ক্যাটাগরি: অঙ্গসংস্থানবিদ্যা | মাৎস্য জীববিজ্ঞান | শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা

চিংড়ির উপাঙ্গ পরিচিতি (চিত্রসহ)

চিংড়ির প্রতি দেহখণ্ডকে একজোড়া করে মোট উনিশ জোড়া উপাঙ্গ থাকে। অবস্থানের উপর ভিত্তিকরে এদেরকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- শির-উপাঙ্গ, বক্ষ-উপাঙ্গ ও উদর-উপাঙ্গ। চিংড়ির শির-উপাঙ্গ পাঁচ জোড়া, বক্ষ-উপাঙ্গ আট জোড়া এবং উদর-উপাঙ্গ ছয় জোড়া। শির-উপাঙ্গ ও বক্ষ-উপাঙ্গগুলো সেফালোথোরাক্সে (Cephalothorax) এবং উদর-উপাঙ্গ উদরে (Abdomen) অবস্থান করে।
চিংড়ির একটি আদর্শ উপাঙ্গ তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত হয়। যথা-

  • দেহের সাথে যুক্ত প্রোটোপোডাইট (Protopodite)
  • ভিতরের দিকের অংশ এন্ডোপোডাইট (Endopodite) এবং
  • বাইরের দিকের অংশ এক্সোপোডাইট (Exopodite)

প্রোটোপোডাইট আবার দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয় যাদের একটি কক্সোপোডাইট বা সংক্ষেপে কক্সা (Coxa) এবং এর সাথে যুক্ত আরেকটি অংশ হচ্ছে বেসিপোডাইট বা বেসিস (Basis)। অনেক সময় প্রোটোপোডাইট হতে একটি পাতলা অংশ তৈরি হয় যাকে এপিপোডাইট বলে।

 

শির-উপাঙ্গ (Cephalic appendage)
শির-উপাঙ্গ মোট পাঁচ জোড়া। এগুলো চিংড়ির দেহের ২য় থেকে ৬ষ্ঠ দেহখণ্ডাংশে অবস্থান করে।

চিংড়ির শির-উপাঙ্গ: অ্যান্টিনিউল (Antennule) এবং অ্যান্টিনা (Antenna)

চিংড়ির শির-উপাঙ্গ: অ্যান্টিনিউল (Antennule) এবং অ্যান্টিনা (Antenna)

এক.
অ্যান্টিনিউল (Antennule)

  • চিংড়ির দেহের প্রথম জোড়া উপাঙ্গ হচ্ছে অ্যান্টিনিউল যা পুঞ্জাক্ষি বৃন্তের নিকটে অবস্থিত।
  • চিংড়ির প্রথম জোড়া উপাঙ্গ দেহের দ্বিতীয় খণ্ডক থেকে উদ্ভূত হয় (ভ্রূণাবস্থায় প্রথম যে খণ্ডক আত্মপ্রকাশ করে তাতে কোন উপাঙ্গ থাকে না)।
  • অ্যান্টিনিউলের প্রোটোপোডাইট তিনটি ধারাবাহিক খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত। যথা- প্রিকক্সা (Precoxa), কক্সা (Coxa)ও বেসিস (Basis)।
  • চিংড়ির ভারসাম্য রক্ষার অঙ্গ ষ্ট্যাটোসিস্ট (Statocyst) প্রিকক্সার ভিতরের গহ্বরে অবস্থিত।
  • কক্সা অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সিলিন্ডার আকৃতির।
  • বেসিস তুলনামূলকভাবে লম্বা যা বহু গাঁটযুক্ত দুইটি ফ্লাজেলা বহন করে।
  • দুইটি ফ্লাজেলার মধ্যে বাইরেরটি আবার দুইটি অসমান অংশ নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে বড়টি স্পর্শেন্দ্রিয়ের কাজ করে এবং ছোটটি ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের কাজ করে।

দুই.
অ্যান্টিনা (Antenna)

  • মৌখিক ও তৃতীয় দেহখণ্ডকের একজোড়া উপাঙ্গের নাম হচ্ছে অ্যান্টিনা
  • এর প্রোটোপোডাইট দুইটি ধারাবাহিক অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- কক্সা ও বেসিস।
  • প্রোটোপোডাইট স্ফীত কারণ এর ভেতরে রেচন অঙ্গ থাকে যা বর্জ্য পদার্থ নিষ্ক্রান্ত করে।
  • বেসিস হতে দুইটি শাখা বের হয়েছে যার একটি স্কোয়ামা (Squama) বা স্কেল (Scale) এবং অন্যটি লম্বা, সরু আকৃতির ফ্লাজেলাম (Flagellum) [বহুবচনে ফ্লাজেলা, Flagella)]।
  • সাঁতারের সময় স্কোয়ামা ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং ফ্লাজেলাম স্পর্শেন্দ্রিয়ের কাজ করে।

তিন
ম্যান্ডিবল (Mandible)

  • চিংড়ির ৪র্থ দেহখণ্ডক ও অগ্রমৌখিক উপাঙ্গ হচ্ছে ম্যান্ডিবল যা মোটা, শক্ত, সংখ্যায় একজোড়া ও মুখের উভয় পাশে অবস্থিত।
  • প্রতিটি ম্যান্ডিবল কক্সা নিয়ে গঠিত যা শক্তিশালী চোয়াল গঠন করেছে।
  • এর প্রোক্সিমাল (Proximal) অংশ চামচ আকৃতির যার এপোফাইসিস (Apophysis) নামে পরিচিত এবং ডিস্টাল (Distal) অংশ নিরেট মস্তক গঠন করে।
  • মস্তকের একটি অংশ চ্যাপ্টা যা কৃন্তক উপাঙ্গ (Incisor process) হিসেবে বিবেচিত এবং এবং এখানে তিনটি দাঁত খুব কাছাকাছি থাকে
  • মস্তকের অন্য অংশটি ভোঁতা যা পেষক উপাঙ্গ (Molar process) হিসেবে বিবেচিত এবং এখানে পাঁচ-ছয়টি হলুদ বা বাদামী রংয়ের দাঁত থাকে।
  • ম্যান্ডিবলের প্রধান কাজ হচ্ছে খাবারকে খণ্ড খণ্ড করা বা পেষণ করা। খাদ্যগ্রহণেরও ম্যান্ডিবল সহায়তা করে।
চিংড়ির শির-উপাঙ্গ: ম্যান্ডিবল (Mandible),  ম্যাক্সিলুলা (Maxilula) এবং ম্যাক্সিলা (Maxilla)

চিংড়ির শির-উপাঙ্গ: ম্যান্ডিবল (Mandible), ম্যাক্সিলুলা (Maxilula) এবং ম্যাক্সিলা (Maxilla)

চার.
ম্যাক্সিলুলা (Maxilula)

  • চিংড়ির ৫ম দেহখণ্ডকের উপাঙ্গের নাম ম্যাক্সিলুলা যা চিংড়ির সবচেয়ে ছোট উপাঙ্গ এবং সংখ্যায় একজোড়া।
  • তিনটি পাতলা স্বচ্ছ আঁশের মত অংশ নিয়ে ম্যাক্সিলুলা গঠিত।
  • পাতলা তিনটি অংশের মধ্যে দুইটি প্রোটোপোডাইটের প্রতিনিধি যা ভিতরের দিকে চোয়াল হিসাবে থাকে এবং ন্যাথোবেস (Gnathobase) নামে পরিচিত।
  • এর এন্ডোপোডাইট বাঁকানো এবং এক্সোপোডাইট অনুপস্থিত।
  • খাবারকে ছোট ছোট করতেও সাহায্য করে। এমন কি খাবারকে মুখে প্রবেশ করাতে সহায়তা করে।

পাঁচ.
ম্যাক্সিলা (Maxilla)

  • চিংড়ির ষষ্ঠ দেহ খণ্ডকের উপাঙ্গ জোড়া হচ্ছে ম্যাক্সিলা যা পাতলা পাতার মত এবং ম্যাক্সিলুলা অপেক্ষা বড়।
  • অতি ছোট কক্সা ও তুলনামূলক বড় বেসিস নিয়ে প্রোটোপোডাইট গঠিত।
  • অন্যদিকে এর এন্ডোপোডাইট ছোট।
  • আকারে অনেকটা বড় ও হাত পাখার মত এক্সোপোডাইট উপস্থিত যাকে স্ক্যাফোনাথাইট (Scaphognathite) বলে।
  • চিংড়ির দেহে বিদ্যমান ম্যাক্সিলা শ্বাস কাজে সাহায্য করে।

 

বক্ষ-উপাঙ্গ (Thoracic appendage)
বক্ষ-উপাঙ্গ মোট আট জোড়া। এগুলো চিংড়ির দেহের ৭তম থেকে ১৪তম দেহখণ্ডাংশে অবস্থা করে।

এক.
১ম ম্যাক্সিলিপেড (First maxillipede)

  • চিংড়ির ৭ম দেহখণ্ডকের উপাঙ্গ জোড়া হচ্ছে ১ম ম্যাক্সিলিপেড যা ম্যাক্সিলার পেছনে অবস্থিত।
  • ম্যাক্সিলিপেডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট।
  • প্রোটোপোডাইট কক্সা ও বেসিস নিয়ে গঠিত।
  • কক্সার বাইরের দিকে দ্বিখণ্ডিত পাতার মত এপিপোডাইট দেখা যায়।
  • বেসিস থেকে এন্ডোপোডাইট ও এক্সোপোডাইট উদ্ভূত হয়।
  • মুখ হতে বর্জিত খাবার দূরীকরণ, খাবার কাটা-ছেড়া ও শ্বসনে যথাক্রমে এক্সোপোডাইট, প্রোটোপোডাইট এবং এপিপোডাইট সহায়তা করে।
চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: ১ম ম্যাক্সিলিপেড (First maxillipede), দ্বিতীয় ম্যাক্সিলিপেড (Second maxillipede) ও তৃতীয় ম্যাক্সিলেপেড (Third maxillipede)

চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: ১ম ম্যাক্সিলিপেড (First maxillipede), দ্বিতীয় ম্যাক্সিলিপেড (Second maxillipede) ও তৃতীয় ম্যাক্সিলেপেড (Third maxillipede)

দুই.
দ্বিতীয় ম্যাক্সিলিপেড (Second maxillipede)

  • চিংড়ির ৮ম দেহখণ্ডকের উপাঙ্গ হচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাক্সিলিপেড যা প্রথম ম্যাক্সিলিপেড এর পেছনে অবস্থিত।
  • এর প্রোটোডোডাইট কক্সা ও বেসিস নিয়ে গঠিত।
  • একটি ছোট এপিপোডাইট ও একটি ফুলকা (Gill) কক্সার বাইরের দিকে সংযুক্ত থাকে।
  • এর এন্ডোপোডাইট পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত যথা- ইস্চিয়াম (Ischium), মেরাস (Merus), কারপাস (Carpus), প্রোপোডাস (Propodus) ও ডাকটাইলাস (Dactylus)।
  • এক্সোপোডাইট চাবুকের মত লম্বা।
  • দ্বিতীয় ম্যাক্সিলিপেড এর কাজ হল খাবার গ্রহণ ও শ্বসন।

তিন.
তৃতীয় ম্যাক্সিলেপেড (Third maxillipede)

  • চিংড়ির নবম দেহখণ্ডক থেকে উদ্ভূত একজোড়া উপাঙ্গই হচ্ছে তৃতীয় ম্যাক্সিলেপেড।
  • ১ম ও ২য় ম্যাক্সিলিপেড এর চেয়ে তুলনামূলক বড়।
  • এপিপোডাইট কক্সার বাইরের দিকে অবস্থিত।
  • এন্ডোপোডাইট তিনটি খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত। যথা- প্রথম অংশ ইস্চিয়াম (Ischium) ও মেরাস (Merus) একত্রে , মধ্যাংশ কারপাস (Carpus) এবং শেষাংশ প্রোপোডাস (Propodus) ও ডাকটাইলাস (Dactylus) একত্রে গঠিত হয়।
  • অন্যদিকে এক্সোপোডাইট অখণ্ডিত, লম্বা ও সিলিন্ডার আকৃতির।
  • তৃতীয় ম্যাক্সিলিপেডের এক্সোপোডাইট গমনে সহায়তা করে। এছাড়াও খাবার গ্রহণ ও শ্বসনে সহায়তা করে।

চার-আট.
হাঁটার উপাঙ্গ (Walking leg)
৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম এই পাঁচ জোড়া বক্ষ উপাঙ্গ হাঁটার উপাঙ্গ বা পেরিওপোড (Pereopod) নামে পরিচিত। এগুলো যথাক্রমে চিংড়ির ১০ম থেকে ১৪তম দেহখণ্ডাংশে অবস্থান করে। হাঁটার উপাঙ্গগুলো সাতটি ধারাবাহিক খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে প্রোটোপোডাইটের অংশ দুটি যথা- কক্সা ও বেসিস এবং এন্ডোপোডাইটের অংশ পাঁচটি যথা- ইশ্চিয়াম, মেরাস, কারপাস, প্রোপোডাস ও ডাকটাইলাস।

চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: ১ম ও ২য় হাঁটার উপাঙ্গ (Walking leg or Chelate leg)

চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: ১ম ও ২য় হাঁটার উপাঙ্গ (Walking leg or Chelate leg)

১ম হাঁটার উপাঙ্গ (First walking leg or Chelate leg)

  • চিংড়ির দশম দেহখণ্ডাংশ থেকে উদ্ভূত।
  • প্রথম হাঁটার উপাঙ্গর শেষ খণ্ডাংশ (ডাকটাইলাস, Dectylus) প্রোপোডাসের সাথে যুক্ত না থেকে এর নিকটে অবস্থান করে।
  • এর শেষভাগ বাঁকানো এবং দেখতে সাঁড়াশির মত যা চেলা (Chela) নামে পরিচিত।
  • কয়েকটি দাঁতের মত গঠন সাঁড়াশির ভেতরের দিকে দেখতে পাওয়া যায়।
  • খাবার গ্রহণ, আত্মরক্ষা ও প্রতিপক্ষকে দমনের কাজে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় হাঁটার উপাঙ্গ (Second walking leg or chelate leg)

  • চিংড়ির ১১তম দেহখণ্ডাংশ থেকে উদ্ভূত।
  • চিংড়ির দেহের দ্বিতীয় হাঁটার উপাঙ্গ অনেক বড় এবং শক্তিশালী।
  • অসংখ্য তির্যক আকৃতির কণ্টক এই উপাঙ্গের ইস্চিয়ামে থাকে।
  • সমবয়সী পুরুষ চিংড়ির এই উপাঙ্গ স্ত্রী চিংড়ি অপেক্ষা অনেক উজ্জ্বল।
  • অনেক সিটা ও কণ্টক নিয়ে এ উপাঙ্গের সাঁড়াশিতে দেখতে পাওয়া যায়।
  • খাবার সংগ্রহ, গ্রহণ, আত্মরক্ষা এবং প্রতিপক্ষকে দমনে সহায়তা করে।

তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হাঁটার উপাঙ্গ (Third, Fourth, Fifth walking or Non-chelate leg)

  • এই উপাঙ্গগুলো প্রায় একই রকম এবং যথাক্রমে ১২, ১৩ ও ১৪তম দেহখণ্ডাংশ থেকে উদ্ভূত।
  • এই উপাঙ্গগুলোর মধ্যে সাঁড়াশি (Chelate) অংশটি অনুপস্থিত।
  • অর্ধচন্দ্রাকৃতির স্ত্রী জনন ছিদ্র স্ত্রী চিংড়ির তৃতীয় হাঁটার উপাঙ্গের গোঁড়ায় অবস্থিত
  • পুংজনন ছিদ্র পুরুষ চিংড়ির পঞ্চম হাঁটার উপাঙ্গের গোঁড়ায় অবস্থিত।
  • শুক্রাণু ও ডিম্বাণু যথাক্রমে পুংজনন ছিদ্র ও স্ত্রী জনন ছিদ্র থেকে নির্গত হয়।

চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হাঁটার উপাঙ্গ (Third, Fourth and Fifth walking leg or Non-chelate leg)

চিংড়ির বক্ষ-উপাঙ্গ: তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম হাঁটার উপাঙ্গ (Third, Fourth and Fifth walking leg or Non-chelate leg)


 

উদর-উপাঙ্গ (Abdominal appendage)
চিংড়ির ছয় জোড়া উদর-উপাঙ্গকে প্লিওপোড (Pleopod) বা সন্তরণী উপাঙ্গ বলে। এদের প্রত্যেকের প্রোটোপোডাইট কক্সা ও বেসিস নিয়ে গঠিত। বেসিস দুইটি পাতলা শাখা বহন করে যারা এন্ডোপোডাইট ও এক্সোপোডাইট নামে পরিচিত। উদর-উপাঙ্গগুলো চিংড়ির ১৫তম থেকে ২০ তম দেহখণ্ডে অবস্থান করে।

এক.
প্রথম উদরীয় উপাঙ্গ (First abdominal appendages)

  • প্রথম উদরীয় উপাঙ্গ জোড়া চিংড়ির ১৫তম দেহখণ্ডক থেকে উদ্ভূত।
  • এর প্রোটোপোডাইট কক্সা ও বেসিস নিয়ে গঠিত।
  • কক্সা আকারে ছোট রিং আকৃতির।
  • বেসিস লম্বা ও গোলাকার।
  • এন্ডোপোডাইট আকারে ছোট।
  • অ্যাপেনডিক্স ইন্টারনা (Appendix interna) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

চিংড়ির উদরীয়-উপাঙ্গ: প্রথম ও দ্বিতীয় (First and Second abdominal appendages)

চিংড়ির উদরীয়-উপাঙ্গ: প্রথম ও দ্বিতীয় (First and Second abdominal appendages)


দুই.
দ্বিতীয় উদরীয় উপাঙ্গ (Second abdominal appendages)

  • দ্বিতীয় উদরীয় উপাঙ্গ জোড়া চিংড়ির ১৬তম দেহখণ্ডক থেকে উদ্ভূত।
  • ছোট কক্সা ও লম্বা ও গোলাকার বেসিস নিয়ে প্রোটোপোডাইট গঠিত।
  • পুরুষ চিংড়ির ২য় উদর উপাঙ্গে অ্যাপেনডিক্স ইন্টারনার (Appendix interna) ভিতরের দিকে অ্যাপেনডিক্স ম্যাসকুলেনা (Appendix masculina) থাকে যা স্ত্রী চিংড়িতে অনুপস্থিত।

তিন-পাঁচ.
তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উদরীয় উপাঙ্গ (Third, fourth and fifth abdominal appendages)

  • তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উদরীয় উপাঙ্গ জোড়া যথাক্রমে চিংড়ির ১৭, ১৮ ও ১৯তম দেহখণ্ডক থেকে উদ্ভূত এবং গঠনগত দিক থেকে প্রায় একই রকম।
  • প্রতিটি উপাঙ্গ কক্সা ও বেসিস নিয়ে প্রোটোপোডাইট গঠিত।
  • বেসিস এক্সোপোডাইট এবং এন্ডোপোডাইট বহন করে।
  • এন্ডোপোডাইটের ভিতরের দিকে বাঁকানো একটি অংশ থাকে যাকে অ্যাপেনডিক্স ইন্টারনা (Appendix interna) বলে।
  • সমস্ত উদর উপাঙ্গ সাঁতারে সহায়তা করে এবং স্ত্রী চিংড়িতে ডিম ধরে রাখতে সহায়তা করে।

চিংড়ির উদরীয় উপাঙ্গ: ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম (Abdomeinal Appendage: Third, Fourth and Fifth)

চিংড়ির উদরীয় উপাঙ্গ: ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম (Abdomeinal Appendage: Third, Fourth and Fifth)


 

ছয়.

চিংড়ির ৬ষ্ঠ উদরীয় উপাঙ্গ: পুচ্ছপদ (Uropod)

চিংড়ির ৬ষ্ঠ উদরীয় উপাঙ্গ: পুচ্ছপদ (Uropod)


৬ষ্ঠ উদরীয় উপাঙ্গ: পুচ্ছপদ (Uropod)

  • চিংড়ির ২০তম দেহখণ্ডক থেকে উদ্ভূত সর্বশেষ জোড়া উপাঙ্গ ইউরোপোড বা পুচ্ছপদ নামে পরিচিত এবং টেলসনের (Telson) উভয় পাশে একটি করে অবস্থান করে।
  • প্রোটোপোডাইট ছোট, পুরু ও প্রশস্ত ত্রিকোণাকার পাতের মত চ্যাপ্টা যা কক্সা ও বেসিস একত্রিত হয়ে গঠিত হয়েছে।
  • এক্সোপোডাইট এন্ডোপোডাইটের থেকে তুলামূলক বড় ও প্রশস্ত এবং দুটি অসম অংশ নিয়ে গঠিত।
  • এন্ডোপোডাইট এক্সোপোডাইটের চেয়ে তুলনামূলক ছোট এবং একক অংশ নিয়ে গঠিত।
  • সাঁতারের সময় ইউরোপোড বা পুচ্ছপদ হালের মত কাজ করে অর্থাৎ ভারসাম্য অঙ্গ হিসাবে কাজ করে।

 

 

Visitors' Opinion

লেখক

শিক্ষার্থী, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিস্তারিত

Leave a Reply