ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: এক ঠুইটা, Ectuntio halfbeak, Zenarchopterus ectuntio

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position):
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Beloniformes (Needlefishes)
উপবর্গ: Belonoidei (= Exocoetoidei)
Superfamily: Exocoetoidea
পরিবার: Hemiramphidae (Halfbeaks)
উপপরিবার: Zenarchopterinae
গণ: Zenarchopterus
প্রজাতি: Zenarchopterus ectuntio

শব্দতত্ত্ব (Etymology):
Zenarchopterus শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ zao অর্থ জীবনদায়ী (to give life), গ্রিক শব্দ archos অর্থ পায়ু (anus) ও গ্রিক শব্দ pteron অর্থ পাখনা (fin) থেকে।

সমনাম (Synonyms):
Esox ectuntio (Hamilton, 1822)
Hemiramphus amblyurus (Bleeker, 1849)
Hemiramphus borneensis Bleeker, 1851
Hemirhamphus amblyurus (Bleeker, 1849)
Hemirhamphus ectunctio (Hamilton, 1822)
Zenarchopterus amblyurus Bleeker, 1849
Zenarchopterus borneensis (Bleeker, 1851)
Zenarchopterus hendersoni Fowler, 1919

সাধারণ নাম (Common name):
বাংলা: এক ঠোটা, এক ঠুইটা
English: Ectuntio halfbeak

বিস্তৃতি (Distribution):
বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005), ভারত (হুগলী নদীতে), থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপ, বোর্নিও ও তাইওয়ান (Talwar and Jhingran, 1991), হংকং ও অস্ট্রেলিয়া।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status):
এই মাছটির সংরক্ষণ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই ( IUCN Bangladesh, 2000) ।

দৈহিক গঠন (Morphology):
নলাকার দেহ সামান্য চাপা। দেহের দুই পাশ ক্রমশ চেপে যেয়ে লেজে শেষ হয়েছে। নিচের চোয়াল তথা চঞ্চু উপরের চেয়ে তিন গুন লম্বা। চোয়ালে অসংখ্য সূক্ষ্ম দাঁত বর্তমান। দেহ সবুজাভ বাদামী বর্ণের। একটি সরু রূপালী ডোরা পার্শীয়ভাবে উপস্থিত। উপরের চঞ্চু দুধের মত সাদা।

পৃষ্ঠ পাখনা দেহের শেষ চতুর্থাংশে অবস্থিত। এটি পায়ু পাখনার বিপরীত পাশে অবস্থান করে এবং পায়ু পাখনা যেখানে শুরু হয়েছে পৃষ্ঠ পাখনা তার সামান্য সামনে থেকে শুরু হয়। পুরুষ মাছের পৃষ্ঠ পাখনার প্রথম তিনটি রশ্মি ঘনভাবে সন্নিবেশিত এবং পায়ু পাখনার অগ্রভাগের কিছুসংখ্যক রশ্মি পরিবর্তিত ও ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট। পুচ্ছ পাখনা গোলাকৃতির।

আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য চঞ্চুসহ মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ২ – ২.৩ গুণ ও ২.৫ – ২.৭ গুণ । আদর্শ দৈর্ঘ্য দেহের উচ্চতার ১১ গুণ। আদর্শ দৈর্ঘ্য চঞ্চুর দৈর্ঘ্যের ৫.৫ (Rahman, 1989 and 2005)। পার্শ্বরেখাটি দেহের অঙ্কীয় দিক দিয়ে বিস্তৃত। সাইক্লোয়েড (cycloid) আঁইশ আকারে বড় ও গোলাকার। পার্শ্বরেখা বরাবর ৪৬-৪৮টি আঁইশ বর্তমান (Rahman, 1989 and 2005)।

এদের পুরুষ ও স্ত্রী আলাদা। নিষেক দেহাভ্যন্তরে ঘটে। এরা অণ্ড-জরায়ুজ (Ovoviviparous) অর্থাৎ এদের ভ্রুণতাত্ত্বিক পরিস্ফুটন মায়ের দেহাভ্যান্তরে ঘটে কিন্তু পুষ্টি মায়ের কাছ থেকে না পেয়ে ডিমের কুসুম থেকে পেয়ে থাকে।

পাখনা সূত্র (Fin formula):
D. 13-14; P1. 9; P2. 6; A. 10-12 (Rahman, 1989 and 2005)
D 13-14; A 10-12; P i 9; V i 5 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length):
এরা ১৫ সে মি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে (Talwar and Jhingran, 1991)। Kottelat et all (1993) অনুসারে এরা আঠার সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

আবাস্থল (Habitat):
এদের আবাস স্বাদুপানিতে তবে মোহনাঞ্চলেও এদের দেখতে পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran, 1991)। এটি প্রধানত নদীতে পাওয়া যায়; তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর মোহনাতে এদের দেখা মেলে (Rahman, 1989 and 2005; IUCN Bangladesh, 2000)।

মৎস্য তথ্য(Fishery info):
মৎস্য খাতে এর কোন অবদান নেই (Talwar and Jhingran, 1991)।

তথ্যসূত্র (References):

  • Bleeker P (1849) Bijdrage tot de kennis der ichthyologische fauna van het eiland Madura, met beschrijving van eenige neiuwe soorten. Verhandelingen van het Bataviaasch Genootschap van Kunsten en Wetenschappen. 22(8):1-16.
  • Bleeker P (1851) Over eenige nieuwe soorten van Pleuronectoïden van den Indischen Archipel. Natuurkundig Tijdschrift voor Nederlandsch Indië 1:401-416.
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 59-60.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 74-75.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 2, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 737-738.

 

পুনশ্চ:

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply