ক্যাটাগরি: মাছ | মাৎস্য সম্পদ | স্বাদুপানির মাছ

বাংলাদেশের মাছ: চেলা, Silver razorbelly minnow, Salmostoma acinaces

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Cypriniformes (Carps)
পরিবার: Cyprinidae (Minnows or carps)
উপপরিবার: Rasborinae (=Danioninae)
গণ: Salmophasia
প্রজাতি: S. acinaces

সমনাম(Synonyms)
Chela argentea Day, 1867
Chela diffusa (Jerdon, 1849)
Leuciscus acinaces Valenciennes, 1844
Oxygaster argentea (Day, 1867)
Pelecus diffusus Jerdon, 1849
Salmostoma acinaces (Valenciennes, 1844)

সাধারণনাম (Common name)
বাংলা: চেলা
English: Silver razorbelly minnow
India: Chaya-vellache and Vellachee-cundee (Tamil Nadu) and Sampaj (Karnataka) (Talwar and Jhingran, 1991).

ভৌগলিক বিস্তৃতি (Geographical Distribution)
বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005) এবং ভারতে (হুগলী নদী, পুনা, ভবানী নদী ও কাবেরী নদী প্রবাহে) (Talwar and Jhingran, 1991) এদের দেখা মেলে । নেপালে এই মাছ পাওয়া যায় (Dahanukar, 2013)। পাকিস্তানেও এই মাছ প্রাপ্তির তথ্য তথ্য রয়েছে (Rahman and Chowdhury, 2009)।
বাংলাদেশে মেঘনা নদীর অববাহিকায় এদের প্রাপ্তির তথ্য রয়েছে। এছাড়াও ডাকাতিয়া নদী থেকে এদের প্রাপ্তির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে (Rahman, 1989 and 2005)।

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে বাংলাদেশে এই মাছের সংরক্ষণ অবস্থা Data deficient (DD) অর্থাৎ এই মাছের সংরক্ষণ অবস্থা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত তথ্য ঘাটতি রয়েছ।
এই প্রজাতির বৈশ্বিক সংরক্ষণ অবস্থা Least Concern অর্থাৎ এই মাছ বিস্তৃত পরিসরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় (Dahanukar, 2013)।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন (External Morphology)
এদের দেহ লম্বা ও পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। অঙ্কীয় প্রাপ্ত পৃষ্ঠ প্রান্তের চেয়ে অধিক উত্তল। উদরীয় প্রান্ত বক্ষপাখনার নীচ থেকে পায়ুপাখনা পর্যন্ত পার্শ্বীয়ভাবে ক্রমশ চেপে এসে ধারালো প্রান্ত গঠন করে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই এর ইংরেজি নামে (Silver razorbelly minnow) razorbelly শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। মুখ তির্যক এবং কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এদের উপরের চোয়ালের শেষ প্রাপ্ত চোখের সম্মুখ প্রান্তের নিচ পর্যন্ত পৌঁছে। প্রথম ফুলকা খিলানের (gill arch) নিম্নাংশে ১২-২২টি ছোট ফুলকাদণ্ড (gill racker) পাশাপাশি অবস্থিত।
এদের পৃষ্ঠপাখনা,পায়ুপাখনা বরাবর বা সামান্য পেছনে পৃষ্ঠদেশে উৎপন্ন হয়ে থাকে । বক্ষপাখনা মাথার দৈর্ঘ্যের চেয়ে সামান্য লম্বা। শ্রোণীপাখনা বক্ষপাখনার চেয়ে পায়ুপাখনার নিকটে অবস্থিত। পুচ্ছপাখনা দ্বি বিভক্ত এবং উপরের খণ্ডাংশের চেয়ে নিচের খণ্ডাংশ সামান্য বড় (Rahman and Chowdhury, 2009)।
এদের আঁইশ বড়। এদের বক্ষপাখনা ও শ্রোণীপাখনাতেও আঁইশ দেখতে পাওয়া যায় । পার্শ্বরেখা সামান্য বক্র অথবা অবতল। পার্শ্বরেখা বরাবর Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ৪৫-৪৮ টি, Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ৪২-৪৬ টি আঁইশ বিদ্যমান। এদের আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের যথাক্রমে ৪.৫-৪.৭ ও ৬ গুণ। এদের আদর্শ দৈর্ঘ্য ও মোট দৈর্ঘ্য দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৪.৭-৪.৯ ও ৫.৮-৬.২ গুণ। মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যসের ৩.৮ গুণ (Rahman, 1989 and 2005)।
দেহের উভয় পাশে উজ্জ্বল রূপালী বর্ণের ডোরা (band) উপস্থিত যা মৃত্যুর পরে ক্রমশ হালকা হতে হতে বিলীন হয়ে যায়। পায়ুপাখনা ও পুচ্ছপাখনার প্রান্ত কালো বর্ণের (Rahman, 1989 and 2005; Talwar and Jhingran, 1991)।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 10 (3/7); P1. 12; P2. 8; A. 19-20 (2-3/17) (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 7; A ii-iii 14-17; P i 14; V i 8 (Talwar and Jhingran, 1991)

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
বাংলাদেশে এই মাছের নথিভুক্ত সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৮.২ সেমি( Rahman, 1989 and 2005)এবং ১৫ সেমি (Talwar and Jhingran, 1991).

আবাস্থল (Habitat)
নদী, খাল, পাহাড়ি ঝর্ণা ইত্যাদি জলাধারে এরা বাস করে। পানির উপরের স্তর ও তলদেশ উভয় স্তরেই বসবাস করে। স্বাদুপানির অঞ্চলের মধ্যেই এদের অভিপ্রয়াণ ঘটে।
নদীর ভাটি এলাকায় এবং এ অঞ্চলের পুকুর, বিল, ডোবা, খালে পাওয়া যায়। (Rahman and Chowdhury, 2009)

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
মূলত জলজ পোকা-মাকড়, গলিত ও পঁচা আবর্জনা ইত্যাদি খেয়ে থাকে (Rahman and Chowdhury, 2009) ।
বাস্তুতাত্ত্বিক ভূমিকা (Ecological Role)
গলিত ও পঁচা আবর্জনা ইত্যাদি খেয়ে জলাশয়ের পানকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও শৈবাল ব্লুম নিয়ন্ত্রণে এর গুরুত্ব রয়েছে (Rahman and Chowdhury, 2009)।

প্রজনন জীবতত্ত্ব (Breeding biology)
এই মাছের প্রজনন বিষয়ক তথ্য পাওয়া যায় না। স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করাও সহজ নয়। এদের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে কমপক্ষে ১৫ মাস সময় প্রয়োজন হয় (Fishbase, 2015)।

মৎস্য গুরুত্ব (Fisheries importance)
ভারতীয় মৎস্যখাতে এদের গুরুত্ব সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় না (Talwar and Jhingran, 1991)। বাংলাদেশের একক প্রজাতি হিসেবে এই মাছের উৎপাদন তথ্য জানা যায়না। সীমিত পরিসরে অন্য মাছের সাথে কদাচিৎ ধরা পড়ে।
এ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তথ্য সূত্র (References)

  • Cuvier G and Valenciennes A (1844) Histoire naturelle des poissons. Tome dix-septième. Suite du livre dix-huitième. Cyprinoïdes. Histoire naturelle des poissons. 17: i-xxiii + 1-497 + 2 pp., Pls. 487-519.
  • Dahanukar, N. 2013. Salmophasia acinaces. The IUCN Red List of Threatened Species. Version 2014.3. Downloaded on 10 February 2015 and from http://www.iucnredlist.org/details/166564/0
  • Day F (1867) On the fishes of the Neilgherry Hills and rivers around their bases. Proceedings of the General Meetings for Scientific Business of the Zoological Society of London 1867 (2): 281-302.
  • Fishbase (2015) Species symmery: Salmostoma acinaces. Downloaded on 10 February 2015 and from http://www.fishbase.org/summary/Salmostoma-acinaces.html
  • IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
  • Jerdon TC (1849) On the fresh-water fishes of southern India. (Continued from p. 149.). Madras Journal of Literature and Science 15(2):302-346.
  • Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 79-80.
  • Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, p. 96.
  • Rahman AKA and Chowdhury GW (2009) Barilius shacra. In: Ahmed, Z.U., Ahmed, A.T.A., Kabir, S.M.H., Ahmed, M., Begum, Z.N.T., Hasan, M.A., and Khondker, M. (eds.) Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 23. Freshwater Fishes (In Bengali). Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. p. 107.
  • Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, p. 321.

 

পুনশ্চ:

  • এই মাছের ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার তোলা ছবি থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমরা যথাযথ মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতাসহ আপনার নামেই ছবিটি প্রকাশ করবো।

 

English Feature:

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student; BSc Fisheries (Honours), Department of Fisheries, University of Rajshahi, Rajshahi-6205, Bangladesh.

Leave a Reply