ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Balitoridae (River loaches)
উপপরিবার: Nemacheilinae
গণ: Acanthocobitis
প্রজাতি: A. botia

শব্দতত্ত্ব (Etymology)
Acanthocobitis শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ akantha অর্থাৎ কাঁটা (thorn) এবং গ্রিক শব্দ kobitis, -idos অর্থাৎ এক ধরণের সারডিন (a kind of sardine) থেকে (Fishbase, 2014)।

সমনাম (Synonyms)
Botia nebulosa Blyth, 1860
Cobitis botia Hamilton, 1822
Nemacheilus botia (Hamilton, 1822)
Nemacheilus botia botia (Hamilton, 1822)
Nemachilus botia (Hamilton, 1822)
Nemachilus botius (Hamilton, 1822)
Nemachilus mackenziei Chaudhuri, 1910
Noemacheilus botia Menon, 1987

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: বালিচাটা, বিলতারি, নটোয়া, বিলটুরি, নাতাওয়া, বালিছাটা
English: Mottled loach, Zipper loach, Sand loach

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বালিচাটা বাংলাদেশ, উত্তর ভারত বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকা এবং পাকিস্তানের ইন্দু অববাহিকায় (Indus basin) পাওয়া যায় (Talwar and Jhingran 1991)।
নেপাল, মায়ানমার, ভুটান, থাইল্যান্ড ও চীনে এদের দেখা মেলে। এছাড়াও পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকা (Indus basin) হতে থাইল্যান্ডের ম্যাইখালোঙ অববাহিকা (Mae Khlong basin) পর্যন্ত এই মাছের বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়। মূলত গঙ্গা, চিনদোইন (Chindwin), ইরাবতী (Irrawaddy), সিটাং (Sitang) ও সালউইন (Salween) অববাহিকার মাধ্যমে এ বিস্তৃতি ঘটে থাকে। চীনের ইউনান (Yunnan) ও ইয়াংজি (Yangtze) নদীর অববাহিকাতেও এ মাছের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়।
ভারতের পার্বত্য অঞ্চলের জলাশয়ে এদের দেখা মেলে (Talwar and Jhingran 1991)। বাংলাদেশের সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর এবং রংপুরের জলধারার পরিষ্কার জলের অগভীর অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় (Rahman 1989 and 2005)। এছাড়াও চলন বিল ও হালতি বিলে এদের বিচরণ করতে দেখা যায়।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
আইইউসিএন বাংলাদেশ (২০০০) অনুসারে বাংলাদেশে এর সংরক্ষণ অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য অপ্রতুল (Data Deficient)।
Devi and Boguskaya (2009) অনুসারে পৃথিবীতে এর সংরক্ষণ অবস্থা Least Concern অর্থাৎ

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (Morphology)
দেহ লম্বা ও সরু। অঙ্কীয় প্রান্তের চেয়ে পৃষ্ঠীয় প্রান্ত অনেক বেশী উত্তল। চোখ ছোট এবং মাথার উপরের দিকে অবস্থিত বিধায় অঙ্কীয়পাশ থেকে চোখজোড়া দৃষ্টিগোচর হয় না। নাসারন্ধ্র দুটি পরস্পরের নিকটে অবস্থিত।
অর্ধবৃত্তাকার মুখ পরিমিত মাংসল ঠোট বিশিষ্ট। নিচের ঠোটের মাঝে খাঁজ থাকায় তা দুটি খণ্ডাংশে পরিণত হয়েছে। উন্নত স্পর্শী সংখ্যায় তিন জোড়া। পৃষ্ঠ পাখনা শ্রোণী পাখনার সম্মুখে বিপরীত পাশে উৎপন্ন হয়ে থাকে। পৃষ্ঠপাখনার প্রান্ত সোজা প্রকৃতির। পুচ্ছ পাখনা সামান্য প্রসারিত। ক্ষুদ্রাকার আঁইশ উপস্থিত। পার্শ্বরেখা সাধারণত সম্পূর্ণ এবং প্রায়ই তা পায়ুপাখনার ভিত্তি অতিক্রম করে যায়।
এদেরর শরীর জলপাই থেকে হলুদাভ কমলা বর্ণের হয়ে থাকে। পৃষ্ঠদেশে ১০-১৪টি অনিয়মিত কালো বর্ণের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। তবে এই দাগগুলো স্বল্প বয়স্ক মাছে বিক্ষিপ্ত ভাবে অবস্থান করে (Talwar and Jhingran 1991) এবং পূর্ণবয়স্ক মাছের পৃষ্ঠ থেকে পার্শ্বদেশে অনিয়মিত ভাবে লক্ষ্য করা যায় (Talwar and Jhingran 1991)।
দেহের উচ্চতা আদর্শ দৈর্ঘ্যের ৪.৫-৫.৯ গুণ (Talwar and Jhingran 1991)। এদের পৃষ্ঠ পাখনায় ৫-৬টি সরু দাগ উপস্থিত। অন্যদিকে পুচ্ছ পাখনায় ইংরেজি বর্ণ ভি (>) আকৃতির ৫-৭টি দাগ লক্ষ্য করা যায় । পুচ্ছ পাখনার ভিত্তিতে উভয় পাশে একটি কালো দাগ উপস্থিত।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 13 (2/11); P1. 10; P2. 8 (1/7); A. 6 (1/5) (Rahman 1989 and 2005)
D iii 9-11; A iii 5; P i 11; V i 7 (Talwar and Jhingran 1991)
D. 12-14 (2/10-12); P. 11; V. 8; A. 7 (2/5); C. 17 (Shafi and Quddus 2001)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
এর সর্বোচ্চ আদর্শ দৈর্ঘ্য Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৬.২ সেমি এবং Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ৭ সেমি। অন্যদিকে এদের মোট দৈর্ঘ্য ১৫ সেমি (Shafi and Quddus 2001).

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

বালিচাটা, Mottled loach, Acanthocobitis botia

আবাস্থল (Habitat)
এরা নিশাচর মাছ। পাহাড়ি ঝর্ণার বালু ও নুড়িপাথরময় তলদেশে থাকতে পছন্দ করে। তবে খাল বিল ও নদীতেও এ মাছ বাস করে (Shafi and Quddus 2001) । এরা পরিবর্তিত পরিবেশে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
বালিচাটা মূলত সর্বভুক অর্থাৎ খাদ্য স্তরের প্রায় সব কিছুই এরা গ্রহণ করে থাকে। প্রকৃতিতে মূলত কীটপতঙ্গ, শূককীট ও জলজ উদ্ভিদাংশ খেয়ে থাকে। এরা ফুলকার মাধ্যমে বালি ছেঁকে নেয়ার মাধ্যমেও সামান্য পুষ্টি পেয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে এরা বালিস্তর থেকে আণুবীক্ষণিক খাবার ছেঁকে নিয়ে গ্রহণ করতে পারে।
অ্যাকোয়ারিয়ামে মূলত সকল ধরণের জীবন্ত খাদ্য, ডুবন্ত পিলেট (pellet) খাদ্য, ট্যাবলেট খাদ্য (tablet foods), ফ্লেকস (flakes) ও শেওলা জাতীয় খাবার খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকে। এরা হিমায়িত খাবারও পছন্দ করে থাকে। এছাড়াও এরা মশার শূককীট, জীবিত বা হিমায়িত ব্রাইন চিংড়ি (brine shrimp), টিউবিফেক্স (tubifex), ডাফনিয়া (daphnia) এবং পাতলা শেওলা জাতীয় উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করে থাকে।

প্রজনন (Breeding)
একই বয়সের পুরুষ বালিচাটা স্ত্রীদের চেয়ে হালকা পাতলা গড়নের হয়ে থাকে। পুরুষদের চোখের নিচে বিশেষায়িত খাঁজ লক্ষ্য করা যায় যা স্ত্রী মাছে অনুপস্থিত।
প্রকৃতিতে এরা জলাশয়ের অজ্ঞাত স্থানে ডিম পারে ও স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। অ্যাকোয়ারিয়ামে পানির পিএইচ এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রচুর পানি পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রজননে অভিজ্ঞরা এদের সফল প্রজনন করাতে সক্ষম হয়েছেন। অ্যাকোয়ারিয়ামে মাতা-পিতা মাছেরা ডিম খেয়ে ফেলতে পারে বিধায় ডিম নিষিক্ত হওয়ার পরপরই মাতাপিতাকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা উচিত।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব (Economic importance)
শোভাবর্ধনকারী মাছ প্রজাতি হিসাবে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে, এবং নেপালে সনাতনী ঔষধ হিসাবে এ মাছ ব্যবহার করা হয়।

আহরণ ও উৎপাদন (Harvesting and production)
বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে। একক মাছ হিসেবে এর উৎপাদন বিষয়ক তথ্য পাওয়া যায় না।
ভারতের মৎস্যখাতে এর গুরুত্ব নেই (Talwar and Jhingran 1991)।

তথ্য সূত্র (References)

  • Blyth E (1860) Report on some fishes received chiefly from the Sitang River and its tributary streams, Tenasserim Provinces. Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal 29(2): 138-174.
  • Chaudhuri BL (1910) Description of a new species of Nemachilus from northern India. Records of the Indian Museum (Calcutta) 5(3): 183-185.
  • Devi R and Boguskaya N (2009) Acanthocobitis botia. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.2. . Downloaded on 03 October 2014 and from http://www.iucnredlist.org/details/166465/0
  • Fishbase (2014) Species Summery: Acanthocobitis botia (Hamilton, 1822), Mottled loach . Downloaded on 03 October 2014 and from http://www.fishbase.org/summary/12256
  • Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
  • Rahman AKA. 1989. Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000. 364 pp.
  • Rahman AKA. 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000. 394 pp.
  • Shafi M and Quddus MMA. 2001. Bangladesher Matsho Shampad (Fisheries of Bangladesh) (in Bengali), Kabir publication. Dhaka, Bangladesh. 483 pp.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland fishes of India and adjacent countries. vol 1. A.A. Balkema, Rotterdam. 541 p.


Read More:

 

Visitors' Opinion

লেখক

M.S In Fisheries Technology and B.Sc. Fisheries (Honours) from BAU. Now working as Research Assistant, WorldFish-Bangladesh and South Asia, Dhaka, Bangladesh. Contact: 01717063142, nayeem_officexp@yahoo.com

Leave a Reply