ক্যাটাগরি: জীববিজ্ঞান | পূর্বপাঠ | প্রাণিবিজ্ঞান

প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কলাস্থান

ফিশারীজ কোন মৌলিক বিজ্ঞান নয় বরং এটি জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের একটি সমন্বিত বিজ্ঞান যা মাছ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশিষ্ট জলজ প্রাণীদের জীবতত্ত্ব, চাষ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, আহরণ, প্রক্রিয়াজনকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে। তাই ফিশারীজকে বুঝতে হলে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। সে উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শুরু হল বিডিফিশ বাংলার পূর্বপাঠ অধ্যায়। এলেখার বিষয় প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কলাস্থান। সাথে রইল কুইজে অংশ নেয়ার সুযোগ

 

জীবদেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ একাধিক ধরনের কলা দিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি কলা একটি সুনির্দিষ্ট কাজের সাথে জড়িত। তাই প্রাণীদেহের অঙ্গ সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানতে সে অঙ্গের কলা সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পাকস্থলীর (Stomach) কলাস্থান:

  • পাকস্থলীতে প্রধানত তিন ধরণের কলা দেখতে পাওয়া যায় যথা- আবরণী কলা, যোজক কলা ও পেশী কলা। এছাড়া এখানে স্নায়ুকলাও উপস্থিত। কলাসমূহ পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক স্তরে সজ্জিত থাকে। যথা-
  • সেরোসা (Serosa): স্কোয়ামাস আবরণী কলা দিয়ে গঠিত এ স্তরটি পাকস্থলীর সবচেয়ে বাহিরের স্তর।
  • পেশীস্তর: সেরোসার পরপরই দুটি পেশীস্তর বর্তমান। স্তর দুটি হচ্ছে যথাক্রমে অনুদৈর্ঘ্য পেশীস্তর এ বৃত্তাকার পেশীস্তর
  • সাব-মিউকোসা(Sub-mucosa): এ স্তরটি অ্যারিওলার ধরণের যোজক কলা দিয়ে গঠিত। এ স্তরে অসংখ্য রক্তনালী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্নায়ুতন্তু দেখতে পাওয়া যায়।
  • মাসকিউলারিস মিউকোসা (Muscularis mucosa): সাব-মিউকোসা ও মিউকোসার মধ্যবর্তী কলাস্থ যার বাইরের দিকে অনুদৈর্ঘ্য ভেতরের দিকে বৃত্তাকার পেশী দিয়ে গঠিত।
  • মিউকোসা (Mucosa): স্তম্ভাকার আবরণী কলায় গঠিত এ স্তরটি পাকস্থলী সবচেয়ে ভেতরের স্তর। এ স্তর থেকেই রুগী (Rogue) নামক অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়। এস্তরে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিও (Gastric gland) উপস্থিত।

 

ক্ষুদ্রান্ত্রের (Intestine) কলাস্থান:

  • ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রধানত তিনধরণের কলা দেখতে পাওয়া যায় যথা- আবরণী কলা, যোজক কলা ও পেশী কলা। এছাড়া এখানে স্নায়ুকলাও উপস্থিত। পাকস্থলির কলাস্থানের মত ক্ষুদ্রান্ত্রের কলাসমূহ পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক স্তরে সজ্জিত থাকে। যথা-
  • সেরোসা (Serosa): স্কোয়ামাস আবরণী কলা দিয়ে গঠিত এ স্তরটি ক্ষুদ্রান্ত্রের সবচেয়ে বাহিরের স্তর।
  • পেশীস্তর: সেরোসার পরপরই দুটি পেশীস্তর বর্তমান। স্তরদুটি হচ্ছে যথাক্রমে অনুদৈর্ঘ্য পেশীস্তর এ বৃত্তাকার পেশীস্তর
  • সাব-মিউকোসা(Sub-mucosa): এ স্তরটি অ্যারিওলার ধরণের যোজক কলা দিয়ে গঠিত। এস্তরে অসংখ্য রক্তনালী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্নায়ুতন্তু দেখতে পাওয়া যায়।
  • মাসকিউলারিস মিউকোসা (Muscularis mucosa): ক্ষুদ্রান্ত্রের সবচেয়ে পাতলা স্তর যা সাব-মিউকোসা ও মিউকোসার মাঝে অবস্থিত। এর বাইরের দিকে অনুদৈর্ঘ্য ভেতরের দিকে বৃত্তাকার পেশী দিয়ে গঠিত।
  • মিউকোসা (Mucosa): স্তম্ভাকার আবরণী কলা এবং গবলেট (Goblet) কোষে গঠিত এস্তরটি পাকস্থলী সবচেয়ে ভেতরের স্তর। এ স্তর থেকেই ভিলি (Villi) নামক অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়। এস্তরে শোষণক্ষম কোষও উপস্থিত।

 

যকৃতের (Liver) কলাস্থান:

  • কতগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ড অর্থাৎ লোবিওল (Lobule) নিয়ে যকৃত গঠিত।
  • প্রতিটি লোবিওল অসংখ্য এক বা দ্বি নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট যকৃত কোষ নিয়ে তৈরি।
  • কোষগুলোর মাঝে লোবিওলের কেন্দ্রে একটি কেন্দ্রীয় শিরা, কৌশিক নালী, পিত্ত নালী ও ফাঁকা স্থান তথা সাইনুসয়েড (Sinusoid) দেখতে পাওয়া যায়।

 

অগ্নাশয়ের (Pancreas) কলাস্থান:

  • পাচকরস (Enzyme) ক্ষরণকারী লোবিওল (Lobule) বা অ্যাসিনাস (Acinus) এবং প্রাণরস (Hormone) ক্ষরণকারী আইলেটস অব ল্যাংগারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নিয়ে অগ্নাশয় গঠিত।
  • একটি কেন্দ্রীয় লোবিওল গহ্বরের চারপাশে গুচ্ছাকারে অবস্থিত নিঃস্রাবী কোষ কোষ নিয়ে লোবিওল গঠিত।
  • লোবিওলের ফাঁকে ফাঁকে আইলেটস অব ল্যাংগারহ্যান্স এর কোষগুলো বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে।

 

বৃক্কের (kidney) কলাস্থান:

  • বৃক্কের প্রধান অংশ দুটি যথা- বাইরের দিকের কর্টেক্স (Kortex) এবং ভিতরের দিকের মেডুলা (Medulla)।
  • প্রতিটি বৃক্ক অসংখ্য বৃক্কনালী অর্থাৎ নেফ্রন (Nephron) দিয়ে গঠিত।
  • নেফ্রনের অগ্রপ্রান্ত পেয়ালার মত যাকে বোম্যান্স ক্যাপসুল (Bowman’s capsule) বলা হয়। এর অভ্যন্তরে একগুচ্ছ কৌশিকনালী বর্তমান যাকে গ্লোমেরিউলাস (Glomerulus) বলে।
  • নেফ্রনের মাঝে মেডুলারী রশ্মিও দেখতে পাওয়া যায়।

 

ফুসফুসের (Lungs) কলাস্থান:

  • ফুসফুসের প্রাচীর দুটি স্তর নিয়ে গঠিত। স্তরদ্বয়ে মধ্যে বাহিরের স্তরে স্কোয়ামাস আবরণী কলা, যোজক কলা, পেশী তন্তু এবং ভেতরের স্তরে সিলিয়াযুক্ত আবরণী কলা, মিউকাস গ্রন্থি ও রক্তজালিকা দেখতে পাওয়া যায়।
  • ফুসফুসের অভ্যন্তরভাগ অসংখ্য বায়ু-প্রকোষ্ঠ নিয়ে তৈরি যাকে অ্যালভিওলাই (Alveoli) বলে। এগুলো ট্র্যাবেকুলি (Trabeculae) নামক আবরণী দিয়ে ঘেরা। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম বায়ুনালিকা তথা ব্রঙ্কিওল (Bronchioles) দেখতে পাওয়া যায়।

 

তথ্যসূত্র:

 

কুইজে অংশ নিতে লিঙ্কটি অনুসরণ করুন


Visited 555 times, 1 visits today | Have any fisheries relevant question?

Visitors' Opinion

লেখক

প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিস্তারিত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.