ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: কোসা পুঁটি, Kosuatis barb, Oreichthys cosuatis

কোসা পুঁটি, Kosuatis barb, Oreichthys cosuatis

কোসা পুঁটি, Kosuatis barb, Oreichthys cosuatis

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows and carps)
গণ: Oreichthys
প্রজাতি: Oreichthys cosuatis

নামের শব্দতত্ত্ব (Etymology)
ল্যাটিন শব্দ aurum অর্থ সোনা (gold) এবং গ্রিক শব্দ ichthys অর্থ মাছ (fish) থেকে Oreichthys শব্দটি এসেছে (Froese and Pauly, 2013)।
সোনালী বর্ণের দেহের জন্য এই নামটি দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সমনাম (Synonyms)
Barbus cosuatis (Hamilton, 1822)
Cyprinus cosuatis Hamilton, 1822
Leuciscus cosuatis (Hamilton, 1822)
Oreichthys cosuatis (Hamilton, 1822)
Puntius coorgensis Jayaram, 1982
Puntius cosuatis (Hamilton, 1822)
Rohtee pangut Sykes, 1839
Systomus malacopterus McClelland, 1839

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: কোসা পুঁটি, কোস্বাটি পুঁটি, কসুয়াটি, কসুয়াতি
English: Kosuatis barb, Indian High Fin Barb

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের স্থানীয় মাছ (Chaudhry, 2010)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
এদের বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা মানদণ্ড ৩.১ অনুসারে Least Concern (LC) অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় যদিও এদের জনতার ধারা (Population Trend) অজানা (Chaudhry, 2010)। বাংলাদেশে এদের একসময় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায় (Rahman, 2005)। তবে বাংলাদেশে এরা হুমকিগ্রস্ত (Threatened) প্রজাতির অন্তর্গত নয় (IUCN Bangladesh, 2000) ।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
দেহ পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। উদরীয় তলের চেয়ে পৃষ্ঠতল অধিক উত্তল। এদের মুখ ক্ষুদ্রার ও প্রান্তীয়। উপরের চোয়াল সামান্য দীর্ঘ। স্পর্শী অনুপস্থিত। পার্শ্বরেখা অসম্পূর্ণ। পৃষ্ঠপাখনা পুচ্ছপাখনা ও তুণ্ডের প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। পৃষ্ঠপাখনার শেষ রশ্মি অশাখান্বিত, দুর্বল,মসৃণ এবং অস্থি দ্বারা গঠিত নয়। বক্ষ পাখনা তুণ্ড ছাড়া মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। শ্রোণীপাখনা পৃষ্ঠপাখনার উৎপত্তিস্থল বরাবর বিপরীত প্রান্তে অবস্থিত।
দেহের বর্ণ লালচে রূপালী বা সোনালী। পৃষ্ঠপাখনায় দুটি কালো দাগ উপস্থিত যার একটি প্রান্তে অন্যটি মাঝামাঝিতে। আঁইশের গোড়া তথা ভিত্তি কালো বর্ণের। প্রজনন ঋতুতে এদের দেহের বর্ণ হলুদ এবং শ্রোণী পাখনা টকটকে লাল বর্ণের হয়ে থাকে। Rahman (1989 and 2005) অনুসারে পার্শ্বরেখা বরাবর ২২-২৩ টি আঁইশ দেখতে পাওয়া যায়। এদের আদর্শ ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৩.২-৩.৫ ও ৪.২-৪.৪গুণ এবং দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ২.৫-৩.০ ও ৩.৩-৪.০গুণ। মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যাসের ৩.০-৩.৪ গুণ, তুণ্ডের ০.৭-০.৯ গুণ (Rahman, 1989 and 2005) ।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 11 (3/8); P1. 13-14; P2. 9; A. 7 (2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D. 11(3/8); P. 13; V. 9; A. 7(2/5); C. 19 (Shafi and Quddus, 2001)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৬ সেমি, Shafi and Quddus ( 2001) অনুসারে ৫ সেমি এবং Froese and Pauly (2013) অনুসারে পুরুষরা মোট দৈর্ঘ্যে ৮ সেমি হয়ে থাকে।

আবাস্থল (Habitat)
ডোবা, পুকুর, প্রবহমান ঝর্ণা ও খালে এদের পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005 ) । এছাড়াও প্লাবনভূমি, বিল, হাওর, বাঁওড় ( অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ), পুকুর ও ডোবায় এদের পাওয়া যায় (IUCN Bangladesh, 2000)। Froese and Pauly (2013) অনুসারে ডোবা, পুকুর, ঝর্ণা ও খালে এদের পাওয়া যায়।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এপিফাইটন (epiphyton) এদের প্রধান খাবার।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
পুঁটির মধ্যে এদের আকার ক্ষুদ্রাকার। অন্যান্য শিকারি মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা খাদ্য-শিকলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রজনন (Breeding)
একই বয়সের পুরুষেরা স্ত্রীদের চেয়ে আকার বড় এবং বর্ণে উজ্জ্বল হয়ে থাকে। এছাড়াও স্ত্রীদের পৃষ্ঠপাখনার চেয়ে পুরুষদের পৃষ্ঠপাখনা বর্ধিত হয়ে থাকে। স্ত্রীদের উদরাঞ্চল পুরুষদের চেয়ে অধিক গোলাকার বা বেলনাকার হয়ে থাকে। (Seriouslyfish, 2015)।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য পাওয়া যায়না। অন্যান্য পুঁটি মাছের সাথে তুলনামূলক কম পরিমাণে ধরা পরে।
এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাহিদা রয়েছে।

মৎস্য তথ্য (Fishery information)
Shafi and Quddus ( 2001) অনুসারে খেপলা জাল, ভেষাল জাল, বেনকি, আনতা ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে ধরা হয়।

এ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবস্থাপনা (Aquarium Management)
এদের জন্য আদর্শ এ্যাকুয়ারিয়ামের আকার ৬০x৩০ সেমি। পানির আদর্শ তাপমাত্রা ২৪-২৮ °C, পিএইচ ৬.৫-৭.৫, হার্ডনেস ৯০-২৬৮ পিপিএম।
প্যাকেটজাত শুকনো খাবার খেয়ে থাকে। এছাড়াও ডাফনিয়া (Daphnia), এর্টিমিয়া (Artemia) ইত্যাদি জীবন্ত ও হিমায়িত অবস্থায় সরবরাহ করা যায় (Seriouslyfish, 2015)।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Ahmed MS (2009) Oreichthys cosuatis. In: Ahmed ZU, Ahmed ATA, Kabir SMH, Ahmed M, Begum ZNT, Hasan MA and Khondker M (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. p. 90.
  • Chaudhry (2010) Oreichthys cosuatis. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2015.2. . Downloaded on 25 August 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/168538/0
  • Froese R and Pauly D (Editors) (2013) Species Summery: Oreichthys cosuatis (Hamilton, 1822). FishBase. World Wide Web electronic publication. Downloaded on 06 June 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/24052.
  • Hamilton F. 1822 An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh. 2000. Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Jayaram KC. 1982. On a new species of the genus Puntius (Pisces, Cyprinidae) from the Cauvery River, Karnataka State, South India. Matsya No. 7: 47-49.
  • Rahman AKA. 1989. Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 135.
  • Rahman AKA. 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 154.
  • Seriouslyfish (2015) Species Profile: Oreichthys cosuatis (Hamilton, 1822). Downloaded on 26 August 2015 and from http://www.seriouslyfish.com/species/oreichthys-cosuatis/.
  • Shafi M and Quddus MMA. 2001. Bangladesher Matsho Shampad (Fisheries of Bangladesh) (in Bengali), Kabir publication. Dhaka, Bangladesh. pp. 127-128.
  • Sykes WH. 1839. On the fishes of the Deccan. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1838 (pt 6): 157-165.

 

English Feature:
Kosuati barb, Oreichthys cosuatis (Hamilton, 1822)

 

 

Visitors' Opinion

লেখক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারীজ বিভাগের বিএস-সি ফিশারীজ (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

Leave a Reply