ক্যাটাগরি: উপকূলীয় মাছ | মাছ | মাৎস্য সম্পদ | সামুদ্রিক মাছ

বাংলাদেশের মাছ: ফাসা, Oblique-jaw thryssa, Thryssa purava

শ্রেণীতাত্ত্বিক অবস্থান (Systematic position)
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Actinopterygii (Ray-finned fishes)
বর্গ: Clupeiformes (Herrings)
পরিবার: Engraulidae (Anchovies)
গণ: Thryssa
প্রজাতি: Thryssa purava (Hamilton, 1822)

সমনাম (Synonyms)
Clupea purava (Hamilton, 1822)
Engraulis annandalei (Chaudhuri, 1916)
Engraulis kempi (Chaudhuri, 1916)
Engraulis purava (Hamilton, 1822)
Engraulis rambhae (Chaudhuri, 1916)
Thryssa megastoma (Swainson, 1839)

সাধারণ নাম (Common name)
বাংলা: ফাসা, ফাঁসা, ফাশা
English: Oblique-jaw thryssa, Gangetic ancovy

বিস্তৃতি (Distribution)
এটি বাংলাদেশ (Rahman, 1989 and 2005), ভারতের দক্ষিণ উপকূল ও মায়ানমারে (Talwar and Jhingran, 1991) পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সিন্ধ (Sindh) নদীর মোহনা, ভারতের উভয় পার্শ্বস্থ মোহনাঞ্চল ও মালয় দ্বীপপুঞ্জে (Malay Archipelago) এদের উপস্থিতি রয়েছে (Day, 1958)। বঙ্গোপসাগর, ভারত সাগরের পূর্বাঞ্চল, পারস্য উপসাগর (Persia gulf), পাকিস্তান, মালয় (Malay) ইত্যাদি স্থানে এদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় (Shafi and Quddus, 2003)।

Geographical distribution of Thryssa purava (Aquamaps, 2013)

Geographical distribution of Thryssa purava (Aquamaps, 2013)

সংরক্ষণ অবস্থা (Conservation status)
IUCN Bangladesh (2000) অনুসারে এরা হুমকিগ্রস্থ (threatened) প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

বাহ্যিক দৈহিক গঠন(Morphology)
পার্শ্বীয়ভাবে অত্যন্ত চাপা দেহ আকৃতিতে ফুজিফর্ম (Fusiform) ধরণের অর্থাৎ অগ্র ও পশ্চাৎ উভয় প্রান্ত ক্রমশ সরু হয়ে তীক্ষ্ণ (pointed) প্রান্তে পরিণত হয়। উদরের প্রান্ত ত্রিকোণাকার (Keeled) ও ধারালো প্রকৃতির। পৃষ্ঠ প্রান্ত অপেক্ষা অঙ্কীয় প্রান্ত অধিক উত্তল।
তীক্ষ্ণ তুণ্ড (Snout) কিছুটা প্রলম্বিত। তুণ্ডের অগ্রপ্রান্ত চক্ষু-কেন্দ্রের সামান্য অগ্রে অবস্থান করে। চোখ ত্বকীয় পর্দা যুক্ত।
উপরের চোয়াল তথা ম্যাক্সিলা (Maxilla) আকারে মাঝারী এবং এর পশ্চাৎ প্রান্ত কানকুয়া অতিক্রম করে প্রায় বক্ষ পাখনার ভিত্তির কাছাকাছি পৌঁছে।
নীচের চোয়াল তথা ম্যান্ডিবল (mandible) উপরের চোয়ালের চেয়ে সামান্য লম্বা।
মুখ প্রান্তীয় এবং মুখের হা তির্যকভাবে অবস্থান করে। উভয় চোয়ালেই সূক্ষ্ম দাঁত উপস্থিত (Rahman, 1989 and 2005)।
প্রথম ফুলকা খিলানের (gill arch) নিন্মাংশে ১৭-২১টি ফুলকা দণ্ড (gill raker) উপস্থিত। Talwar and Jhingran (1991) অনুসারে ফুলকা দণ্ড ১৮-১৯টি অন্যদিকে Rahman (1989 and 2005) অনুসারে ফুলকা দণ্ড ১৭-১৮টি।
পৃষ্ঠপাখনা তুণ্ডের অগ্রভাগ ও পুচ্ছপাখনার ভিত্তির প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। পায়ু পাখনার অগ্রপ্রান্তের বিপরীত পাশের সামান্য সামনে থেকে পৃষ্ঠ পাখনা শুরু হয়েছে। বক্ষ পাখনা শ্রোণীপাখনা পর্যন্ত প্রসারিত। পুচ্ছ পাখনা দ্বিধা বিভক্ত এবং উপরের খণ্ডাংশের (lobe) চেয়ে নিচের খণ্ডাংশ দৈর্ঘ্যে বড়।
মাথার দৈর্ঘ্য মোট ও আদর্শ দৈর্ঘ্যে যথাক্রমে ৫.৮-৫.৯ ও ৪.৭-৪.৯ গুণ (Rahman, 1989 and 2005)। স্কিউটের (scute) সংখ্যা Rahman (1989 and 2005) অনুসারে মোট ২৭টি যার মধ্যে ১৬টি শ্রোণীপাখনার পূর্বে এবং ১১টি পরে অবস্থিত। অন্যদিকে Talwar and Jhingran (1991)অনুসারে স্কিউটের সংখ্যা ১৫-১৭ + ১০/১১। পার্শ্বরেখায় আঁইশের সংখ্যা ৪৬টি।
মাছটির পৃষ্ঠদেশ রূপালী ও নীল (Rahman,2005) বা বাদামী (Talwar and Jhingran, 1991) বর্ণের। অঙ্কীয় পাশের বর্ণ রূপালী। কানকুয়ার উপরের অংশের পশ্চাতে একটি সুস্পষ্ট কালো ফোটা রয়েছে এবং পিঠে একটি অনুজ্জ্বল রেখা দেখতে পাওয়া যায়। রয়েছে। পৃষ্ঠ ও পুচ্ছ পাখনা হলুদ বর্ণের। অন্যান্য পাখনা উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ।

পাখনা সূত্র (Fin formula)
D. 1/13; P1. 14; P2. 6; A. 42-47 (Rahman, 1989 and 2005)
D iii 9-12; A iii 38-44; P i 14; V I 6 (Talwar and Jhingran, 2001).

সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (Maximum length)
সর্বোচ্চ মোট দৈর্ঘ্য ১১.৬ সেমি (Rahman, 1989 and 2005) এবং আদর্শ দৈর্ঘ্য ১৫.৫ সেমি (Talwar and Jhingran, 1991)।

আবাস্থল (Habitat):
সমুদ্রের উপরিতলে, সমুদ্রের তীরের নিকটবর্তী স্থানে এবং মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের জলাভূমিতে ঝাঁক বেঁধে থাকে (Talwar and Jhingran, 1991)। মোহনা এবং জোয়ার-ভাটা বিশিষ্ট নদীতে (যেমন- খুলনার রূপসা) এই মাছ পাওয়া যায় (Rahman, 1989 and 2005)। উপকূলীয় এলাকায় এদের বিচরণ দেখতে পাওয়া যায় (Shafi and Quddus, 2003)।

খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (Food and feeding habit)
এরা প্ল্যাঙ্কটন (plankton) খেয়ে বেঁচে থাকে (Shafi and Quddus, 2003)। এরা তরুণ (juvenile) অবস্থায় ডায়াটম (Diatom) এবং পরিণত বয়সে ছোট আকারের চিংড়ি (prawn and shrimp), কপিপোডস (Copepods), সাইপ্রিস (Cypris) ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

মৎস্য গুরুত্ব (Fishery importance)
ভারতের উড়িষ্যার (বর্তমানে উডিষ্যা) চিক্লা হ্রদে (Chikla lake) এবং পশ্চিম বঙ্গের হুগলীর মোহনাঞ্চলের (Hoogly estuary) পরিচিত মাছ এবং উপকূলীয় এলাকার বিশেষত মোহনাঞ্চলের মাছ ধরার জালে এরা সহজেই ধরা পড়ে (Talwar and Jhingran, 1991)।
বাংলাদেশে এই মাছের বাণিজ্যিক গুরুত্ব কম। এককভাবে এই মাছের উৎপাদ জানা যায় না। উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার জালে, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা যে সমস্ত মাছ আহরণ করে তার মধ্যে অন্যান্য মাছের সাথে ধরা পড়ে।
বাজারে এই মাছ তাজা ও শুটকি উভয় প্রকারেই পাওয়া যায়। এই মাছ অন্য মাছ ধরার টোপ (bait) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

তথ্য সূত্র (References)
Aquamaps (2013) Computer Generated Native Distribution Map for Thryssa purava (Oblique-jaw thryssa) (modelled future range map based on IPCC A2 emissions scenario). www.aquamaps.org, version of Aug. 2013. Web. Accessed 7 May. 2014.
Chaudhuri BL (1916) Fauna of the Chilka Lake. Fish. Part I. Memoirs of the Indian Museum 5(4): 403-439.
Day F (1958) The Fishes of India: being a Natural History of the fishes known to inhabit the seas and freshwater of India., Burma and Ceylon. Reproduced in 1958 by William Dowson and Sons, London. 629 pp.
Hamilton F (1822) An account of the fishes found in the river Ganges and its branches. Edinburgh & London. An account of the fishes found in the river Ganges and its branches.: i-vii + 1-405, Pls. 1-39.
IUCN Bangladesh (2000) Red book of threatened fishes of Bangladesh, IUCN- The world conservation union. xii+116 pp.
Rahman AKA (1989) Freshwater Fishes of Bangladesh, 1st edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 244-245.
Rahman AKA (2005) Freshwater Fishes of Bangladesh, 2nd edition, Zoological Society of Bangladesh, Department of Zoology, University of Dhaka, Dhaka-1000, pp. 268-269.
Shafi M and Quddus MMA (2003) Bangopshagorer Matsho Shampad (in bengali), Kabir publication, Dhaka, Bangladesh p. 147.
Swainson W (1839) The natural history and classification of fishes, amphibians, & reptiles, or monocardian animals. Spottiswoode & Co., London. Nat. Hist. & Class. i-vi + 1-448.
Talwar PK and Jhingran AG (1991) Inland Fishes of India and Adjacent Countries, Vol. 1, Oxford & IBH Publishing Co. Pvt. Ltd. New Delhi-Calcutta, pp. 146-147.

 

পুনশ্চ:
এই মাছের ছবি আমাদের সংগ্রহে নেই। আপনার তোলা ছবি থাকলে পাঠিয়ে দিন contact@bdfish.org এই ইমেইল ঠিকানায়। আমরা ছবিটি আপনার নামেই প্রকাশ করবো।
এই মাছের ছবি গুগলে দেখতে এখানে ক্লিজ করুন।

 

Visitors' Opinion

লেখক

Student, B. Sc. (Hons.) in Fisheries & Marine Bioscience, Jessore University of Science & Technology, Jessore 7404 , Bangladesh. Email: mamunfmb14@gmail.com, Phone: +88 01737396359, 01917558548. More...

Leave a Reply