ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: স্যভন খোরকা, Half banded loach, Schistura savona

শ্রেণীতাত্ত্বিকঅবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Balitoridae (River loaches)
উপপরিবার: Nemacheilinae
গণ: Schistura
প্রজাতি: S. savona (Hamilton, 1822)

সমনাম (Synonyms)
Acoura obscura (Swainson ,1839)
Cobite sobscura (Swainson ,1839)
Cobitis savona (Hamilton , 1822)
Nemacheilus savona (Hamilton, 1822)

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: স্যভন খোরকা
English: Half banded loach, Bicolor Loach, Savona Loach, Savon khorka

বিস্তৃতি (Distribution)
এদেরকে বাংলাদেশে (Rahman, 1989 and 2005) এবং হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল যথা- ভারতের তিস্তা নদী প্রবাহে (দার্জিলিং থেকে নেপাল ও উত্তর প্রদেশে কর্নালি থেকে কালি পর্যন্ত) পাওয়া যায় । (Talwar and Jhingran 1991)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে এরা বাংলাদেশে হুমকিগ্রস্ত (threatened) প্রজাতির তালিকার অন্তর্ভূক্ত নয়।
Fishbase (2014) অনুসারে এই মাছ ভারতে হুমকিগ্রস্ত (Threatened) তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
Vishwanath (2010) অনুসারে (The IUCN Red List of Threatened Species) ver 3.1 তে এদের অবস্থান Least Concern (LC) অর্থাৎ এরা বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

দৈহিক গঠন (External Morphology)
সরু ও নলাকার দেহ পার্শ্বীয়ভাবে কমবেশি চাপা। পৃষ্ঠ প্রান্ত উত্তল এবং অঙ্কীয় প্রান্ত অবতল।
এদের ছোট ও অর্ধবৃত্তাকার মুখ উপস্থিত। ঠোট মাংসল। উপরের ঠোট খাঁজকাটা। একই আকারের তিন জোড়া বার্বেল (barbel) উপস্থিত যার মধ্যে একজোড়া উপরের চোয়ালে (তুণ্ড) এবং দুই জোড়া নীচের চোয়ালে (চঞ্চু) অবস্থিত। পার্শ্বরেখা সম্পূর্ণ। চোখ বড়। নাসারন্ধ পরস্পরের নিকটে অবস্থান করে।
পুচ্ছপাখনা গভীরভাবে খাঁজকাটা তথা দ্বিধাবিভক্ত। পৃষ্ঠপাখনার প্রান্ত অবতল। শ্রোণীপাখনায় ছোট আকারের একটি উপাঙ্গ (appendage) দেখতে পাওয়া যায়।
এদের দেহ হলুদাভ-বাদামী বর্ণের। পৃষ্ঠদেশ বেশ গাঢ় এবং উদরাঞ্চল সাদাটে। পৃষ্ঠদেশে উলম্বভাবে ১০-১২ টি সরু সাদা হলুদাভাব ডোরা (band) দেখতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)। পুচ্ছপাখনার গোড়া কালো এছাড়া অন্যান্য পাখনাতে কোন দাগ দেখতে পাওয়া যায় না।
Rahman and Ruma (2007) অনুসারে এই মাছের ডিপ্লয়েড ক্রমোজোম (diploid chromosome) সংখ্যা ৩৬।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 10 (2/8); P1. 10; P2.7; A. 7 (2/5) (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 9; A ii 5; P i 8; V i 6 (Talwar and Jhingran, 1991).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
আদর্শ-দৈর্ঘ্যে এরা সর্বোচ্চ ২.৪ সেমি হয়ে থাকে (Talwar and Jhingran, 1991)।
এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা ১০ সেমি পর্যন্ত হতে পারে (Brough and Roche, 2014). ।

আবাস্থল (Habitat)
এদের বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি ঝর্ণা ও নদী এবং দিনাজপুর জেলার নদীতে দেখতে পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)। সিলেটের ডাহুকী নদী এদের জন্য আদর্শ আবাসস্থল (Rahman and Ruma, 2007)।
Brough and Roche (2014) অনুসারে এ্যাকুয়ারিয়ামে এদের অনুকূল পরিবেশ: ন্যুনতম পানির পরিমাণ ১১৪ লিটার যার তলদেশ বালু ও নুড়ি পাথর সমৃদ্ধ, আলোর পরিমাণ কম, তাপমাত্রা ২২.৮-২৬.১ ডিগ্রি সে. পিএইচ ৬.৫-৭.৫, হার্ডনেস ৫-১৮ dGH, স্বাদুপানি, ধীর পানির প্রবাহ থাকতে পারে।।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা সর্বভুক মাছ অর্থাৎ এরা উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরণের খাবারই খেয়ে থাকে। শেওলা, পতঙ্গের শূককীটসহ অন্যান্য প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে থাকে।
এ্যাকুয়ারিয়ামে এরা ফ্লেকস (Flakes), পিলেট (Pellet), জীবন্ত খাবার যথা চিংড়ি, কীট (worms), ছোটমাছ, মাংসের টুকরা ইত্যাদি। দিনে একাধিক বার খাবার দেয়া যেতে পারে।

প্রজনন (Breeding)
নারী ও পুরুষ আলাদা করা অত্যন্ত কঠিন। কেবলমাত্র প্রজনন ঋতুতে স্ত্রীদের উদর পুরুষদের চেয়ে কিছুটা গোলাকার ও স্ফীত হয়ে থাকে। এ্যাকুয়ারিয়ামে প্রজননের কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
এরা জলাশয়ের তলদেশে অবস্থান করে বালু, নুড়ি পাথর ও শিলাখণ্ডের নিচে অবস্থিত আনুবীক্ষণিক জীব খেয়ে জলজ পরিবেশ পরিস্কারে ভূমিকা রাখে।

মৎস্য তথ্য (Fishery information)
মৎস্য-খাতে আলাদাভাবে এদের গুরুত্ব নেই (Talwar and Jhingran, 1991)। প্রকৃতপক্ষে শুধুমাত্র এই মাছের উৎপাদন সম্পর্কিত কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
খাবারের মাছ হিসেবে এর গুরুত্ব নেই বললেই চলে তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ্যাকুয়ারিয়ামের বাহারি মাছ হিসেবে এর যথেষ্ট কদর রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Brough C and Roche J. 2014. Half Banded Loach. Animal-world. Downloaded on 24 May 2014.
  • Fishbase. 2014. Species summary: Schistura savona (Hamilton, 1822). Downloaded on 24 May 2014.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union xii+116 pp.
  • Rahman AKH (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 150-151.
  • Rahman AKH (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 168-170.
  • Rahman AKA and Ruma Farhana, 2007. Schistura savona (Hamilton, 1822). In: Siddiqui K U, Islam M A, Kabir S M H, Ahmad M, Ahmed A T A, Rahman A K A, Haque E U, Ahmed Z U, Begum Z N T, Hassan M A, Khondker M and Rahman M M (eds.). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23 (Freshwater Fishes). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. pp. 100-101.
  • Swainson W (1839). The natural history and classification of fishes, amphibians,& reptiles, or monocardainanimal.Spottiswood & Co., London nat. Hist. & Class. i-vi + 1-448.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH publishing Co. Pvt . Ltd. New Delhi-Calcutta, p. 501.
  • Vishwanath, W. 2010. Schistura savona. In: IUCN 2013. IUCN Red List of Threatened Species. Version 2013.2. Downloaded on 24 May 2014.

পুনশ্চ:

  • আমাদের সংগ্রহে মাছটির কোন ছবি নেই। আপনার তোরা ছবি থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন contact at bdfish dot org এই ইমেইল ঠিকানায়।
  • এই মাছের ছবি গুগলে খুঁজে পেতে এখানে ক্লিক করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply