ক্যাটাগরি: জীববিজ্ঞান | পূর্বপাঠ | প্রাণিবিজ্ঞান

ম্যালেরিয়া (Malaria) জ্বর ও পরজীবী (পর্ব-১)

ফিশারীজ কোন মৌলিক বিজ্ঞান নয় বরং এটি জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের একটি সমন্বিত বিজ্ঞান যা মাছ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশিষ্ট জলজ প্রাণীদের জীবতত্ত্ব, চাষ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, আহরণ, প্রক্রিয়াজনকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে। তাই ফিশারীজকে বুঝতে হলে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সে উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শুরু হল বিডিফিশ বাংলার পূর্বপাঠ অধ্যায়। এলেখার বিষয় ম্যালেরিয়া (Malaria) জ্বর ও পরজীবী। পর্ব-২ এপাতায় আর পর্ব-২ এখানে।  সাথে রইল কুইজে অংশ নেয়ার সুযোগ

 

একনজরে ম্যালেরিয়া:

  • Malaria শব্দের আভিধানিক অর্থ দূষিত বাতাস (ইতালি শব্দ Mal অর্থ দূষিত এবং Aria অর্থ বাতাস)।
  • মশাবাহিত ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কারের আগে ধারণা করা হত যে বদ্ধ জলাভূমি তথা ডোবা থেকে সৃষ্ট দূষিত বায়ু সেবনে ম্যালেরিয়ার সৃষ্টি হয়।
  • প্রকৃতপক্ষে ম্যালেরিয়া হচ্ছে মানুষসহ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের এক ধরনের মারাত্মক জ্বররোগ যা Anopheles মশকীবাহিত প্রোটোজোয়া পর্বের Plasmodium গণের পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয়ে থাকে। এজন্য Plasmodium গণের প্রাণী ম্যালেরিয়ার পরজীবী বা জীবাণু হিসেবে পরিচিত।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে প্রতিবছর ৩০০-৫০০ মিলিয়ন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং পৃথিবীর ৪০ শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কায় রয়েছে বিধায় একে এক নম্বর গণশত্রু  হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্য একটি তথ্যসূত্রানুসারে পৃথিবীতে প্রতি বছর ১-৩ মিলিয়ন মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।
  • এ পর্যন্ত ষাটের অধিক প্রজাতির ম্যালেরিয়া পরজীবী আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে মানুষের ম্যালেরিয়ার জন্য দায়ী প্রজাতির সংখ্যা চার যথা- Plasmodium vivax, Plasmodium falciparum, Plasmodium ovale এবং Plasmodium malariae
  • ম্যালেরিয়া পরজীবী Plasmodium vivax এর শ্রেণীবিন্যাস:
    • পর্ব- Protozoa (এককোষী প্রাণী)
    • শ্রেণী- Sporozoa (চলনাঙ্গবিহীন অন্তঃপরজীবী)
    • বর্গ- Haemosporidia (নিষেক ঘটে সন্ধিপদ প্রাণীদেহে)
    • গোত্র- Plasmodiidae (মেরুদণ্ডী প্রাণিদেহে গ্যামেটোসাইট সৃষ্টি হয়)
    • গণ- Plasmodium (প্রকৃত ম্যালেরিয়া পরজীবী)
    • প্রজাতি- Plasmodium vivax

 

  • প্রকোপের উপর ভিত্তিকরে মানবদেহে চার প্রকারের ম্যালেরিয়া দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
    • বিনাইন টারসিয়ান ম্যালেরিয়া (Benign Tertian Malaria): দায়ী পরজীবী- Plasmodium vivax, জ্বর আসে ৪৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর
    • কোয়ারটান ম্যালেরিয়া (Quartan Malaria): দায়ী পরজীবী- Plasmodium malariae, জ্বর আসে ৭২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর
    • ম্যালিগন্যান্ট টারসিয়ান ম্যালেরিয়া (Malignant Tertian Malaria): দায়ী পরজীবী- Plasmodium falciparum, জ্বর আসে ৩৬-৪৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর
    • মাইল্ড টারসিয়ান ম্যালেরিয়া (Mild Tertian Malaria): দায়ী পরজীবী- Plasmodium ovale, জ্বর আসে ৪৮ ঘণ্টা অন্তর অন্তর

 

  • ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্র সম্পন্ন করতে দুটি পোষক দেহের প্রয়োজন হয়ে থাকে যথা- স্ত্রী Anopheles  মশা (এদের দেহে যৌনচক্র ঘটায় এরা নির্দিষ্ট বা মুখ্য পোষক) এবং মানুষসহ অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণী (এদের দেহে অযৌন চক্র ঘটায় এরা গৌণ বা মাধ্যমিক পোষক)।

 

  • মানুষের দেহে কোন রোগসৃষ্টিকারী পরজীবী প্রবেশের পর থেকে রোগের লক্ষণ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত সময়কাল রোগের সুপ্তাবস্থা (Incubation Period) হিসেবে পরিচিত।  Plasmodiumগণের বিভিন্ন প্রজাতি সৃষ্ট ম্যালেরিয়া রোগের  সুপ্তকালে পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
    • Plasmodium vivax: ১২ – ২০ দিন
    • Plasmodium falciparum: ৮ – ১৫ দিন
    • Plasmodium ovale: ১৮-৪০ দিন
    • Plasmodium malariae: ১১-১৬ দিন

 

  • আগে ধারণা করা হত ম্যালেরিয়া পরজীবীর দেহ নিঃসৃত হিমোজয়েন (Haemozoin) নামক রঞ্জক (pigment) জ্বরের জন্য দায়ী। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণা পরিত্যক্ত হয় এবং Plasmodium এর মেরোজয়েট (Merozoite) লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে রক্তরসে মুক্ত হওয়াকেই জ্বরের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  জটিল এ প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে যথা-
    • Plasmodiumএর স্পোরোজয়েট (Sporozoite) সাধারণত Anophelesমশকীর দংশনের মাধ্যমে মানুষের রক্তরসে প্রবেশ করে যকৃতে পৌঁছায়।
    • যকৃত কোষে স্পোরোজয়েট তার জীবনচক্রের কয়েকটি ধাপ (হেপাটিক সাইজোগনি চক্র) অতিক্রম করে মেরোজয়েট পরিণত হয়।
    • মেরোজয়েট যকৃতকোষ থেকে লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে কয়েকটি ধাপ (এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্র) সম্পন্ন করে।
    • পরবর্তীতে মেরোজয়েট লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে রক্তরসে মুক্ত হয়। এসময় হিমোজয়েনও রক্তরসে অবমুক্ত হয়।
    • রক্তরসে প্রবেশ করা মেরোজয়েটকে ধ্বংস করার জন্য শ্বেত রক্তকণিকা অধিকমাত্রায় বিষাক্ত পাইরোজেন (Pyrozene) ক্ষরণ করে।
    • রক্তরসে অতিরিক্ত পাইরোজেনের উপস্থিতি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশের তাপসংবেদী অংশটি উদ্দীপ্ত হয় ফলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডন (Prostaglandin) এবং মনোঅ্যামাইন (Monoamine) ক্ষরিত হয়।
    • এই ক্ষরণ হাইপোথ্যালামাসের পেছনে অবস্থিত ভোসোমটর (Vesomotor) স্নায়ুকে উত্তেজিত করে দেহের প্রান্তীয় তথা ত্বকীয় অঞ্চলের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে দেহ হতে তাপ বের হতে বাধা দেয় ফলে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যা জ্বর হিসেবে পরিচিত।

 

  • ম্যালেরিয়ার সংক্রমণের মাধ্যম বা উপায়সমূহ হচ্ছে-
    • প্রধান মাধ্যম স্ত্রী Anopheles  মশা। ম্যালেরিয়া পরজীবী Plasmodiumবাহী মানুষ বা অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে দংশনের মাধ্যমে রক্ত গ্রহণের সময় উক্ত পরজীবী মশার পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত মশকী কর্তৃক কোনও সুস্থ মেরুদণ্ডী প্রাণীকে দংশনের সময় এর লালা রসের মাধ্যমে উক্ত পরজীবী সেই প্রাণীতে প্রবেশ করে। এভাবে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে বা মানুষে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত হয়। আমাদের দেশে সাত প্রজাতির Anopheles  মশা রয়েছে। যথা- Anophelesdirus, A. philippinensis, A. sundaicus, A.. annularis, A. vagus এবং A. aconitus       
    • এছাড়াও সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে নবজাতকের দেহে, একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্তদান বা ড্রাগ গ্রহণের মাধ্যমে, যথাযথ নিয়ম না মেনে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া জীবাণু একদেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে তবে তার হার খুবই কম।

 

  • কেবলমাত্র স্ত্রী Anopheles  মশার মাধ্যমেই ম্যালেরিয়া ছড়ায় কারণ-
    • স্ত্রী Anopheles  মশারই বিদ্ধকারী ও চোষক ধরনের (Piercing and Sucking type ) মুখোপাঙ্গ বর্তমান যা মানুষসহ অন্যান্য মেরুদণ্ডীদের দেহ বিদ্ধ করে খাদ্য রূপে রক্ত গ্রহণ করে যা তার ডিমের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ও পরিস্ফুটনের জন্য অপরিহার্য।
    • অন্যদিকে পুরুষ Anopheles  মশার ম্যাক্সেলারি পাল্পের (Maxillary palps) শেষাংশ ভোঁতা প্রকৃতির এবং ম্যান্ডিবল (Mandible) অনুপস্থিত বিধায় এরা কোন মেরুদণ্ডীদের ত্বক বিদ্ধ করতে পারে না। এছাড়াও এদের হাইপোফ্যারিংক্স (Hypopharynx) ল্যাবিয়ামের (Labium) সংগে যুক্ত থাকায় এদের প্রোবোসিস (Proboscis) রক্তপানে অক্ষম কিন্তু উদ্ভিদের রস গ্রহণে সক্ষম।

 

  • ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহে লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ হচ্ছে:
    • মাথাব্যথাসহ নির্দিষ্ট সময় পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর (১০৪-১০৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট) আসা এবং ছেড়ে যাওয়া।
    • জ্বর ছেড়ে গেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও কমে যেতে পারে।
    • তীব্র পানির পিপাসা, ক্ষুধাবোধের অভাব ও বমি বমি ভাব।
    • প্লীহা (Spleen) ও যকৃত বড় হয়ে যাওয়া।
    • রক্ত স্বল্পতা (Anaemia) দেখা দেয়।

 

  • রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয় কারণ-
    • আক্রান্ত লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়
    • অনেকের অনাক্রান্ত লোহিত রক্ত কণিকাও ভেঙ্গে যায়
    • লোহিত রক্ত কণিকা প্রস্তুতকারী মজ্জা কাজে বাঁধা প্রাপ্ত হয় বিধায় লোহিত কণিকা তৈরিতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়
    • প্লীহা বড় হয়ে রক্ত জমা করে কোথাও বা আবার রক্তপাত হয়, রক্তের দলা জমে ইত্যাদি।

 

  • মশা ধ্বংস, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও রোগাক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমের ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন-
    • মশা ধ্বংস (প্রত্যক্ষ):
      • বিভিন্ন কীটনাশক যেমন- সালফার ডাই অক্সাইডের ধোঁয়া মশা তাড়ায় অথবা মেরে ফেলে।
      • যেসব বদ্ধ জলাশয় ও ড্রেনে মশা ডিম পাড়ে ও লার্ভার পরিস্ফুটন হয়ে থাকে সেখানে কেরোসিন বা ডিজেল তেলের একটি আস্তরণ তৈরি করা যাতে অক্সিজেনের অভাবে ডিম ও লার্ভা মারা পড়ে।
      • মশার ডিম ও লার্ভা খেকো গাপ্পি, গাম্বুসিয়া, কই, খলিশা ইত্যাদি মাছ বদ্ধ জলাশয়ে ছাড়ে দেয়া।
    • মশা ধ্বংস (পরোক্ষ):
      • মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা যেমন- বাড়ীর আসে পাশে খানা-খন্দ ও ছোট বদ্ধ জলাশয় ভরাট করে ফেলা বা পানি জমতে না দেয়া, ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে পানি প্রবহমান রাখা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
      • রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে বন্ধ্যা স্ত্রী মশা সৃষ্টি।
      • যৌন হরমোন ব্যবহার করে সকল মশাকে পুরুষ মশায় রূপান্তর।
      • জুভেনাইল হরমোন ব্যবহার করে মশার লার্ভা দশাকে স্থায়ী দশায় পরিণত করে রাখা।
      • জেনিটিক প্রকৌশলের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া পরজীবী বিধ্বংসী মশকী উৎপাদন।
    • আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ:
      • মশার কামড় থেকে বাঁচতে সন্ধ্যার আগেই মোজা, পাজামা, জামায় দেহ আবৃত করে রাখা।
      • শরীরের অনাবৃত অংশে মশা রোধী ক্রিম বা লোশন ব্যবহার।
      • মশারি ব্যবহার (বর্তমানে এমন মশারী পাওয়া যায় যার আশে পাশে মশা আসে না)।
      • দরজা, জানালা, ভেন্টিলেটর ইত্যাদি স্থানে মশারী বা সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার।
      • রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে যেন মশা না কামড়াতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা।
    • রোগাক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ:
      • ক্লোরোকুইন (Chloroquine), ডারাপ্রিম (Daraprime), নিভাকুইন (Nivaquine) ইত্যাদি ঔষধ ম্যালেরিয়া জীবাণু ধ্বংসে কার্যকর।
      • তবে সকল ঔষধই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে গ্রহণ করতে হবে তাই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির ম্যালেরিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলেই তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

 

ম্যালেরিয়ার ইতিহাস:

  • ১৭৮৩: প্রথম ম্যালেরিয়া শব্দ ব্যবহার করেন বিজ্ঞানী টর্টি (Torti)
  • ১৮৮০: ম্যালেরিয়া আক্রান্ত মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় এ রোগের জন্য দায়ী প্রাণীর (প্রোটোজোয়া) উপস্থিতি সম্পর্কে জানান ফরাসী সেনাবাহিনীর ডাক্তার চার্লস ল্যাভেরন (Charles Laveron)।
  • ১৮৮৫: বিজ্ঞানী মার্চিয়াফাভা (Marchiafava) এবং সেলি (Celli) জানান ম্যালেরিয়া পরজীবীর গণ (Genus) হচ্ছে Plasmodium
  • ১৮৯২: জার্মান ডাক্তার রিচার্ড ফেফার (Richard Pfeiffer) বলেন- রক্তপায়ী পতঙ্গের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া পরজীবী একদেহে থেকে অন্যদেহে স্থানান্তরিত হয়।
  • ১৮৯৪: স্কটল্যান্ডের ডাক্তার স্যার প্যাট্রিক ম্যানসন (Sir Patric Mansion) বিশ্বাস করতেন ম্যালেরিয়া মশাবাহিত রোগ।
  • ১৮৯৭: স্যার রোনাল্ড রস (Sir Ronald Ross) সর্বপ্রথম অ্যানোফিলিস মশকীয় দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রের কয়েকটি ধাপ আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। এজন্য ১৯০২ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
  • ১৮৯৮-১৮৯৯: বিজ্ঞানী বিগন্যামি, বান্টিয়ানেলি ও গ্রাসি (Bignami, Bastianeli and Grassi) অ্যানোফিলিস (Anopheles maculipennis) মশকীর দেহে প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) এর জীবনচক্রের যৌন পর্যায় আবিষ্কার করতে সক্ষম হন।
  • ১৯৪৮: বিজ্ঞানী সর্ট (Shortt) মানুষের যকৃতকোষে প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) এর জীবনচক্রের অযৌন পর্যায়ের হেপাটিক সাইজোগনি বা প্রিসাইজোগনি চক্র আবিষ্কার করেন।
  • ১৯৬৫: বিজ্ঞানী ব্রে ও গার্নহাম (Bray and Garnham) মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর দেহে প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) গণের অন্তর্ভূক্ত প্রজাতির তালিকা প্রস্তুত করেন।
  • ১৯৬৫: বিজ্ঞানী ব্রু-সোয়ার্ট (Bruce-Chwatt) ম্যালেরিয়া নির্মূলীকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেন।

 

কুইজে অংশ নিতে লিঙ্কটি অনুসরণ করুন

 

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিস্তারিত

Leave a Reply