ক্যাটাগরি: পরিবেশ | মাৎস্য জীববৈচিত্র্য | মাৎস্য ব্যবস্থাপনা | স্বাদুপানি

জলজ পরিবেশ ও মাছের জীববৈচিত্র্য

হাওয়াঞ্চলের জলাভূমি

হাওয়াঞ্চলের জলাভূমি

মাছ শীতল রক্ত বিশিষ্ট জলজ প্রাণী। মাছের উৎপাদন, বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকা সবই নির্ভর করে পানি তথা জলজ পরিবেশের উপর। নদী-নালা, খাল-বিল আর হাওর-বাওড়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জলজ পরিবেশ মাছ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাদু পানিতে ২৬০ প্রজাতি এবং লোনা পানিতে রয়েছে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। আর এসব মাছের খাদ্য, বাসস্থান, প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রের সাথে যে বিষয়টি ওতপ্রতভাবে জড়িত তা হলো জলজ পরিবেশ। এ পরিবেশের সাথে চলে আসে পানির গভীরতা, ঘনত্ব, ঘোলাত্ব, তাপমাত্রা, অক্সিজেন, পিএইচ, কার্বনডাই অক্সাইড, নাইট্রেট, নাইট্রাইট, ক্ষারত্ব, স্রোত বা প্রবাহ এবং পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থের উপস্থিতি। সেই সাথে জলজ পরিবেশে রয়েছে মাছসহ বিভিন্ন জীব-অনুজীব, প্লাংকটন, নেকটন, বেনথোস এবং ডুবন্ত ও ভাসমান নানা জাতের অসংখ্য জলজ উদ্ভিদ। মাটি, পানি আর জলজ উদ্ভিদ এবং প্রাণি নিয়েই জলজ পরিবেশ।
 
পানি সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জলজ পরিবেশে মাছ ছাড়াও রয়েছে নানান জাতের কাকড়া, কচ্ছপ, শামুক-ঝিনুক, চিংড়ি, লবস্টার, ডলফিন, শুশুক, তিমি, হাঙ্গরসহ আরো অনেক জীববৈচিত্র্যের সমাহার। আর এসব জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিস্তৃতির জন্য জলজ পরিবেশকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের স্বার্থেই। কারণ, আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ইত্যাদির পাশাপাশি গ্রাম্য জনগণের একটা বিরাট অংশ জলজ পরিবেশ তথা জলজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
 

হাওরাঞ্চলের জলাভূমি

হাওরাঞ্চলের জলাভূমি

মাছকে বাদ দিয়ে বাঙ্গালী তাঁর পুষ্টি চাহিদা পুরণের কথা চিন্তাই করতে পারেনা। কারণ, প্রাণিজ আমিষের চাহিদার শতকরা ৬৩ ভাগ পুরণ করে এ মাছ। মাছ আর ভাতেই আমরা তুষ্ট। কিন্তু আমাদের বর্তমানে ভাতের যোগানে তেমন অভাব না হলেও ঘাটতি রয়েছে মাছের যোগানে। আর এ নিয়ে সরকার ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টার অন্ত নেই। চলছে নিরন্তর গবেষণা, উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবন, আধুনিক চাষ পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণসহ মৎস্য আইন বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ।
 
পলি পড়ে জলাভূমি ভরাট হওয়া, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি (খরা) বা অসময়ে বন্যার মত প্রাকৃতিক কারণে জলজ পরিবেশ নষ্ট হওয়া ইত্যাদি সরাসরি ঠেকাতে না পারলেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি পানি দূষণ, কীট নাশক ও রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব; বন্ধ করতে পারি জলাশয় সম্পূর্ণরূপে সেঁচে শুকিয়ে মাছ ধরা, থামাতে পারি কারেন্ট জাল, সুতী বা কাফরি জালেরমত মাছ ধরার ক্ষতিকর সরঞ্জামের ব্যবহার। বিরত থাকতে পারি ডিমওয়ালা মা মাছ, ছোট মাছ এবং ঝাটকা ইলিশ ধরা, বিক্রি ও খাওয়া থেকে। আর এ সবই সম্ভব আপনি-আমি একটু সচেতন হলেই। এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সবাইকে। রৰা করতে হবে মাছ, মাছের বংশ, জীববৈচিত্র্য আর জলজ পরিবেশকে। মানুষ এবং জাতি হিসেবে এটাই এখন আমাদের সময়ের দাবী, পবিত্র কর্তব্য।


Visited 289 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

লেখক

মৎস্য জীব বৈচিত্র্য কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার। বিস্তারিত

Leave a Reply