ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ | স্বাদুপানির মাছ

ইলিশ

ইলিশ

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ যার বৈজ্ঞানিক নামঃ Tenualosa ilisha,ইংরেজি নামঃ Hilsa shad এবং স্থানীয় নামঃ ইলসা, হিলসা ইত্যাদি। মূলত সামূদ্রিক তবে প্রজনন ও খাদ্যের উদ্দেশ্যে এরা জীবনের বেশীরভাগ সময় মোহনাজল ও স্বাদুপানির নদীতে কাটায়। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির ইলিশ পাওয়া যায় যথা পদ্ম ইলিশ (যা ইলিশ নামেই অধিক পরিচিত), চান্দিনা ইলিশ ও গুর্তা ইলিশ। এই তিন প্রজাতির মধ্যে একমাত্র পদ্ম ইলিশ বা ইলিশই অভিপ্রয়াণ করে নদীতে (বিশেষত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা) আসে। অন্য প্রজাতি দু’টি সম্পূর্ণরূপে সামূদ্রিক অর্থাৎ কখনই নদীতে আসে না।

ইলিশ মাছের দেহ রূপালী সাদা এবং পৃষ্ঠদেশ সবুজাভাব। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পৃষ্ঠ ও পার্শ্বদেশে আড়াআড়িভাবে কালো বর্ণের ডোড়া বা ব্যান্ড দেখতে পাওয়া যায় যা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় থাকে না। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় উভয় পার্শ্বের অনেকটা গোলাপিভাব হয়ে থাকে বিশেষত প্রজনন ঋতুতে। দাঁতহীন এই মাছের আঁইশ বড় বড় এবং নিয়মিত সারিতে সাজানো। পৃষ্ঠ, বক্ষ, শ্রোণি ও পায়ু পাখনার পাখনারশ্মির সংখ্যা যথাক্রমে ১৭-১৯, ১৪-১৬, ৮ ও ১৮-২৩ টি। অঙ্কীয়দেশ জুড়ে একসারি বিশেষ ধরণের কাঁটা থাকে যা স্কুট নামে পরিচিত। এর সংখ্যা অগ্রভাগে ১৬-১৭ টি এবং পশ্চাৎভাগে ১৪-১৫টি।

প্রধান খাবার উদ্ভিদকণা (phytoplankton) ও প্রাণিকণা (zooplankton)। মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এরা উদ্ভিদকণা ও প্রাপ্তবয়সে প্রাণিকণা খেয়ে থাকে। বয়স্করা এসব ছাড়াও জৈব আবর্জনাও খেয়ে থাকে। অভিপ্রয়ানের সময় এরা খাবার গ্রহণ করে না বললেই চলে। তবে ডিম ছাড়ার পর প্রচুর পরিমাণে খায়ে থাকে। একই বয়সের স্ত্রী মাছ পুরুষের চেয়ে বড় হয়ে থাকে এবং একই সময়ে অধিক বৃদ্ধিলাভ করে। সাধারণত এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই এরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। বছরে এক থেকে দুই বার প্রজননে অংশ নিয়ে থাকে। প্রধান প্রজননকাল দক্ষিণ-পশ্চিশ মৌসুমী বায়ু প্রবাহ শুরুর সময় থেকে শীতের শুরু অর্থাৎ নভেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্রজননকাল শীতের শেষে অর্থাৎ জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত।

বড় বড় নদী যেথানে বাঁক থেয়েছে এমন স্থানের অগভীল ঘোলাজলে সাধারণত এরা সন্ধা ও ভোরে প্রজননে অংশ নিয়ে থাকে। একটি মা ইলিশ এক প্রজনন ঋতুতে আড়াই থেকে ষোল লক্ষ পর্যন্ত ডিম দেয় যা মাছের ওজন, আকৃতি, প্রজননকাল ও স্থানের পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। ডিমের আকার ২৫২-৮৮২ মাইক্রন হয়ে থাকে।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের পারস্য উপসাগর, আরবসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বসবাসকারী এই মাছ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, পাকিস্থান প্রভৃতি দেশের প্রধান প্রধান নদীতে অভিপ্রয়াণ করে থাকে। তবে উল্লেখত অঞ্চলে এই মাছ দেখতে পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বাংলাদেশে।

তথ্যসূত্রঃ
শফি, মো. এবং কুদ্দুস, মি. মু. আ.; ১৯৮২। বাংলাদেশের মাৎস্য সম্পদ। ১ম সংস্করণ। বাংলা একাডেমী, ঢাকা, বাংলাদেশ। মো. পৃ. xii+৪৪৪।

Rahman, A K M; 2005. Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd Edition. Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka, Bangladesh, XVIII+394 pp.

Talwar, P.K. and A.G. Jhingran; 1991. Inland Fishes of India and Adjacent Countries. Oxford and IBH Publishing Co. Pvt. Ltd., New Delhi, India. LIV + 1158 pp.

www.fishbase.org


Visited 618 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question? Ask here

Visitors' Opinion

লেখক

প্রফেসর, ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী-৬২০৫, বাংলাদেশ। বিস্তারিত ...

Leave a Reply