপও নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপত্তি লাভকারী এ কলার কোষের সংখ্যা কম এবং কোষগুলো নির্দিষ্ট স্তরে বিন্যস্ত না থেকে মাতৃকা বা ধাত্র বা ম্যট্রিক্সের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে তবে এতে রক্ত বাহিকা উপস্থিত।
  • গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রকৃত যোজক কলা (Proper Connective Tissue), কঙ্কাল যোজক কলা (Skeletal Connective Tissue) এবং তরল যোজন কলা (Fluid Connective Tissue)।

প্রকৃত যোজক কলা (Proper Connective Tissue):
প্রকৃত যোজক কলার কোষগুলো বিভিন্ন প্রকার তন্তু ও স্বনিঃসৃত মাতৃকায় ছড়ানো থাকে। এগুলো আবার চার প্রকার। যথা-

  • অ্যারিওলার কলা (Areolar tissue):
    • এই কলার জেলির মতো অর্ধ-তরল মাতৃকায় ফাইব্রোব্লাস্ট, প্লাজমা কোষ, রঞ্জক কোষ, মাস্টকোষ, হিস্টিওসাইট ইত্যাদি কোষ এবং শাখাহীন শ্বেততন্তু ও শাখা বিশিষ্ট পীততন্তু বর্তমান।
    • দেহত্বকের নীচে, পেশীসমূহের মাঝে, পাকস্থলী, রক্তবাহিকা, অন্ত্র ইত্যাদি অংশে দেখতে পাওয়া যায়।
    • এই কলার হিস্টিওসাইট জীবাণু গ্রাস করে, প্লাজমা কোষ অ্যান্টিবডি সংশ্লেষ করে, ফাইব্রোব্লাস্ট শ্বেতবস্তু তৈরিতে সাহায্য করে ও ক্ষতস্থান সারিয়ে তুলতে অংশ নেয়, মাস্টকোষ হেপারিন তৈরি করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা দেয়, রঞ্জক কোষ মেলানিন তৈরি করে।
  • শ্বেত তন্তুময় যোজক কলা (White fibrous tissue):
    • এই কলার ম্যাট্রিক্সে ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থেকে সৃষ্ট ও কোলাজেন নামক প্রোটনে গঠিত শ্বেতবর্ণের স্থিতিস্থাপক ও শাখাবিহীন তন্তু (যা শ্বেততন্তু নামে পরিচিত) গুচ্ছাকারে ও পরস্পর সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
    • অন্ত্র প্রাচীরে ও দেহত্বকের নিচে ধারাবাহিক স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
    • অস্থির সাথে পেশীকে সংযুক্ত করে, অস্থিবন্ধনী তৈরিতে সহায়তা করে এবং চাপ ও টানের হাত থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে।
  • পীত তন্তুময় যোজক কলা (Yellow fibrous tissue):
    • এ কলার মাতৃকায় ইলাস্টন নামক প্রোটিনে গঠিত স্থিতিস্থাপক শাখাযুক্ত পীতবর্ণের তন্তু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করে।
    • ফুসফুস, ধমনীর প্রাচীর, সন্ধিবন্ধনী, স্বরযন্ত্র ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
    • এই কলা ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণে অংশ নেয়, রক্তবাহিকাকে স্থিতিস্থাপক করা ছাড়াও এর অত্যধিক প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপের সাম্যাবস্থা বজায় রাখে।
  • মেদ কলা (Adipose tissue):
    • একলার মাতৃকায় স্নেহ পদার্থে পূর্ণ বৃহদাকার গহ্বর বিশিষ্ট গোলাকার বা ডিম্বাকার কোষ ও স্থিতিস্থাপক তন্তু দেখতে পাওয়া যায়। গহ্বরটি কেন্দ্রে থাকায় সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস কোষের পরিধির কাছাকাছি অবস্থান করে। অন্যান্য যোজক কলার তুলনায় এতে কোষের সংখ্যা বেশি পাওয়া যায়।
    • স্তনগ্রন্থি, অস্থিমজ্জা, ত্বকের নিচে ও বৃক্কের চারপাশে এ কলা বেশী পরিমাণে পাওয়া যায়।
    • দেহের তাপ হারানোতে বাঁধা প্রদান, অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা, দেহের আকৃতি প্রদান ও দেহের শক্তি সঞ্চিত করে রাখতে এ কলার ভূমিকা অনন্য।

 

কঙ্কাল যোজক কলা (Skeletal Connective Tissue):

কঙ্কাল যোজক কলার মাতৃকা অর্ধ-কঠিন বা কঠিন। এটি আবার দুই ধরণের যথা- কোমলাস্থি বা তরুণাস্থি (Cartilage) এবং অস্থি (Bone)।

  • কোমলাস্থি বা তরুণাস্থি (Cartilage):
    • এ কলার মাতৃকা কন্ড্রোমিউকয়েড (Chondromucoid) এবং কন্ড্রোঅ্যালবুনয়েড (Chondroalbunoid) প্রোটিনে গঠিত কনড্রিন (Chondrin) নামক কঠিন ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ দিয়ে তৈরি।
    • মাতৃকায় তরলে পূর্ণ ল্যাকুনা (lacuna) নামক গহ্বর অবস্থিত যাতে এক বা একাধিক কন্ড্রোসাইট (Chondrocyte) দেখতে পাওয়া যায়।
    • এ কলা অন্যান্য কলা অপেক্ষা বেশী চাপ ও টান (Tension) বহন করতে পারে।
    • চার ধরণের কোমলাস্থি দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
    • স্বচ্ছ বা হায়ালিন (Hyaline) কোমলাস্থি:
      এ কলা পেরিকন্ড্রিয়াম নামক তন্তুময় আবরণে আবৃত থাকে। এর মাতৃকা তন্তুবিহীন, নমনীয়, নীলাভ ও ঈষৎ স্বচ্ছ হয়ে থাকে।
      হাঙ্গর ও ব্যাঙের ভ্রূণে, স্তন্যপায়ীর শ্বাসনালী, স্বরযন্ত্র ও নাকে এ কলা উপস্থিত।
    • পীততন্তুময় বা স্থিতিস্থাপক (Elastic) কোমলাস্থি:
      এর অস্বচ্ছ ও ঈষৎ হলুদ রং এর মাতৃকায় স্থিতিস্থাপক পীততন্তু দেখতে পাওয়া যায়। তন্তুগুলো বাহিরের দিকের তুলনায় ভিতরের দিকে অধিক ঘনভাবে অবস্থান করে।
      বহিঃকর্ণ (Pinna), ইউস্টেসিয়ান, আল-জিহ্বা ইত্যাদিতে এ কলা বর্তমান।
    • শ্বেততন্তুময় (White fibrous) কোমলাস্থি:
      এ কলার মাতৃকায় ঘনভাবে অবস্থিত শ্বেততন্তু প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়।
      উভয় কশেরুকার মাঝে এবং এজাতীয় অন্যান্য অস্থিসন্ধিতে উপস্থিত।
    • চুনায়িত (Calcified) কোমলাস্থি:
      প্রায় অস্থির ন্যায় শক্ত এ কলার মাতৃকায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট দেখতে পাওয়া যায়।
      হিউমেরাস ও ফিমারের অগ্রপ্রান্ত তথা মাথায় দেখতে পাওয়া যায়।
  • অস্থি (Bone):
    • সর্বাপেক্ষা কঠিন এ কলা ৪০ শতাংশ জৈব ও ৬০ শতাংশ অজৈব পদার্থে গঠিত। কোলাজেন ও অসিমিউকয়েড দ্বারা জৈব অংশটি গঠিত। অজৈব অংশে প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট উপস্থিত। এ কলার মাতৃকা ল্যামেলি (Lamellae) নামক কতগুলো স্তরে সজ্জিত থাকে। হ্যাভারসিয়ান নালী (Haversian canal) নামক একটি কেন্দ্রীয় নালীর চারদিকে ল্যামেলিগুলো চক্রাকারে সজ্জিত হয়ে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র (Haversian system) গঠন করে। প্রতিটি ল্যমেলা (ল্যামেলির একবচন) তে ল্যাকুনা (Lacuna) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বর দেখতে পাওয়া যায় যাতে অস্টিওসাইট (Osteocyte) বা অস্থিকোষ অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিকে ক্যানালিকুলি (Canaliculi) নামক সূক্ষ্ম নালিকা রয়েছে যার মাধ্যমে পাশাপাশি অবস্থিত ল্যাকুনার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষিত হয়। অস্থিকলার কেন্দ্রে মজ্জা (Marrow) নামক একটি গহ্বর উপস্থিত যা শ্বেত বা লাল বর্ণের মজ্জায় পূর্ণ থাকে।
    • দৃঢ়তা ও ঘনত্বের উপর ভিত্তিকরে অস্থি দুই প্রকার। যথা- ঘনসন্নিবিষ্ট বা দৃঢ়অস্থি (Compact bone) এবং স্পঞ্জসদৃশ বা স্পঞ্জিঅস্থি (Spongy bone)। দৃঢ়অস্থিতে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র উপস্থিত থাকে। হিউমেরাস ও ফিমার হচ্ছে এ জাতীয় অস্থি। অন্যদিকে স্পঞ্জিঅস্থিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কম থাকে এবং হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র থাকে না তবে অসংখ্য সূক্ষ্ম ব্যবধায়কের (Septa) উপস্থিতির কারণে এটি স্পঞ্জের মত দেখায়। চাপা অস্থি ও মাথার খুলিতে এধরণের অস্থি বর্তমান।
    • অস্থিকলা দেহকে দৃঢ়তা দান করে একটি কাঠামো প্রদান করে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে (মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ইত্যাদি) রক্ষা করে, মজ্জাকে আবৃত করে রাখে, রক্ত থেকে আর্সেনিক ও সীসার মত দূষিত পদার্থসহ সকল দূষিত পদার্থ অপসারণ করে এবং পেশীর সহযোজনের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে।

 

তরল যোজক কলা (Fluid Connective Tissue):
এ কলার তরল পদার্থে গঠিত মাতৃকায় কোষগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। তরল যোজক কলা দুই প্রকার। যথা- রক্ত (Blood) ও লসিকা (Lymph)।

  • রক্ত (Blood):
    • রক্ত রক্তরস (Plasma) ও রক্তকণিকা (Blood corpuscles) নিয়ে গঠিত। রক্তের ৬০ শতাংশই রক্তরস এবং ৪০ শতাংশ রক্তকণিকা।
    • রক্তরসের ৮-১০ ভাগ জৈব ও অজৈব পদার্থ এবং বাকী ৯০-৯২ ভাগ পানি নিয়ে গঠিত। জৈব পদার্থের মধ্যে প্রোটিন, ফ্যাট, গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরল অন্যতম এবং অজৈব পদার্থের মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড, বাইকার্বনেট ইত্যাদি অন্যতম।
    • রক্তকণিকা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লোহিত বা লাল রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা।
    • গোলাকার আকৃতির লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত শ্বাস-রঞ্জক বর্তমান। মাছ, উভচর, সরীসৃপ ও পাখিতে ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকলেও স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত। মানুষের লোহিত রক্তকণিকা বৃত্তাকার ও প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে প্রায় ৫০ লক্ষ লোহিত রক্তকণিকা থাকে। অক্সিজেন বহন করাই এর প্রধান কাজ হলেও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহণ করায় এর ভূমিকা আছে।
    • শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস উপস্থিত তবে হিমোগ্লোবিন অনুপস্থিত। অন্যান্য রক্তকণিকা অপেক্ষা বৃহৎ আকৃতির এ রক্তকণিকা কম পরিমাণে বর্তমান। এর প্রধান কাজ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহে তথা রক্তে প্রবেশকরা জীবাণুকে ধ্বংস করা।
    • অণুচক্রিকা নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট অথবা নিউক্লিয়াস বিহীন হয়ে থাকে এবং আকারেও এরা বৈচিত্র্যময়। মানুষের রক্তে ২.৫-৫ মাইক্রন ব্যস বিশিষ্ট অণুচক্রিকা দেখতে পাওয়া যায়। প্রতি মাইক্রোমিটার রক্ত এর পরিমাণ ২.৫-৪.৫ লক্ষ। রক্ত জমাট বাঁধার মাধ্যমে রক্ত ক্ষরণে বাঁধা প্রদান এদের প্রধান কাজ।

 

  • লসিকা (Lymph):
    • ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ বা পীত বর্ণের তরল পদার্থ যাতে অসংখ্য শ্বেতকণিকা ও সামান্য অণুচক্রিকা থাকলেও কোন লোহিতকণিকা থাকে না। এতে জলীয় অংশের পরিমাণ ৯৪ শতাংশ এবং কঠিন পদার্থের পরিমাণ ৬ শতাংশ। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস কম থাকলেও ক্লোরাইড ও শর্করার পরিমাণ বেশী থাকে। প্রকৃতপক্ষে লসিকা পরিস্রুত রক্ত।
    • অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়া, কলারস থেকে প্রোটিনকে রক্তে নিয়ে আসা, স্নেহ পদার্থ পরিবহণ, দেহের যেখানে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে অক্সিজেন ও খাদ্যরস পরিবহণ করা, লসিকাগ্রন্থি থেকে সৃষ্ট লিম্ফোসাইট রক্তে স্থানান্তর করা, কলাকোষের সামগ্রিক গঠন বজায় রাখা এর প্রধান কাজ।

 

তথ্যসূত্র:

 

আবরণী, যোজক, পেশী ও স্নায়ু কলা বিষয়ক কুইজে অংশ নিতে লিঙ্কটি অনুসরণ করুন

 

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিস্তারিত

Leave a Reply