ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: কাকিলা, Freshwater Gar, Xenentodon cancila

কাকিলা, Freshwater Gar, Xenentodon cancila

কাকিলা, Freshwater Gar, Xenentodon cancila

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান(Systematic position):
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Beloniformes (Needle fishes)
পরিবার: Belonidae (Needlefishes)
গণ: Xenentodon
প্রজাতি: Xenentodon cancila

শব্দ ইতিহাস (Etymology):
Xenentodon শব্দটি এসেছে গ্রিক xénos যার অর্থ অদ্ভুত (strange) এবং গ্রিক -odont যার অর্থ দন্তময় (toothed) থেকে। অন্যদিকে cancila শব্দটি এসেছে মাছটির স্বদেশীয় ভারতীয় নাম (vernacular Indian name) কাকিলা থেকে।

সমনাম (Synonyms):
Belone cancila (Hamilton, 1822)
Belone graii (Sykes, 1839)
Esox indica (McClelland, 1842)
Esox hindostanicus (Falconer, 1868).

সাধারণ নাম (Common name):
বাংলা: এটি গাঙতুরি, কাকিয়া, কাকলে, কাখুয়া ইত্যাদি নামে পরিচিত (Bhuiyan, 1964)। এছাড়াও একে কাকিয়া, কাইকলা, কাইক্কা নামে ডাকা হয়ে থাকে।
English: Freshwater Gar

বিস্তৃতি (Distribution):
বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এদের পাওয়া যায় (Bhuiyan, 1964)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status):
IUCN Bangladesh (২০০০) অনুসারে বাংলাদেশে এটি হুমকিগ্রস্ত প্রজাতির নয়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন(Morphology):
দেহ লম্বা এবং সামান্য চাপা তথা প্রায় সিলিন্ডার আকৃতির। এদের পিঠের দিকটা ধূসর ও সবুজাভাব, অঙ্কীয় পাশটা সাদাটে এবং পার্শ্বীয় দিক সবুজভাব রূপালী যার মাঝে তীর্যকভাবে অবস্থিত অনেকগুলো আড়াআড়ি দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পৃষ্ঠ এবং পায়ু পাখনা পরস্পরের বিপরীত দিকে এবং পুচ্ছ পাখনার খুব নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। পার্শ্বরেখা দেহের নীচের দিক দিয়ে বিস্তৃত এবং সম্পূর্ণ।
চোখের উপরের কোনের সম্মুখে নাসারন্ধ্র বর্তমান। চোয়ালদ্বয় লম্বা ও শক্ত হয়ে চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে। নিচের চোয়াল উপরের চোয়াল অপেক্ষা সামান্য দীর্ঘ। প্রত্যেক চোয়ালে এক সারি তীক্ষ্ণ দাঁত রয়েছে।
পরিণত পুরুষ মাছের মাথার শীর্ষে লাল চুড়া দেখতে পাওয়া যায় যা থেকে সহজেই স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করা যায়। এছাড়াও পুরুষ মাছের দেহ স্ত্রী মাছের তুলনায় অধীত সরু।
মাথার দৈর্ঘ্য আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৩৯.২ ও ৩৬.২৫ শতাংশ। দেহের উচ্চতা আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৮.৮ ও ৮.১ শতাংশ। চোখের ব্যাস মাথার দৈর্ঘ্যের ১২.১ শতাংশ।

পাখনা সুত্র (Fin formula):
D. 15-16; P1. 10-11; P2. 6; A. 17-18 (Rahman, 2005)
D. 16-19; A. 16-19; P1. 11-12; P2. 6; C. 15 (Bhuiyan, 1964)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length):
রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩০.৪ সেমি (Day, 1878), ২৩ সেমি (Bhuiyan, 1964), ২৭.৪ সেমি (Hussain, 1999), ২৬.১ সেমি (Rahman, 2005)।

আবাস্থল (Habitat):
স্বাদুপানির জলাশয়ে পাওয়া যায়। তবে সবেচয়ে বেশী পাওয়া যায় পুকুর, খাদ, প্লাবিত অঞ্চল (ITDG, 1999), খাল, বিল, প্লাবনভূমি, হাওড়, বাঁওড় (অশ্বখুরাকৃতির হ্রদ), নদী ও হ্রদে। এমনকি বালুময় ও শিলা-পাথরের উপস্থিতি রয়েছে এমন নদী বা জলাশয়েও এদের দেখা মেলে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভাস (Food and feeding habit):
এটি শিকারী মাছ। মূলত ছোট মাছ খেয়ে থাকে (ITDG, 1999) ও Bhuiyan (1964)।

প্রজনন (Breeding):
প্রাকৃতিক ভাবে প্রবহমান জলাশয়ে বিশেষ করে নদীতে (ITDG, 1999) এবং বর্ষাকালে প্লাবিত অঞ্চলে প্রজনন করে থাকে। পরিণত মাছেরা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ নেই এমন স্থানে বসবাস করলেও জলজ উদ্ভিদের পাতার নীচে এদের স্ত্রীরা ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে কৃত্রিম প্রজননের কোন তথ্য পাওয়া যায় নি।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব(Economic importance):
খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বাংলাদেশে সাধারণত স্বাদুপানির মুক্ত জলাশয় থেকে ধরা পড়ে। এটি যথারীতি টাটকা এবং শুটকি উভয়ভাবেই বাজারজাত করা হয়। এই মাছে ৩.৪ শতাংশ চর্বি এবং ৭৭.১ শতাংশ পানি রয়েছে (Huda, 1059)।
পৃথিবীর অনেক দেশে অ্যাকুয়ারিয়ামে বাহারী মাছ হিসেবে এর ব্যবহার রয়েছে। এই মাছের অনুকূল পিএইচ ৭ থেকে ৭.৫, তাপমাত্রা ২২-২৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, গভীরতা শুণ্য থেকে দুই মিটার। ১৮০ x 60 সেমি আয়তনের ও ৩০ সেমি গভীরতার অ্যাকুয়ারিয়ামে এদের সহজেই লালন-পালন করা যায়।

আহরণ ও উৎপাদন (Harvesting and production):
প্রধাণত প্লাবিত অঞ্চল, নদী ইত্যাদি থেকে এই মাছ আহরণ করা হয়। এই মাছ ধরতে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যার নাম “কাকিলা ফিসিং”। বাংলাদেশে কাকিলা মাছের উৎপাদন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না। তবে ধারনা করা হয় এই মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

তথ্য সুত্র(References):

  • Bhuiyan, A.L., 1964. Fishes of Dacca, Asiat. Soc. Pakistan, Pub. 1, No. 13, Dacca, pp. 30-32.
  • Hamilton, F., 1822. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches, Edinburgh & London, pp. 1-405.
  • Huda, A.K.M.S. 1959. Further observation on the fat content of East Pakistan fishes, Proc. Conf. Fish. Officers, Govt. of East Pakistan.
  • Hussain, M.M., 1999. Fishes and Fisheries of the River Atrai in Rajshahi with Reference to its Limnology, unpublished Ph.D. thesis, Department of Zoology, University of Rajshahi, Bangladesh, pp. 5-200.
  • ITDG (Intermediate Technology Development Group-Bangladesh). 1999. Food, Livelihood and Freshwater Ecology: The Significance of Small Indigenous Fish Species, DRIK, House 58, Road 15 (A) New, Dhanmondi, Dhaka 1209, Bangladesh, 48 p.
  • IUCN Bangladesh. 2000. Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman, A.K.A., 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. xviii -263.
  • Sykes, W. H., 1839. On the fishes of the Deccan.  Proc. Zool. Soc. Lond., pp. 157-165.
  • Talwar, P.K. and A.G. Jhingran, 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. I, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 163-165.

 

পুনশ্চ:
English Feature: Freshwater Gar: Xenentodon cancila (Hamilton, 1822)

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply